একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাহাবুব আলম মহিন (৪২) নামে ব্যাটারিচালিত এক অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আছিমতলা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মাহাবুব আলম মির্জাপুর পৌরসভার বাওয়ার কুমারজানী পূর্বপাড়া গ্রামের মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে। দুর্বৃত্তরা অটোরিকশাটি ছিনতাই করতেই তাকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মাহাবুব প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মির্জাপুর বাজারে অটোরিকশা চালাতেন। প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার সন্ধ্যায় তিনি অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যান। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলায় স্কচটেপ পেঁচানো এবং মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন মরদেহ দেখে পরিচয় শনাক্ত করে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, দুর্বৃত্তরা অটোরিকশাটি ছিনতাই করতেই তাকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তানিয়া নামে এক কলেজছাত্রীর নগ্ন ভিডিও ফেসবুকে ছাড়ায় সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করেছেন।বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে ভাতগ্রাম ইউনিয়নের সিংজুরী গ্রামে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।
তানিয়া সিংজুরী গ্রামের হারুন মিয়ার মেয়ে এবং মির্জাপুর মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্রী ছিল।
পারিবারিক সূত্র জানায়, একই ইউনিয়নের বুড়িহাটি গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে সুজন (২৪) প্রেমের ফাঁদে ফেলে তানিয়ার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। গোপনে তা ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তানিয়ার কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া কলেজে যাওয়া আসার পথে আরও টাকার জন্য তাকে মারধর করাসহ নানাভাবে ভয় ও হয়রানি করত তানিয়াকে। গত পনের দিন আগে ওই ভিডিওটি ‘লোকাল সাফি’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়লে তানিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এক পর্যায়ে বুধবার বিকালে তিনি সুইসাইড় নোট লেখে তাদের বসত ঘরে গলায় উড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
এদিকে তানিয়ার আত্মহত্যার খবর জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত সুজন গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তানিয়ার বাবা হারুন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, গত পনের দিন আগে তার মেয়ে কলেজ থেকে ফেরার পথে সিংজুরী ব্রিজের কাছে তানিয়াকে আটকিয়ে মারপিট করে সুজন। পরে খবর পেয়ে আমরা সুজনকে আটকে রাখি। ইউপি মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম বাদশা এসে সুজনকে সর্তক করে তার বাবা-মার কাছে দিয়ে দেন। কিন্ত তারপরও সুজন তানিয়াকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে।
জাহাঙ্গীর আলম বাদশা মেম্বারের সঙ্গে কথা হলে তিনি এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
তানিয়ার বড় ভাই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আবু তালেব অভিযোগ করে বলেন, ভিডিও ছাড়ার আগে হিলারি নামে তার দশম শ্রেণি পড়ুয়া ফুফাতো বোনের কাছে সুজন হুমকি দিয়ে এসএমএস পাঠায়। তাতে সে লেখে ‘তানি এখন বেশি বুঝল, ওর মরণ আছে’। এরপর ‘লোকাল সাফি’ আইডি থেকে ওই ডিডিও ছেড়ে দিলে তানিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ গিয়ে তানিয়ার মরদেহ থানায় নিয়ে আসে।
সুইসাইড় নোট: ‘আমারে তুমরা সবাই মাফ কইরা দিও, আমার জন্য তুমাগো অনেক মান সম্মান নষ্ট হইছে, আমি চাই না তুমাগো আরো মান সম্মান নষ্ট হক। তোমরা জানো না ঐতি কি কি করছে আমার সাথে। আমের জোর কইরা ধর্ষণ করছে। তারপর আমার ছবি তুইলা সেই ছবি দিয়া আমার কাছে থাইক দেড় লাখ টাকার জিনিস নিছে।’
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, তানিয়া নামে ওই কলেজ ছাত্রী ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। একটি সুইসাইড় নোট উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আত্মহত্যার কারণ উদঘাটন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডিত ব্যক্তির নাম মো. হাসমত আলী (৪২)।বাবা ছামেদ আলীকে হত্যার দায়ে মঙ্গলবার (৩১ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা ও দায়রা জজ ফাহমিদা কাদের এ রায় দেন।
দণ্ডিত হাসমত ঘাটাইল উপজেলার রামদেবপুর হেংগারচালা গ্রামের ছামেদ আলীর ছেলে।
টাঙ্গাইলের সরকারি কৌশুলী (পিপি) এস আকবর খান জানান, হাসমত ২০২০ সালের ১৭ অক্টোবর রাত ৯ টার দিকে তার বাবার কাছে নেশার জন্য টাকা চায়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে হাসমত তাকে পেটাতে শুরু করে। এসময় হাসমতের মা হাসনা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ধাওয়া করে। পরে বাড়িতে থাকা কোদাল দিয়ে ছামেদ আলীর গলা, মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে। এতে ঘরের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। পরে মা হাসনা বেগমকে কোপাতে গেলে এলাকার লোকজন এসে হাসমতকে ধরে ফেলে। রাতেই তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরদিন হাসমতের মা বাদি হয়ে ঘাটাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় তদন্ত শেষে ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল হাসান ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে হাসমত আলী জেল হাজতে ছিলেন। মঙ্গলবার তাকে আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণার পর তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
একতার কণ্ঠ :টাঙ্গাইলে হত্যা মামলায় কাশেম আলী নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩০ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের দ্বিতীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় দেন। রায়ে দন্ডিত ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও চারমাস সশ্রম করাদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে।
দন্ডিত মোহাম্মদ কাশেম আলী (৩৫)বাসাইল উপজেলার করটিয়াপাড়া গ্রামের আজিজুল মিয়ার ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের সরকারি কৌশুলী (পিপি) এস আকবর খান।
তিনি জানান, দন্ডিত কাশেম আলী ২০০৭ সালের ৮ জুন তাদের এলাকার আলী আজমসহ আরও কয়েকজন একই উপজেলার ময়থা গ্রামে তুলা মিয়ার জমিতে মাটি কাটতে যান। সেখানে দন্ডিত কাশেম আলী পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আলী আজমকে (২৬) মারপিট করে এবং উপরে তুলে আছড়ে ফেলে। এতে আজম গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় প্রথমে তাকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে ও পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১৮ জুন তার মৃত্যু হয়। ওই দিনই আলী আজমের স্ত্রী চায়না বেগম বাদি হয়ে বাসাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে বাসাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুলতান আহমেদ ২০০৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার ১৫জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহন শেষে এই রায় দেওয়া হয়। রায় ঘোষনার সময় দন্ডিত কাশেম আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে খাদিজা আক্তার (২২) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২৯ মে) সকালে উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের কুটুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খাদিজার ২ বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
জানা যায়, কোকডহরা ইউনিয়নের কুটুরিয়া গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে সৌদি প্রবাসী আবু হানিফের সাথে প্রায় ৪ বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী বলধী গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে খাদিজার বিয়ে হয়। তার স্বামী আবু হানিফ দেশে ছুটি কাটিয়ে দু’মাস পূর্বে পুনরায় সৌদী চলে যান। তারপর থেকেই শশুর-শাশুড়ী খাদিজাকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার করে আসছিল বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার। গত দু’দিন আগে শাশুড়ি ও খাদিজার সাথে শাশুড়ীর স্বর্ণের চেইন হারানো নিয়ে নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে রোববার সকালে স্টোক করেছে বলে খাদিজাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় তার শশুর-শাশুড়ী। এসময় চিকিৎসক মৃত খাদিজার গলায় চিহ্ন দেখে শাশুড়ি হালিমনকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন ফাঁসি দিয়েছে।
নিহত খাদিজার ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, খাদিজাকে হত্যা করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে তার শাশুড়ি হালিমন আমাদের জানায় সে অসুস্থ্য। পরে জানতে পারি পুলিশ খাদিজার লাশ থানায় নিয়ে গেছে।
খাদিজার বাবা খালেক বলেন, আমার মেয়ে খাদিজাকে তার শশুর-শাশুড়ী হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করেছি। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
অন্যদিকে, শাশুড়ী হালিমনের দাবী গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে খাদিজা। তাকে বাঁচাতে ফাঁস থেকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ফাতেমা জানান, রাতের শিফটের ডাক্তার সকালেও ডিউটি করেছেন। খাদিজা নামে এক গৃহবধুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ওটা ব্রড ডেড, হ্যাংগিং কেস চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ এসে লাশ নিয়ে গেছে। পোস্টমর্টেমের পর মূল বিষয় জানা যাবে।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সংবাদ পাওয়ার পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইল শহরের দেওলা এলাকায় রিনা আক্তার মায়াকে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় স্বামী ওয়াহেদুল ইসলাম প্রান্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার(২৪ মে) দুপুরে তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সপর্দ করলে টাঙ্গাইল সদর আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রট সামছুল আলম একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করন। তথ্যটি নিশ্চিত করেছে আদালত পরিদর্শক মা. তানভীর আহম্মদ।
এ ঘটনায় নিহত কলেজ ছাত্রীর পিতা কালিহাতী উপজলার মহেলা গ্রামের মো. হাবেল উদ্দিন বাদী হয়ে রোববার(২২ম) রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ।
প্রকাশ, নিহতের বাবা হাবিল উদ্দিন জানান,গত দেড় বছর আগে শহরের বিশ্বাসবেতকা মুন্সিপাড়া এলাকার সামাল খাঁনর ছেলে ওয়াহেদুল ইসলাম প্রান্তর সাথে রিনা আক্তার মায়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে শাররীক ও মানুষিকভাব নির্যাতন করত। এ বিষয়ে মেয়ের বাবা হাবিল উদ্দিন মেয়ের জামাতার বাবার কাছে অভিযাগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দেওলার ভাড়াটিয়া বাসায় যায়। বাসা ফাঁকা পেয়ে মায়ার উপর চড়াও হয় শান্ত। ধস্তাধস্তির একপর্যায় মায়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে মায়ার মরদেহ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানর সাথে ঝুলিয়ে রেখে ডাকচিৎকার করেন স্বামী। প্রতিবশীরা পুলিশকে খবর দিলে মরদহ উদ্ধার করে এবং স্বামী প্রান্তকে আটক করে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করে।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলের বাসাইলে চাচির গোসলের নগ্ন ভিডিও ধারণ করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী বাসাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মান্দারজানি গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে শরিফুল ইসলাম শরীফ (২৮) কৌশলে তার চাচির গোসলের নগ্ন ভিডিও ধারণ করে। পরে ওই ভিডিও হৃদয় খান নামে একটি ইমো আইডি থেকে তার সৌদি প্রবাসী চাচাকে পাঠায়। দুই লাখ টাকা না দিলে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে ভাইরাল করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি তিনি তার স্ত্রীকে জানান। পরে স্ত্রী বাদী হয়ে বাসাইল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর গোসলখানাটি অভিযুক্ত শরীফের ঘরের উত্তর পাশে অবস্থিত। ভুক্তভোগী ওই নারীর গোসলখানা দরজাবিহীন। ছবিটির ফ্রেম বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ছবিটি অভিযুক্ত শরীফের ঘর থেকে তোলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শরীফের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে চুরিসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকায় এলাকায় একাধিক গ্রাম সালিশ হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, শরিফ ইতোপূর্বে আমার ঘরে ঢুকে খাবারের সাথে বিষজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে আমাদের সবাইকে মেরে ফেলারও চেষ্টা করেছিল। শুধু ভাতিজা বলে এতদিন সকল অত্যাচার সহ্য করেছি। আমি ওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে সৌদি প্রবাসী মুঠোফোনে বলেন, যে ইমো আইডি হৃদয় খান থেকে আমাকে ভিডিওটি পাঠানো হয়েছে ওই একই আইডি থেকে আমার ভাতিজা শরীফ আমার সাথে যোগাযোগ করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, আমাদের বাড়িতে পুলিশ এসেছিল। আমি পুলিশকে আমার মোবাইল ফোন দিয়ে দিয়েছি। আমার চাচির সাথে এমন কাজ করতে পারি না। অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও তিনি দাবি করেন।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে স্ত্রীর অধিকারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সোনিয়া আক্তার নামে এক গৃহবধু।
বুধবার (১৮ মে) সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সোনিয়া আক্তার ধনবাড়ী উপজেলার আমনগ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো. কবির হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী। কবির হোসেন মিরপুর-১৪ পুলিশ লাইন্সে কর্মরত বলে জানা গেছে।
সোনিয়া আক্তার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় এক বছর আগে তার সঙ্গে কবির হোসেনের পরিচয় হয়। প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কবির হোসেন বিষয়টি গোপন করে দুই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর কবির সোনিয়াকে বাবার বাড়িতেই রেখে দেয়। এ সময় কবির পদন্নোতির কথা বলে কয়েক দফায় স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে প্রায় চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন সোনিয়া আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে সোনিয়া আরো জানান, এক পর্যায়ে সন্দেহ হলে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন কবির ইতিপূর্বে সাত লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে আরেকটি বিয়ে করেছে। প্রথম স্ত্রীকেও সে বাবার বাড়িতে রেখে দিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে সোনিয়া আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে তাকে নানাভাবে হুমকি দেয় কবির এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে বাবার বাড়িতেই অসহায় জীবন যাপন করছেন সোনিয়া।
সোনিয়া বলেন, আমি শারীরিক নির্যাতন সহ্য করেও কবিরের সংসার করতে চেয়েছি। কিন্তু সে আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। আমি স্ত্রীর অধিকার দাবি করছি।
এ সময় স্ত্রীর অধিকারের জন্য প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন সোনিয়া আক্তার।
অভিযুক্ত কনস্টেবল কবির হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
একতারকণ্ঠ: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় দরিদ্রদের কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিকের মজুরির টাকা কৌশলে নিজের পকেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত হেকমত সিকদার উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নে গত ১৫ জানুয়ারি থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার ২০২১- ২০২২ অর্থ বছরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। আর এই প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান হেকমত সিকদারের বিরুদ্ধে। ৪০ দিনের এই প্রকল্পে গ্রামের অসহায় হতদরিদ্র লোকজনের কাজ করার কথা থাকলেও তা করানো হয়নি। শ্রমিক নয়, বরং মাটি কাটার ভেকু দিয়ে নামমাত্র কাজ করিয়েছেন তিনি। নিজের লোকদের মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।
আরও জানা গেছে,প্রকল্পের এই কাজে সাগরদীঘি ইউনিয়নের জন্য ১৩ লাখ ১২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ৪০ দিনের ওই প্রকল্পে গ্রামের অসহায় হতদরিদ্র লোকজনের কাজ করার কথা থাকলেও সেখানে নাম রয়েছে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের। কলেজের শিক্ষক থেকে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী থেকে ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটরের নাম সেই তালিকায়। এমনকি সিঙ্গাপুর ফেরত জোড়দিঘী এলাকার যুবলীগের নেতা মেহের আলীর নাম রয়েছে ওই তালিকায়। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মোট ৮১ জন ব্যাক্তির নাম এই কর্মসূচির তালিকায় রয়েছে। তাদের একাংশের মোবাইল সিমকার্ডসহ তাদের পিন কোড কৌশলে হাতিয়ে নেন চেয়ারম্যান। পরে ওই ভুক্তভুগীরা টাকা এবং সিমকার্ড কোনোটিই ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেন। এ কর্মসূচির আওতায় শ্রমিক দিয়ে কোনো কাজ হয়নি বলেও জানা যায়।
ভুক্তভোগী মেহের আলী জানান, আমার নাম তালিকায় থাকলেও আমি কোনো টাকা পাইনি। ওই কর্মসূচির তালিকায় থাকা কামালপুর ওয়ার্ডের আনোয়ারা, নার্গিজ, খাদিজা আক্তার এবং আব্দুর রহিম মিয়ার সঙ্গেও কথা হয়। তারা জানান, যাচাই-বাছাই করার কথা বলে হেকমত চেয়ারম্যান আমাদের বিকাশের পিনকোডসহ সিমকার্ড নিয়ে যায়। পরে সিমকার্ড ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা করেন। এসব ভুক্তভুগীরা প্রকল্পের কোনো প্রকার টাকা পাননি বলেও জানান।
পাগাড়িয়া জালালপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিক মিয়ার বলেন, চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার আমাকে ৯টি শ্রমিকের নামের মধ্যে ৩টি নাম দিতে বলেন। বাকি ৬টি চেয়ারম্যানের লোকদের দিবে বলে জানিয়ে দেন। আমার এলাকায় শ্রমিক দিয়ে এই প্রকল্পের কোনো কাজ করা হয়নি।
ওই ইউনিয়নের আরেক ইউপি সদস্য ফরহাদ আলী বলেন, আমার ৭নং ওয়ার্ডে প্রকল্পের কোনো কাজ হয়নি। সম্পূর্ণ টাকা চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে ভাগাভাগি করে খেয়েছেন।
এ বিষয়ে সাগরদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার জানান, এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
এ বিষয়ে ভুক্তভুগীদের পক্ষে ওই ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ লাল মিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, শ্রমিকদের নামের তালিকা করেছে স্থানীয় মেম্বাররা। সেখানে কোনো অনিয়ম হলে শ্রমিকদের বিল দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনীয়া চৌধুরী জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠ:টাঙ্গাইলে অজ্ঞানপার্টি চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করেছে র্যাব।শুক্রবার(১৩ মে) সকালে শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, মধুপুর উপজেলার বেকারকোনার গ্রামের মৃত মীর আলী শেখের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৫০), নাটোরের কৃষ্ণপুর এলাকার মৃত মোবারক হোসেনের ছেলে সানোয়ার হোসেন (৫৩) এবং ঢাকার খিলক্ষেত এলাকার মাহফুজুল হকের ছেলে মাসুদুল হক আপেল (৪৫)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি বিস্কুটের প্যাকেট, ৫টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে, র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গণপরিবহনে উঠে অসহায় যাত্রীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করতো। পরে তাদের পাশের সিটে বসতো এবং তাদের সাথে বিভিন্ন ধরণের বন্ধুসুলভ কথা বলে চেতনানাশক ঔষধ মিশ্রিত বিস্কুট খেতে দিয়ে অজ্ঞান করতো। পরবর্তীতে তারা যাত্রীদের সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যেতো।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বিড়ি চাওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিকের ধারালো কাচির কোপে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে সেলিম নামের অপর শ্রমিকের। বৃহস্পতিবার (১২ মে) সকালে উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামে ঘটেছে ঘটনাটি।
জানা যায়, বর্ণি গ্রামের শফিকুল ইসলাম নামের কৃষক তার জমির ধান কাটতে বিভিন্ন অঞ্চলের ৯জন শ্রমিক নিয়োগ করেন। সকালে তারা জমিতে ধান কাটতে যায়। ধান কাটা অবস্থায় অপর জমিতে কাজ করতে আসা বর্ণি গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে সেলিম নামের শ্রমিক শফিকুলের নিয়োগকৃত শ্রমিকদের নিকট বিড়ি চায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে মাসুদ রানা ও আবদুল লতিফ নামের শ্রমিক সেলিমের ডান হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। খবরটি বর্ণি গ্রামে পৌছলে গ্রামের লোকজন শ্রমিকদের ঘেড়াও করে মারধর শুরু করে। স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ৬ শ্রমিককে আটক করেন। এ সময় জনরোষে পড়ে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ ৬ শ্রমিককে আটক করলেও বাকি ৩ শ্রমিক পালিয়ে যায়।
আটককৃত শ্রমিকরা হলেন , সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালি থানার আবদুল আজিজ মিয়ার ছেলে মাসুদ রানা (৩৭), একই জেলার বেলকুচি এলাকার মো. মজিদ সরকারের ছেলে আবদুল লতিফ (৩০), টাঙ্গাইল সদর থানার ভবানিপুর গ্রামের মোঃ আছান মিয়ার ছেলে মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৩০), সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি এলাকার মোঃ ময়নাল মিয়ার ছেলে মোঃ সাহাব উদ্দিন (২৭), গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের মোজাম্মেল মিয়ার ছেলে নুরুজ্জামান (২৫) ও সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী এলাকার আবদুল আওয়াল মিয়ার ছেলে নূর আলম (২২)।
দেলদুয়ার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, বিড়ি চাওয়া নিয়ে বাকবিতন্ডায় বর্ণি গ্রামের সেলিম নামের এক শ্রমিকের উপর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কাজ করতে আসা শ্রমিকরা হামলা চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে ৬ শ্রমিককে আটক করা হয় বাকি ৩ শ্রমিক পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সেলিম নামের শ্রমিকের ডান হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ভিকটিমের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন বাদি হয়ে দেলদুয়ার থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে নাগবাড়ী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোশারফ মিয়ার বিরুদ্ধে।বুধবার (১১ মে) উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের মরিচা পাইকপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতন চলাকালে ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ এসে ওই গৃহবধূকে কাঁঠাল গাছে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে। নির্যাতিত গৃহবধূ ওই গ্রামের প্রবাসী আলহাজ মিয়ার স্ত্রী।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, তার স্বামী প্রবাসে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্য মোশারফ সম্পর্কে আমার মামা হয়েও তাকে বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মোশারফ ভয়ভীতি ও বাড়ি থেকে জোরপূর্বক একাধিকবার উচ্ছেদের চেষ্টা করেন। সম্প্রতি রমজান মাসে সেহরি রান্না করার সময় মোশারফ ও তার এক বন্ধুকে নিয়ে এসে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তখন চিৎকারে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় টাঙ্গাইল আদালতে মামলা দায়ের করলে মোশারফ ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটায়।
এদিকে এলাকাবাসী জানায়, ইউপি সদস্য মোশারফ মিয়া এলাকায় অনেক প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দেয়া নিয়ে এলাকায় সালিশি বৈঠকও হয়েছিল। আজকে যেভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় গৃহবধূকে নির্যাতন করা হয়েছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মোশারফ মিয়া বলেন, আমার পরিবারের ওপর হামলা করায় তাকে গাছে বেঁধে রাখা হয়। তবে তিনি কু-প্রস্তাবের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শোনা মাত্রই আমাদের অফিসার ও ফোর্সরা তাকে উদ্ধার করেন। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।