মোঃ আরমান কবীর সৈকত (সম্পাদক)

টাঙ্গাইলে দুই বছরেও শেষ হয়নি “বেগুনটাল ব্রীজ”; জনদূর্ভোগ চরমে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে দুই বছরেও শেষ হয়নি “বেগুনটাল ব্রীজ”; জনদূর্ভোগ চরমে

একতার কণ্ঠঃ দুই বছরেও শেষ হয়নি টাঙ্গাইল আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ব্রীজ নির্মাণের কাজ। এতে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় জনসাধারণসহ ব্রীজ ব্যবহারকারীরা। চরম ভোগান্তি সত্ত্বেও প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহসও পাচ্ছেননা স্থানীয়রা।

অন্যদিকে ব্রীজ নির্মাণ কাজের সময় শেষ হলেও তিন বছর সময় নির্ধারণ রয়েছে বলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

দীর্ঘ এ জনদূর্ভোগ সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে নীরব ব্রীজ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের বেগুনটাল খালে নির্মাণাধীন ওই ব্রীজের কাজটি করছেন মো. তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা। তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের টানা দুই বারের সাধারণ সম্পাদক ও হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান।

জানা যায়, বাসাখানপুর বাজার হুগড়া ইউপি ভায়া বেগুনটাল বাজারের খালের উপর বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান এর নামকরণে ও ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ টাকা ব্যায়ে ৫০ মিটার গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ কাজের টেন্ডার দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) টাঙ্গাইল।

ব্রীজ নির্মাণের কাজটি পান মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

২০২০ সালের ৫ জুলাই নির্মাণ কাজ শুরু আর ২০২১ সালে ৪ এপ্রিল সমাপ্তির সময়সীমাও বেঁধে দেয় এলজিইডি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেগুনটাল ব্রীজটি নির্মাণে দীর্ঘ সময় লাগায় চরম সমস্যায় রয়েছেন তারা। এই ব্রীজ হয়ে যমুনা নদী পথে সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর, টাঙ্গাইলের কাকুয়া ও কাতুলী ইউনিয়নের তোরাবগঞ্জসহ এ ইউনিয়নের পূর্ব হুগড়া, চক গোপাল, সাতানি হুগড়া, ধুলবাড়ী, কচুয়া, বারবয়লা, মহেশপুর, গইরাগাছা, মালতিপাড়া, আনাহলা, চিনাখালী, গন্ধবপুর, বইরাপাড়া, ভাঙ্গাবাড়ী, নরসিংহপুর, গোপাল কেউটিসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। ব্রীজ না থাকায় প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এ পথে যাত্রীরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, ব্রীজটি নির্মিত না হওয়ায় রীতিমত বন্ধ রয়েছে ট্রাক,বাসসহ বিভিন্ন ধরণের বড় যানবাহন পারাপার। চলাচলে সুবিধায় ব্রীজের নিচে বিকল্প পথ হিসেবে করা হয়েছে ডাইভারশন। ওই ডাইভারশন দিয়ে সিএনজি, ব্যাটারী চালিক অটোরিক্সা, ভ্যান, মোটর সাইকেল, বাই সাইকেল আর পায়ে হেটে মানুষ চলাচল করতে পারছেন। তবে ডাইভারশনটি মূল সড়ক থেকে অনেকটা নিচু হওয়ায় বর্ষাকালে পানিতে ডুবে যাওয়াসহ সুষ্ক মৌসুমে পারাপারে চরম সমস্যা পোহাতে হচ্ছে চলাচলকারীদের। ওই ডাইভারশন দিয়ে পারাপারে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন নারী, শিশু, বৃদ্ধ পথচারীসহ পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা। এ সময় ডাইভারশনে মাল বোঝাই ভ্যান নিয়ে আটকে পরা চালককে পথচারীদের সহযোগিতা করতেও দেখা গেছে।

ভুক্তভোগি ও স্থানীয় ব্যবসায়ি সাদ্দাম হোসেন জানান, এই ইউনিয়নের পশ্চিম অংশের যমুনা নদীর তীরবর্তী গ্রাম, কাকুয়া ও কাতুলীর তোরাবগঞ্জসহ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এই ব্রীজ। ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন তোফা এর নির্মাণ কাজ করছেন। এরপরও দুই বছরে শেষ হয়নি ব্রীজটির নির্মাণ কাজ। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে ব্রীজটি এখনও চলাচলের উপযোগি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় ভুক্তভোগি শাহ জামাল হোসেন জানান, দুই বছরের বেশি সময় গেলেও ব্রীজটি নির্মাণ হয়নি। এর ফলে চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন তারা। ব্রীজের ঠিকাদার ও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গত নির্বাচনে হেরে যাওয়াসহ গ্রামে না আশায় ব্রীজটির কাজ হচ্ছেনা বলে ধারণা করছেন তিনি।

তিনি আরো জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান এলাকাবাসির আস্থাভাজন এবং তিনি যে কোন প্রক্রিয়ায় ব্রীজটির কাজ শেষ করবেন এমন বিশ্বাসেই তারা কোন দফতরে অভিযোগ বা যোগাযোগ করেননি।

ভ্যান চালক মহর আলী জানান, হুগড়া নবনির্মাণাধীন মসজিদের কাজের জন্য দশ বস্তা সিমেন্ট নিয়ে যাচ্ছি। ডাইভারশন দিয়ে অনেক কষ্ট করেও রাস্তায় উঠতে পারছিলাম না। স্থানীয় কয়েকজন যুবক আমাকে সাহায্য করে উপরে উঠিয়ে দিছে। এভাবে দুই বছর যাবৎ মালামাল আনা নেয়া করছেন তারা।

তিনি জানান, কার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবো, ব্রীজের ঠিকাদার হচ্ছেন আমাদের সাবেক চেয়ারম্যান। উনাকে কাজ শেষের জন্য তাগাদা দিলে বলেন তারাতারি শেষ হয়ে যাবে। এরপর শেষ হয়না। এছাড়াও ঠিকাদাররা জানায়, ব্রীজের কাজে তিন বছর সময় নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, শুরুতে কিছু কাজ হলেও বন্যার আগে থেকে ব্রীজের কাজ একবারে বন্ধ রইছে। এ সময় ব্রীজের অনেক মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ঠিকাদারের লোকজন। তবে বর্তমান চেয়ারম্যান ব্রীজের কাজ শেষ করে মালামাল নিতে বলে বাঁধা দেন। তবে এখনও কাজ শুরু করেননি ঠিকাদার।

ব্রীজের রড মিস্ত্রির সহযোগি হৃদয় সরকার জানান, সেন্টারিংয়ের কাঠ আর রড না থাকায় ব্রীজের কাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার রড পাঠাবো পাঠাবো বললেও রড আসছেনা বলে জানায় সে।

ব্রীজ নির্মাণের সময়সীমা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছেন হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড ও বেগুনটাল গ্রামের ইউপি সদস্য সানোয়ার হোসেন। তিনি জানান, ব্রীজটি নির্মাণের জন্য পাঁচ বছর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছে।
মূল ঠিকাদার না হলেও কাজটির পার্টনার টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা বলেও জানান তিনি।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা এলজিইডি’র উপ-সহকারি প্রকৌশলী তোরাব আলী জানান, ব্রীজের মূল কাজের মধ্যে দুটি স্লাব বাদ রয়েছে। তবে এরই মধ্যে ব্রীজের পিলার, পাইল ও একটি স্লাবের কাজ শেষ হয়েছে। এখন থেকে কাজ শুরু এবং একটানা কাজ করলে বর্ষার আগে বা এপ্রিল মাসের মধ্যে কাজটি শেষ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, কাগজ কলমে কাজটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ হলেও ব্রীজের কাজ করছেন হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা, বাপ্পি ও মাহাবুব নামের কয়েকজন ঠিকাদার।

সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা জানান, আমরা কয়েকজন মিলে বেগুনটাল ব্রীজ নির্মাণের কাজটি করছি। ব্যক্তিগত কারণে আর সময় ঠিক মত না দিতে পারায় ব্রীজের কাজটি সঠিক সময়ে শেষ করা যায়নি। ব্রীজের তিনটি স্লাবের মধ্যে একটি স্লাবের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি দুটি স্লাব দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।

ব্রীজটি নির্মাণ না হওয়ায় এলাকাবাসির চরম ভোগান্তির কথা স্বীকার করেছেন হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যন মো. নূরে আলম তুহিন।
তিনি জানান, ব্রীজের কাজ শেষ না করাসহ বিকল্প ডাইভারশনের ব্যবস্থা না করায় চলাচলরত মানুষের ভোগান্তি চরম হয়ে উঠায় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তিনি দুই দফায় কাঠের ব্রীজ নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও সুষ্ক মৌসুমে ব্রীজের নিচ দিয়ে মাটি ফেলে বিকল্প ডাইভারশনটিও করেছেন তিনি।

তিনি আরো জানান, জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। তিনি আগামী বর্ষার আগেই ব্রীজটির কাজ শেষ করার জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিবেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এই প্রজেক্টের ফান্ড সংকট থাকায় ব্রীজ নির্মাণের কাজ সময় মত শেষ করা যায়নি। পুনরায় সময়সীমা বৃদ্ধি করাসহ ফান্ড দেয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী দুই মাসের মধ্যেই কাজটি শেষ হবে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, রড, সিমেন্টসহ কাজের প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধিসহ প্রজেক্টে ফান্ড না থাকার অজুহাত দেখাচ্ছেন ঠিকাদাররা। এ কারণে আমি চলতি অর্থ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদ দেয়াসহ ঠিকাদারদের কাজ শেষ করতে না পারলে অফিসকে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে স্যালেন্ডার করতে বলে দিয়েছি। স্যালেন্ডারকারী ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে সরকার নিয়ম অনুসারে ব্যবস্থা নিবেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. জানুয়ারী ২০২৩ ০২:৫২:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের হামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দুই সদস্য আহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের হামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দুই সদস্য আহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত শামছুল হক সেতুর আশপাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দেলদুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র দুই সহযোগী নিরাপত্তা কর্মী রাজু আহম্মেদ ও এলাসিন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শাহাদত হোসেন।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নিলে এ হামলা চালান অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা।

দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করে দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী একটি চক্র। এ ব্যাপারে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রশাসন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই মাটি উত্তোলনকারীরা টের পেয়ে তাদের সরঞ্জাম নিয়ে চলে যায়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার দুপুরে মাটি কাটা বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সূচি রানী সাহা তার টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে রওনা দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই শামছুল হক সেতুর টোল প্লাজার উত্তর পাশের সড়কে মাটি উত্তোলনকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) সূচি রানি সাহা অক্ষত থাকলেও তার দুই সহযোগী নিরাপত্তা কর্মী রাজু আহম্মেদ ও এলাসিন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শাহাদত হোসেন গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা কাঠের চলা ও লাঠি দিয়ে তাদের বেধড়ক পেটায়। এক পর্যায়ে তারা অজ্ঞান হয়ে পড়লে হামলাকারীরা চলে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা আলী বলেন, ঘটনা জানার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি বহনের কাজে নিয়োজিত ২টি ট্রাক আটক করা হয়েছে। এ সময় ট্রাকের চালকরা পালিয়ে যাওয়ায় থানা পুলিশের সহায়তায় রেকারের মাধ্যমে ট্রাক ২টিকে প্রশাসনের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. জানুয়ারী ২০২৩ ০৩:৩৮:এএম ৩ বছর আগে
দীর্ঘ দুই যুগ পর এক ম‌ঞ্চে ল‌তিফ সিদ্দিকী-কা‌দের সিদ্দিকী - Ekotar Kantho

দীর্ঘ দুই যুগ পর এক ম‌ঞ্চে ল‌তিফ সিদ্দিকী-কা‌দের সিদ্দিকী

একতার কণ্ঠঃ দীর্ঘ ২৪ বছর পর সা‌বেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল ল‌তিফ সি‌দ্দিকী এবং তার ছোট ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লী‌গের সভাপ‌তি বঙ্গবীর আব্দুল কা‌দের সি‌দ্দিকী একই ম‌ঞ্চে এক‌ত্রিত হ‌য়ে‌ছেন। এক‌টি অনুষ্ঠান‌কে কেন্দ্র ক‌রে দুই ভ‌াই‌য়ের এক ম‌ঞ্চে হাজির হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা।

এর আগে ১৯৯৯ সা‌লের ডি‌সেম্ব‌রে কা‌লিহাতীর আউলিয়াবা‌দে এক‌টি অনুষ্ঠা‌নে দুই ভাই একই ম‌ঞ্চে উপ‌স্থিত ছি‌লেন। এরপর নানা কারণে দুই ভাইকে আর এক ম‌ঞ্চে দেখা যায়নি।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়া‌রি) বি‌কে‌ল ৪টার দিকে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনা‌রে কা‌দে‌রিয়া বা‌হিনীর অস্ত্র জমাদানের ৫০ বছর উদযাপন উপল‌ক্ষে ল‌তিফ সি‌দ্দিকী ও কা‌দের সি‌দ্দিকী একই ম‌ঞ্চে উঠে বক্তব‌্য দেন।

কা‌দে‌রিয়া বা‌হিনীর অস্ত্র জমাদানের ৫০ বছর উদযাপন ক‌মি‌টির সভাপ‌তি এ এম এনা‌য়েত করিমের সভাপ‌তি‌ত্বে অনুষ্ঠা‌নে প্রধান অতি‌থি ছি‌লেন মু‌ক্তি‌যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজা‌ম্মেল হক। এ সময় কা‌দে‌রিয়া বা‌হিনীর বীর মু‌ক্তি‌যোদ্ধারা উপ‌স্থিত ছিলেন।

অন্যান্যের মধ্যে আরও উপ‌স্থিত ছি‌লেন আওয়ামী লী‌গের কেন্দ্রীয় মু‌ক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃনাল কা‌ন্তি রায়, বীর মু‌ক্তি‌যোদ্ধা হা‌মিদুল হক মোহন, ক‌বি বুলবুল খান মাহবুব, ক‌বি আল মুজা‌হিদী, কৃষক শ্রমিক জনতা লী‌গের সাধারণ সম্পাদক হা‌বিবুর রহমান খোকা বীর প্রতীক, বঙ্গবীর কা‌দের সি‌দ্দিকীর সহধর্মিণী নাস‌রিন কা‌দের সি‌দ্দিকী প্রমুখ।

এই অনুষ্ঠান‌কে কেন্দ্র করে বীর মু‌ক্তি‌যোদ্ধারা এক‌ত্রিত হওয়ায় মিলনমেলায় প‌রিণত হয় টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। জাতির বীর সন্তানরা একে অপর‌কে কা‌ছে পে‌য়ে আবেগ‌ আপ্লুত হন।

অনুষ্ঠা‌নে বঙ্গবীর কা‌দের সি‌দ্দিকী ব‌লেন, দীর্ঘ বছর পর একই ম‌ঞ্চে দুই ভাই উপ‌স্থিত হ‌য়ে‌ছি। অনুষ্ঠা‌নে সরকার থে‌কে আওয়ামী লী‌গের মৃনাল কা‌ন্তি রায়‌কে পাঠা‌নো হ‌য়ে‌ছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডা‌কে তার বাসভব‌নে গি‌য়ে‌ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমা‌কে ভাই হি‌সে‌বে ডে‌কে ছি‌লেন। তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কা‌টি‌য়ে‌ছি প‌রিবার নি‌য়ে। বিভিন্ন বিষ‌য়ে কথা হ‌য়ে‌ছে আমা‌দের।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. জানুয়ারী ২০২৩ ০২:১৮:এএম ৩ বছর আগে
মহিষের আক্রমণ থেকে মানুষ বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন আ’লীগ নেতা হাসমত - Ekotar Kantho

মহিষের আক্রমণ থেকে মানুষ বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন আ’লীগ নেতা হাসমত

একতার কণ্ঠঃ অন্যান্য দিনের মতো রোববার (২২ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের লাউহাটি বাজারে নিজের স্টেশনারি দোকানে কাজ করছিলেন হাসমত আলী খান। তখন খবর পান, একটি মহিষ এসেছে তাঁদের এলাকায়। যাঁকে সামনে পাচ্ছে, তাঁকেই আক্রমণ করছে। দোকান ফেলে তিনি মানুষকে রক্ষা করতে ছুটে যান। সেখানে মহিষের আক্রমণের শিকার হন। পরে সোমবার (২৩ জানুয়ারি) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

হাসমত আলী খান উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি তারুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক জানান, হাসমত তাঁকে ফোন করে মহিষের আক্রমণের কথা জানান। এ ব্যাপারে পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। এর মধ্যে মানুষের যাতে ক্ষতি না হয়, সে জন্য তিনি মহিষটির আশপাশেই অবস্থান করছিলেন। মানুষকে সতর্ক করছিলেন। এর মধ্যে হঠাৎ তাঁকেই আক্রমণ করে বসে মহিষটি।

হাসমত আলীর মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাঁর স্বজন ও এলাকার মানুষ। এই মহিষের আক্রমণে হাসমত আলী ছাড়াও হাজেরা বেগম ও কিতাব আলী নামের দুজন মারা গেছেন। তাঁদের মৃত্যুতে এলাকার সবাই শোকাহত।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, রোববার পার্শ্ববর্তী বারোপাখিয়া গ্রামের শরীফ মিয়ার মহিষ হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। যাঁকে সামনে পায়, তাকেই গুঁতা দিতে থাকে। মহিষের আক্রমণে শরীফ মিয়া আহত হন। একপর্যায়ে মহিষটিকে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করেন। পরে মহিষটি লাউহাটি এলাকায় চলে আসে। সেখানেও মানুষের ওপর আক্রমণ শুরু করে।

লাউহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন মোহাম্মদ খান জানান, মহিষের আক্রমণে ১০–১২ জন আহত হন। এর মধ্যে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারুটিয়া গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম (৪২) রোববার বিকেলে মারা যান। সোমবার রাতে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাসমত আলী (৫৭)। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বারোপাখিয়া গ্রামের কিতাব আলীর অবস্থার অবনতি হয় সোমবার রাতে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. জানুয়ারী ২০২৩ ০১:৩৪:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পাগলা মহিষের আক্রমণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পাগলা মহিষের আক্রমণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটিতে পাগলা মহিষের আক্রমণে নারীসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজন হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিহতরা হলেন, লাউহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসমত আলী খান, লাউহাটি ইউনিয়নের তারুটিয়া গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম, এলাসিন ইউনিয়নের বারপাখিয়া গ্রামের কিতাব আলী।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, রবিবার সকালে একটি পাগলা মহিষ লাউহাটি ইউনিয়নের তারুটিয়া গ্রামে জনসাধারণের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় মহিষটির আক্রমণের শিকার হয়ে অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে মির্জাপুর কমুদিনী ও টাঙ্গাইল জেনালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেলে ৩টার দিকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাজেরা বেগম। খবর পেয়ে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা সেখানে যান। তার আগেই স্থানীয়রা মহিষটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
এদিকে হাসমত আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রবিবার রাতেই সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার কারণে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সোমবার রাত ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। অপর আহত কিতাব আলী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সোমবার বিকেলে মৃত্যুবরণ করেন।

টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রানা মিয়া জানান, অতি উৎসাহী লোকজন পিছু নেওয়ায় মহিষটি আরও উত্তেজিত হয়ে উঠে। লোকজন মহিষটিকে ধাওয়া না করলে হয়তো হতাহতের সংখ্যা আরো কম হত । খবর পেয়ে ঢাকা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে জানিয়েছিলাম।

তিনি আরো জানান,রবিবার বিকেলে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে প্রাণি ফ্রাংকুলাইজেশ (অচেতন) দল ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয় লোকজন মহিষটিকে মেরে ফেলে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. জানুয়ারী ২০২৩ ০৭:৫৮:পিএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মেয়ের খুনি বাবা, জানা গেল ৭ বছর পর - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মেয়ের খুনি বাবা, জানা গেল ৭ বছর পর

একতার কণ্ঠঃ নিজের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করেছিলেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর পারুল আক্তার। তাঁর বাবা সেই বিয়ে মেনে নেননি। ঢাকা জেলার আশুলিয়া এলাকায় এসে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি শুরু করেন পারুল ও তাঁর স্বামী নাছির উদ্দিন ওরফে বাবু। দুজন যা বেতন পেতেন, তা দিয়ে তাঁদের সংসার খুব ভালোভাবে চলত না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই ঝগড়া হতো। বিয়ের তিন বছর পর ঝগড়া করে স্ত্রীকে বাসায় রেখে বেরিয়ে যান নাছির। পারুল তাঁর বাবাকে ফোন করে পারিবারিক অশান্তির কথা বলেন।

মেয়ের প্রতি ক্ষুব্ধ বাবা মেয়েকে বাড়ি ফিরতে বলেন। বাবার কথায় স্বামীর সংসার ছেড়ে গ্রামে চলে যান পারুল। এবার ক্ষুব্ধ বাবা নিজের ও পরিবারের অসম্মান করায় মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পারুলের বাবা আ. কুদ্দুস খাঁ মেয়েকে ভালো ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাঙ্গাইল থেকে জয়পুরহাটে নিয়ে যান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুদ্দুসের সঙ্গে তাঁর বন্ধু মোকাদ্দেছ ওরফে মোকা মণ্ডলও যান।

সেখানে যাওয়ার পর জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকায় একটি নদীর পাশে নির্জন জায়গায় রাতের অন্ধকারে পারুলকে তাঁর বাবা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে মোকাদ্দেছের সহযোগিতায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেন।

২০ জানুয়ারি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মেয়ে হত্যার এমন লোমহর্ষক, বর্বরোচিত বিবরণ তুলে ধরেন আ. কুদ্দুছ খাঁ। তিনি এখন কারাগারে। তাঁর দেওয়া জবানবন্দি আজ রোববার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। এ সংবাদ সম্মেলন হয় ধানমন্ডিতে পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বলেন, পারুল সব ভাইবোনের মধ্যে মেধাবী ছিলেন। স্কুলে তাঁর রোল নম্বর ছিল ২। দেখতেও ছিলেন সুন্দরী। বাবা কুদ্দুসের স্বপ্ন ছিল মেয়েকে শিক্ষিত করবেন। কিন্তু নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পালিয়ে বিয়ে করায় বাবা ক্ষুব্ধ হন।

বনজ মজুমদার বলেন, তখন থেকেই কুদ্দুসের পরিকল্পনা ছিল মেয়ে তাঁকে যে অসম্মান করেছে, তাতে তার বেঁচে থাকার অধিকার নেই। মেয়ের বিয়ের তিন বছর পর সেই সুযোগ পেয়ে তিনি তাঁর বন্ধুর সহযোগিতায় মেয়েকে হত্যা করেন। কুদ্দুসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোকাদ্দেছকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মেয়েকে হত্যার পর কুদ্দুসের মধ্যে আরেকটা বিষয় কাজ করছিল যে তাঁর মেয়ের এই পরিণতির জন্য নাছির দায়ী। তাঁকেও শাস্তি দিতে হবে। তাই মেয়ের জামাইকে ফাঁসাতে একের পর এক মামলা করেছেন তিনি। রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় থানা–পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই পুলিশ প্রতিবেদন দেন। মেয়ের বাবাও বারবার নারাজি দেন।

পিবিআই জানায়, পারুলের বাবা শুরুতে অপহরণ ও গুমের মামলা করলেও সর্বশেষ তিনি আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। সেই মামলার তদন্ত আবার পিবিআইকে দেওয়া হয়। তদন্তে নেমে ২০১২ সালে মেয়ের বাবার করা সাধারণ ডায়রিতে দেওয়া একটি ফোন নম্বরের সূত্র ধরে এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়।

পিবিআই জানায়, মেয়েকে হত্যার পর নাছিরকে শাস্তি দিতে দীর্ঘ সাত বছর ধরে তিনি মামলা চালিয়েছেন। এর জন্য তিনি নিজের জমিও বিক্রি করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. জানুয়ারী ২০২৩ ০২:৪৪:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী জহিরুল ইসলাম (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

সোমবার(২৩ জানুয়ারি) ভোর রাতে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি ২ বছর ধরে পলাতক ছিলেন।

জহিরুল ইসলাম নাগরপুর উপজেলার মীর কুটিয়া গ্রামের মৃত জলিল মিয়ার ছেলে।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, ২০১৩ সালের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় আউয়াল নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। ওই বছরের ১ আগস্ট মির্জাপুর থানার এসআই শ্যামল কুমার দত্ত বাদি হয়ে হত্যা মামলায় জহিরুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক জহিরুল ইসলামকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেন। মামলা চলাকালে জহিরুল ইসলাম পালিয়ে যান।

তিনি আরো জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া এলাকা থেকে জহিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার সকালে জহিরুলকে মির্জাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. জানুয়ারী ২০২৩ ০১:২৬:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পাগলা মহিষের তান্ডবে নারী নিহত, আহত ২৪ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পাগলা মহিষের তান্ডবে নারী নিহত, আহত ২৪

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় পাগলা মহিষের তান্ডবে হাজেরা বেগম(৫০) নামের এক নারী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ২৪ জন।
রবিবার (২২ জানুয়ারী) সকালে ঘন্টাব্যাপী তান্ডব চালায় এ পাগলা মহিষটি।

নিহত ওই নারী উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পুলিশ প্রসাশন ও স্থানীদের সহযোগীতায় মহিষটিকে মেরে ফেলা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা।

তিনি জানান, রবিবার সকাল থেকেই উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নে তারটিয়া গ্রামে ঘন্টাব্যাপী তান্ডব চালায় পাগলা মহিষটি। এতে স্থানীয় ২৫ জন আহত হয়। এদের মধ্যে গুরতর আহত হাজেরা বেগম নামের এক নারী মির্জাপুর কুমুদিনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারধীন অবস্থায় বিকাল ৩ টায় মৃত্যু বরণ করেন। বাকি ২৪ জনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরন করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, স্থানীয়দের সহযোগীতায় জেলা প্রণি সম্পদ অধিদপ্তর ও পুলিশ ঘন্টাব্যাপী প্রচেষ্টার ফলে মহিষটিকে মারতে সক্ষম হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. জানুয়ারী ২০২৩ ১২:১০:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বালু চাপা পড়ে নিহত এক, আহত তিন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বালু চাপা পড়ে নিহত এক, আহত তিন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বালুর ঘাটে কাজ করার সময় বালুর স্তুপের নিচে চাপা পড়ে রাশেদুল ইসলাম (২৫) নামে এক ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) মালিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও তিনজন।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নিকরাইল ইউনিয়নের সারপলশিয়া এলাকার ভাবীর ঘাট নামে পরিচিত বালুর ঘাটে ঘটনাটি ঘটে। এই ঘাটের ইজারাদার হাশেম প্রামানিক।

নিহত রাশেদুল উপজেলার পলশিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। গুরুতর আহত জুয়েল (২৪) সিরাজকান্দি গ্রামের অহসান প্রামানিকের ছেলে।

এ ঘটনায় আহত তিনজনের মধ্যে দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলেও গুরুতর আহত একজনকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বালু চাপায় রাশেদুল ইসলাম (২৫) নামের ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) এর মালিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিকরাইল ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড সারপলশিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য নুহু।

নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ জানান, বালুর স্তুপ ছিল অনেক উঁচু। এতে তিন চারজন সেই বালুর স্তুপে উঠে সেখানে থাকা পাইপ খুলতে গিয়েছিল। এ সময় বালুর স্তুপ ভেঙে তাদের উপর পড়ে ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুইজন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম (পিপিএম) জানান, বালুর স্তুপের নিচে চাপা পড়ে ভেকুর মালিক রাশেদুলের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত জুয়েল নামের একজনকে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলেও পরে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২২. জানুয়ারী ২০২৩ ১১:৫০:পিএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পর্ণগ্রাফী তৈরির অভিযোগে ৮ যুবক গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পর্ণগ্রাফী তৈরির অভিযোগে ৮ যুবক গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরসভার আভুঙ্গী চরপাড়ার জনৈক কামরুল ইসলামের বাড়িতে পর্ণগ্রাফি ভিডিও ও ছবি তৈরিকালে অভিযান চালিয়ে ৮ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পর্ণগ্রাফি ভিডিও ও ছবি প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত ৮টি ল্যাপটপ ও কম্পিউটার জব্ধ করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোপালপুর থানা পুলিশ বুধবার(১৮ জানুয়ারি) রাতে ওই অভিযান চালায়। অভিযানের সময় অজ্ঞাত আরও ১০-১৫জন পালিয়ে যায়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- আভুঙ্গী চরপাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে রনি মিয়া(২৭), শামছুল হকের ছেলে নাজমুল ইসলাম(১৯), মুসলিম উদ্দিনের ছেলে শাহিন মিয়া(২৭), হাকিম মিয়ার নাতি আমিরুল ইসলাম(২৪), মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে সানি মিয়া(১৯), গোলাম হোসেনের ছেলে সাকিব হোসেন(২৩), মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. আলম(২৫), বাখুরিয়াবাড়ী গ্রামের মৃত মুসলিম উদ্দিনের ছেলে ফজলুল হক(৪০)। এ ঘটনায় পর্ণগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করার পর তাদেরকে আদালতে মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, জব্ধকৃত ল্যাপটপ ও কম্পিউটার থেকে বিপুল পরিমাণ অশ্লীল ভিডিও ও ছবি পাওয়া গেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব অশ্লীল কণ্টেণ্ট দিয়ে অসাধু উপায়ে টাকা উপার্জন করছিল।

গোপালপুর বাজারের ব্যবসায়ী এনামুল হক, তারা মিয়া, আরিফুল ইসলাম সহ স্থানীয়রা জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তারা জানতেন। এই পরিচয়ের আড়ালে তারা এসব অপকর্ম করতেন তা জানা ছিলনা। গ্রেপ্তারের পর এখন শোনা যাচ্ছে- পাশের মধুপুর পৌরসভার কোন এক জায়গায় তাদের প্রধান কর্যালয় রয়েছে। সেখান থেকে তারা অবৈধ কাজের প্রশিক্ষণ নিয়েছে।

গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরির তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের সন্ধান পায়। গ্রেপ্তারকৃতদের জবানবন্দি অনুযায়ী এই চক্রের অন্য সদস্যদের খোঁজা হচ্ছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. জানুয়ারী ২০২৩ ০৮:৩০:পিএম ৩ বছর আগে
বীরমুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের মৃত্যুবার্ষিকীতে হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি - Ekotar Kantho

বীরমুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের মৃত্যুবার্ষিকীতে হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও ৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার অনত্যম প্রতিবাদকারী বীরমুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের মৃত্যুবার্ষিকীতে বুধবার(১৮ জানুয়ারি) হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এছাড়া মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের কবর জিয়ারত, কোরআনখানী, দোয়া মাহফিল ও দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয় ।

বুধবার(১৮ জানুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ ও পরিবারের পক্ষ থেকে জনপ্রিয় প্রয়াত নেতা ফারুক আহমদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ ছাড়া তার নিজ বাসা শহরের কলেজ পাড়ায় কোরআনখানী, দোয়া মাহফিল ও দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

দুপুরে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এর আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, নিহত ফারুক আহমদের স্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাহার আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন ও সুভাষ চন্দ্র সাহা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক প্রমুখ।

এ সময় আওয়ামী লীগ ছাড়াও ছাত্রলীগ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলাটি টাঙ্গাইল প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ পর্যন্ত ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। আগামি ২ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির কাছ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সদস্য ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
২০১৪ সালে ওই মামলায় জড়িত থাকা সন্দেহে আনিসুল ইসলাম ওরফে রাজা এবং মোহাম্মদ আলী নামক দুই জনকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাদের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে হত্যার সাথে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তার অপর তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান ওরফে মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান ওরফে কাকন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সহ-সভাপতি সানিয়াত খান ওরফে বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে সংসদ সদস্য আমানুর রহমানরা চার ভাইসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলার আসামি আমানুর রহমান খান আত্মসমর্পনের পর তিন বছর হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তার অপর ভাই সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান দুই বছর আগে আদালতে আত্মসমর্পনের পর এখন পর্যন্ত কারাগারে রয়েছেন। আরও কারাগারে রয়েছেন আলমগীর হোসেন। আমানুরের অপর দুই ভাই জাহিদুর রহমান খান ও সানিয়াত খানসহ মো. কবির এবং ছানোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন। অন্য আসামিদের মধ্যে আনিসুর রহমান রাজা ও মো. সমীর কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন। অপর আসামি মোহাম্মদ আলী, মাসুদুর রহমান, নাসির উদ্দিন নুরু, ফরিদ আহমেদ ও বাবু জামিনে রয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. জানুয়ারী ২০২৩ ০১:১৫:এএম ৩ বছর আগে
পদ ফিরে পেতে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর সংবাদ সম্মেলন - Ekotar Kantho

পদ ফিরে পেতে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর সংবাদ সম্মেলন

একতার কণ্ঠঃ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য পদ ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো .আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বুধবার(১৮ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের পিছনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আব্দুল্লাহ আল মামুন সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে জানান,, বুধবার বেলা সাড়ে ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক তাঁতে বাধা প্রদান করেন।

আব্দুল্লাহ আল মামুন আরো জানান,সমিতির গঠনতন্ত্রের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তার সদস্য পদসহ সাধারণ সম্পাদকের পদ বাতিল করা হয়েছে।২০১৯ সালের ২০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের কেয়ারটেকার হিসেবে যোগদান করেন তিনি। ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশক্রমে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ‘উচ্চমান সহকারীর বিপরীতে অস্থায়ীভাবে নিম্নমান সহকারী’ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তার প্রতিদ্বন্দি মো. জাহিদুল ইসলামের অভিযোগে গত ৭ জানুয়ারি কার্যকরি পরিষদের ৪১ তম সাধারণ সভায় তার সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য পদ বাতিল করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো অভিযোগ করে জানান, সমিতির গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৫ এর ক ধারায় নিয়োগপত্রে ‘অস্থায়ীভাবে’ উল্লেখ থাকলে সদস্যপদ বাতিল হবে এমন ব্যাখ্যা নেই। তার নিয়োগপত্র বৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ বাছাই বোর্ডের সুপারিশক্রমে দেয়া হয়েছে অথচ এডহক (সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে) বা অবেক্ষাধীন (অস্থায়ী) হিসেবে চাকুরীতে কর্মরত আছে তাদের সমিতিতে সদস্য পদ বাতিল হচ্ছে না। গঠনতন্ত্রের সঠিক ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ব্যতীত সাধারন সভা ছাড়াই কোন সদস্যের সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা কার্যকরী পরিষদের নেই। বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার, শিক্ষক সমিতি, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতিকে সমস্যা সমাধানের জন্য লিখিতভাবে জানিয়েও প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী সমিতির সভাপতি এস এম মাহফুজুর রহমান জানান, যা করা হয়েছে, সবই সমিতির গঠণতন্ত্র মোতাবেক করা হয়েছে। আগামী দেড় মাসের মধ্যে ওই পদে নির্বাচন দেয়া হবে। তিনি যদি সাধারণ সম্পাদক পদ ব্যবহার না করে জবাবের চিঠি দিতো তাহলে তার চিঠি গ্রহণ করা হতো। তার চিঠিতে সাধারণ সম্পাদক উল্লেখ থাকায় তার চিঠি গ্রহণ করা হয়নি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রক্টর প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্যাদারিং বা সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে প্রশাসনের মাধ্যমে প্রক্টরের অনুমতি লাগবে।
তিনি আরো জানান, মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন লিখিত কোন অনুমতি না নেওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়া হয়নি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. জানুয়ারী ২০২৩ ১১:১৬:পিএম ৩ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।