একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তরকৃত ছয় ডাকাতের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার(২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর থানা আমলী আদালতের বিচারক মনিরা সুলতানা এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ছয় ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পরিদর্শক তানবীর আহমেদ।
তিনি জানান, টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ছয় ডাকাতকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠায়। আদালত শুনানী শেষে প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হলেন, সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার ক্ষিদ্র মাটিয়া গ্রামের মোতালেবের ছেলে ইউসুব আলী (৪২), পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার ধানুয়াঘাটা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে নুরুল ইসলাম(৩৬), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কাঠুয়া যুগনী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে মো. জুয়েল (৩১), একই গ্রামের মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে মো. ইদুল মিয়া (২০) ও মো. সুরুত আলীর ছেলে সহিদুল ইসলাম (৩০) এবং একই উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের মো. জহর আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩০)।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস এলাকায় একদল লোক ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত ছয় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর ৪-৫ ব্যক্তি দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি সুইস গিয়ার ছুঁরি, একটি শাবল ও গাড়ি থামানোর জন্য রশিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হলুদ ও নীল রংয়ের একটি মিনিট্রাকও (ঢাকা মেট্রো-ড-১২-৩৩৮৩) জব্দ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে চাচার সাথে ঘুরতে গিয়ে কৃষি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরে পিষ্ট হয়ে ইমন (৯) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নের চাপাইদ গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মধুপুর পৌরসভার বিপ্রবাড়ী এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে। সে মধুপুর মুকুল একাডেমির দ্বিতীয় শ্রেনীতে অধ্যায়নরত ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালবেলা চাচা আলহাজ উদ্দিন প্রতিদিনের মত কৃষি হালচাষের জন্য ট্রাক্টর নিয়ে মাঠে যাচ্ছিলেন। এ সময় স্কুল বন্ধ থাকায় আদরের ভাতিজাকে সাথে নিয়ে যান। ভাতিজা ইমনকে পাশে বসিয়ে জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ করছিলো। চাচার অজান্তে শিশুটি ট্রাক্টরের নিচে পড়ে পিষ্ট দেহ খণ্ড বিখণ্ড হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
এ প্রসঙ্গে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন (বিপিএম) মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সকল পদের প্রার্থীরাই বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
কোন পদেই একাধিক প্রার্থী না থাকায় নির্বাচন কমিশন রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বেসরকারি ভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
নব নির্বাচিত সভাপতি হচ্ছেন, মো. বালা মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক মাহতাব।
অন্যান্য পদে বিজয়ী হচ্ছেন, কার্যকরী সভাপতি আমিনুর রহমান, সহ-সভাপতি ফরহাদ আলী ও ইকবাল হোসেন, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, সহসাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন ও শহিদুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মাহবুব আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রউফ, প্রচার সম্পাদক ছিদ্দিক ভূইয়া, দপ্তর সম্পাদক শাহীন মিয়া, সড়ক সম্পাদক আব্দুল মজিদ, সহসড়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান।
একতার কণ্ঠঃ চলতি বছরের জুন মাসের আগেই আরিচা-(বরঙ্গাইল)-ঘিওর-দৌলতপুর-নাগরপুর টাঙ্গাইল আঞ্চলিক সড়ক নির্মানে জন্য অধিগ্রহণ করা হবে সড়কের দুপাশের জমি।
এ খবর পেয়েই অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় এই আঞ্চলিক সড়কের দু’পাশে রাতারাতি গড়ে উঠছে অসংখ্য স্থাপনা। কয়েকটি দালালচক্র অনুমোদনহীনভাবে নিম্নমানের কাঁচামাল এবং ব্যবহার অযোগ্য পুরান ও চিকন রড ব্যবহার করে নির্মাণ করছে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা।
এতে করে ভূমি অধিগ্রহণের মুল্য বৃদ্ধি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব ঘটনায় ভূমি অধিগ্রহনের জন্য প্রস্তাবিত সড়কে নতুন নির্মানাধীন দালান ও অবকাঠামো নির্মানে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ করেছেন টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।

তবে অনেকেই অভিযোগ করেছেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজস করে ঢাকার কতিপয় দালালচক্র জমির মালিকদের টাকা দিয়ে বিপুল পরিমান ক্ষতিপুরণের আশায় এসব স্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মান করছে।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) অনুমোদন দিয়েছে আরিচা (বরঙ্গাইল) ঘিওর- দৌলতপুর -নাগরপুর -টাঙ্গাইল আঞ্চলিক সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প। ৫৮ দশমিক ৫শ কিলোমিটরা দীর্ঘ ও ৩৩ ফুট প্রশস্ত সড়ক উন্নীতকরণের এই প্রকল্পের টাঙ্গাইল অংশে রয়েছে ৪০ কিলোমিটার এলাকা এবং মানিকগঞ্জ অংশে রয়েছে ১৮ দশমিক ৫শ কিলোমিটার ।
নির্মান ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ছয়শ ৩৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু ভূমি অধিগ্রহনেই ধরা হয়েছে ছয়শ ৯৩ কোটি ৮ লাখ ৩১ হাজার টাকা। এই মহাসড়কে দুইটি আরসিসি গার্ডার, ১৫টি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও ১৯টি নতুন কালভার্ট ও সাতটি কালভার্ট সম্প্রসারণ করা হবে।
২০২২ সালের ১ জানুয়ারী কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্ত এক বছর অতিক্রান্ত হলেও প্রকল্পটির নির্মাণ কাজই শুরু হয়নি। চলতি বছর থেকেই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এই মহাসড়ক উন্নীতকরনের কাজ।
মহাসড়ক আইন অনুযায়ী সড়কের দুপাশের অন্তত ১০ মিটার দূরত্বে স্থাপনা নির্মাণের নিয়ম রয়েছে। কিন্ত কেউ নিয়মের তোয়াক্কাই করছে না।
টাঙ্গাইল-আরিচা প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের সময় সরকার থেকে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ লাভের আশায় মহাসড়কের দুপাশে স্থাপনা নির্মানের হিড়িক পড়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে বাড়ি-ঘর, মার্কেট। মহাসড়ক হওয়ার খবর শুনেই গত দুই থেকে তিনমাস যাবৎ চলছে এসব স্থাপনা তৈরির কাজ। এছাড়াও ভূমি উচ্চ মুল্যে ক্রয় বিক্রয় করে ওই মৌজার গড়মুল্য বৃদ্ধি করছে। ফলে ভূমির অধিগ্রহণ মুল্যে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অধিগ্রহণের মুল্যে বৃদ্ধি পেলে অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় বৃদ্ধি এবং ভূমি অধিগ্রহণ খাতে অতিরিক্ত টাকার প্রয়োজন হবে। এতে করে সময়মত প্রকল্প বাস্তবায়ন আটকে যেতে পারে।
এঘটনায় টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আবুল হাসেম গত ১৯ জানুয়ারী আঞ্চলিক সড়কের পাশে নতুন দালান ও অবকাঠামো নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার পরও প্রায় শতাধিক স্থাপনার নির্মাণ কাজ চলছে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী মহল এসকল স্থাপনা নির্মাণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।
এছাড়াও ঢাকা থেকে একটি দালালচক্র এসে মহাসড়কের পাশে যাদের বাড়ি রয়েছে তাদের বুজিয়ে ক্ষতিপুরণের অর্ধেক টাকা দেওয়ার শর্তে স্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মাণ করছে। নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে রাতারাতি গড়ে উঠা এসব স্থাপনার ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। কোন প্রকার নিয়মের তোয়াক্কা না করেই এসব স্থাপনা নির্মাণের ফলে অধিগ্রহণের সময় আর্থিকভাবে সরকার ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।
মহাড়কের প্রায় ৩০ কিলোমিটার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের আটিয়া ইউনিয়নের সিলিমিপুর থেকে শুরু হয়েছে অবৈধ স্থাপনা নির্মান। সিলিমপুর বেবিস্ট্যান্ডে মজনু মিয়া, কেজি স্কুলের পাশে বালু ও ইট ব্যবসায়ী লালচান মিয়া, আজগর আলী, লিটন মিয়া গত দুই মাসে পাকা দালান নির্মান করেছেন।
এছাড়াও সিলিমপুর বেবিস্ট্যান্ড থেকে একটু এগিয়ে গেলেই চোখে পড়বে বিশাল দোতলা দালান। ওই দালানের মালিক এনজিও কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। এলাসিন মওলানা ভাসানী ডিগ্রি কলেজের একটু আগে ঠাকইজোড়া এলাকায় রাস্তা ঘেষেই নির্মান করা হয়েছে দোতলা ও একতলা দুটি দালান। ক্ষতিপুরণের টাকার অর্ধেক দেওয়ার শর্তে জয়নাল শিকদারকে ওই দালান নির্মান করে দিয়েছেন নাটিয়াপাড়ার একজন দালাল। তার নাম মৃনাল। ওই বাড়ির এক গৃহিনী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তার শ্বশুরকে দালালচক্রটি নানাভাবে বুজিয়ে দালান করে দিয়েেেছ।
তারা বলেছে, আপনিও লাভবান হবেন আমরাও লাভবান হব। জমিতো সরকার নিয়ে যাবে। পরে তো কিছু পাবেন না। ওই দালালচক্রটি আলামিন, আনোয়ার, মিলন, বুদ্দু, লিয়াকত হাতেম, সাইফুল, মহব্বত , মজিবুর, এশাদ, নজরুল দানেজ ও আলী হোসেনের জমিতে টাকা দিয়ে পাকা দালান করে দিয়েছে।
এলাসিন ঘাটপার এলাকায় যুগল নামের এক ব্যক্তি গত কয়েকদিনে একতলা দালান উঠিয়েছেন। ছানু নামের অপর ব্যক্তি দিয়েছেন বিশাল লম্বা দেয়ালের টিনশেড ঘর। নাগরপুরে সড়কের পাশে খোরশেদ মার্কেট ও ডাঙ্গা এলাকায় আবিদ ইটভাটার মালিক শহিদ মিয়া ও কয়েকজনে মিলে অন্তত ১০ থেকে ১২টি দোতলা ও একতলা দালান নির্মাণ করেছেন।
সহবত ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ইব্রাহিম মিয়া এমপি রোডের মাথায় রাস্তার সাথে অবৈধভাবে একতলা ভবন নির্মাণ করেছেন।
নির্মাণাধীন ওই ভবনের শ্রমিক জানান, এক মাস আগে ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এই ভবন নির্মানের টাকা মেম্বারকে ঢাকার এক ব্যক্তি দিয়েছেন। শুনেছি ক্ষতি পুরনের টাকা পেলে তিনি অর্ধেক নিবেন।
ঠাকইজোড়া গ্রামের ওবায়দুল্লাহ মিয়া বলেন, রাস্তার পাশেই আমার ২০ শতাংশ জমিতে বাড়ি। ঢাকা থেকে কয়েক ব্যক্তি প্রাইভেটকার নিয়ে এসে আমাকে তাগাদা দিচ্ছে। বলছে চাচা আপনার বাড়িতে দোতলা একটি দালান করে দেই। আপনার কোন টাকা লাগবে না। অধিগ্রহনের টাকা পেলে আপনি পাবেন অর্ধেক আর আমরা অর্ধেক। আমি তাতে রাজি হয়নি।
আটিয়া ই্উনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক বলেন, মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণের অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণের আশায় কিছুদিন ধরে রাতারাতি একতলা থেকে ৪ তলাবিশিষ্ট এসব ভবন নির্মিত হচ্ছে । এতে এই সড়কের জমি অধিগ্রহণের সময় সরকারের বাড়তি অর্থ ব্যয় হবে। প্রকৃত জমির মালিকরা একটা নির্দিষ্ট কমিশন পেলেও সরকারের মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেবে জড়িত এসব দালাল চক্রের সদস্যরা। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজস রয়েছে ঢাকার কতিপয় এসব দালালচক্রের। কারণ উচ্চ পর্যায় থেকে ক্ষতিপুরণের আশা না পেলে তাঁরা ঝুঁকি নিয়ে টাকা বিনিয়োগ করতেন না।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আবুল হাসেম বলেন, ভূমি অধিগ্রহনভুক্ত জমিতে নতুন করে কেউ যাতে অবকাঠামো নির্মাণ করতে না পারে তার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। এছাড়াও ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পুরো মহাসড়কের ভিডিও রেকর্ডিং রয়েছে। নতুন করে যারা স্থাপনা করেছেন সেগুলোর ভিডিও করা হবে। যারা অধিক টাকার আশায় ভবন নির্মাণ করছেন তারা কেউ ক্ষতিপুরণ পাবেন না।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহঃ আলিউল হোসেন জানান, প্রকল্প প্রস্তাবের সময় সড়কের পাশের আগের অবস্থা ভিডিও রেকর্ডিং করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। নতুন করে সড়কের পাশে কেউ স্থাপনা নির্মাণ করলেই সে ক্ষতি পুরণ পাবে না। চলমান এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জেলা ভূমি বরাদ্ধ কমিটির সভায় সিদ্ধান্তের পরই ভূমি অধিগ্রহন শুরু হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সোসাইটি ফর হিউম্যান ইউনিটি অ্যান্ড রিসোর্সেস ইউটিলাইজেশন (শুরু) নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন গ্রাহকেরা। তাদের অভিযোগ, প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন এনজিওটির নির্বাহী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাকা ফেরত পেতে সদর উপজেলার গালা গ্রামে ওই এনজিও কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন গ্রাহকেরা। মানববন্ধন চলাচলে বক্তব্য দেন ওই এনজিও-র ভুক্তভোগী সদস্য তারেক হাসান, আলী আহম্মদ, জয়নু বেগম, অঞ্জনা বেগমসহ অনেকেরা।
তাদের দাবি, গ্রাহকেরা কেউ বাড়ি বিক্রির টাকা, আবার কেউ প্রবাসী মৃত সন্তানের টাকা, দিন মজুরদের জমানো টাকাসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ একটু লাভের আশায় এ এনজিওতে টাকা রেখেছিলেন। কয়েক বছর লাভ পেলেও বছর দুয়েক আগে থেকে সেই লাভ দেওয়া বন্ধ করে দেয় এনজিও কর্তৃপক্ষ।
এমনকি গত ছয় মাস ধরে গ্রাহকদের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন নির্বাহী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা।
গ্রাহকেরা জানান, ১২ বছর আগে গালা গ্রামের মাজেদুর রহমান, আবু সাইদ, আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন মিলে শুরু নামের এনজিওটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে গ্রামের মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিরীহ কৃষক ও দিন মজুররাও টাকা রাখেন। এমনকি অনেক প্রবাসীরাও টাকা রেখেছেন। তিন শতাধিক গ্রাহকের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা নিয়ে এনজিও নির্বাহী পরিচালক মাজেদুর রহমান উধাও হয়েছেন।
ফলে প্রতারণার স্বীকার হয়ে কষ্টে অর্জিত টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গ্রাহকেরা।
প্রতারণার শিকার বৃদ্ধ আলী আহম্মদ বলেন, আমার চার মেয়ে ও এক ছেলে। ১০ বছর আগে সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় আমার ছেলে মারা যায়। সেখান থেকে পাওয়া দুই লাখ টাকা শুরু এনজিওতে রেখেছিলাম। সেই দুই লাখ টাকা নিয়ে মালিক পালিয়েছে। আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।
শারিরীক প্রতিবন্ধী শাহজাহান মিয়া বলেন, আমি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারি না। তাই বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভিক্ষা করে জীবন যাপন করি। সেই টাকা থেকে জমিয়ে এক লাখ টাকা ১২ বছর আগে জমা করেছিলাম। সেখান থেকে আমি কোনো লাভ নেই নি। সেই টাকা নিয়েও মালিক পালিয়েছে।
৬০ বছরের বৃদ্ধা জয়নু বেগম বলেন, আমার বাড়ি বিক্রি করা চার লাখ টাকা এ এনজিওতে রেখেছিলাম। আমার টাকা নিয়ে মালিক পালিয়ে যাওয়ায় আমি এখন নিঃস্ব।
প্রতারণার অভিযোগে শুরু এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক মাজেদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, একটি প্রতারক চক্র মিলে এনজিওটি করেছিল। আমরা তাদের কোনো অনুমতি দেই নি। তবে আমরা ওই কমিটি বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করব।
একতার কণ্ঠঃ দিন দিন যত গতিময় হচ্ছে জীবন, ততই মানসিক রোগ বাড়ছে মানুষের। বিশেষ করে গতিময় জীবনে পিছিয়ে পড়ার চিন্তায় অস্থির হচ্ছেন অনেকেই।
ফলে ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে উদ্বেগের সমস্যা।
কিন্তু কথায় কথায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লে সমস্যা বাড়ে। কাজেও তার ছাপ পড়ে। কমে কাজ করার ক্ষমতা। তবে ওষুধ খেয়ে উদ্বেগ কমাতে চান না অনেকেই। মনে করেন, একবার ওষুধ খেতে শুরু করলে তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাবে।
নিয়মিত ধ্যান করলে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায় যেকোনও মানসিক সমস্যা। তবে আরও একটি ঘরোয়া টোটকা রয়েছে। প্রতিদিন একটু করে কাঁচা হলুদ খেতে হবে মাত্র। তাহলেই অনেকটা শান্ত থাকবে মন।
বিজ্ঞানীরা বহু দিন ধরেই গবেষণা করছেন বিভিন্ন মশলার গুণ নিয়ে। দেখা গেছে, হলুদে উপস্থিত কার্কুমিন শরীরের প্রদাহ কমায়। এর প্রভাবে কমে মানসিক চাপও। মনের মধ্যে তৈরি হওয়া অস্থিরতা নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় শরীর-মন দুই থাকে স্থিতিশীল। কার্কুমিনের আরেক গুণ হল, তা মস্তিষ্ক সচল রাখতে সাহায্য করে। তাতেও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো হয় বলে বক্তব্য মনোবিদদের।
উদ্বেগ-হতাশায় ভুগলে প্রতিদিন কতটুকু হলুদ খেতে হবে?
গবেষকেরা দেখেছেন, প্রতিদিন ১৫০-২৫০ মিলিগ্রাম হলুদ খেলেই যথেষ্ট কাজ হয়। তবে ব্যক্তি বিশেষে হলুদের পরিমাণ কম বা বেশি প্রয়োজন হতে পারে। তবে নিয়মিত হলুদ খেতে শুরু করার আগে একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এর আয়োজনে প্রথম বারের মতো ‘অফিসার্স ডে’ উদযাপিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স ক্লাবের সামনে বেলুন উড়িয়ে ও কেক কেটে অফিসার্স ডের উদ্বোধন করা হয়।
একদিন নয় হাসিবি তোরা, একদিন নয় বিষাদ ভুলিয়া, সকলে মিলিয়া গাহিবো মোরা-স্লোগানকে সামনে রেখে দিনব্যাপী অফিসার্স ডেতে গল্প, নৃত্য, সংগীত, যাদু, কৌতুক, কবিতা আবৃত্তি, গীতি কাব্যের আয়োজন করা হয়। এরপর র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুল ইসলাম মজনু। সঞ্চালনা করেন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক ড. ইকবাল বাহার বিদ্যুৎ, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আজাদ সোবহানী আল ভাসানী ও সৈয়দ সাইফুল্লাহ।
পরে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী লিজু বাওলা সংগীত পরিবেশন করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউয়িনের ভাতকুড়া গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে তাবলিগ জামাতের সাদপন্থীদের জেলা ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, বিশৃংখলা এড়াতে শহরে ও ইজতেমাস্থলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
বৃহস্পতিবার(১৬ ফেব্রুয়ারি) ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে এই ইজতেমা শুরু করা হয়।
অপরদিকে জুবায়েরপন্থীরা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলোচানার পর বুধবার(১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতেই শহরের মারকাজ মসজিদের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।
জানা যায়, তাবলিগ জামাতের জেলা ইজতেমার আয়োজনকে ঘিরে সাদ ও জুবায়েরপন্থীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। জুবায়েরপন্থীরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এই আয়োজন বন্ধের দাবি জানায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জুবায়েরপন্থীরা অভিযোগ করেন, ভাতকুড়া এলাকার ইজতেমায় নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হবে। তাই তারা ইজতেমার বন্ধের দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার ভাতকুড়ায় গিয়ে দেখা যায়, বিশাল মাঠজুড়ে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। সেখানে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা কয়েক হাজার মুসল্লি অবস্থান করছেন। নিরাপত্তার জন্য সেখানে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
ইজতেমা আয়োজক কমিটির খাদেম মুফতি মোস্তফা খলিল চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর থেকে ইজতেমার মূল আমল শুরু করা হয়েছে। ফজর থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত তিনি প্রথমে বয়ান করেন। এরপর সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তালিমের মৌজ নিয়ে আলোচনা করেন মুফতি শহিদুল্লাহ। এরপর বিদেশি মেহমানেরা পুরো ইজতেমা মাঠকে ২০ ভাগে ভাগ করে আলাদা আলাদা তালিম করেছেন। জোহরের পর সৌদি আরবের মেহমান শেখ মোহাম্মদ আল খামিদ বয়ান করেন। আসরের নামাজের পর ঢাকার মাওলানা এহসান বয়ান করছিলেন।
তিনি আরো জানান, মাগরিবের নামাজের পর ঢাকার মুফতি ওসামা ইসলাম বয়ান করবেন। ইজতেমার প্রধান মাঠে ১২ হাজার মুসল্লি রয়েছেন। এছাড়া আশপাশের মাঠে আরও তিন হাজার মুসল্লিকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। আগামিকাল শুক্রবার(১৭ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজে ১৫ হাজারের বেশি মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
অপরদিকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জুবায়েরপন্থী ও টাঙ্গাইল জেলা কওমী ওলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি শামছুল হক কাসেমী জানান, নেজামউদ্দিন অনুসারী সাদ পন্থীরা তাবলীগ জামাতের নামে ইসলামের অপব্যাখ্যা করে মুসলমানের মাঝে বিশৃংখলা সৃষ্টি করছে। এছাড়াও পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বশীল কিছু কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। এতে তাদের দাওয়াতি কাজকর্ম ব্যপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই বিষয়গুলোর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য তিনি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
এদিকে সাদপন্থী তাবলীগ জামাতের জেলার জিম্মাদার এনামুল হক জানান, তাদের যেসব সদস্য টঙ্গী ইজতেমায় যেতে পারেনি তাদের জন্য মূলত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন দিনব্যপী ইজতেমা শুরু হয়েছে। এখানে ৯টি দেশের তাবলীগ জামাতের সদস্যরা অংশ নিচ্ছে। তারা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ইজতেমার আয়োজন করেছেন। মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাচ্ছে কওমী ওলামা পরিষদ।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, জোবায়েরপন্থী কওমী ওলামা পরিষদের লোকজন তার কাছে গিয়েছিলেন। তাদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান পালনের জন্য বলা হয়েছে। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কোন ধরণের সংঘর্ষে জড়াবেন না। তারপরও বিশৃংখলা এড়াতে শহরে ও ইজতেমাস্থলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা সদরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নবনির্মিত ওই শহীদ মিনারটির উদ্বোধন করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক শহীদ মিনারটির উদ্বোধন করেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ, মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান,মির্জাপুর পৌর মেয়র সালমা আক্তার শিমুল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।

এ প্রসঙ্গে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান জানান, মির্জাপুর উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভর নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে মির্জাপুরের উয়ার্শী ইউনিয়নের সিয়াম একাডেমী স্কুল প্রাঙ্গণ, আনাইতারা ও বানাইল ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে তিনটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট দিয়ে নির্মিত শহীদ মিনার তিনটি স্থানীয় সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ উদ্বোধন করেন।
একতার কণ্ঠঃ বর্ণাঢ্য আয়োজনে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ভবনের সামনে কেক কেটে প্রতিষ্ঠা বার্ষির্কী উদ্যাপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. ফরহাদ হোসেন।

পরে একটি বার্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এই র্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, ডিন ও বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সঞ্জয় কুমার সাহা ও বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করেন।
এছাড়া ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেলে খেলাধুলা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাবা আউয়ালকে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আসাদুজ্জামান মিয়াকে (৫০) আটক করেছে টাঙ্গাইল র্যাব-১৪, সিপিসি-০৩ এর সদস্যরা।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন মোগরাপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।
২০১৩ সালে বাবা আউয়ালকে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে তার ছেলে আসাদুজ্জামান হত্যা করিয়েছিল। সাক্ষী-প্রমাণ শেষে ২০২০ সালে আসামিকে মৃত্যু দণ্ডাদেশ দেন বিচারক।
টাঙ্গাইল র্যাব-১৪ এর কোম্পানি কমান্ডার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ২০১৩ সালের টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার চাঞ্চল্যকর আউয়াল হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন মোগরাপাড়া এলাকায় আত্মগোপনে আছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকালে অভিযান পরিচালনা করে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামি নিজের বাবাকে হত্যার উদ্দেশে চারজন ভাড়াটিয়া খুনির সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ৩০ জুন রাত ১টার দিকে আসামির বসতবাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব পাশের বারান্দা চৌকির ওপর তার বাবা আউয়ালকে গলা কেটে হত্যা করে। এ ঘটনায় পরদিন মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শ্যামল কুমার দত্ত বাদী হয়ে ১টি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরো জানান, হত্যা মামলায় বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ২য় আদালত, টাঙ্গাইল বিচার শেষে গত ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আসামিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। মামলার বিচারকাল থেকে আসামি পলাতক ছিলেন।
র্যাব-১৪ এর কোম্পানি কমান্ডার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, ‘আসামিকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করে মির্জাপুর থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার পৌলীতে নির্মাণাধীন রাস্তায় বালুবাহী ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবীতে মানববন্ধন করেছে পৌলী ও স্বরূপপুর গ্রামের জনসাধারণ।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পৌলী (উত্তর) ঘোষপাড়া এলাকায় স্থানীয়রা এ মানবনন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে পৌলী-স্বরূপপুর-বড় বাশালিয়া গ্রামের ৩ শতাধিক জনসাধারণ অংশ নেয়।
মানবন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন- এলেঙ্গা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও পৌলী মন্দির কমিটির সভাপতি সুকুমার ঘোষ, মন্দির কমিটির উপদেষ্টা রবীন্দ্র সূত্রধর, ক্ষিতিশ ঘোষ, সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল ঘোষ, পৌলী মসজিদ কমিটির দাতা সদস্য জামাল মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক আ: বাছেদ, বড় বাশালিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, পৌলী গ্রামের শফিক, নাজিম প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এলেঙ্গা পৌরসভার পৌলী-স্বরূপপুর রাস্তাটি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। একটি প্রভাবশালী মহল নির্মাণাধীন রাস্তার উপর দিয়ে ট্রাকে বালু ভর্তি করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছে। এতে নির্মাণাধীন রাস্তাটি বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে এলাকাবাসী রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বালুবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধের দাবী জানান।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স হালিম ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী আব্দুল হালিম সরকার বলেন, রাস্তায় সবেমাত্র সাববেইস কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ রাস্তার উপর দিয়ে কোনভাবেই বালুবাহী ট্রাক বা ভারী যানবাহন চললে চলমান কাজের ক্ষতি হবে।
এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র নূর-এ-আলম সিদ্দিকী জানান, নির্মাণাধীন রাস্তায় বালুবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচল করলে রাস্তার ক্ষতি হবে। ফলে পৌরসভার পক্ষ থেকে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বালুবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধ দেওয়া হয়েছে।
কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাজমুল হুসেইন জানান, নির্মাণাধীন রাস্তার উপর দিয়ে বালুবাহী ট্রাক চলাচলে রাস্তার ক্ষতি হলে নিলামকৃত বালু বিকল্প রাস্তা দিয়ে অপসারণ করতে হবে।