একতার কণ্ঠঃ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের আটটি সংসদীয় আসনে নৌকার প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। এতে চারটিতে পুরাতন ও চারটি নতুন মুখ রয়েছে।
রবিবার (২৬ নভেম্বর) বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এবার জেলার ৮টি আসনের মধ্যে চারটি আসনে বর্তমান এমপিদের কপাল পুড়েছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপনে চূড়ান্ত জরিপ শেষে শেখ হাসিনা টাঙ্গাইলের তালিকা তৈরি করেন।
এবার যারা আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন, তারা হলেন টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বর্তমান সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি টানা পঞ্চম বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। বিগত ২০০১ সালে ড. আব্দুর রাজ্জাক এই আসনে বিজয়ী হওয়ার পর থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনে বর্তমান এমপি তানভীর হাসান ছোট মনির দ্বিতীয়বারের মতো দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের বর্তমান এমপি আতাউর রহমান খান। তিনি এবার দলীয় মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের বর্তমান এমপি হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী। এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন পেয়েছেন কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বর্তমান এমপি ছানোয়ার হোসেন। তিনি এবার দলীয় মনোনয়ন পাননি। এবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মামুনুর রশিদ মামুন।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের বর্তমান এমপি আহসানুল ইসলাম টিটু। তিনি তৃতীয় বারের মতো আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) এ আসনের বর্তমান এমপি খান আহমেদ শুভ। তিনি দ্বিতীয় বারের মতো আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) এ আসনের বর্তমান এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের। তিনি এবার দলীয় মনোনয়ন পাননি। এ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি অনুপম শাজাহান জয়।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে ২০ নভেম্বর দেওয়া জামিন বাতিল করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
তথ্য গোপন করে জামিন নেওয়ার বিষয়টি নজরে আসায় রবিবার (২৬ নভেম্বর) বিকালে বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
তিনি জানান, গত ২৩ আগস্ট বিচারিক আদালতে ছয় মাসের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলাটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। এই অবস্থায় তথ্য গোপন করে ২০ নভেম্বর হাইকোর্টে জামিন পান সহিদুর রহমান। এরপর ২২ নভেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান। বিষয়টি নজরে আসায় মামলাটি আবার হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকায় আসে। রবিবার আসামি সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে গত ২০ নভেম্বর দেওয়া জামিন বাতিল করে তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া তথ্য গোপন ও নোটিশ নিয়ে তার আইনজীবী এম এ মুস্তাকিম ও মো. জাকারিয়া হাবিবকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করেছেন আদালত।
মুক্তি এ মামলার আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ভাই। তার বাবা আতাউর রহমান খান এ আসনের বর্তমান আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য।
দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর সহিদুর রহমান খান মুক্তি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ তার কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার হয়।
এ ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে হত্যার সঙ্গে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
এরপর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান ও তার অপর তিন ভাইসহ ১৪ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিন পেয়ে মুক্ত আছেন।
গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি মুক্তিকে জামিন দেন টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি তার অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল করেন।
এরপর তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। গত বছরের ২৭ এপ্রিল হাইকোর্ট মুক্তিকে জামিন দিয়ে রুল জারি করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরদিন ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগ।
পরে হাইকোর্টে রুল শুনানি হয়। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর রুল শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন খারিজ হয়। এরপর টাঙ্গাইল জেলা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেন মুক্তি। একই বছরের ২৪ অক্টোবর তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। পরে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
একতার কণ্ঠঃ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র তুলেছেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত এডভোকেট খন্দকার আহসান হাবিব।
তিনি ‘স্বতন্ত্র গণতন্ত্র মঞ্চের’ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে শহরের নিরালা মোড়ে অবস্থিত কিছুক্ষণ হোটেল এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে টাঙ্গাইল জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, রবিবার (১৯ নভেম্বর) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আহসান হাবিব মনোনয়নপত্র তুলেছেন। খন্দকার আহসান হাবিবসহ কয়েকজন ব্যক্তি ‘স্বতন্ত্র গণতন্ত্র মঞ্চের’ ব্যানারে বুধবার (১৫ নভেম্বর) ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তাঁরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। ওই দিনই বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটি থেকে আহসান হাবিব ও ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার আহসান হাবিবের বাড়ি টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায়। তিনি ১৯৯৩ সালে টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলেন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল সদর আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তিনি।
খন্দকার আহসান হাবিব মতবিনিময় সভায় বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা করতে নির্বাচনের বিকল্প নেই। তিনিসহ বিএনপির অন্তত ১৫ জন নেতা ‘স্বতন্ত্র গণতন্ত্র মঞ্চের’ ব্যানারে একত্র হয়েছেন। ‘স্বতন্ত্র গণতন্ত্র মঞ্চ’ কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। এ ব্যানারে বিএনপি’র অনেক নেতা নির্বাচনে আসার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন। সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষোভ নিয়ে দীর্ঘদিন দল করেছি। এবার স্বতন্ত্র নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের কষ্টের শেষ নেই। অবরোধ–হরতালে দেশের মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।
খন্দকার আহসান হাবিব আরও বলেন, আমি মনে করি, একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়া উচিত। অন্য কোনো কিছুর মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র লুণ্ঠিত হবে। আমি কোনো চাপে কিংবা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করি নাই। টাঙ্গাইলের সাধারণ মানুষ আমার পক্ষে আছে। ফলাফল যা–ই হোক, নির্বাচন করব।
মত বিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকিরুল মাওলা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
এছাড়া মতবিনিময় সভায় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার আসামি টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন স্থগিতের বিষয়ে শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মতি বেঞ্চে পাঠিয়েছেন চেম্বার জজ আদালত। এ বিষয়ে আগামী সোমবার (২৭ নভেম্বর) শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার জজ আদলত এই আদেশ দেন। আদালতে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসেন বাপ্পী।
এর আগে গত ২০ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে তিনি জামিন পান। জামিন আদেশ কারাগারে পৌঁছালে বুধবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
চেম্বার জজ আদালতে বৃহস্পতিবার শুনানির সময় জজ জানতে চান আসামি বের হয়ে গেছেন কি না। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, তিনি বুধবার দুপুরে বের হয়ে গেছেন। পরে চেম্বার জজ বলেন, যেহেতু বের হয়ে গেছেন সোমবার এটি আপিল বিভাগে থাকবে।
এর আগে সহিদুর রহমান খান হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে জামিন আবেদন বিচারাধীন থাকার তথ্য গোপন করে আরেকটি বেঞ্চে আবেদন করেছিলেন। গত ১৯ জুলাই করা জামিন আবেদনের ওপর শুনানির সময় বিষয়টি নজরে আনার পর আদালত জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিলেন মুক্তি। চেম্বার আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠান।
পরে আপিল বিভাগ গত ২৭ আগস্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার বিচারকাজ ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন। এর মধ্যে গত ২০ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে সহিদুর রহমান খান মুক্তি জামিন পান। ওই আদেশ কারাগারে পৌঁছালে বুধবার তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
সহিদুর রহমান এই মামলার অন্য আসামি টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ভাই। তার বাবা আতাউর রহমান খান একই আসনের সংসদ সদস্য। দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর সহিদুর রহমান খান আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর নিহতের স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান ও তার অন্য তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় পুলিশের হেফাজতে সুমন মিয়া (২৬) নামের এক ট্রাকচালকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে থানায় ট্রাকের কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় ওই ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। থানা থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত সুমন মিয়া ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের জামুরিয়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে তাঁর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ৮টার দিকে ঘাটাইল পৌরসভার কলেজ মোড় এলাকায় মাটিভর্তি দুটি ট্রাক জব্দ করে পুলিশ। ঘাটাইলের সাগরদিঘি এলাকা থেকে মাটি নিয়ে যাচ্ছিল ট্রাক দুটি। চালকসহ ট্রাক দুটিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১০টার পর জব্দ করা ট্রাকের কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় ট্রাকচালক সুমন মিয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে চেয়ার থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শহিদুল ইসলাম জানান, ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।
জামুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম খান জানান, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে সুমনের লাশ দেখতে পান। কী কারণে, কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লোকমান হোসাইন জানান, বালুভর্তি দুটি ড্রামট্রাক জব্দ করে থানায় আনার পর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করার সময় চেয়ারে বসা ট্রাকচালক সুমন মিয়া অসুস্থ বোধ করেন। একপর্যায়ে তিনি চেয়ার থেকে মাটিতে ঢলে পড়েন। দ্রুত তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে তাঁর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২২ নভেম্বর) বিকালে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-জামালপুর রেল লাইনের উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের আগতেরিল্ল্যা উত্তরপাড়া গ্রামের এই ঘটনা ঘটে।
এখন পর্যন্ত নিহত ওই যুবকের কোন নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান উল্লাহ্ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে উপজেলার আগতেরিল্ল্যা উত্তরপাড়ায় অবস্থিত একটি রেলওয়ে ব্রিজের কাছে রেললাইন দিয়ে হাঁটছিল ওই অজ্ঞাত যুবক। পথিমধ্যে জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা ভূঞাপুরগামী ধলেশ্বরী নামে একটি লোকাল ট্রেনের ধাক্কায় রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে প্রাণ হারায় সে। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে বিষয়টি জানায়।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান উল্লাহ্ জানান, বুধবার বিকালে আগতেরিল্ল্যা এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত এক যুবকের মৃত্যুর খবর স্থানীয়দের মাধ্যমে জেনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আওয়ামীলীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত শর্তসাপেক্ষে সোমবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন।
বুধবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে তিনি টাঙ্গাইল জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হন। টাঙ্গাইলের জেল সুপার মোখলেসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জামিনে মুক্ত হয়ে সাবেক মেয়র পৌর শহরের কলেজ পাড়ার নিজ বাসভবনে ফিরেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
টাঙ্গাইলের জেল সুপার জানান,উচ্চ আদালতের জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র বুধবার টাঙ্গাইল কারাগারে পৌঁছলে সকল নিয়ম মেনে দুপুরে তাকে জেল থেকে সাবেক মেয়রকে মুক্তি দেওয়া হয়।এরআগে সোমবার হাইকোর্টের ৯ নম্বর আদালতের বিচারপতি রেজাউল হাসান ও বিচারপতি ফাহমিদা কাদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ফারুক হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
সহিদুর রহমান খান মুক্তির আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আব্দুল মুনতাকিম জানান, বিচারকদ্বয় টাঙ্গাইলের ফারুক হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মাসুদ হোসেন দোলনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তথ্যগোপন করে জামিন আবেদন করায় সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে তথ্য গোপন করে জামিন আবেদন করার অভিযোগে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সহিদুর রহমান খান মুক্তি গত এপ্রিলে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে জামিন চেয়ে আবেদন দাখিল করেন। এই আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গত জুন মাসে জামিন চেয়ে আরেকটি আবেদন করেন। জামিন চেয়ে আগে করা আবেদনের তথ্য দ্বিতীয় দফায় করা আবেদনে উল্লেখ না করায় আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে।একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ছোট ভাই।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার হয়। এ ঘটনার ৩ দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে এ দুজনের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে হত্যার সঙ্গে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান।
আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। অভিযুক্ত সহিদুর রহমান খান মুক্তি দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। এরপর দফায় দফায় জামিনের আবেদন করলেও আদালত প্রতিবারই আবেদন নামঞ্জুর করেন। তাদের অন্য দুই ভাই এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলায় মা ও নবজাতক মেয়ে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছে তার স্বজনেরা।
মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের ১নং অপারেশন থিয়েটারে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর অপারেশনের দায়িত্বে থাকা ডা. সালমা জাহান ও হাসপাতালের চলতি দায়িত্বে থাকা সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. প্রনব কর্মকার গাঁ ঢাকা দেন।
ঘটনার পর স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গন ভারী হয়ে উঠে। পরে মা ও নবজাতক শিশু মেয়ের মরদেহ নেওয়াকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
নিহত প্রসূতির নাম মীম আক্তার (২০)। সে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সিঙ্গুরিয়া গ্রামের হানিফ আলির মেয়ে। তার স্বামী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। সে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মদনা গ্রামের বাসিন্দা। তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়ে ঢাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ছিলেন।
নিহত মীমের নানী সুমনা আক্তার জানান, মঙ্গলবার সকালে প্রসূতি মীম আক্তারের প্রসব ব্যথা উঠে। দ্রুত তাকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যান তারা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মীমকে।
তিনি আরও জানান, সেখানে গাইনী বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সালমা জাহানের তত্বাবধায়নে দুপুর ১টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার ২০ মিনিট পর ওই ডাক্তার মীমের পরিবারের কাছে মীমের জন্য দুই ব্যাগ রক্ত চান। স্বজনেরা রক্ত সংগ্রের জন্য হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটে ছুটাছুটি করতে থাকেন। এমন সময় অপারেশন থিয়েটার থেকে জানানো হয়, প্রসূতি মীম আক্তার ও তার নবজাতক কন্যা সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগের জুনিয়র কনসাল্টটেন্ট ডা. সালমা জাহান তাদের সোনিয়া নার্সিং হোমে প্রসূতি মীম আক্তারের ডেলিভারী করার জন্য বলেন। তারা হতদরিদ্র হওয়ায় এ প্রস্তাব মেনে না নেওয়ায় ওই ডাক্তার সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অবহেলা করায় মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
তাদের আরও অভিযোগ, অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পুর্বেও মীম আক্তার হেটে-হেটে অপারেশেন থিয়েটারে গিয়েছে। অথচ অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার ২০ মিনিটের মাথায় প্রসূতি মা ও নবজাতকের মুত্যু হয়।
নিহতের খালা মাজেদা আক্তার আহাজারি করে বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর পর জোরপূর্বক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশের ছাড়পত্র কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে মা ও মেয়ের মরদেহ বের করে দেন। এসময় হাসপাতালের লোকজন জোরপূর্বক আমাদের বের করে দিতে চাইলে আমরা বাধা দেওয়ায় আমাদের গায়ে হাত দেয় তারা
অভিযোগ প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কলসালটেন্ট (গাইনী) ডা. সালমা জাহান মুঠোফোনে বলেন, হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. সাদিকুর রহমান ঢাকায় থাকায় তিনি গণমাধ্যমকে কোন ধরনের সাক্ষাতকার দিতে পারবেন না জানিয়ে ফোন কেটে দেন।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়কের চলতি দায়িত্বে থাকা সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. প্রনব কর্মকারের মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া বলেন,বিষয়টি তিনি জেনেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. সাদিকুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কলসালটেন্ট (গাইনী) ডা. সালমা জাহান হাসপাতালের পাশেই অবস্থিত একটি বেসরকারি ক্লিনিক সোনিয়া নাসিং হোমে কনসালটেন্ট (গাইনী) হিসেবে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি মায়েদের উক্ত ক্লিনিকে নিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সিজারিয়ান অপারেশন করার অভিযোগ রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ রংপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) ভোর ৪ টা ৪০ মিনিটের দিকে টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেল স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেল স্টেশনের ইনচার্জ রেজাউল করিম সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রেজাউল করিম জানান, রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভোররাতে বঙ্গবন্ধু পূর্ব রেলস্টেশনে বিরতি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়। পথিমধ্যে টাঙ্গাইল রেল স্টেশন পৌঁছলে ট্রেনটির ইঞ্জিনের পাশে লাগেজবাহী বগিটি হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়। ফলে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আকবর বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত উদ্ধারকারী টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছবেন।
একতার কণ্ঠঃ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান টাঙ্গাইলের সাবেক ছাত্রনেতা মুরাদ সিদ্দিকী। এ উপলক্ষে তিনি টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
রবিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিসের নির্বাচনী সেল থেকে এ দুটি আসনের মনোনয়নপত্র ক্রয় করে তার প্রতিনিধি দল।
টাঙ্গাইলের আলোচিত সিদ্দিকী পরিবারের সন্তান মুরাদ সিদ্দিকী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম এবং সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর ছোট ভাই। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।
এ অবস্থায় মুরাদ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন- এমন খবরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
জানা যায়, বিগত ১৯৯৯ সালে কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ ছেড়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। মুরাদ সিদ্দিকী তখন তার ভাই কাদের সিদ্দিকীর সাথে দলে যোগ দেন। বিগত ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। এরপর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের রাজনীতি থেকে সরে আসেন। বিগত ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে পরাজিত হন।
মূলত ২০০৯ সাল থেকে মুরাদ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিগত ২০১৫ সালে মুরাদ সিদ্দিকীর অনুসারী টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান মিরনসহ অনেকেই আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তাঁরা পরবর্তী সময়ে জেলা আওয়ামী লীগে পদ-পদবিও পান। কিন্তু মুরাদ সিদ্দিকী যোগ দিতে ব্যর্থ হন। দলে ঢুকতে না পারলেও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং দলীয় কার্যালয়ে মুরাদ সিদ্দিকী নিয়মিত যাতায়াত করেন। বিগত ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রায় দশ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
এ ব্যাপারে মুরাদ সিদ্দিকী বলেন, আমার রক্তে আওয়ামী লীগ, আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শের সৈনিক। আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন ক্ষুদ্র কর্মী। রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণে। এবার দুটি আসনে দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছি। সদর আসনে রয়েছে আমার নিজস্ব ভোট ব্যাংক ও কালিহাতী আমার পৈত্রিক নিবাস। সাধারণ মানুষ আমাকে ভালোবেসে এমপি হিসেবে দেখতে চায়। দল আমাকে যে কোন আসন থেকে নৌকা দিলে দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে আসনটি উপহার দিব। দল যদি আমাকে যে দায়িত্ব দিবে সেটা নিষ্ঠার সাথে শতভাগ পালন করবো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখায় গ্রাহকের সঞ্চয়পত্রের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ম্যানেজার শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় মাইকিং করায় ব্যাংকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা একত্রিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করেছেন।
সোমবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে সোনালী ব্যাংকের অর্ধশতাধিক গ্রাহক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। পরে কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে। এতে নেতৃত্ব দেন গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারমান দুলাল হোসেন চকদার।
এরআগে রবিবার (১৯ নভেম্বর) সকালে গোবিন্দাসী এলাকায় মাইকিং করে একত্রিত হওয়ার জন্য ইউপি চেয়ারমান দুলাল হোসেন চকদারের গরুর ফার্মে আসার আহ্বান জানান। এদিকে এলাকায় মাইকিং করার ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার জন্য পুলিশি নিরাপত্তা চাওয়ায় সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখার সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
জানা যায়, অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম ম্যানেজার হিসেবে সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখায় ২০২০ সালে যোগদান করে। এরপর দীর্ঘ ৩ বছর ২ মাস সেখানে কর্মরত ছিলেন তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে তথ্য প্রযুক্তিতে মেধাসম্পন্ন শহিদুল ইসলাম কৌশলে ব্যাংকের ১৩০ জনের সঞ্চয়পত্রের টাকা লুজ চেকের (জরুরি উত্তোলনের জন্য একক পাতা) মাধ্যমে অন্য অ্যাকাউন্টে ৫ কোটি ১১ লাখ টাকা সরিয়ে নেন। এছাড়া উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের ভাতার ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকাও গায়েব করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম তার বড় ভাই মহির উদ্দিন তালুকদার এগ্রো ফার্ম, কালিহাতী উপজেলার আদাবাড়ি গ্রামের খালেদা বেগম ও তার বন্ধুদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ করেন। টাকা আত্মসাতের অপরাধে ইতোমধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করেছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলেন, দীর্ঘদিন হয়েছে ব্যাংকের তৎকালীন ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম ৫ কোটির বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এখনও কেউ টাকা ফেরত পাচ্ছি না। ওই ম্যানেজারও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা টাকা ফেরত দেওয়াসহ ম্যানেজারের শাস্তির দাবি করছি।
অভিযুক্ত ম্যানেজার শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারমান দুলাল হোসেন চকদার বলেন, গ্রাহকদের একত্রিত হওয়ার জন্য এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল। টাকা না পেয়ে গ্রাহকরা হতাশ। সকল গ্রাহক গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। তিনি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখা ম্যানেজার ফিরোজ আহম্মেদ জানান, এলাকায় মাইকিংয়ের ঘটনায় ব্যাংক অনিরাপদ হওয়ায় নিরাপত্তা চাওয়া হয় পুলিশের কাছে। পরে ব্যাংকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেলাল হোসেন বলেন, গ্রাহকরা তাদের সঞ্চয়পত্রের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখবো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পুকুরের পানিতে ডুবে আমির খান নামে দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৯ নভেম্বর) সকালে উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের কালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু আমির ওই গ্রামের আকাশ খানের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে আমির বাড়ির ভেতরে খেলা করছিলো। এ সময় সবার অগোচরে বাড়ির সামনে তাদের পুকুরে পড়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির এক পযার্য়ে পুকুরের পানিতে আমিরকে ভেসে থাকতে দেখে। দ্রুত পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের দাদা মো. আবুল হোসেন খান জানান, খেলতে গিয়ে সকলের অগোচরে পানিতে পড়ে যায় আমির। এ কারণে পানিতে ডুবে সে মারা যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন,অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।