একতার কণ্ঠঃ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশে কঠোর লকডাউন জারি করেছে সরকার। এর আগে ৩০ জুন পর্যন্ত সাতটি জেলার কঠোর লকডাউন জারি করা হয়।শুক্রবার (২৫ জুন) রাতে সরকার এ ঘোষণা দেয়।
এ সময় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।জরুরি পণ্যবাহী ব্যতীত সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে যানবাহন শুধু চলাচল করতে পারবে।
জরুরি কারণ ছাড়া বাড়ির বাইরে কেউ বের হতে পারবেন না।গণমাধ্যম এর আওতা বহির্ভুত থাকবে।এ বিষয়ে আরেও বিস্তারিত আদেশ আগামীকাল শনিবার(২৬ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা হবে।
সূত্রঃ- যুগান্তর অনলাইন নিউজ পোর্টাল
একতার কণ্ঠঃ করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং টাঙ্গাইল রাইফেল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম.এ রকিব শামীম মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।শুক্রবার(২৫জুন) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খান নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, ঠান্ডা-জ্বর, কাশি, শরীর ব্যথা অনুভব হলে গত ১৮ জুন তিনি করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। গত ২০ জুন রিপোর্টে জানতে পারেন তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। পরে ২২ জুন তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি কিডনি সমস্যা ভুগছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকালে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থান জামে মসজিদ মাঠে এম.এ রকিব শামীমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তাকে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হবে।
তার মৃত্যুতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম ভিপি জোয়াহের এমপি, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও রাইফেল ক্লাবের সভাপতি ড. আতাউল গনি গভীর শোক প্রকাশ ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে পোল্ট্রি ফার্মে শিয়াল মারার বিদ্যুতের ফাঁদে পড়ে অজ্ঞাত এক যুবকের (৩২) মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২৪) দিনগত রাতের কোন এক সময়ে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ভাতগড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফার্মের বেড়ায় লাগানো শিয়াল মারার ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামে পোল্ট্রি ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম তার ফার্মে কুকুর, শেয়াল ও চুরি রুখতে রাতে চারদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখেন। গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাতেও তিনি একই ভাবে ফার্মের বেড়ার সঙ্গে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে রাখেন। রাতে কোন এক সময় অজ্ঞাত ওই যুবক ফার্মের বেড়ার স্পর্শে এলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম বলেন, পোল্ট্রি ফার্মের মালিক বেড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখে এটা তার জানা ছিল না। এছাড়া যে যুবক মারা গেছে তাকেও তিনি চেনেনা। মনে হয় মৃত যুবকটি ওই ফার্মে চুরি করতে এসেছিল।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) একে সাইদুল হক ভূঁইয়া বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অজ্ঞাত ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অজ্ঞাত এ লাশের এখনো কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। লাশ শনাক্তের জন্য পিবিআইয়ের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বৃহস্পতিবার(২৪ জুন) আরও ১৭৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে একজন। বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় এই আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়। সংক্রমণ প্রতিরোধে টাঙ্গাইল ও এলেঙ্গা পৌর এলাকায় চলছে কঠোর বিধিনিষেধ।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, জেলায় ৪৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৭৫ জন করোনা পজেটিভ হয়েছেন। আক্রান্তের হার ৩৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ৮০ জন, কালিহাতীর ২৩, ঘাটাইলের ১৫, মির্জাপুরের ১৪, ভুঞাপুরের ১২, মধুপুর ও দেলদুয়ারের ৯ জন , বাসাইল ও গোপালপুরের ৫ জন এবং সখীপুরের ৩ জন রয়েছেন।
এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ৬ হাজার ৭১৯। এ পর্যন্ত মারা গেছেন মোট ১০৫ জন। আরোগ্য লাভ করেছেন ৪ হাজার ৪৩৮ জন। জেলায় আক্রান্তের হার গত ১২ দিন ধরে ৩২ শতাংশের ওপরে রয়েছে।
করোনা সংক্রমণ রোধে টাঙ্গাইল ও কালিহাতীর এলেঙ্গা পৌর এলাকায় চলছে সপ্তাহব্যাপী কঠোর বিধিনিষেধ। বিধিনিষেধ অমান্য করে রাস্তায় নামায় বৃহস্পতিবার(২৪ জুন) দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১১৩ টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ আটক করেছে। আটকৃত এই সব অটোরিকশা ও রিকশা টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দোকান খোলা রাখা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি বের করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, টাঙ্গাইল শহরে লকডাউন বাস্তবায়নে ১৩টি চেকপোস্ট ও ৫টি মোবাইল টিম কাজ করছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাব উদ্দিন খান জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক দূরত্ব ও সরকারি নির্দেশনা মেনে মাস্ক ব্যবহার করলেই দ্রুত সময়ে মধ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের কোনড়া গ্রামে একটি গাভীর জোড়া বাচ্চা প্রসবের বিরল ঘটনা ঘটেছে। শফিক আহাম্মেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট করা দুটো বাছুরের ছবি দেখে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার কোনড়া গ্রামের শিক্ষক রিয়াজ মিয়ার পালের একটি গাভী গত মঙ্গলবার(২২ জুন) দিনগত রাতে জমজ বাচ্চা প্রসব করেছে।
সরেজমিনে, গাভীর মালিক রিয়াজ মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, সে প্রায় ১০ বছর যাবৎ গাভী পালন করে আসছে। মঙ্গলবার মধ্য রাতে তার গাভীটি একটি পুরুষ বাচ্চা প্রসব করে। গাভী ও বাচ্চাকে পরিচর্যা শেষে চলে যাওয়ার সময়, গাভীটি আরো ১টি পুরুষ বাচ্চা প্রসব করে। এমন বিরল ঘটনায় আনন্দিত রিয়াজ মিয়া।
তিনি বলেন, এ খবর শুনে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিনিয়ত উৎসুক জনতা ভিড় জমাচ্ছে গাভীর জোড়া বাচ্চা দেখতে। এখন পর্যন্ত গাভী ও বাচ্চা দুটোেই সুস্থ আছে।
এ বিষয়ে নাগরপুর প্রাণিসম্পদ দপ্তর এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, তিনি এমন ঘটনা দ্বিতীয়বার শুনলেন। তার ১৫ বছর চাকরি জীবনে এর আগে এমন একটি ঘটনার সাক্ষী হয়েছিলেন। এমন ঘটনা সত্যিই বিরল, প্রতি লাখে একটি ঘটনা ঘটে বলে তিনি মনে করেন । তিনি আরো মন্তব্য করেন, এগুলো আসলে সত্যিই আল্লাহ প্রদত্ত ব্যাপার, মানুষের এতে কোন হাত নেই।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ৪২৩ টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরো ১৪৯ জন। শনাক্তের হার ৩৫ দশমিক ২২ শতাংশ। জেলায় মোট করোনা রোগী ৬ হাজার ৫৪৪জন। এদের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছে ৪ হাজার ৪৩৪জন। মোট মৃত্যু বরন করেছেন ১০৪জন। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মোঃ শাহাবুদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিকে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে টাঙ্গাইল পৌর এলাকা ও কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌর এলাকায় এক সপ্তাহের ‘লকডাউনে’র ২য় দিনে দুটি পৌর এলাকায় গণ-পরিবহন, রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটেরিকশাসহ সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ‘লকডাউন’ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাব উদ্দিন খান বলেন, টাঙ্গাইল ও এলেঙ্গা পৌর এলাকার মানুষ যেভাবে ‘কঠোর বিধি নিষেধ’ মেনে চলছে তাতে আশা করা যাচ্ছে সংক্রমণের হার কমে আসবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ চলমান থাকায় বুধবার(২৩ জুন) সকালে শহরের মেইন রোডস্থ জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দিনব্যাপী কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খান, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে আওয়ামীলীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মী পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুস্পার্ঘ অর্পন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল ও এলেঙ্গা পৌর এলাকায় মঙ্গলবার(২২ জুন) ভোর ৬টা থেকে সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। কিন্তু কঠোর বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে শহরের নতুন বাসটার্মিনাল থেকে মঙ্গলবার ভোরে দূর পাল্লার কিছু যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে গেছে। কঠোর বিধি নিষেধের কারণে শহরের মার্কেট ও বিপণি বিতানগুলো বন্ধ রয়েছে। তবে কিছু কিছু ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচল করছে। একই সাথে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েণ্টে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কাজ করছে।
এদিকে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দশকের ঘর পেরিয়ে ১০১- এ দাঁড়াল।
সরেজমিনে টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র নিরালা মোড়, বটতলা মোড়, শান্তিকুঞ্জ মোড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, কুমুদিনী কলেজ মোড়, নতুন বাস টার্মিনাল, বেবীস্ট্যান্ড ঘুরে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। কোথাও জনসমাগম লক্ষ করা যায়নি। তবে মঙ্গলবার সকালে নতুন বাসটার্মিনাল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন গন্তব্যে দূর পাল্লারর বাস ছেড়ে যায়। পরিবহন কর্মীরা জানান, বাস বন্ধ করার কোন নির্দেশনা তারা পাননি, তাই গাড়ি চালাচ্ছেন।
জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন দাস জানান, জেলা প্রশাসনের অনুমতিতে রাবনা বাইপাস থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল করছে। কোন বাস শহরে প্রবেশ করছে না। প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে যানবাহন চালানো হচ্ছে।
এছাড়া শহরের প্রবেশমুখ আশেকপুর বাইপাস রোড, বিলঘারিন্দা রোড, এলজিইডি রোড, ধুলেরচর মাদ্রাসা রোড, কাগমারী কলেজ রোড, বেড়াডোমা-বাঘিল রোড, বাজিতপুর-দেলদুয়ার রোডে পুলিশি ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। শহরের সড়কগুলো ফাঁকা পেয়ে স্থানীয় কতিপয় কিশোর-যুবক বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
শহরের পাইকারী কাঁচা বাজার পার্ক বাজার, বটতলা, ছয়আনী, বেবীস্ট্যান্ড, সাবালিয়া, আমিন বাজার, বউ বাজার সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতা কাউকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। উন্মুক্তস্থানে কাঁচা বাজার বসানোর নির্দেশনা থাকলেও কোন বাজারেই তা করা হয়নি। এ বিষয়ে স্ব স্ব বাজার কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি।
উন্মুক্ত স্থানে কাঁচা বাজার বসানো প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) রানুয়ারা বেগম জানান, জেলার সর্ববৃহৎ পার্ক বাজারটি পৌরসভার নিয়ন্ত্রণে। এ বিষয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, দ্রুতই তারা পার্ক বাজারের পাশে কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠে সাময়িকভাবে স্থানান্তরের ব্যবস্থা গ্রহন করবে। কাঁচা বাজার সাময়িক স্থানান্তরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বিপিএম জানান, কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের জন্য টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় পুলিশের ১৩টি চেকপোস্ট ও এলেঙ্গা পৌর এলাকায় পাঁচটি চেকপোস্টের মাধ্যমে তদারকি করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান জানান, কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি নাগরিক সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহায়তা প্রত্যাশা করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অতীতের রেকর্ড ভেঙে গত ২৪ ঘণ্টায় একদিনে সর্বোচ্চ রেকর্ড ৪২ দশমিক ৮৫ শতাংশ করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিন ৩৮৫টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ১৬৫জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ক্রমাগত করোনা শনাক্তের হার বেড়ে যাওয়ায় টাঙ্গাইল পৌরসভা ও কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভা এলাকায় মঙ্গলবার(২২ জুন) ভোর ৬টা থেকে আগামি ২৮ জুন(সোমবার) রাত ১২টা পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান সোমবার(২১ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইল জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় রোববার(২০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল ও এলেঙ্গা পৌরসভা এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ডক্টর মো. আতাউল গনি সাক্ষরিত ৯ দফা নির্দেশনা সহ একটি বিধিনিষেধ জারি করা হয়।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার রোধে গৃহীত কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সোমবার(২১ জুন) দিনব্যাপী জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, জেলা তথ্য অফিস, জেলা পুলিশ এবং বিভিন্ন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েণ্টে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েণ্টে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, টাঙ্গাইল ও এলেঙ্গা পৌর এলাকায় কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করায় শহরে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা, এটিএম বুথ, কাঁচা বাজার, শপিংমল ও বিপনী বিতানগুলোতে উপচেপড়া ভীর দেখা গেছে। শহরের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।
সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ৯৯জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৩৮৫টি নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ড সংখ্যক ১৬৫ জনের কোরোনা শনাক্ত হয়েছে।
তিনি জানান, একমাস ধরে জেলায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে গত এক সপ্তায় গাণিতিক হারে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে- যা জেলার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে জনস্বার্থে টাঙ্গাইল ও এলেঙ্গা পৌরসভায় ২২ জুন(মঙ্গলবার) থেকে ২৮ জুন(সোমবার) পর্যন্ত সাতদিনের কঠোরবিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের পাকুটিয়া গ্রামে সোমবার(২১ জুন) দুপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে নাজমুল(১৬) নামে এক প্রতিবন্ধী কিশোরে মৃত্যু হয়েছে।
নিহত নাজমুল ওই গ্রামে জয়নুদ্দিনের ছেলে। নাগবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান সিদ্দিকী মিল্টন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দুপুরে নাজমুল নামে ওই কিশোর বন্ধুদের সঙ্গে একই গ্রামের সামাদের পুকুরে গোসল করতে যায়। গোসলের এক পর্যায়ে নাজমুল পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা প্রায় একঘণ্টা চেষ্টা করে পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পাকুটিয়া সামাজিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া আবেদা খানম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী শারমীন আক্তার প্রেমিকের প্রতারণার শিকার হয়ে রোববার (২০ জুন) দিনগত রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি করটিয়া ইউনিয়নের খাগজানা গ্রামের মনছুর আলীর মেয়ে।
পারিবারি সূত্রে জানা যায়, খাগজানা গ্রামের মনছুর আলীর কলেজ পড়ুয়া মেয়ে শারমীন আক্তারের(২০) সাথে একই এলাকার খসরু মিয়ার ছেলে সাইদুল ইসলামের(২৫) দীর্ঘদিন যাবত প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। ওই প্রেমের সম্পর্ক এক পর্যায়ে শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয়। শারমিন আক্তার ইতোপূর্বে প্রেমিক সাইদুলকে একাধিকবার বিয়ের জন্য চাপ দিলে নানা তালবাহানা করতে থাকে। সর্বশেষ রোববার(২০ জুন) বিকালে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সাইদুল তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। উপান্তর না দেখে শারমিন আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শারমীনের মা পারভীন বেগম জানান, তার মেয়ের সাথে সাইদুলের দীর্ঘদিন যাবত প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা দু’জনে স্বামী-স্ত্রীর মতো চলাফেরা করতো। সাইদুল ইসলাম তার মেয়েকে আদালতে হলফ নামার মাধ্যমে বিয়ে করে। কাবিন রেজিস্ট্রি করতে বলা হলে সাইদুল তার পরিবারের চাপে অস্বীকার করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ জানান, ছেলে-মেয়ের সাথে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি এলাকার সবাই জানে। ছেলে বিয়ে করতে অস্বীকার করায় মেয়েটি আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় মুজিব বর্ষে দ্বিতীয় ধাপে এক হাজার ১৩০টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবার সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় কবুলিয়ত দলিলসহ নব-নির্মিত বাসগৃহ পেয়েছেন। রবিবার (২০ জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই বাসগৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে উপকারভোগীদের হাতে বাসগৃহের কবুলিয়ত দলিল তুলে দেন সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা প্রশাসক ডক্টর মো. আতাউল গণি, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর প্রমুখ।
এ সময় জেলার বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা, জেলা-উপজেলার কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। জেলার ১২টি উপজেলায় স্ব স্ব আসনের সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা বাসগৃহের কবুলিয়ত দলিল উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেন।
প্রকাশ, টাঙ্গাইল জেলায় এক হাজার ১৩০টি ঘরের মধ্যে ৭৪৮টি ইতোমধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে, বাকি ৩৮২টি ঘরের নির্মাণ কাজ আগামি ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।