একতার কণ্ঠঃ অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন টাঙ্গাইলের গোপালপুরের সাজানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রনি প্রতাপ পাল।
কনে কালিহাতী উপজেলার মগড়া গ্রামের সত্য পালের মেয়ে স্বর্না পাল। স্বর্না অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।
তবে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বিয়ের বিষয়ে কিছুই জানে না বলে জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পালপাড়ার বাসিন্দা রতন লাল পালের ছেলে রনি প্রতাপ পাল আর্শিবাদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। আগামী ১৫ ডিসেম্বর বিয়ের বাকী কাজ সম্পন্ন হবে।
রনি প্রতাপ পাল জানান, কোন চাপে নয় পরিবারের পছন্দেই বিয়ে করতে যাচ্ছি। সবার কাছে দোয়া চাই। এখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান করায় কাউকে বলা হয়নি। বিয়ের অনুষ্ঠানে অবশ্যই প্রধান শিক্ষককে দাওয়াত দেওয়া হবে।
বিয়ের বিষয়ে অবগত না থাকায় প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রকাশ,নিয়মবহির্ভূত বিয়ের নোটিশ দেওয়ায় ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক সরকারি তদন্ত চলমান রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের বহিস্কার চেয়ে ছাত্র, ছাত্রী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষকরা ও স্থানীয়রা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
২০১৬ সালে সহকারী শিক্ষক পদে ওই বিদ্যালয়ে যোগ দেন রনি প্রতাপ পাল। গত ২৬ জুলাই তাকে নোটিশ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। নোটিশে বলা হয়, বিদ্যালয়ে যোগদানের পর আপনাকে বারবার মৌখিকভাবে তাগিদ দিয়েছি বিবাহ করার জন্য। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও আপনি বিবাহ করেননি। বিদ্যালয়টিতে সহশিক্ষা চালু রয়েছে। অভিভাবকরা অবিবাহিত শিক্ষক নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। সুতরাং বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিবাহের কার্য সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে পাক্কা নির্দেশ প্রদান করা হলো।
নোটিশটি পাওয়ার দুইদিন পর সহকারী শিক্ষক রনি প্রতাপ প্রধান শিক্ষককে লিখিত জবাব দেন। জবাবে তিনি বলেন, আমার অভিভাবকরা আমার বিয়ের চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের বিয়ের পাত্র-পাত্রী বাছাইয়ে গোত্র বা বর্ণের বিষয় রয়েছে। এছাড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শ্রাবণ থেকে কার্তিক পর্যন্ত বিয়ে করাটা শুভ মনে করে না। সুতরাং পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতির কারণে আগামী অগ্রহায়ণ মাসে আমার অভিভাবকেরা আমাকে বিবাহ করাবেন।
একতার কণ্ঠঃ সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। গুমোট গরম। এর মধ্যেই শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করে টাঙ্গাইল শহরের শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। সেখানে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলাকালে নামে বৃষ্টি। থেমে যায় কিছুক্ষণ পরেই। এরপর কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি। প্রকৃতির এমন আচরণের মধ্যেও উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে টাঙ্গাইলের এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা।
প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় সারা দেশের ৬৪টি জেলায় পর্যায়ক্রমে জিপিএ-৫ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের উৎসবটি পাওয়ার্ড বাই ‘বিকাশ’। সহযোগিতা করছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।
টাঙ্গাইলে সম্বর্ধনা নিতে অনলাইনে নিবন্ধন করা কৃতী শিক্ষার্থীরা শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর)সকালে এসেই নির্দিষ্ট বুথ থেকে ক্রেস্ট, স্ন্যাকস ও উপহারসামগ্রী সংগ্রহ করে। এ সময় তারা বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলা ও আড্ডায় মেতে ওঠে। সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। এতে বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর। তিনি বক্তব্যের শুরুতে তিনজন শিক্ষার্থী এবং একজন অভিভাবকের অনুভূতি শোনেন। এরপর আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সামনের দিনগুলোয় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরস্পরকে সহযোগিতা করে এগিয়ে যেতে হবে। প্রত্যেকে যদি নিজের প্রতি দায়িত্বশীল হয়, তাহলেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল করিম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভালো ফলাফল করার জন্য তোমাদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। এটা শুরু। এইচএসসিতেও ভালো ফলাফল করতে হবে। তারপর মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে তোমরা কর্মক্ষেত্রে যাবে। সব ক্ষেত্রেই ভালো করার জন্য পরিশ্রম করতে হবে। তোমরা সব সময় দুর্নীতি, অনিয়ম ও খারাপ কাজকে ঘৃনা করবে, ভালো কাজের সঙ্গে থাকবে।’
শিবনাথ উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ওমর আলী বলেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই ভালো করেছ। তাই তোমাদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি তোমাদের প্রত্যেককে ভালো মানুষ হতে হবে। তোমরা আগামী দিনের দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। তোমরা ভালো হলে দেশ ভালো নেতৃত্ব পাবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের নির্বাহী সালমুন ইকরাম। স্বাগত বক্তব্য ও প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান প্রথম আলোর টাঙ্গাইলের নিজস্ব প্রতিবেদক কামনাশীষ শেখর।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল বন্ধুসভার উপদেষ্টা জিনিয়া বখ্শ।
অনুষ্ঠানের মাঝে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। তবে পরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা মেতে উঠে আনন্দ–উল্লাসে। স্থানীয় ব্যান্ড সংগীত দল টাচে্র শিল্পী লিজু বাউলা ও সুফি শামীমের গানের সঙ্গে নেচে গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি জানাতে এসে কৃতী শিক্ষার্থী নিশাত সিদ্দিকী বলে, ‘সব সময় মনে থাকবে জিপিএ-৫ পেয়েছিলাম বলে প্রথম আলো আমাদের সংবর্ধনা দিয়েছিল।’
শিক্ষার্থী তাসনিয়া শারমিন বলে, ‘ভালো ফলাফলের জন্য সংবর্ধনা দেওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল করার জন্য আমাদের প্রেরণা জোগাবে।’ অপর শিক্ষার্থী আজম খান বলে, ‘এই সংবর্ধনা পেয়ে আমরা অনুপ্রাণিত।’
দিনব্যাপী সংবর্ধনায় শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, প্রথম আলো ই-পেপার (১ মাস) ও চরকির (১৫ দিন) ফ্রি সাবস্ক্রিপশন, শিখোর সৌজন্যে বিনা মূল্যে কোর্স ও ফ্রেশ ব্র্যান্ডের স্ন্যাকস বক্স।
একতার কণ্ঠঃ এশিয়া মহাদেশের সবচেয় বেশি ২০১ গম্বুজ মসজিদ নির্মাণের পর এবার টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ৩৯৯ ফিট সু-উচ্চ মিনারসহ ২৬১ গম্বুজ বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে “বায়তুন নূর জামে মসজিদ”। এটি নির্মাণ করা হবে ভূঞাপুর-এলেঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়েকর সিংগুরিয়ায়।
এ উপলক্ষ্যে শুক্রবার (২২ সেপ্টম্বর) বিকালে প্রস্তাবিত মসজিদ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- ২৬১ গম্বুজ মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ মওলানা মো. ফজলুল রহমান। অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন- তেজগাঁ শিল্পাঞ্চল আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ সাইফুল ইসলাম বাবু প্রমুখ। অনুষ্ঠানে দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন- হাফেজ মওলানা মো. হুসাইন আহমদ।
প্রায় ৫ বিঘা জমির ওপরে ৩ তলা ও সু-সজ্জিত পাঁচটি মিনার বিশিষ্ট এ মসজিদটি নির্মাণ হবে। ৫টি মিনারের একটি ৩৯৯ ফিট উচ্চতায় দৃষ্টিনন্দন আধুনিক মার্বেল পাথর দ্বারা মেহেরাব, পিলার ও মেঝে নির্মিত হবে। একত্রে ৩০ হাজার মুসুল্লির নামাজের ব্যবস্থাসহ প্রতিটি জায়নামাজের স্থান কারুকাজ দ্বারা নির্ধারিত থাকবে। এছাড়া জেনারেটরসহ এসির ব্যবস্থা ও মসজিদে ইসলামী জ্ঞান চর্জার জন্য একটি লাইব্রেরী কক্ষ এবং মহিলাদের আলাদা নামাজ আাদায়ের ব্যবস্থা থাকবে।
২৬১ গম্বুজ মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বপ্নদ্রষ্টা হাফেজ মওলানা মো. ফজলুল রহমান বলেন, আমার বাবা স্বপ্নে আমাকে বলেন একটি মসজিদ নির্মাণ করার জন্য। পরে আমি পাশের গোপালপুরের পাথালিয়া গ্রামের ২০১ গম্বুজ দেখতে যাই। সেখান থেকে আমার ২৬১ গম্বুজ মসজিদ নির্মাণের ইচ্ছে হয়। আমি এলাকার সকল ধর্মপ্রাণ মানুষের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি। যাতে আমি আমার জীবদ্দশায় এই মসজিদটি নির্মাণ করে যেতে পারি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নজরুল ইসলামের (৪০) বিরুদ্ধে। ধর্ষণের ফলে ওই স্কুল ছাত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। ধর্ষক নজরুল ইসলাম উপজেলার আগচারান এলাকার মৃত খালেক মিয়ার ছেলে। নজরুল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী।
জানা যায়, গত রোববার ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে ধর্ষক নজরুলের বিরুদ্ধে কালিহাতী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন।
মেডিকেল রির্পোটের ভিত্তিতে জানা যায়, দীর্ঘদিন বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণের ফলে স্কুল ছাত্রীটি বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ফলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নজরুলের স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ার পর ওই স্কুলছাত্রীকে মাঝে মধ্যে সাংসারিক কাজের জন্য ডেকে নিয়ে যেতো। একদিন নজরুল জোরপূর্বক ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি ঘরে নিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষণের কথা বাড়িতে বা কাউকে বললে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। এভাবে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ই সে ওছাত্রীকে ধর্ষণ করে আসছিল অভিযুক্ত নজরুল।
ওই স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তার শরীরের পরিবর্তন ঘটে। ফলে পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তাকে জিজ্ঞাসা করলে তখন সে নজরুলের ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলে। এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় ধর্ষক নজরুল এখনো ধরা-ছোয়ার বাইরে।
ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী জানায়, নজরুল ইসলামের স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ায় সাংসারিক কাজের কথা বলে আমাকে মাঝে মধ্যে তার বাড়িতে ডেকে নিতো। একদিন নজরুল জোরপূর্বক ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি ঘরে নিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে। এ কথা কাউকে বললে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় আমাকে।
ওই স্কুলছাত্রীর মা বলেন, নজরুল আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। সে প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা করার কারণে আমরা ভয়ে আছি। আমার মেয়ের মতো আর কারো সর্বনাশ জানি না হয়। প্রশাসনের কাছে কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
এ ব্যাপারে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ কামরুল ফারুক জানান, মামলার পর ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে। আসামীকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযানও চলমান রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তদারকিমূলক অভিযানে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ৩ প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২১ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিহাতী উপজেলার বাঘুটিয়া বাজারে ৩ টি ঔষধের দোকানে এ জরিমানা করেন।
জানা গেছে,টাঙ্গাইলের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক শিকদার শাহীনুল আলমের নেতৃত্বাধীন একটি টীম কালিহাতী উপজেলার বাঘুটিয়া বাজারে তদারকি করে প্রচুর পরিমানে মূল্য বিহীন ঔষধ পায়।এ অভিযোগ প্রিয়াংকা ফার্মেসীকে ৫ হাজার টাকা কল্পনা ফার্মেসীকে ৫, হাজার টাকা, লাইসেন্স ব্যাতীত প্রচুর পরিমানে মূল্য বিহীন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ রাখায় ব্রাদার্স মেডিকেল হলকে ১০ হাজার টাকাসহ মোট ২০ হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা করা হয়।
এছাড়া টাঙ্গাইলের পার্কের বাজারে আলু , পেয়াজের আড়তে মূল্য তদারকি করা হয়েছে।
এ অভিযানে সকলকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুসারে ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্যাবলী থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। ব্যবসায়িদের ক্রয়/বিক্রয় রশিদ সংরক্ষণ, মূল্য তালিকা প্রদর্শণ করতে অনুরোধ জানানো হয় এবং সচেতন করতে লিফলেট, প্যামপ্লেট বিতরণ করা হয়।
এই তদারকিমূলক অভিযানে সহায়তা করেন জেলা পুলিশ টাঙ্গাইল।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সাংবাদিকের বৃদ্ধা মা সুলতানা সুরাইয়া (৬৫) কে গলা কেটে হত্যা মামলার দুইজন আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বুধবার(২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান টাঙ্গাইল পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন। সংবাদ সম্মেলনে শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
নিহত সুরাইয়া সুলতানা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম আকন্দের স্ত্রী ও দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার নিউজ এডিটর মো. আবু সায়েম আকন্দের মা।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সিরাজগঞ্জ সদরের পুনর্বাসন এলাকার মো. শাহজাহান ওরফে শাহ জামালের ছেলে মো. লাবু (২৯) ও ভূঞাপুর পশ্চিমপাড়ার সিরাজ আকন্দের ছেলে আল আমিন আকন্দ (২২)।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন জানান, আল আমিন আকন্দ ওই বৃদ্ধার আত্মীয়। নিহতের সন্তান ঢাকায় থাকায় আসামীরা অনেক সময় টাকার বিনিময়ে ওই বৃদ্ধার সাংসারিক কাজ করে দিতেন। সেই সুবাদে আসামীরা জানতে পারেন সুলতানা সুরাইয়ার কাছে টাকা আছে। সেই টাকা চুরি করতে ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে আসামীরা বৃদ্ধার বাড়িতে যান। রাত ১২ টার পর ঘরে প্রবেশ করার পর বৃদ্ধা তাদের দেখে চিনে ফেলেন। বৃদ্ধা আত্মচিৎকার করার সময় আসামীরা গামছা দিয়ে তার মুখ বেঁধে ফেলে। পরে সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে তাকে জবাই করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে বৃদ্ধার সাড়ে ১২ হাজার টাকা ও তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, সাড়ে ১২ হাজার টাকা দুই জনে ভাগ করে ও মোবাইল দুটি লাবুকে দিয়ে দেয়। লাবু সিরাজগঞ্জ সদরে একটি ফোন বিক্রি করে। সেই মোবাইলের সূত্র ধরে প্রথমে লাবুকে ও পরে আল আমিন আকন্দকে চিহ্নিত করা হয়। মঙ্গলবার রাতে লাবুকে সিরাজগঞ্জ সদর ও আল আমিন আকন্দকে ভূঞাপুর সদর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তারা দুই জনেই নিজের দোষ স্বীকার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধি দিবে বলে পিবিআইকে জানিয়েছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত নয় বলেও জানিয়েছে গ্রেফতারকৃতরা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরের বোয়ালীতে ঘরের আড়ের সাথে ফাঁস দিয়ে আবু সাইদ (১৭) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। সে মধুপুরের শহরের কসমেটিকস ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের ছেলে ও স্থানীয় কুড়ালিয়া মাদ্রাসা থেকে হেফজ পাশ করেছে।
বুধবার(২০ সেপ্টেম্বর) সকালে পরিত্যক্ত রুমের তালা খোলা দেখে প্রতিবেশী ভিতরে ঢুকে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে লাশটি উদ্ধার করে।
জানা যায় পারিবারিক অমিলের কারনে মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবু সাইদ বাসা থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় নি। রাতে তার বাবা মধুপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি(জিডি) করেন। ।
শহিদুল ইসলাম জানান, লেখাপড়া না করার কারনে সাইদকে আমার সাথে দোকানে বসিয়ে দেই। কিন্তু সে দোকানে মনোনিবেশ না করে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। বেশ কিছুদিন যাবত সে কারো সাথে কথা বলতো না। চুপচাপ বসে দিন-রাত মোবাইলে গেমস খেলতো।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি )মোল্লা আজিজুর রহমান জানান ,আইনী প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বাসচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের ভূঞাপুর লিংক রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর উপজেলার পানকাতা গ্রামের মৃত আছিম উদ্দিনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (৫৬) ও চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের দড্ডা গ্রামের মৃত ওয়াদুদ মজুমদারের ছেলে মাসুদুর রহমান মজুমদার (৫৪)।
তারা দুই জনেই এলেঙ্গায় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনজিওতে চাকরি করেন।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর আশরাফ জানান ,দুপুরে উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা হাসিব পরিবহনের একটি বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। এসময় মোটরসাইকেলে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বাসটি তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইসমাইল হোসেন ও মাসুদুর রহমান মজুমদারের মৃত্যু হয়। লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান,আইনী প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হন্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় বাসটি জব্দ করা হলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।
একতার কণ্ঠঃ মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কণিষ্ঠ পুত্র আবুবকর খান ভাসানীর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের সন্তোষে আবুবকর খান ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এ সময় ন্যাপ-ভাসানী ও খোদা-ই-খেদমতগারের সভাপতি হাসরত খান ভাসানী, ভাসানী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আজাদ খান ভাসানীসহ ভক্ত-মুরিদানরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সোমবার বিকালে ঐতিহাসিক দরবার হলে ওরশ মোবারক ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, আবুবকর খান ভাসানী ১৯৪৭ সালের ২৪ এপ্রিল (মেট্রিকুলেশন সনদ অনুযায়ী) আসামের ধুবরী জেলার দক্ষিণ শালমারা থানার আমতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও হামিদা খানম ভাসানীর জ্যেষ্ঠ পুত্র।
তিনি ১৯৬৫ সালের ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভুরুঙ্গামারীর ঐতিহাসিক কৃষক সম্মেলনের সক্রিয় কর্মী ও সংগঠক ছিলেন। এই সময়ে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে গড়ে তোলেন মাতা হামিদা খানম ভাসানীর নামে জুনিয়র স্কুল। এখানেই তিনি শিক্ষকতা দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন।
এরপর ’৬৮-র আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ’৬৯-র গণঅভ্যুত্থান এবং ’৭১-র মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ শেষে স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেন।
২০১২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। ১৯ সেপ্টেম্বর সন্তোষে পিতার কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হল ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদ সোহরাবকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তাকে দলের সহ সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাইদ সোহরাব টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের পুষ্টকামুরী গ্রামের বাসিন্দা। সে সাবেক জেলা রেজিস্ট্রার প্রয়াত হাবেল উদ্দিনের ছেলে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এ মালিককে বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সুইডেন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আবেদিন মোহনকে সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সহসভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমনকে সহঅর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাটকে বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
সাবেক ছাত্রনেতা সাইদ সোহরাব কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় মির্জাপুরে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে।
মির্জাপুর পৌর বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক ভিপি হযরত আলী মিঞা বলেন, সাবেক ছাত্রনেতা ৯০-এর গণআন্দোলনের রাজপথের একজন নেতাকে মূল্যায়ন করাতে বিএনপি’র চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি মির্জাপুরবাসী কৃতজ্ঞ। উপজেলা, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের সাবেক ত্যাগী ছাত্র নেতাদের একইভাবে মূল্যায়নের অনুরোধ জানান।
উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ বলেন, দীর্ঘদিন বিএনপি’র রাজনীতি করা সাইদ সোহরাব যে পদটি পেয়েছেন এটি তার প্রাপ্য। রাজনৈতিক পদোন্নতি পাওয়ায় আমরা আনন্দিত।
এছাড়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের নাজমুল আবেদিন মোহন ( সুইডেন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক) বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং ১৯৮০-৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বলরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. লিয়াকত হোসেন তালুকদারকে সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় বিদ্যালয় মাঠে ঘণ্টাব্যাপি এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
ক্লাস বর্জনের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. বেলাল হোসেন অর্জুনা ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলম খান মাহবুবকে ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠায়। পরে চেয়ারম্যান শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন থেকে ক্লাসে ফিরে যান।
শিক্ষার্থীরা বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. লিয়াকত হোসেন তালুকদার স্যারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বরখাস্ত করেছে পরিচালনা পরিষদ। মানববন্ধনে লিয়াকত স্যারকে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি।
ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলম খান মাহবুব বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি হিসেবে ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা ক্লাসে ফিরে যান। বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অবগত করে একটি মিটিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. লিয়াকত তালুকদার বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ অনিয়ম করায় বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলামকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কল রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. বেলাল হোসেন বলেন, ক্লাস বর্জনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি সমাধান করার জন্য পাঠানো হয়
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ও জেলার সকল সংসদ সদস্য (এমপি) এবং জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের নাগরপুরে রবিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে নাগরপুর কলেজ মাঠে জনসমাবেশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু। উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে সমাবেশ করেছেন তিনি। কিন্তু সেখানে যাননি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বেশিরভাগ নেতৃবৃন্দ। সংসদীয় আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও ছিলেন অনুপস্থিত। উপজেলা আওয়ামী লীগ ও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জনসভায় অনুপস্থিতি তৃণমুল নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে। জনসভার পাশাপাশি এটাও ছিলো সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে ছিলো আলোচনার বিষয়বস্তু। এরমধ্য দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দ্ব›দ্ব এতদিন অপ্রকাশ্যে থাকলেও রবিবারের জনসভার মধ্যে দিয়ে তা প্রকাশ্যে এলো। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ৯নং সহ-সভাপতি মো. আনিছুর রহমান ও অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ৩ নং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আলীম দুলাল। যা ছিলো অত্যান্ত দৃষ্টিকটু।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতাদের। সেইসঙ্গে এই আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তারেক শামস খান হিমু ও ইনসাফ আলী ওসমানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়ামের সঙ্গেও দ্বন্দ্ব রয়েছে। তারা সবাই একাট্টা হয়েছেন সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত কয়েক বছর ধরে সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। সংসদ সদস্য তার নিজের অনুসারীদের নিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করেন। অপরদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ পৃথকভাবে কর্মসূচি পরিচালনা করেন।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাগরপুরে সমাবেশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আগামী অক্টোবরে প্রথম সপ্তাহে সমাবেশ করার জন্য প্রস্তাব দেন। তারা এই প্রস্তাবের কথা কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের জানান। উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খালিদ হোসেন জানান, এই প্রস্তাব অগ্রায্য করে সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে ১৭ সেপ্টেম্বর সমাবেশের তারিখ নির্ধারণ করেন। ব্যানারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদককে সঞ্চলনার দায়িত্ব দিয়ে নাম লেখা হলেও তিনি কারও সঙ্গে সমন্বয় না করে একাই সমাবেশের প্রচারণা শুরু করেন। তখন অন্য সবাই এ সমাবেশ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন।
স্থানীয়রা জানান, এই সমাবেশ কেন্দ্র করে নাগরপুরের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জণ উঠেছিল উপজেলা আওয়ামী লীগ, সকল মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা ও সংসদ সদস্যের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব রয়েছে তার অবসান ঘটবে। কিন্তু সমাবেশের মধ্য দিয়ে দ্বন্দ্ব আরও চরমে পৌঁছালো। তারা এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বর কারণে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুদরত আলী বলেন, সংসদ সদস্য রোববার যে সমাবেশ করলেন তার সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন প্রকার সম্পর্ক নেই। সমাবেশের বিষয়ে তিনি কারও সঙ্গে সমন্বয় করেননি। এমপি হওয়ার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের এড়িয়ে চলেন। তিনি বিএনপি ও জামায়াতের লোকদের নিয়ে রাজনীতি করেন। কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতাদের ম্যানেজ করে তিনি এই সমাবেশ করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ পরবর্তীতে সমাবেশ করবেন বলেও তিনি জানান।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তারেক শামস্ হিমু বলেন, দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে দল পরিচালা করবেন উপজেলা আওয়ামীলীগ। উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড পরিচালানা করবেন স্থানীয় এমপি। কিন্তু স্থানীয় এমপি উপজেলা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে এককভাবে নিজের মত করে বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করছে। রোববারের জনসভাটি এমপির একক সিদ্ধান্তে আয়োজন করায় উপজেলা আওয়ামী লীগসহ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জনসভায় উপস্থিত হয়নি। এতে সাধারণ ভোটারসহ তৃণমুল কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু জনসভায় বলেন, নাগরপুরের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ, নাগরপুর আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ আজ ঐক্যবদ্ধ ও অভিন্ন আছে। গুটি কয়েকজন মানুষ এখানে উপস্থিত নাই। আমি আশাকরি এখানে উপস্থিত টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ দায়িত্বপুর্ন সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগ যেন ঐক্যবদ্ধভাবে আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থা নিবেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুল আলীমের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী, সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ, সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু, সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনি, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামিলুর রহমান মিরন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার ফজলুল হক প্রমুখ।