/ হোম / টাঙ্গাইল সদর
টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলার দাপনাজোড় রেল ক্রসিং এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

নিহত কলেজছাত্র অন্তর খান (১৮) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার টি-ভাতকুড়া এলাকার মো. নজরুল খানের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল সৃষ্টি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেলে অন্তর খান মোটরসাইকেল নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে তিনি বাসাইল উপজেলার দাপনাজোড় এলাকার রেল ক্রসিং এলাকায় ঢাকাগামী বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে কাটা পড়েন।

এ সময় তার সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলটি পাশেই পার্কিং করা ছিল। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশের ঘারিন্দা ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পরে শনিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

ঘারিন্দা রেলের স্টেশন মাস্টার সোহেল খান বলেন, এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. এপ্রিল ২০২২ ০২:৫০:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝে চাওয়ায় ভাতিজার বিরুদ্ধে মামলা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝে চাওয়ায় ভাতিজার বিরুদ্ধে মামলা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝে চাওয়ায় ভাতিজার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এর প্রতিবাদে ভাতিজা হিমেল রহমান নামের এক ব্যবসায়ী শনিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে এ সংবাদ সম্মেলন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হিমেল রহমান জানান, তার বাবার মৃত্যুর পরে তাদের গ্রামের বাড়ি ও জমি ভাগ বন্টন করা হয়। তার চাচা লুৎফর রহমান সবকিছুর সিদ্ধান্ত নেয়। তার সকল সিদ্ধান্তই ছিলো আইন বহির্ভূত ছিল। ওই সময় তারা দুই ভাই থাকায় জমি-জমা সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিলো না। বর্তমানেও জমির কাগজপত্র তেমন বুঝে না। চাচা লুৎফর রহমান সরলতার সুযোগ নিয়ে নিম্নমানের জমিগুলো তাদেরকে দিয়ে এবং চাচা ভালো মানের জমিগুলো নিয়েছে। ঠিক তেমনভাবে তাদের শহরের বাসায় রাস্তার সাথের দামি জমি লুৎফর রহমান নিয়েছে এবং তাদেরকে পেছনের জমি দিয়েছে।

তিনি আরো জানান, সেই জমির পরিমানও কম ছিলো। শহরের পূর্ব আদালত পাড়াই তাদের বাসায় তিনিসহ তার তিন চাচার জমি। সাড়ে ১৭ শতাংশ জমিতে ডেভোলাপারের কাছে বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য দেয়া হয়। সেখানে তার জমি রয়েছে সারে ৪ শতাংশ। আর বাকি জমি লুৎফর রহমানসহ তার তিন চাচার। ডেভোলাপার কাজ শুরু করলে তার চাচা বিভিন্ন সময় ডেভোলাপারের সাথে খারাপ আচরণ করত। তার এই খারাপ আচরণের কারণে ডেভোলাপার কাজ বন্ধ করে চলে যায়। এই ভবন নির্মাণের কাজ বিভিন্ন কারণে শুরুতেই ৪ বছর বন্ধ থাকে। এদিকে তারা অনেকবার ডেভোলাপারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বেশ কয়েকজন কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন।

তিনি আরও জানান, তার চাচা তাদেরকে জানান কোন ডেভোলাপারকে কাজ দেয়া যাবে না। তিনি নিজেই কাজ করবেন। তখন তিনিসহ তার আরও দুই চাচা লুৎফর রহমানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। লুৎফর রহমান ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চীপ ইঞ্জিনিয়ার। তিনি এই বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করার পর বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে তালবাহানা করতে থাকেন। চারটি ছাদ করার পর হঠাৎ একদিন তাদের চাচা জানান, তার পক্ষে এই ভবনের আর কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরে তিনি ছেলে ও মেয়ের সাথে আমেরিকায় চলে যান। এই ভবনের ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার লুৎফর রহমানের কাছে টাকা পাওনা রয়েছে। পরে তিনি ৮০ লাখ টাকা দেনা পরিশোধ করে। তারপর পুনরায় ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করে পর্যায়ক্রমে ১০ তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই শেষ করে। দুই বছর পর ২০২০ সালে চাচা দেশে চলে আসে। দেশে এসে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তার চাচা মাঝে মধ্যে এসে তার কাছ হতে ফ্লাট বিক্রি করার টাকা ধাপে ধাপে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে এই ভবনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নানান কৌশল অবলম্বন করে চাচা। এক পর্যায়ে তিনি ভবন নির্মাণের দায়িত্ব ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে ভবন নির্মাণের যাবতীয় টাকা দাবি করলে টাকা ও ফ্লাটও রেডি কওে হিমেলকে দেয়া হয়নি।

হিমেল জানান, বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর কামরুল ইসলাম মামুনকে জানানো হলে ২০২১ সালে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরের মাধ্যমে শালিসী বৈঠক করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ শালিসী বৈঠকে ৩ মাসের মধ্যে ৬টি ফ্লাট তাকে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। কোনভাবেই তার চাচা মানতে রাজি হয়নি। প্রতিবাদ করলে তার চাচা ও চাচীর নির্দেশে ৬ তলার আমার ফ্লাটটি ভেঙে দেয়া হয়। বিষয়টি তার চাচার কাছে জানতে চাইলে হুমকি দেয় হিমেলকে। গত ১৪ মার্চ তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় দুই কোটির টাকার মামলা দেয়া হয়। তার চাচা প্রভাবশালী ও বিত্তশালী হওয়ার কারণে কোন প্রকার তদন্ত ছাড়া তাকে ধরার জন্য পুলিশ মরিয়া হয়ে উঠে। তিনি আইনজীবীদের পরামর্শে হাইকোর্ট থেকে জামিনে আসেন। সরকার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র‌্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহযোগিতা কামনা করেন হিমেল।

অভিযোগ প্রসঙ্গে চাচা লুৎফর রহমান বলেন, আমরা আমেরিকায় চলে যাওয়ার পরে হিমেলকে এ ভবনটি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তখন সে বেশ কয়েকটি ফ্লাটও বিক্রি করেছে। আমি হিমেলকে কোন প্রকার ভয়ভীতি দেখায়নি। উল্টো হিমেল আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। পরে আমি টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দিয়েছি। অপরদিকে হিমেলও আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দিয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. এপ্রিল ২০২২ ০৪:৩৩:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বন্ধুর হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে যুবক কারাগারে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বন্ধুর হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে যুবক কারাগারে

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বন্ধুর হয়ে (প্রক্সি) পরীক্ষা দিতে আসায় রায়হান কবির নামে এক যুবককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে তাকে আটক করা হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাবলী শবনম অভিযুক্ত রায়হানকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করেন। তিনি ওই কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, সকালে টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে টাঙ্গাইল শহরের অক্সফোর্ড কলেজ অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চতুর্থ সেমিস্টারের ড্রয়িং-২ (ক্যাড) বিষয়ের পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা চলাকালীন প্রক্সি দিতে আসা রায়হান কবিরের প্রবেশপত্রে মূল পরীক্ষার্থীর ছবির মিল না পাওয়ায় ওই কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষক খাতাটি নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনকে অবগত করেন। পরে রায়হানকে ওই কেন্দ্রের অধ্যক্ষের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি জানান, টাঙ্গাইল শহরের অক্সফোর্ড কলেজ অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে অষ্টম পর্বে অধ্যয়নরত তার বন্ধু সায়েমের পরিবর্তে পরীক্ষা দিতে এসেছেন।

কেন্দ্র সচিব টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বিএম আমিনুল ইসলাম বলেন, সায়েমের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া তাকে পরবর্তী তিন শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি না দিতে সুপারিশ করা হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেট বাবলী শবনম বলেন, রায়হান কবির তার বন্ধু সায়েমের রেফার্ড পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে যান। পরে শিক্ষকরা তার প্রবেশপত্র ও কাগজপত্র যাচাই করলে রায়হান ভুয়া প্রমাণ হয়। তাকে এক বছরের জেল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুইশ’ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. এপ্রিল ২০২২ ০২:১৪:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের শ্যামার ঘাট আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (৪ এপ্রিল) সকালে আশ্রায়ন প্রকল্পের ৪০ টি পরিবারের মাঝে ওই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহি অফিসার রানুয়ারা খাতুন এই খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারে হাতে তুলে দেন। এ সময় টাঙ্গাইল উপজেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রতিটি খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট ছিল, ১০ কেজি চাল,  ১ কেজি ডাল,  ১ কেজি লবন,  ১ কেজি চিনি,  ২ কেজি চিড়া, ১ লিটার সয়াবিন  তেল  ও  নুডুলস এক প্যাকেট।

 

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. এপ্রিল ২০২২ ১০:৫৯:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ট্রাক্টর-অটোরিক্সা সংঘর্ষে নারী নিহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ট্রাক্টর-অটোরিক্সা সংঘর্ষে নারী নিহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ট্রাক্টর (টলি ট্রাক্টর) ও সিএনজি অটোরিক্সার সংঘর্ষে আনোয়ারা (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এঘটনায় আরো  চারজন আহত হয়েছেন। রোববার (৩ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়কে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের জাইলাবাড়ির মোড়ে ওই দূর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত আনোয়ারা (৫০) টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ডাক্তার কাদেরের স্ত্রী বলে জানাগেছে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বড় ভাইয়ের মূত্যুর খবর শুনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চৌহালী উপজেলার পাথরাইল গ্রামে যাবার পথে নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের জাইলাবাড়ির মোড় নামক স্থানে আসলে অপর দিক থেকে রফিক মোল্লার টলি ট্রাক্টরটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সিএনজিটিকে চাপা দিলে ড্রাইভার সহ ৫ জন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়দের সহযোগীতায় নাগরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। টাঙ্গাইল হাসপাতালে নেবার পথে আনোয়ারা মৃত্যুবরণ করেন।

পরিবারের আহত তিনজন সদস্য হচ্ছেন, নিহতের ভাই আ. সামাদ ও তার স্ত্রী এবং ছেলে ফয়জুল্লাহ। আহতদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

নাগরপুর থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, দূর্ঘটনায় একজন নারী নিহত হয়েছে বলে সংবাদ পেয়েছি। গাড়ি দুটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।ঘাতক গাড়ি ও তার চালক কাউকে আটক করা যায়নি।

তিনি আরো জানান, নিহতের পরিবার থেকে কোন অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. এপ্রিল ২০২২ ০৩:৫৫:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বেতের আঘাতে মাদরাসাছাত্রের শরীরে পচন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বেতের আঘাতে মাদরাসাছাত্রের শরীরে পচন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে শিক্ষকের বেতের আঘাতে এক মাদরাসাছাত্রের শরীরে পচন ধরেছে। এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ওই ছাত্রের নাম মো. ইব্রাহিম (৮)। সে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ক্ষুদিরামপুর গ্রামের রিকশাচালক আমিনুল ইসলামের ছেলে। অভিযুক্ত শিক্ষক তানজিম ময়মনসিংহের মো. বাবুল মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিনুল তার ছেলেকে শহরের ঢাকা ক্লিনিকের চিকিৎসক শিশুবিশেষজ্ঞ ডা. আকমলের প্রতিষ্ঠিত মীরের বেতকা (উত্তরপাড়া) মাদরাসাতুল কুরআন আল কারীম মাদরাসায় আবাসিকে পড়তে দেন। হঠাৎ করেই গত সপ্তাহে মাদরাসা থেকে আমিনুলকে ফোন করে জানানো হয় তার ছেলে অসুস্থ। মাদরাসার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য জন্যও। একপর্যায়ে আমিনুল তার ছেলেকে শুক্রবার বাড়ি নিয়ে যায়। বাড়িতে যাওয়ার পর ছেলেকে গোসল করানোর সময় তিনি ইব্রাহিমের শরীরে ক্ষত দেখতে পান। এ সময় তার ছেলে তাকে শিক্ষক মো. তানজিম তাকে বেত দিয়ে আঘাত করেছেন বলে জানায়। এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে মাদরাসাছাত্রের পরিবার কর্তৃপক্ষের কাছে উক্ত বিষয়টি অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন মাদরাসার প্রিন্সিপাল মো. আবদুল্লাহ আল মামুনকে ওই আঘাতের চিহ্ন দেখান। সে সময় ওই ক্ষতস্থান থেকে রক্ত এবং পানি বের হচ্ছিল।

এ বিষয়ে ওই মাদরাসাছাত্র মো. ইব্রাহিম বলেন, গত এক মাস আগে মাদরাসার শিক্ষক মো. তানজিম তাকে নীম গাছের ডাল দিয়ে পেটান। সে সময় এই পেটানোর কথা বাবা-মাকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতিও দেখান ওই শিক্ষক। এই বলেই কান্নায় ভেঙে পড়ে ইব্রাহিম।

এ বিষয়ে শিক্ষক তানজিম বলেন, কথা না শোনার কারণে ইব্রাহিমকে পেটানো হয়েছিল। তবে এমনটা হবে তা আগে বুঝতে পারিনি। তবে পরিবারের কাউকে বিষয়টি জানাতে ইব্রাহিমকে মানা করেছেন বলে তিনি স্বীকার করেন।

ইব্রাহিমের মা রোজিনা বেগম বলেন, তার ছেলেকে যেভাবে পেটানো হয়েছে, ঠিক সেভাবে ওই শিক্ষককে পেটালে তিনি শান্তি পাবেন এই বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ওয়াছেরুর রহমান নেছার বলেন, তিনি বিষয়টি জেনেছেন। এর আগেও বেশ কয়েকবার ওই মাদরাসায় অনৈতিক কাজের জন্য সালিশ বৈঠক হয়েছে। তবে এ ঘটনার জন্য তিনি জড়িত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে ওই মাদরাসায় প্রিন্সিপাল মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. এপ্রিল ২০২২ ০৩:১৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ছাত্রদলের একাংশের বিক্ষোভ সমাবেশ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ছাত্রদলের একাংশের বিক্ষোভ সমাবেশ

 একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, পৌর শহর, এমএম আলী কলেজ, সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের অর্থের বিনিময়ে নবগঠিত কমিটি ঘোষণার অভিযোগ এনে এবং এ কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রদলের একাংশের নেতা-কর্মীরা।

বৃহস্পতিবার(৩১ মার্চ) বিকেলে শহরের ভাসানী হল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন করে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এসে এক সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক মো. আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম-আহবায়ক নয়ন ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ছাত্রনেতা হাবিবুর রহমান, কাব্য, কালিহাতী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক আমিনুর ইসলাম, এলেঙ্গা পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব রকি মোল্লা, মধুপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়ির যুগ্ম আহবায়ক হারুন অর রশিদ, ধনবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক আব্দুল বাতেন, মধুপুর উপজেলা ছাত্রনেতা মানিক মিয়া প্রমুখ।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মগড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আলী হোসেন সরকার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সুজন মাহমুদ।

বিক্ষোভ সমাবেশে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, পৌর শহর, এমএম আলী কলেজ, সা’দত বিশ^বিদ্যালয় কলেজ, মধুপুর-ধনবাড়ী ও কালিহাতী উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা অংশ নেয়।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির কতিপয় নেতা ও জেলা ছাত্রদলের কয়েক জন নেতার যোগসাজশে তৃণমূল ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মতামতকে উপেক্ষা করে এ কমিটিগুলো করা হয়। এই পকেট কমিটির অধীনে এবং ছাত্রলীগ নেতা দিয়ে কমিটির অধিনে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। অর্থের বিনিময়ে নবগঠিত কমিটি ঘোষণা করেছে জেলা ছাত্রদল। ছাত্রদলের মামলা হামলা খাওয়া ও ত্যাগী নেতাদের মুল্যায়ন করা হয়নি। এ কমিটিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ০৯:৫৬:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বিএনপি’র গণ অনশন কর্মসুচী পালন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিএনপি’র গণ অনশন কর্মসুচী পালন

একতার কণ্ঠঃ চাল,ডাল,তেল সহ দ্রব্য মুল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলে গণ অনশন কর্মসূচী পালন করেছে  জেলা বিএনপি।বুধবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ভিক্টোরিয়া রোডস্থ জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ অনশন কর্মসুচীর আয়োজন করা হয়।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ডায়রিয়ার প্রকোপ আরো বেড়েছে

এই গণঅনশন কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন করে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সহ সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, বিএনপি নেতা কাজী শফিকুর রহমান লিটন, অমল ব্যানার্জি, দেওয়ান শফিকুল ইসলাম, আবুল কাশেম, আশরাফ পাহেলী, একেএম মনিরুল হক মনির প্রমুখ।

এ ছাড়া  জেলা যুবদলের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, হাদিউজ্জামান সোহেল, সদর থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক সহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গণ অনশনে  বক্তারা  সরকারকে রমজান মাসের আগে চাল,ডাল তেল, গ্যাস সহ দ্রব্যমুল্য জনগনের ক্রয় ক্ষমতার আওতায় আনার দাবী জানান। অন্যথায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী গ্রহন করে সরকারকে দাম কমাতে বাধ্য করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩১. মার্চ ২০২২ ০৩:৩৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ডায়রিয়ার প্রকোপ আরো বেড়েছে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ডায়রিয়ার প্রকোপ আরো বেড়েছে

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। রোগী সংখ্যা বেশি হওয়ায় সিট পূর্ণ হয়ে অনেকে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শিশু ও মহিলা রোগীর সংখ্যাই বেশি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ধারনা আগামী পনের দিন রোগীর সংখ্যা আরো বাড়বে।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বুধবার(৩০ মার্চ)দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায় সিট পূর্ণ হয়ে ভর্তি রোগীরা মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে মহিলা ও শিশু রোগীই বেশি। এ ছাড়া মেডিসিন ওয়ার্ডে ৫ জন পুরুষ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছে।হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানায়, এখন পর্যন্ত কোন রোগী মৃত্যুবরণ করেনি ও কোন রোগীকে ঢাকায় রেফার্ড করতে হয়নি।

 

ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স জোবায়েদা খাতুন বলেন,বুধবার দুপুর পর্যন্ত ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর সংখ্যা হল ৪৯ জন। এ ছাড়া মেডিসিন ওয়ার্ডে পূর্ন বয়স্ক পুরুষ রোগী ভর্তি রয়েছে আরো ৫ জন। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে সিট রয়েছে মাত্র ১৮টি। ফলে রোগীদের নিজ উদ্যোগে বিছানা নিয়ে ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। কর্মরত নার্স রযেছে মাত্র ৬ জন । ফলে রোগী সামলানোও বেশ সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া এক জন চিকিৎসক দিনে দুইবার রাউন্ডে আসে ফলে জরুরী রোগীদের চিকিৎসা সেবা কিছুটা ব্যহত হচ্ছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতলে একটি প্রকল্পে কর্মরত আইসিডিডিআরবি’র ফিল্ড রিসার্চ এ্যাসিস্ট্যান্ট মো. সানাউল্লাহ জানান, চলতি মাসের ২৩ মার্চ ৫২ জন, ২৪ মার্চ ৫০ জন এবং ২৫ মার্চ ৪৩ জন ডায়রিয়া রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, এখন ডায়রিয়ার পিক সিজন চলছে। আগামী ১৫ দিন প্রকোপ আরো বাড়বে। তার পর আক্রান্তে সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে থাববে।

মো. সানাউল্লাহ জানান, ডায়রিয়া হাত থেকে বাঁচতে হলে, বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। খাবারের আগে ও টয়লেটের পরে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। সব ধরনের স্ট্রিট ফুড পরিহার করতে হবে। কেউ ডায়রিয়া আক্রান্ত হলে প্রাথমিক ভাবে খাবার স্যালাইন খেতে হবে। যদি বমি ও পাতলা পায়খানা হয় তাহলে অবশ্যই নিকটস্থ হাসপাতাল কিম্বা চিকিৎকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩১. মার্চ ২০২২ ০৩:৪৫:এএম ৪ বছর আগে
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং আতঙ্ক - Ekotar Kantho

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং আতঙ্ক

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের নামে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ করেছেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১ম বর্ষ ও ১ম সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থী মোঃ তারেক।

মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান মোঃ রোকনুজ্জামানের সুপারিশক্রমে লিখিত অভিযোগ জমা দেন তিনি।

র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে তার লিখিত আবেদনে গত ২৮ মার্চ (২০২২) রাতে ক্যাম্পাসের নিকটস্থ সন্তোষ আরিফ নগরে অবস্থিত ছাত্রাবাসে, ২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টারের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম, আজমাইন, সেলিম, মাহিন ও রাহাত এবং ফার্মেসী বিভাগের সাফি ও আরো অনেকের র‌্যাগিংয়ের শিকার হওয়ার কথা জানান।

আরো পড়ুনঃ আমি প্রতিবাদই করি, লুটপাট তো আর করি না : টাঙ্গাইলে ব্যারিস্টার সুমন

এছাড়া আবেদনে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও লেখাপড়া চালানো কঠিন হওয়া ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মীর মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, সে অভিযোগ করেছে। অভিযোগের আলোকে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করব। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার গভীর রাতে তারেককে টাঙ্গাইলের সন্তোষ আরিফ নগরে অবস্থিত ছাত্রাবাসের সামনে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে স্থানীয় জনগণ, পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মঙ্গলবার সকালে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ওপর অমানবিক র‌্যাগিং এবং শারীরিক, মানসিক অত্যাচার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষেধ থাকলেও রাতে তারা বিভিন্ন মেসে ডেকে নিয়ে সারা রাত র‌্যাগিং চালায়। উল্টাপাল্টা হলে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। আমরা অসহায় আমাদের বলার কেউ নাই। বললেও কাকে বলবো জানি না বললে পরে আরো শাস্তি পেতে হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. মার্চ ২০২২ ০৪:৩৬:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে দখল ও দূষনে মৃত প্রায় লৌহজং নদী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে দখল ও দূষনে মৃত প্রায় লৌহজং নদী

একতার কণ্ঠঃ এক কালের খরস্রোতা লৌহজং নদী এখন মৃতপ্রায়। পলি জমার পাশাপাশি পানির অভাবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা হারিয়ে গেছে।এমন বৈরী পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অবৈধ দখল ও শহরের ফেলা বর্জ্য । মারাত্মক দূষণ বর্তমানে এই নদীটিকে মরা নোংরা খালে পরিণত করেছে। এসবই ঘটেছে মাত্র কয়েক দশকের ব্যবধানে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাশিনগর এলাকায় ধলেশ্বরী থেকে উৎপত্তি হয়ে ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ লৌহজং নদী জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে জেলার মির্জাপুর উপজেলার বংশাই নদীতে গিয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লৌহজং নদীর উৎসমুখ বালিতে ভরাট হয়ে গেছে। যোগিনী সুইস গেট এলাকাসহ নদীর অধিকাংশ স্থানই প্রায় পানিশূন্য। শহর এলাকায় নর্দমার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে নদীটি। দিনের পর দিন ফেলা নোংরা আবর্জনার গন্ধে টেকা দুষ্কর হয়ে পড়েছে নদীপারের বাসিন্দাদের।


শহরের বেশ কয়েকজন প্রবীণ জানান, টাঙ্গাইল শহরের বুক চিরে বয়ে গেছে এই নদী ।১৯৮০-র দশক পর্যন্ত এই নদীতে লঞ্চ ও পণ্যবোঝাই বড় বড় নৌকা চলাচল করেছে। নদীপথে রাজশাহী থেকে আম বোঝাই নৌকা এসে শহরে ভিড়তো। এ জন্য শহরের কলেজ পাড়ার একটি সড়কের নাম করন হয়েছে “আমঘাট রোড”। এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের ক্ষেত্রে লৌহজং নদীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।ঢাকা এবং আশেপাশের জেলাগুলো থেকে খুব সহজে এ নদীর মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা শহরে প্রবেশ করা যেত। যার ফলে যাত্রী পরিবহন এবং মালামাল স্থানান্তরে আরামদায়ক পথ ছিল এ নদী। অর্থনৈতিক ও সামজিক উন্নয়নে নদীর ভূমিকা অনস্বীকার্য ছিল।

উজানে যমুনা ও এর শাখা ধলেশ্বরীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ে লৌহজংয়ের প্রবাহেও। নাব্যতা হারাতে থাকে নদীটি। বন্ধ হয়ে যেতে থাকে বড় বড় নৌকার চলাচল।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ট্রাক চাপায় যুবক নিহত

পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা কর্ম পরিকল্পনার (ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান/ ফ্যাপ-২০) অধীনে ১৯৯১ সালে সদর উপজেলার যোগিনীতে লৌহজং ও ধলেশ্বরীর সঙ্গমস্থলের কাছে সুইস গেট নির্মাণ করায় মরে যেতে শুরু করে নদীটি।পরে নদীর তীর দ্রুত দখল হয়ে যেতে শুরু করে। শুরু হয় বাড়ী-ঘর নির্মাণ ও ধান ও সবজি চাষ।

পাশাপাশি,পৌর এলাকার বসতবাড়ী থেকে নির্গত ময়লা পানি ও আবর্জনা, বিসিক শিল্প এলাকার কয়েকটি কারখানা ও সদর উপজেলার ক্ষুদিরামপুরে টেক্সটাইল মিল থেকে নির্গত বর্জ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীটিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করতে থাকে। লৌহজংয়ের পানি মানুষ ও গবাদি পশুর ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পরে। এই নদীতে থাকা জলজ প্রানী বিলুপ্তর মুখে পরে।তা ছাড়া, দূষিত পানির দুর্গন্ধে নদীর ধারে মানুষের বসবাস কঠিন হয়ে পড়ে।

এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে বছরের পর বছর ধরে সংশ্লিষ্ট নাগরিক ও স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা নদীটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনাসহ দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবিতে নানান কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

২০১৬ সালের ২৯ নভেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসন মোট ৭৬ কিলোমিটার নদীর মধ্যে পৌর এলাকার হাজরা ঘাট থেকে বেড়াডোমা পর্যন্ত মাত্র দেড় কিলোমিটার এলাকার নদীর জায়গা দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়।

প্রাথমিক ভাবে কিছু অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হলেও পরে অজ্ঞাত কারনে উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রয়ারী তৎকালীন জেলা প্রশাসন একইস্থানে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে।

সেসময় শুধু সদর উপজেলাতেই সাড়ে চার শতাধিক অবৈধ স্থাপনা শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে পৌর এলাকায় নদীর তীরে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ২৬০টির বেশি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে।

কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে ফেলার পর, নদীর সীমানা নির্ধারণ ও দখলদারদের চিহ্নিত করা নিয়ে বির্তকের মুখে পরে এই অভিযানটিও স্থগিত করা হয়।

পৌর এলাকার স্টেডিয়াম সংলগ্ন নদীপাড়ের বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, ‘সরকার নদীটি খনন করতে চাচ্ছে, পরিবেশ সুন্দর করতে চাচ্ছে এর সঙ্গে আমরা একমত। কথা হলো, ১৯৬২ সালে জমিগুলো আমাদের নামে রেকর্ড করে দেওয়ায় ডিসি অফিস খারিজ দিয়েছে, ভূমি অফিস খাজনা নিয়েছে ও পৌরসভা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার অনুমোদন করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ঘর করেছি।’

‘এখন যদি এই জমি থেকে আমাদের সরিয়ে দেওয়া হয় তবে আমাদের জমির ন্যায্য মূল্য দিতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
টাঙ্গাইলের নদী, খাল ও জলাশয় রক্ষা আন্দোলন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন আহমেদ সিদ্দিক বলেন, ‘নদীর জমি দখলের পাশাপাশি সেখানে এখনও আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।শহরের প্রধান কাঁচাবাজার পার্ক বাজারের সব বর্জ্য ড্রেনের মাধ্যমে নদীতে ফেলা হচ্ছে।

কবি ও গীতিকার মাসুম ফেরদৌস বলেন, ‘কয়েক বছর আগে স্থানীয় প্রশাসন অনেক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নদীর ৭৬ কিলোমিটারের মধ্যে পৌর এলাকার মাত্র দেড় কিলোমিটার দখল ও দূষণমুক্ত করার চেষ্টা করেছিল। নদীতে যদি পানিই না থাকে তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে এর পাড় বাঁধাই বা অন্য কার্যক্রম করে লাভ নেই। নদীর প্রান হচ্ছে পানি।’
আমরা চাই, দখল-দূষণ মুক্ত করার পাশাপাশি উৎসমুখ থেকে পুরো নদীতে কিভাবে প্রবাহ ফিরিয়ে আনা যায় সেই উদ্যোগ নেওয়া হোক।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) টাঙ্গাইলের বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘দখল-দূষণে লৌহজং মৃতপ্রায় আজ । শুধু দেড় বা ৩ কিলোমিটার উদ্ধার করে নদীর পাড়ে রাস্তা বা অন্য কিছু নির্মাণ করে কাজের কাজ কিছু হবে না। মানুষ নদী সৃষ্টি করতে পারে না। এটি প্রাকৃতিক সম্পদ। নদী বাঁচলে মানুষ বাঁচবে, দেশ বাঁচবে। কাজেই নদীটিকে সচল করতে হবে।’

‘নদীর উৎস মুখ থেকে প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘নদীকে নদীর গতিতে চলতে দিতে হবে। এর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।’

সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম জানান, ‘নদীটির বেহাল দশা দেখেছি। যে অংশটুকুতে অভিযান চালানো হয়েছিল তা আবার দখলের প্রক্রিয়া চলছে।’

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ডক্টর মো. আতাউল গণি জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদকঃ মো. আরমান কবীর সৈকত

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. মার্চ ২০২২ ০৬:০৮:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ট্রাক চাপায় যুবক নিহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ট্রাক চাপায় যুবক নিহত

একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে জুয়েল (২৬) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইল পৌর শহরের আশেকপুর এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুনঃ কালিহাতীতে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

নিহত জুয়েল টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যুগির বয়ড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।নিহতের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) লুৎফর রহমান।

স্থানীয়রা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মোটরসাইকেল চালক আশেকপুর বাইপাস এলাকার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ট্রাক ওই মোটরসাইকেল চালকে চাপ দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লুৎফর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থলে নিহতের সুজুকি মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেলেও ঘাতক ট্রাক ও চালক পালিয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. মার্চ ২০২২ ১০:১৬:পিএম ৪ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।