একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গাছের ডাব খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধর ও মাকে অপমান করায় তা সহ্য করতে না পেরে ক্ষোভে-দুঃখে ও অপমানে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বাথরুমে ফাঁসি দিয়ে আবির (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে।
আবির ভূঞাপুর উপজেলার অজুর্না ইউনিয়নের কুঠিবয়ড়া গ্রামের বাদশা মন্ডলের ছেলে। সে স্থানীয় ঘাটান্দি আলহাজ্ব হায়দার আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র।
মঙ্গলবার(৭ মার্চ) দুপুর ৩ টার দিকে ভূঞাপুর পৌর এলাকার ঘাটান্দি সোনিয়া হাসপাতালের পাশে একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ভূঞাপুর থানা পুলিশ। সে ঘাটান্দি এলাকায় পরিবারের সাথে ভাড়া বাসায় থাকতো।
স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, সোমবার রাতে মাকে নিয়ে ঘাটাইল উপজেলার যদুরপাড়া গ্রামের তার নানা সুজ্জত আলীর বাড়িতে যায়। পরে ৮-১০ জন বন্ধু মিলে ডাকনাপটল গ্রামে ওয়াজ মাহফিল শুনতে গিয়ে সিংগুরিয়া গ্রামের ডাঃ ওয়াজেদ’র বাড়ির গাছের ডাব খাওয়ার জন্য যায় এবং আবির গাছে ওঠে।
একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেলে তাদের ধাওয়া করে ও বন্ধুরা পালিয়ে যায়। সেসময় আবির গাছে থাকা অবস্থায় পালাতে না পারায় স্থানীয়রা তাকে ধরে মারধর ও লাঞ্ছিত করে। এরপর আবিরের মাকে ডেকে নিয়ে তাকে চুরির অপবাদ দিয়ে মাকেও অপমান করে। পরে আবিরকে বাসায় নিয়ে আসে তার মা।
এ ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে আবিরের মা ও তার বড় ভাই নিজ কর্মস্থলে চলে যায়। দুপুরের দিকে তার মা বাড়িতে এসে আবিরকে ডাকতে থাকে এবং বাথরুমের দরজা ধাক্কা দিয়ে দেখতে পায় ভেতর থেকে আটকানো। পরে তার বড় ছেলেকে ফোন করলে সে বন্ধুদের নিয়ে এসে বাথরুমের দরজা ভেঙে আবিরের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, দুপুরে স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আবির নামে ওই স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব আবু নাসার উদ্দিনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার দেবডাঙ্গা গ্রোয়েন বাঁধ এলাকায় ডিসি পল্লী উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে শনিবার (৪ মার্চ) তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান।
সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বগুড়া জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আনছার আলী মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সারিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম মিন্টু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত, পৌরসভার মেয়র মতিউর রহমান মতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক দুলু, অফিসার ইনচার্জ রাজেশ কুমার চক্রবর্তী প্রমূখ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্ববধানে ছিলেন ডিসি পল্লী উন্নয়ন সংঘের সভাপতি জাঙ্গাহীর আলম নয়ন এবং দেবডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী সাকিদার। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষিকা, স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ এলাকার সকল স্তরের মানুষ অংশ নেন।
সংবর্ধিত অতিথি আবু নাসার উদ্দিন একজন বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তিনি টাঙ্গাইলের কালিহাতী ও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের ইউএনও এবং গাজীপুরের এডিসি জেনারেলের দায়িত্বপালন করেন। কর্মক্ষেত্রে তার জনবান্ধব এবং ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য একদিকে সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন। অন্যদিকে পেয়েছেন জেলার শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তার পদক।
আবু নাসার উদ্দিন বলেন, নিজ এলাকায় সংবর্ধনা পাওয়ার অনুভুতি সত্যি অন্যরকম। আমি অতিথি নই, আমি আপনাদেরই সন্তান, আপনাদেরই মাঝে থাকতে চাই। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমি যেনো ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে দেশ-জাতির কল্যাণে সরকারি দায়িত্বপালন করতে পারি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মালবাহী ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (২৬) নামের এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৬ মার্চ) রাতে সখীপুর- সাগরদীঘি আঞ্চলিক সড়কের বড়চওনা বাজারের উত্তর পাশের ব্রিজ সংলগ্ন রনির চা-স্টলের সামনে এ দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর নবগঠিত বড়চওনা ইউনিয়নের শিরিরচালা গ্রামের মোঃ সূর্যাত আলীর ছেলে।
সে স্থানীয় বড়চওনা বাজারে একজন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর ব্যবসায়ী ছিলেন।
জানা যায়, সোমবার রাত ৯ টার দিকে সখীপুর- সাগরদীঘি আঞ্চলিক সড়কের বড়চওনা বাজারের উত্তর পাশে ব্রিজ সংলগ্ন রনির চা-স্টলের সামনে মোটরসাইকেল ও মালবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহী জাহাঙ্গীর আলমকে প্রথমে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নবগঠিত বড়চওনা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আনোয়ার হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের ভুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চুরির ঘটনায় ১২ ল্যাপটপ উদ্ধারসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর)। সোমবার(৬ মার্চ) বিকেলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের বিচারক ৩ জনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়াও চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। চুরির ঘটনায় গত ২৬ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এপ্রিল পল মৃ বাদি হয়ে মধুপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, মধুপুর উপজেলার ভুটিয়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে মো. রেজাউল করিম (২১),শোলাকুড়ি কুড়ালিয়া গ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে শরীফ ওরফে শুভ (২০),ধনবাড়ী উপজেলার উখারিয়াবাড়ী গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে মুক্তার হোসেন (২৪),মমিনপুর কাউচিবাজার গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মো. ইমরান (১৯) একই গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে মো.খায়রুল ইসলাম (১৯) মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে আবু সাইদ (২২), ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর নয়াপাড়া গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে ওমর সানি (২৫)।
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তরের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, গত ২২ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের যে কোন সময় ভুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার তলায় শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব থেকে ১৬ টি ল্যাপটপ চুরি হয়। ল্যাপটপ সহ যার আনুসাঙ্গিক মালামালের আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ টাকা। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করা হয়। চুরির ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সারের নির্দেশনায় দ্রুত মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম এস আই মনির হোসেনের নেতৃত্বে নিরন্তর চেষ্টা চালায়।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে চুরির ঘটনার সাথে জড়িত মো. রেজাউল করিমকে রবিবার ভোর রাতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রেজাউলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানা এলাকার ওমর সানি ও আবু সাইদকে গ্রেফতার করা হয়। আসামীদের দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে মুক্তার হোসেন, মো. ইমরান, মো. খায়রুল ইসলাম ও মো. শরীফ ওরফে শুভকে জেলার মধপুর ও ধনবাড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সোমবার সকালে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও জানান, রেজাউল করিমের হেফাজতে থাকা ৬টি ,ওমর সানির কাছ থেকে ২ টি ও আবু সাইদ, ইমরান, খায়রুল মুক্তারের নিকট থেকে ১টি করে চুরি যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। বিজ্ঞ আদালতের বিচারক রেজাউল, ওমর সানি ও আবু সাইদকে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এছাড়াও বাকি চার জন চোরাইকৃত ল্যাপটপ ক্রেতা ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। চুরি যাওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে চলন্ত ট্রেনে কাটা পড়ে আলী আকবর (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। তিনি ট্রেন কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গে লাইনের উপর শুয়ে পড়েন।
সোমবার (৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের হরিষা গ্রামের রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আলী আকবর বেড়াডাকুরী গ্রামের আনছার আলীর শ্বশুর।
জানা যায়, নিহত আলী আকবর জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার টিকলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। দুই যুগ আগে বেড়াডাকুরী গ্রামে আনছার আলীর সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে দেন। বিয়ের পর আলী আকবর মেয়ে ও জামাইকে সব সম্পত্তি লিখে দেন। সহায় সম্পদ বিক্রি করার পর আলী আকবর স্ত্রীকে নিয়ে দেড় যুগ ধরে মেয়ের বাড়িতেই বসবাস করতেন। দেনার দায়ে তার মেয়ে ও জামাতা ঢাকায় চাকরি নেন। জামাতার বাড়িতে শুধু আলী আকবর ও তার স্ত্রী থাকতেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিকুর রহমান জানান, সকালে নিহত আলী আকবরকে জামাইবাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে হরিষা গ্রামের রেললাইনের ওপর শুয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় ট্রেন আসতে দেখে এক নারী তাকে সংকেত দেন। সংকেত পেয়ে শোয়া থেকে উঠে দাঁড়ান আকবর। ট্রেনটি কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় লাইনের ওপর শুয়ে পড়েন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনে কাটা পড়ে তার দেহ খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে তৃতীয় সমাবর্তন সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (৫ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাবর্তনে দেড় হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ নেন।
সমাবর্তনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মনোনীত কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি সভাপতিত্ব করেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেন, সেণ্টার ফর দ্যা রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্যা প্যারালাইজডের (সিআরপি) প্রতিষ্ঠাতা ও কো-অর্ডিনেটর ভ্যালেরি অ্যান টেইলর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর মো. ফরহাদ হোসেন। পদক প্রদান নীতিমালায় পরিবর্তন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এবারের সমাবর্তন বয়কট করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, তৃতীয় সমাবর্তনে এবার এক হাজার ৭২৮ জন নিবন্ধন করেছেন। রোববার সকাল থেকেই তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপস্থিত হতে শুরু করেন। অনেকে স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে আসেন। তারা সমাবর্তনস্থলে ছবি তুলে, আড্ডা দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগ পর্যন্ত নানা খুনসুটিতে সময় কাটান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আমিনুর রহমান তার মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সমাবর্তনে আসেন। তিনি জানান, কৃষক মা-বাবা অনেক কষ্ট করে তাকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন। তাই এই দিনে মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, আগের দুটি সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী তিনটি শ্রেণিতে স্নাতক, স্নাতকোত্তর উভয় পর্যায়ে চ্যান্সেলর, ভাইস-চ্যান্সেলর ও ডিনস পদক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবারের সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন এনেছে।
পরিবর্তিত নীতিমায় স্নাতক ডিগ্রির ক্ষেত্রে ডিনস পদক দেওয়া হচ্ছে না এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রিকে কোনো পদকের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে না। এর প্রতিবাদে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সমাবর্তনে যোগ না দিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ তত্ত্ব ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইসতিয়াক আহমেদ তালুকদার জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ৫২ জন ছাত্র বর্তমানে শিক্ষক হিসেবে চাকুরি করছেন।
এছাড়া বেশির ভাগ শিক্ষক পদক নীতিমালার পরিবর্তনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তাদের অনেকে সমাবর্তনে অংশগ্রহন করেন নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তনে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন দুইজন শিক্ষার্থী ও ভাইস চ্যান্সেলর পদক পাচ্ছেন তিন জন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের চার হাজার ৪৩৩ জন বিএসসি (অনার্স) মাস্টার্সের শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে দুই হাজার ২৪৩ জন শিক্ষার্থী সনদ নেন।
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার ঘোষণা করেছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের পর স্মার্ট বাংলাদেশের পরিকল্পনা এ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সিদ্ধান্ত।
রবিবার (৫ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বির্নিমাণে আপনাদের বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর আদর্শের দিকে তাকান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব এবং তাঁর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নের দিকে তাকান, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদ, অকুতভয় মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। আজ দেশ ও জাতি আপনাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। আপনাদের মেধা, শ্রম ও গবেষণার দ্বারাই এই জাতির যাবতীয় সংকটের অবসান ঘটবে। আপনারা দেশ ও জাতির সামনে আশার আলোস্বরূপ। আপনাদের কর্মস্পৃহা এই দেশকে সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদে ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। আমাদের মতো দেশে যাঁদের প্রাকৃতিক সম্পদ খুব সীমিত, সেখানে দক্ষ মানবসম্পদ বেশি গুরত্বপূর্ণ। আপনাদের মতো তরুণরাই আমাদের দেশের বিরাট শক্তি ও প্রকৃত সম্পদ। এই তারুণ্যের শক্তি কাজে লাগাতে বর্তমান সরকারও নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় আপনাদের নিজেদেরও দক্ষ করে তুলতে হবে।’

খাদ্য নিরাপত্তার প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯, রাশিয়া-ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ, অবরোধ-পাল্টা অবরোধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী ‘খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা’ বেড়েছে। বেড়েছে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে এবং বহুমুখী দুর্যোগের মধ্যেও বিশ্বে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তব্য দেন পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র বা সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অফ দ্য প্যারালাইজডের (সিআরপি) পরিকল্পক ও প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি অ্যান টেইলর। অন্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরহাদ হোসেন, সহ–উপাচার্য এআরএম সোলাইমান, রেজিস্ট্রার তৌহিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, ছানোয়ার হোসেন ও খন্দকার মমতা হেনা, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ সেণ্টার ফর দ্যা রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্যা প্যারালইজডের (সিআরপি) প্রতিষ্ঠাতা ও কো-অর্ডিনেটর ভ্যালেরি অ্যান টেইলর টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বলেছেন, আজ এই শুভ দিনে সরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনারা ডিগ্রি গ্রহণ করে জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে চলেছেন।
আপনাদের শিক্ষার জন্য রাষ্ট্রের প্রচুর টাকা ব্যয় হয়েছে। এই টাকা এসেছে এদেশের কৃষকের কাছ থেকে, শ্রমিকের কাছ থেকে, মেহনতি মানুষের কাছ থেকে। তাই রাষ্ট্রের জনগণের প্রতি আপনাদের কৃতজ্ঞ হতে হবে। তাদের প্রতি আপনাদের অনেক দায়িত্ব পালন করতে হবে। রবিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন।
তিনি বলেন- আশাকরি, আপনাদের মেধা, শ্রম, সেবা, নেতৃত্ব ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সমাজকে আধুনিকায়ন, বিজ্ঞানমুখী ও প্রগতিশীল করতে এগিয়ে আসবেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুবিধার সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাবেন এবং নিজেও সফলতা অর্জন করবেন।
ভ্যালেরি বলেন, শুরুতে জ্ঞান অর্জনের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করা হত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা গেল জ্ঞান শক্তির বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে জীবিকা, সম্পদ ও মানবসেবাও করা যায়। এভাবে শিল্প, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিজ্ঞানসহ জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বিকাশ ঘটে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রভাবে মানুষের ধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে।
তিনি বলেন, মানব সভ্যতার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি অপরিহার্য। প্রযুক্তি জ্ঞানের ব্যবহারিক দিক এবং এটি বিজ্ঞানের অনুশীলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। পশ্চিমে আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রগতি মূলত বাস্তব পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে। অনেক মহান বিজ্ঞানী, দার্শনিক এবং পন্ডিত এই অগ্রগতিতে অবদান রেখেছেন।
সমাবর্তন বক্তা ভ্যালেরি বলেন, আমাদের সাধারণ ধারণা হলো সমাবর্তন শুধুমাত্র স্নাতকদের জন্য, তবে এটি সম্পূর্ণ সত্য নাও হতে পারে। সমাবর্তন যতটা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ততটা তাদের অভিভাবকদের জন্য। আমি স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিনন্দন ও স্বীকৃতি জানাই।
এসময় মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদের পক্ষে কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর মো. ফরহাদ হোসেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর এআরএম সোলাইমান, রেজিস্ট্রার ডক্টর মোহা. তৌহিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ডক্টর মো. সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম(ভিপি জোয়াহের), সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য খন্দকার মমতা হেনা লাভলী, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্কুল ছাত্রকে গলাকেটে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
রবিবার (৫ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলার বলরামপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- বলরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম লোটন, প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান, সদস্য মিনহাজ, শিক্ষার্থী আ. মান্নান ও ফাতেমা, এলাকাবাসীর পক্ষে শাহীন মিয়া ও ইউপি সদস্য বিপ্লব প্রমুখ।
এ সময় বক্তরা সাতদিনের মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি করেন।এছাড়া শিক্ষার্থীরা ক্লাস কার্যক্রম বর্জন করে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।
উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ সন্ধ্যার দিকে বাড়তি আয়ের আশায় শারীরিক প্রতিবন্ধী বাবার ব্যাটারি চালিত ভ্যানগাড়ি নিয়ে বের হয় জাহিদ।এর পর আর বাড়ি ফেরেনি সে। এ দিনগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভূঞাপুর-গোপালপুর সড়কের পাশে ঘাটাইল উপজেলার পাঁচটিকড়ী দক্ষিণপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছ থেকে ভূঞাপুর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের সুজন তালুকদারের ছেলে জাহিদের (১৪) গলাকাটা মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে ভ্যান গাড়িটি পাওয়া যায়নি। সে ভূঞাপুর উপজেলার বলরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, আমরা হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে অনেকটা অগ্রসর হয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো।
একতার কণ্ঠঃ সমাবর্তন প্যান্ডেলের সামনে মানববন্ধন করেছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) অ্যালামনাই শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৪ মার্চ) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তনে পদক প্রদানে নতুন নীতিমালা বৈষম্যমূলক দাবি করে তা বাতিলসহ আগের নীতিমালা বহালের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের দুইটি সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী চ্যান্সেলর, ভাইস চ্যান্সেলর এবং ডিনস তিনটি ক্যাটাগরিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর উভয় পদক দেওয়া হয়েছিল। আসন্ন তৃতীয় সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পদক দেওয়ার নীতিমালায় পরিবর্তন আনে। এতে বর্তমানে স্নাতক ডিগ্রির ক্ষেত্রে ডিনস লিস্ট ও পদক ক্যাটাগরি সম্পূর্ণ বাতিল এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রিকে পদকের জন্য বিবেচনা করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অর্ডিন্যান্স পরিপন্থী।
বক্তারা আরও বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস লিস্ট ও পদক অতিগুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানীয় বলে বিবেচনা করা হয়।
তাই এ ধরেনের বৈষম্য আর অবমাননাকর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা। সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে সমাবর্তন অনুষ্ঠান বর্জনসহ নানা কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা।

এসময় বক্তব্য দেন, অ্যালামনাই শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ইসতিয়াক আহমেদ তালুকদার, সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, মোছাদ্দিক হাসান, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদা আক্তার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের প্রভাষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. হাবিবুর রহমান।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ এস এম সাইফুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মাসুদার রহমান, সিএসই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. তারেকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান বখতিয়ার, ইএসআরএম অ্যালামাইন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. বাদশা মিয়া, সিপিএস অ্যালামাইন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফয়সাল হক, সিপিএস অ্যালামাইন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনমুন বিনতে আজিজ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, সাবেক অ্যালামনাই শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জরুরি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন।
প্রকাশ, টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন রবিবার (৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত হবে। সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মনোনীত কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি।
সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি থাকবেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন, বাংলাদেশ সেন্টার ফর দি রিহ্যাবিলেশন অব প্যারালাইসড (সিআরপি) এর ফাউন্ডার ও কো-অর্ডিনেটর ভ্যালেরি অ্যান টেইলর। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর মো. ফরহাদ হোসেন।
একতার কণ্ঠঃ জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা দেশের বৃহত্তম হাটগুলোর মধ্যে টাঙ্গাইলের করটিয়া কাপড়ের হাট অন্যতম ঐতিহ্যবাহী হাট। বেশ কয়েকবছর যাবত হাটকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় সরকার বঞ্চিত হয়েছে বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় থেকে। সিন্ডিকেটের কারণে বছরে এই হাটের ইজারা মূল্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ৬% হারে বাড়েনি। এ বছর সেই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে মাইসা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২ কোটি ২৩ লাখ টাকায় হাটটি ডেকে নিয়েছে। যা গত বছর ছিলো ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ১০৭ টাকা।
জানা গেছে, টাঙ্গাইলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা করটিয়া হাটকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। এতে যুক্তকরা হয় স্থানীয় করটিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাদের। ফলে বিগত বছরগুলোতে প্রকৃত ইজারাদারগণ হাট ডেকে নিতে কিম্বা দরপত্র দাখিল করতে পারেনি। এতে করে বছরের পর বছর বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার।
এ বছর স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতা বছরের শুরু থেকেই এ সিন্ডিকেট ভাঙ্গার জোর তৎপরতা চালায়। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মককর্তার কার্যালয় থেকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী করটিয়া হাটসহ ১৮ হাট বাজারের দরপত্র আহবান করা হয়। সিন্ডিকেট ভাঙ্গার ফলে এবছর করটিয়া হাট ইজারা নেওয়ার জন্য দশটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি দরপত্র খোলার শেষ দিন ছিল। একই দিনে বিকেল চারটায় দরপত্র খোলা হয়। এতে দেখা যায় মাইশা এন্টারপ্রাইজ নামের এক প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে দরপত্র দাখিল করেছে। দুই কোটি ২৩ লাখ টাকায় দরপত্র দাখিল করে ওই ইজারাদার। যা গত বছর করটিয়া হাটের ইজারা মূল্যর চেয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা বেশি ও বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশী।
সিন্ডিকেট ভাঙ্গার ফলে এ বছর করটিয়া হাটের ইজারা মূল্য হয়েছে দুই কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি ছাড়িয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এ বছর এই হাট থেকে সরকারের কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হবে। বিষয়টি খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন।

মাইসা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জানান, এবছর উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দশটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেন। সর্বোচ্চ দর দিয়ে আমার প্রতিষ্ঠান করটিয়া হাটের একবছরের জন্য ইজারা পায়। আশাকরি, হাটে আসা সকল ধরনের ব্যবসায়ীদের সমন্বয় করে হাটটি সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারবো। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোছা. রানুয়ারা খাতুন জানান, বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। কারণ সরকার এবছর এই হাট থেকে প্রায় এক কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাবে। করটিয়া হাটের ইজারা পেতে ১০ জন ইজারাদার অংশ নিয়েছিলেন।
তিনি আরো জানান, প্রতি বছর ৬% হারে দর বৃদ্ধি পায়। সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়মেই দর বৃদ্ধি পাচ্ছে। দরদাতাদের প্রতিযোগিতার কারণে হাট বাজারের ইজারা দর আরো বেড়ে যায়। তবে সমস্যা হচ্ছে অনেক সময় ইজারদাররা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে টাকা জমা না দেওয়ায় দ্বিতীয় দরদাতাকে ইজারা দিতে হয়।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আগামী নির্বাচনও সংবিধান অনুযায়ী হবে। নির্বাচনে না এলে বিএনপির অস্তিত্ব বিলীন হবে। গত তিনটি নির্বাচনে বিএনপির চরম বিপর্যয় হয়েছে, তাদের বর্তমান কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়- আগামী নির্বাচনে চতুর্থ বারের মতো বিএনপির বিপর্যয়ের সময় এসে গেছে। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিএনপির শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। অস্তিত্বের স্বার্থে তাদের নেতৃবৃন্দ একটা পর্যায়ে গিয়ে নির্বাচনে আসতে বাধ্য হবেন।
শনিবার (৪ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল শহরের কুমুদিনী সরকারি মহিলা কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন দেখে মানুষ খুবই খুখি। মানুষ উন্নয়নের প্রশংসা করছে। মহান স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল- ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ বিনির্মাণের, সে লক্ষ্যেই দেশ এগিয়ে চলেছে। কাজেই দেশের জনগণ আবার শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনবে।
পোল্ট্রি মুরগির দাম নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডক্টর রাজ্জাক বলেন, করোনার সময় থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন যাবৎ পোল্ট্রি ব্যবসায়ী, খামারি, উদ্যোক্তারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন- ক্ষতি দিচ্ছিলেন। হঠাৎ করে গত দুই মাস ধরে পোল্ট্রি মুরগির দাম অনেক বেশি। শোনা যাচ্ছে- তৃণমূলের প্রান্তিক খামারিরা ঠিকমতো দাম পাচ্ছেন না। এ বিষয়টি আমি সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে তুলে ধরব। এমন একটা নীতি আমাদের নির্ধারণ করতে হবে- যার মাধ্যমে পোল্ট্রি মুরগির দাম সহনশীল রাখা যাবে। যাতে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে এবং একইসঙ্গে ব্যবসায়ী, খামারি ও উদ্যোক্তারা লাভবান হয়।
কুমুদিনী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক বদরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম(ভিপি জোয়াহের) এমপি, মো. ছানোয়ার হোসেন এমপি, খন্দকার মমতা হেনা লাভলী এমপি, কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল করিম মিঞা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।