একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের কাগমারীপাড়া শিয়ালকোল এলাকার গৃহবধু জহুরা বেগমকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামীসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মেয়ে।
মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভূঞাপুর থানা) আমলী আদালতে তার মেয়ে মো. সেলিনা বেগম (৪১) বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভূঞাপুর থানার ওসিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন আদালত।
মামলায় নিহত গৃহবধুর স্বামী মো. বেল্লাল হোসেন তালুকদার, তার ছেলের স্ত্রী মোছা. আম্বিয়া বেগম ও ছেলের শ্বশুড় মো. আনছার আলী মন্ডলকে (৬৫) আসামী করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বেল্লাহ হোসেন তালুকদারের জমি-জমা লিখে দেয়ার জন্য তার ছেলের স্ত্রী মোছা. আম্বিয়া খাতুন চাপ দিতেন। এক পর্যায়ে বেল্লাল হোসেন তালুকদার জমি লিখে দিতে চাইলে তার স্ত্রী বাঁধা দেয়।
পরে তার ছেলের স্ত্রী ও শ্বশুড় হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে জহুরা বেগমকে মারধর করে আসামীরা। এক পর্যায়ে জহুরা বেগমের মৃত্যু হয়।
মেয়ে খবর
মার মৃত্যুর খবর পেয়ে মামলার বাদী তার মেয়ে বাড়ি গিয়ে মায়ের লাশের শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হলে ৯৯৯ ফোন করে। পুলিশ গিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পরে আসামীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) নামের এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার(১৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের কালিয়ান গ্রাম থেকে জাহাঙ্গীরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম ওই গ্রামেরই ফজলুর রহমান খানের ছেলে।
তার পরিবারের সদস্যরা জানান, জাহাঙ্গীর কয়েক দিন আগে সিঙ্গাপুর থেকে বাড়ি ফিরেছেন। বাড়ি ফেরার পর তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সোমবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় তিনি নিজের ঘরেই ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। পরে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় সখীপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন জানান, ‘মরদেহটির সুরতহাল তদন্তে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই মনে হয়েছে। তারপরও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইলে জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত সোহরাব মিয়ার লাশ নিয়ে সোমবার (১৪ নভেম্বর) সকালে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। তারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
নাগরপুরের বেকড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বেকড়া গ্রামের মৃত তফিজ উদ্দিনের ছেলে সোহরাব মিয়া (৫০) প্রতিপক্ষের হামলায় গত ৯ নভেম্বর আহত হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১২ নভেম্বর) রাতে তার মৃত্যু হয়।
ঢাকায় ময়না তদন্ত শেষে রোববার (১৩ নভেম্বর) রাতে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। দাফনের আগে এলাকাবাসী এই হত্যার বিচারের দাবিতে বেকড়া বাজার এলাকায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। তারা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয়রা জানান, বেকড়া গ্রামে জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে নিহত সোহরাবদের পরিবারের সঙ্গে রহিম ও রৌফ মিয়ার পরিবারের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত বুধবার (৯ নভেম্বর) সোহরাবদের বাড়িতে প্রতিপক্ষ হামলা করে। এতে সোহরাব ছাড়াও তার অপর তিন ভাই চান মিয়া (৫২), জহিরুল ইসলাম (৪৫), ফরিদ মিয়া (৩০), এবং দুই ভাইয়ের স্ত্রী শাহানাজ বেগম (৫০) ও নাজমা বেগম (৪০) আহত হন। তাদের মধ্যে সোহরাবসহ চার ভাইকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সোহরাবের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, এই হামলার পর সোহরাবের ভাই জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে নয় জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এখন ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলে ওই মামলায় হত্যা মামলার ধারা সংযুক্ত হবে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ট্রাকের চাপায় রহিম বাদশা (২৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৪ নভেম্বর)সকালে উপজেলার সাগরদীঘি-গারোবাজার আঞ্চলিক সড়কের মুরাইদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সাগরদীঘি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আতোয়ার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত রহিম বাদশা মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের টিক্কার বাজার এলাকার ময়েজ আলীর ছেলে। তিনি ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের সানবান্ধা এলাকার ইকো ফ্রেন্ডস গ্রিন ব্রিকস কম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
সোমবার সকালে তিনি বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল যোগে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে সাগরদীঘি-গারোবাজার সড়কের মুরাইদ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহি ট্রাক তার মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং মাথা থেঁতলে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সাগরদীঘি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আতোয়ার রহমান জানান, ট্রাকটিকে আটক করা যায়নি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একমাত্র মেয়ের মৃত্যুশোকে হেক্সিসল পান করে বাসন্তী বণিক (৫১) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।
শুক্রবার (১১ নভেম্বর) সকালে উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের নগর ভাতগ্রাম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বাসন্তী বণিক নগর ভাতগ্রাম গ্রামের প্রাণকৃষ্ণ বণিকের স্ত্রী। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।
শুক্রবার দুপুরে মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাসন্তী ও প্রাণকৃষ্ণ দম্পত্তির একমাত্র সন্তান পূজা বণিক (১৮) কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর)সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় পূজার মত্যু হয়।
শুক্রবার ভোরে একমাত্র সন্তানের মরদেহ বাড়িতে আনা হলে বাসন্তী শোকবিহ্বল হয়ে পড়েন। মেয়ের মৃত্যুশোক সহ্য করতে না পেরে সবার অজান্তে বাথরুমে ঢুকে হেক্সিসল পান করেন তিনি। পরে অসুস্থ অবস্থায় মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। পরিবার আবেদন করলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রেমিক বিয়ে করতে রাজী না হওয়ায় নবম শ্রেণির ছাত্রী রিয়া আক্তার (১৭) নামে এক কিশোরী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
শুক্রবার (১১ নভেম্বর)সকালে তার নানা বাড়ী উপজেলার তক্তারচালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিয়া বোয়ালী গ্রামের প্রবাসী রিপন মিয়ার মেয়ে।
জানা যায়, রিয়া আক্তার উপজেলার তক্তারচালা গ্রামে তার নানা ফয়েজ আলীর বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি স্কুলে নবম শ্রেণীতে লেখাপড়া করতো।
সম্প্রতি ক্লাসেরই এক ছেলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রিয়ার পরিবার বিষয়টি জানার পর অন্যত্র তার বিয়ে ঠিক করে। রিয়া তার প্রেমিককে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে ছেলেটি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। অভিমানে শুক্রবার সকালে তার ঘরের আড়ার সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলে মাদক পাচারের দায়ে চার ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে দণ্ডিতদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (০৯ নভেম্বর)দুপুরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সুরুজ সরকার এ আদেশ দেন।
দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন- ঢাকা মহানগরীর ছোট দিয়াবাড়ী এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে মাহমুদুল হাসান ওরফে পিয়াস, সাভারের বেগুনবাড়ী এলাকার আমজাত আলীর ছেলে খোরশেদ আলম, পাবনা সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামের মোশারফ শেখের ছেলে ইকবাল শেখ ও মনোহোরপুর গাছপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম শেখের ছেলে হারুন অর রশিদ শেখ।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌশুলী মনিরুল ইসলাম খান জানান, ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) একটি দল টাঙ্গাইল শহরের বাইপাসের রাবনা মোড়ে দুটি ট্রাকে তল্লাশি চালায়। এ সময় একটি ট্রাক থেকে ৯৮৬ বোতল এবং অপর একটি ট্রাক থেকে ৯৫৭ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।
পরে দুই ট্রাকে থাকা চার জনকে আটক করা হয়।
এরপর জিজ্ঞাসাবাদে দণ্ডিত মাহমুদুল হাসান র্যাবকে জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ সীমান্ত থেকে তারা এসব ফেনসিডিল সংগ্রহ করেন। পরে দুই ভাগে ভাগ করে দুইটি ট্রাকে লুকিয়ে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন।
এ ঘটনায় র্যাবের অতিরিক্ত সহকারি পরিচালক শাহিনুল আলম মিয়া বাদি হয়ে ওই দিনই টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত চার জনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের দায়ে দু’টি ধারায় আলাদাভাবে আলমগীর হোসেন (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (০৯ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এ রায় দেন।
সেই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আলমগীর টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ভুটিয়া গ্রামের আবু হানিফের ছেলে।তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আলী আহমেদ এবং এপিপি মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস জানান, ২০০৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সকালে শিশুটি স্কুলে যায়।সেখান থেকে শিশুটিকে অপহরণ করে আলমগীর তার মামার বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে আলমগীর হোসেনের নামে গোপালপুর থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর গোপালপুর থানার সেই সময়ের উপপরিদর্শক (এসআই) তাজাম্মেল হক একমাত্র আসামি আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ৭ ধারা এবং ৯(১) ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় বুধবার এ দু’টি ধারায় আলাদাভাবে আসামিকে সাজা দেন আদালত। তবে উভয় অপরাধের সাজা একসঙ্গে চলবে বলেও বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেন। আসামি হাজতবাসের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপন করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের মধুপুরে কৃষি জমির মাটি লুট করে টাইলস কোম্পানিতে বিক্রি করার দায়ে এক ব্যবসায়ী, ট্রাকের দুই চালক ও এক ভ্যেকু চালককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে জেল দিয়েছেন।
শনিবার( ৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা ইয়াসমীন।
বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্তরা হলেন মাটি ব্যবসায়ী মধুপুর উপজেলার বিপ্রবাড়ী গ্রামের মৃত শহীদুল ইসলামের ছেলে মো. আলামিন (২৫), ভেকুর চালক ঘাটাইল উপজেলার চাঁনতারা গ্রামের খেজমত আলীর ছেলে মো. আহাম্মদ আলী (২৬), ট্রাকের ডাইভার ঘাটাইল উপজেলার উত্তর লক্ষীন্দর গ্রামের মো. মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. রুবেল (২৯) ও মধুপুর উপজেলার গাছাবাড়ী গ্রামের সরুজ আলী ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম (২৩)। ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রথম জনকে ৬ মাস, ২য় জনকে ১ মাস ও পরের জনকে ১৫ দিন করে জেল দিয়েছেন।
মধুুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা ইয়াসমীন জানান, কুড়াগাছা ইউনিয়নের এ বাইদ থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাটি ব্যবসায়ীরা কৃষি জমি নষ্ট করে টাইলস কোম্পানিতে মাটি বিক্রি করে আসছে। বারবার তাদের মাটিসহ ট্রাক, ভেকু আটক করে জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান,কৃষি জমি নষ্টের ব্যাপারে সর্তক করলেও তারা গুরুত্ব দেয়নি। ৫ নভেম্বর পিরোজপুরের বলাইদ বাইদ থেকে ভেকু দিয়ে কৃষি জমি নষ্ট করে মাটি উত্তোলন করে ট্রাক ভর্তির সময় এক মাটি ব্যবসায়ী ৩ ড্রাইভার ও মাটি ভর্তি দু’টি ট্রাক আটক করা হয়। পরে বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ৪ ধারায় অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিনাশ্রম জেল প্রদান করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(৩ নভেম্বর) বেলা তিনটার দিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
বরখাস্তকৃত ওই শিক্ষকের নাম গৌরাঙ্গ সরকার (৪৮)। তিনি উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এর আগে বুধবার (২ নভেম্বর)রাতে ওই ছাত্রীর চাচা বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে সখীপুর থানার পুলিশ প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একাধিক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৭ অক্টোবর বিকেলে বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পর পঞ্চম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ডেকে নেন প্রধান শিক্ষক। সেখানে তিনি মুঠোফোনে গান বাজিয়ে ছাত্রীকে নাচতে বলেন। ছাত্রী রাজি না হওয়ায় তিনি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাফিউল ইসলাম জানান, ‘যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ওই প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করার চিঠিটি ই–মেইলে একটু আগে পেয়েছি। গ্রেপ্তার হওয়ার আগের দিন ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির লোকজন ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করে আমার দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।’
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, মামলায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মারধরের শিকার হয়েছেন এক শিক্ষক।
বুধবার (২ নভেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামের এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযাগ সূত্রে জানা গেছে, ডুবাইল ইউনিয়নের বর্ণি সুফিয়া ওমর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ৬ মাস ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল একই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র আব্দুর রহমান দেওয়ান।
ঘটনাটি ওই ছাত্রী তার বাবা একই স্কুলের ধর্মবিষয়ক শিক্ষক লুৎফর রহমান শেখকে জানায়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বুধবার মোটরসাইকেলে করে মেয়েকে নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন শিক্ষক লুৎফর রহমান শেখ। হামলাকারী অভিযুক্ত আব্দুর রহমান ও তার সঙ্গীরা মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে লুৎফর রহমান ও তার মেয়েকে নামিয়ে লাঠি ও জুতা দিয়ে বেদম মারধর করে।
দেলদুয়ার থানার ওসি মো. নাছির উদ্দিন মৃধা বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে গর্ভবতী ফাতেমা আক্তার (৩৫) লাশ উদ্বার করেছে নাগরপুর থানা পুলিশ। বুধবার (২ নভেম্বর) সকালে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের দক্ষিন সহবতপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজের ৬ দিন পর ঝুলন্ত অবস্থায় তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
মৃত ফাতেমা আক্তার সহবতপুর গ্রামের মৃত সমাজ মিয়ার ৩য় কন্যা।
পবিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ফাতেমার বিয়ের কয়েক বছর পর সন্তান সহ ১ম স্বামী আলীম, ফাতেমাকে তালাক দেয়। ফাতেমা সংসারের অভাবের তারনায় সৌদি পাড়ি দেন। টানা ৫ বছর প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরত আসে। পরে ফাতেমা ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরী নেন। চাকুরী সুবাদে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার মো. আরশেদ আলীর ছেলে রুবেল মিয়া সাথে প্রথমে প্রেম পরে বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় ২ মাস পর রুবেলের ছোট ভাই শামীমের সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে ফাতেমা। পরে রুবেলকে তালাক দিয়ে ছোট ভাই শামীমকে বিয়ে করে সাত মাস ধরে ঘর সংসার করে আসছিল। এরই মধ্যে চার মাসের অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে ফাতেমা।
গত (২৭ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার স্বামীসহ ফাতেমা তার বাবার বাড়ী সহবতপুর আসেন। পরের দিন সকালে স্বামী শামীম ঘুম থেকে উঠে তার স্ত্রী ফাতেমাকে আর খোঁজে পান না। ফাতেমার বাড়ীর লোকজন স্বামী শামীমকে চাপ সৃষ্টি করলে শামীম কোন কিছু উত্তর না দিয়ে পালিয়ে ঢাকা চলে যায়। নিহত ফাতেমার বাড়ীর লোকজন শামীমের মোবাইল ফোনে যোগযোগ করলে শামীম নানা রকম কথা বার্তা বলে। নিখোঁজের ৬ দিন পর বাড়ির পাশ থেকে মাটি আনতে গিয়ে ঝোপের মধ্যে ফাতেমার ঝুলান্ত লাশ দেখতে পান চাচাতো ভাবি পারুল।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (তদন্ত) হাসান সরকার জাহিদ বলেন, সংবাদ পেয়ে লাশ উদ্বার করে ময়নাতদন্ত জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসাপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।