/ হোম / টাঙ্গাইল সদর
সাড়ে ১৭ বছর বাংলাদেশের জনগণের জীবনে ছিলো দুঃসহ কালোরাত: জামায়াত আমীর - Ekotar Kantho

সাড়ে ১৭ বছর বাংলাদেশের জনগণের জীবনে ছিলো দুঃসহ কালোরাত: জামায়াত আমীর

একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এ দেশের শত্রুরা জানে- জামায়াতে ইসলামী ভাঙবে, কিন্তু মচকাবে না। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না, দেশের স্বার্থ কারো কাছে বিক্রি করতে রাজি হবে না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পিছপা হবে না।

তিনি বলেন- সাড়ে ১৭ বছর বাংলাদেশের জনগণের জীবনে ছিলো দুঃসহ কালোরাত। টানা ১৭ বছর ৬ মাস এই জাতি বন্দিত্বের নিগরে বন্দি ছিল। মানুষের মুখে ছিল তালা, হাতে ছিল হ্যান্ডকাফ, পায়ে ছিল বেরি। এ দেশের ১৮ কোটি মানুষ ছিল মজলুম এবং রাস্তায় যে ভাইটি ভিক্ষা করতেন তিনিও মজলুম। কারণ ওই সমস্ত ভিক্ষুকদেরকে চাঁদা দিতে হতো গুন্ডাদের কাছে। চাঁদা না দিলে তারা ভিক্ষা করতে পারতেন না। ৩০ টাকার পেঁয়াজ ৩০০ টাকায় কিনতে হতো। এভাবে প্রত্যেকটি মানুষ ছিল জুলুমের শিকার।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহত ও নিহত পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

আপনার বলবেন, এই সাড়ে ১৭ বছর কীভাবে মিলে। আওয়ামী লীগ তো সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল। আসলে তারা সাড়ে ১৭ বছর ছিল। তারা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারাদেশে লোগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে শ’খানেক মানুষকে তারা হত্যা করেছিল। ফ্যাসিবাদের সূত্রপাত তখনি হয়েছিল।

স্বৈরাচারের পদধ্বনি তখন থেকেই এসেছিল। তারপরে আপনারা দেখেছেন ২০০৯ সালের ১০ জানুয়ারি ক্ষমতায় আসার পরে তারা রাষ্ট্রের গর্বিত প্রতিষ্ঠান সেনাবাহিনীকে আঘাত দিয়েছিল।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পিলখানার সদর দপ্তরে ৫৪ জন চৌকস দেশপ্রেমিক সামরিক অফিসারকে হত্যা করেছে। পরিবারের মহিলা সদস্যদের নির্যাতন, লাঞ্ছিত করেছে। তারপর তাদের হত্যা করে ড্রেনে ভাসিয়ে দিয়েছে। সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার আজও হয়নি। অথচ সে সময়ে সেনাবাহিনীর কোমর ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, সেনাবাহিনীদের দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে আরেকটি গর্ভের বাহিনী সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরি বিডিআরকে ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের ১৫ হাজার সদস্যের চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ৫০০ মানুষ তারা নিহত হয়েছে। কুচক্রকারীদের কারণে চক্রান্তে এসব মানুষদের বলি দিতে হয়েছে।

শেখ হাসিনার আমলের নির্যাতনের ভয়াবহতা বর্ণনা তুলে ধরে তিনি বলেন- তাদের আমলে ঘরে ঘরে হাহাকার, আমি অনেক যুবককে জেলে দেখেছি, বিয়ে করে ছয় মাসের মাথায় গ্রেপ্তার হতে হয়েছে। তার স্ত্রী ১, ২ ও ৩ বছর অপেক্ষা করেছে। জেলের ভেতর থেকে বলে দিয়েছে তুমি আর আমার জন্য অপেক্ষা করো না। তুমি মুক্ত, তুমি চলে যাও, তোমার একটা জীবন আছে। আমি কোন দিন মুক্তি পাব জানি না। ঘরে ঘরে হাহাকার। এরপরই তারা আঘাতটা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওপর। দেশপ্রমিক এই পরীক্ষিত শক্তির ওপর। এ দেশের শত্রুরা জানে- জামায়াতে ইসলামী ভাঙবে, কিন্তু মচকাবে না।

মতবিনিময় সভায় টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, টাঙ্গাইল শহর শাখার সভাপতি মামুন আব্দুল্লাহ প্রমুখ।

এসময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জেলার সমন্বয়ক, নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলার জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা দলে দলে মিছিল নিয়ে সভাস্থল টাঙ্গাইলের পৌর উদ্যানে সমবেত হন। পরে বিকালে সভাপতির বক্তব্য প্রদানের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৭. সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০২:৩৮:এএম ২ বছর আগে
আগামী ৩ দিন বৃষ্টি নিয়ে দুঃসংবাদ দিলো আবহাওয়া অফিস - Ekotar Kantho

আগামী ৩ দিন বৃষ্টি নিয়ে দুঃসংবাদ দিলো আবহাওয়া অফিস

একতার কন্ঠঃ কয়েক দিন ধরে চলা টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত টাঙ্গাইলের জনজীবন। তবে রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বৃষ্টি গত কয়েক দিনকে ছাড়িয়ে গেছে। এদিন সকাল থেকে চলা অবিরাম বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পরেছে জেলার শ্রমজীবী মানুষেরা। অফিসগামী সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃষ্টির এই ভোগান্তি কবে শেষ হবে, তার দিন গুণছে মানুষ।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি স্থল গভীর নিম্নচাপ হয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশজুড়ে চলমান বৃষ্টি আগামী তিন দিনও অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, স্থল গভীর নিম্নচাপটি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গভীর স্থল নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। সেই সঙ্গে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে এই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে এই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেতে পারে।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এই সময়েও দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেতে পারে।

বর্ধিত ৫ দিনে আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০২:৪৬:এএম ২ বছর আগে
স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা নিহতের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ সমাবেশ - Ekotar Kantho

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা নিহতের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ সমাবেশ

একতার কণ্ঠঃ গোপালগঞ্জে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এসএম জিলানীর গাড়ি বহরে হামলা ও কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী দিদারকে হত্যার ঘটনায় টাঙ্গাইলে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তারিকুল ইসলাম ঝলক ও সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ সাফী ইথেনের নেতৃত্বে টাঙ্গাইল পৌর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

প্রতিবাদ মিছিলে বক্তব্য রাখেন- জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক তোফাজ্জল হোসেন জুয়েল, রুবেল মিয়া, জাহিদুর রহমান জাহিদ, রাশেদুল ইসলাম রিমন, সুমন খান, থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের জুয়েল, তানভীর হাসান খান রুবেল, মাসুদ রানা, তুষার, শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের মামুন খান, সজীব প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন- গোপালগঞ্জে নিজ বাড়িতে বাবার কবর জিয়ারত করতে যাওয়ার পথে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের হামলায় জিলানী ভাইসহ প্রায় ৬০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী দিদারকে হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০২:১৪:এএম ২ বছর আগে
পরাজিত শক্তি পেছন দরজা দিয়ে আমাদের পিঠে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করছে: মামুনুল হক - Ekotar Kantho

পরাজিত শক্তি পেছন দরজা দিয়ে আমাদের পিঠে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করছে: মামুনুল হক

একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, দেশের হাজার বছরের ইতিহাসকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সংবিধান তৈরি হওয়া উচিত। দ্বিতীয় স্বাধীনতার পর আজও আবার সেই পরাজিত শক্তি পেছন দরজা দিয়ে আমাদের পিঠে ছুরিকাঘাত করার চেষ্টা করছে।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস টাঙ্গাইল জেলা শাখার আয়োজনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সকল শহীদ ও আহতদের স্মরণে দোয়া এবং নৈরাজ্যবাদ বিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ রাতের অন্ধকারে সংখ্যালঘুদের ওপর কালনাগিনী হয়ে ছোবল মারতো। দিনের বেলায় তারাই আবার ওঝা হয়ে ঝারতে আসতো। এই নাটক করেছে আওয়ামী লীগ। এই নাটকের কলা-কুশিলবরা এখন বাংলাদেশের দৃশ্য নাই। এর জন্য এখন নাটকও নাই। এখন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা ভালো আছেন। তাদের মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় আর হামলা হয় না। হিন্দুধর্মাবলীদের কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি-ঘরে কেউ হামলা চালায় না। কারণ আক্রমণকারী আওয়ামী লীগাররা এখন পালিয়ে আছে।

তিনি বলেন, ওরা যদি আবার ঢুকতে পারে শুরু করবে সংখ্যালঘুদের দিয়ে। সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘর জ্বালাবে, হিন্দুদের মূর্তি ভাঙবে এগুলো করে সাম্প্রদায়িক কামিল হটাবার চেষ্টা করবে। তাই সবাইকে সোচ্চার থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ এই মুনাফিক শক্তিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর পূর্ণবাসিত হতে দেওয়া যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে নজির বাংলাদেশে চলছে এটাকে অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের ৯০ ভাগ মুসলিমদের চেতনা, তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে যদি সম্মান জানাতে না পারেন এদেশে কোন দিনও সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অবস্থান ভাল রাখা যাবে না। সম্প্রীতির সকল জায়গাগুলোতে সম্মিলিতভাবে আমরা সংরক্ষণ করব। আগামীর বাংলাদেশ হবে সম্প্রীতির বাংলাদেশ, ইনসাফের বাংলাদেশ, বৈষম্যহীন এক বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই বিজয় অর্জন করা যতটা কঠিন, বিজয়কে রক্ষা করা তার চেয়েও বেশি কঠিন। আমরা যদি সাময়িক বিষয়ের তৃপ্তিতে, আমরা যদি তৃপ্তির ঢেকর তুলি, এই বিজয় যে কোন সময় ছিনতাই হয়ে যেতে পারে। যে কোন মুহূর্তে এই বিজয় আমাদের হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে। পরাজিত শক্তি বসে নেই। কথিত স্বৈরাচার এখনো বাংলাদেশের মানুষের বুকের উপর ছোবল মারার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছে।

মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক বলেন, শেখ হাসিনার রাজনীতি ছিল বিভাজনের রাজনীতি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার বিভাজনের রাজনীতি পরাজিত হয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঐক্য ছিল বাংলাদেশের আগস্ট বিপ্লবের শক্তি এই ঐক্যের মাধ্যমে এদেশের মানুষ ফ্যাসিবাদকে পরাজিতা করতে সক্ষম হয়েছে। আপনারা পৃথিবীর ইতিহাসে নিকৃষ্টতম স্বৈরাচারীর যাতাকল থেকে মুক্ত করেছেন। আমাদের সংগ্রাম আরও বাকি রয়েছে। ফ্যাসিবাদের অবশিষ্ট শক্তিকে বাংলাদেশ থেকে উৎখাত না করা পর্যন্ত এদেশে কেউ নিরাপদ নয়। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই ঐক্য আমাদের ধরে রাখতে হবে। ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে বিএনপি-জামায়াত -হেফাজত ইসলাম আমরা কেউ এ দেশে নিরাপদে থাকতে পারবো না। শেখ হাসিনা শুধু একা নয়, তার পিছনে লুকিয়ে আছে ওই শক্তি যারা বাংলাদেশকে স্বাধীন ভাবে দেখতে চায় না।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তের অপর প্রান্ত থেকে আপা আপা সংবাদ পাঠান, চট করে ঢুকে পড়ার পাঁয়তারার ধান্দা করতেছেন। আপা যেখানে আছেন ভালো আছেন। ওখানে থাকেন আমরা ধরে আনব সময় মতো। এর আগে ঢোকবার চেষ্টা করবেন না এদেশের মানুষের কবলে পড়লে কত ধানে কত চাল হিসাবটা বুঝতে পাবেন।

শেখ হাসিনার সর্ম্পকে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার রাজনীতি ছিলো প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এতো মানুষ মরে নাই। ৭১’ থেকে ৭৫’ এর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এসব মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। যে মানুষের জন্য তার মায়া নেই। এই দেশটাকে তিনি স্বাধীন রাখতে চায়নি। চোখে কোন অশ্রু নাই। সব চোখের অশ্রু শুধু ১৫ আগস্টের জন্য। এই বৈষম্য ভালো না।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) গোপালগঞ্জে যে ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার প্রকৃত দোষীদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে পূর্ণবাসন করবার জন্য যারা যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সমাবেশে টাঙ্গাইল জেলা ক্বওমী ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য মুফতি আশরাফুজ্জামান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ এনামুল হাসানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০১:০৮:এএম ২ বছর আগে
পুলিশ বাহিনীকে সতর্ক করলেন সমন্বয়ক সারজিস - Ekotar Kantho

পুলিশ বাহিনীকে সতর্ক করলেন সমন্বয়ক সারজিস

একতার কণ্ঠঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, পুলিশ বাহিনীকে বলে দিতে চাই, আপনারা হুঁশিয়ার হয়ে যান, যদি মনে করেন যে কিছু হবেনা তাহলে ধারণা ভুল। শেখ হাসিনার মতো আপনাদেরকেও দেশ ছাড়া করবো যদি শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হয়ে থাকেন। আর যারা দিবাস্বপ্ন দেখছেন এবং ভাবছেন এক ফ্যাসিস্টকে দেশ ছাড়া করেছি এখন আরেক ফ্যাসিস্টকে ক্ষমতায় বসাবো, তারা ভুল করছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে গণঅভ্যুত্থান প্রেরণায় শহীদ পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ছাত্র-নাগরিক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম এসময় আরও বলেন, আপনারা যোগ্য হয়ে রাজনীতিতে আসবেন। যাতে করে কেউ আপনাকে কটু কথা না বলতে পারে। রাজনীতিতে এমন লোক আসবে যারা সঠিক কথা বলবে। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করবে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে।

তরুণ সমাজকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই ছাত্রনেতা বলেন, শিক্ষার্থীদের অসংখ্য কাজ থাকতে পারে কিন্তু আমাদের প্রধান কাজ পড়াশোনা করে নিজেকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ হিসেবে তৈরি করা। যখন ক্লাস চলবে তখন ক্লাসে যাবেন, আবার খেলার সময় খেলার মাঠে থাকবেন। আপনারা কারও লাঠিয়াল বাহিনী হবেন না।

তিনি আরও বলেন, আপনারা নিজের মেধা, শিক্ষা, দক্ষতায় স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন, কোনো ‘ভাইয়ের’ ওপর ভর করে নয়। এই ছাত্র-জনতার হাতে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ দেখতে চাই। যারা আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তারা আজ থেকে ২০ বছর পরে একেকজন সংসদের এমপি, মন্ত্রী হবেন, এমনকি প্রধানমন্ত্রীও হবেন।

এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম আইনি, মোবাশ্বিরুজ্জামান হাসান, মিতু আক্তার, আব্দুল্লাহ সালেহীন অয়ন, এলমা খন্দকার এ্যানী, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক রাকিবুল হাসান প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০১:৪৪:এএম ২ বছর আগে
তোপের মুখে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের পদত্যাগ - Ekotar Kantho

তোপের মুখে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের পদত্যাগ

একতার কণ্ঠঃ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম পদত্যাগ করেছেন।

মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর বরাবর পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন তিনি।

পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১ আগস্ট ২০২১ তারিখে এই পদে আমাকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছিল। বর্তমানে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে আমি মাভাবিপ্রবির ট্রেজারার পদ থেকে আজ পদত্যাগ করলাম।

এর আগে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) ট্রেজারার মো. সিরাজুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

এ সময় তার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠজন, প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেরে আওয়ামী সরকারের পতনের রাতেই শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পদত্যাগ করেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন। এরপর একে একে পদত্যাগ করেন প্রক্টর, পরিবহন পরিচালক, গ্রন্থাগার পরিচালক, হল প্রভোস্টসহ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা অনেকেই।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০২:২৭:এএম ২ বছর আগে
শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ইউএনওকে প্রত্যাহার - Ekotar Kantho

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ইউএনওকে প্রত্যাহার

একতার কণ্ঠঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে টাঙ্গাইলে নিহত স্কুল ছাত্র মারুফ হাসানের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে ছাত্র হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত এক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান বিন মোহাম্মদ আলীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদ পরিবার ও আহতদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও করটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা খালেকুজ্জামান চৌধুরী মজনুর বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়।

পরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কায়সারুল ইসলাম উপস্থিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু উপস্থিত শিক্ষার্থীরা মজনু চৌধুরীর গ্রেপ্তারের দাবি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ইউপি চেয়ারম্যানকে শহীদ মারুফের মা মোর্শেদা বেগমের উপস্থিতিতে বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রত্যাহার দাবি করে স্লোগান দিতে শুরু করে। এক পর্যায়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের জেলা প্রশাসক তার কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

এসময় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কাতুলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইকবাল হোসেন, পোড়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহাদাত হোসেন, মগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোতালিব হোসেন, সিলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সুজায়েদ হোসেন দ্রুত অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে উপজেলা পরিষদে গিয়ে আশ্রয় নেন।

পরে দুপুরে ছাত্র-ছাত্রীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে না গিয়ে কার্যালয়ের সামনে বসে পরে বিক্ষোভ করতে থাকে। সেখানে জেলা প্রশাসক উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের জানান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান বিন মোহাম্মদ আলীকে টাঙ্গাইল থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নেবে। কিন্তু উপস্থিত ছাত্ররা হাসান বিন মোহাম্মদ আলীকে সেখানে উপস্থিত হয়ে শহীদ মারুফের মা মোর্শেদা বেগমের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

ছাত্র-ছাত্রীদের প্রচন্ড বিক্ষোভের মুখে প্রত্যাহারকৃত ইউএনও সেখানে উপস্থিত হয়ে মারুফের পরিবার ও উপস্থিত সকলের কাছে ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলটি করেননি। তার পরও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ও আহতদের আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনায় তিনি নিঃশর্তভাবে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার জন্য তিনি একক ভাবে দায়ী। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসনের অন্য কেউ এই ঘটনার সাথে যুক্ত নয়। বৈষম্যেবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি ও তাদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।

এসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বেশ কিছুসংখ্যক সদস্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০১:৫০:এএম ২ বছর আগে
বিএনপি’র ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন - Ekotar Kantho

বিএনপি’র ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

একতার কণ্ঠঃ বিএনপি’র অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আজম খানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহর বিএনপি’র ব্যানারে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- টাঙ্গাইল শহর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. ইজাজুল হক সবুজ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, টাঙ্গাইল শহর বিএনপি’র সভাপতি মো. মেহেদী হাসান আলী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গত মঙ্গলবার শহরের আদালত পাড়াস্থ একটি বাসায় কিছু দুষ্কৃতিকারী-চাঁদাবাজ টাঙ্গাইলকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনায় একত্রিত হয়। পরে তাদের চিহ্নিত করতে শহর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখানে যাই। এসময় তারা আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আজম খানকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রচারনা চালানো হয়। আমাদের কেউ উক্ত বাসায় ভাংচুর কিংবা কারো সাথে কোন প্রকার খারাপ আচরণ করেনি। আমাদের নামে এবং ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অভিযোগ মিথ্যা। সেই সাথে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে তা উদ্দেশ্য প্রনোদিত।

সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইল জেলা ও শহর বিএনপি’র বিভিন্ন পযার্য়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০২:৫৬:এএম ২ বছর আগে
পদত্যাগে বাধ্য হলেন টাঙ্গাইল প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ - Ekotar Kantho

পদত্যাগে বাধ্য হলেন টাঙ্গাইল প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের প্রি ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ হওয়া আবু সাঈদের ছবি দেয়ালে আর্ট করায় শিক্ষককে পায়ে ধরে উঠবস করা, অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করাসহ নানা অভিযোগে পদত্যাগে বাধ্য হলেন প্রি ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ শাহানা বেগম।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আন্দোলনকারী শিক্ষক অভিভাবকদের চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন তিনি।

এর আগে গত পরশু স্কুলে একজন নারী অভিভাবক হিজাব পরে স্কুলে এলে তাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন অধ্যক্ষ শাহনাজ বেগম। এ থেকেই শুরু হয় অভিভাবকদের আন্দোলন। ওই দিনই অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। এসময় স্কুলের শিক্ষকের অপমান অপদস্ত ও শহীদ আবু সাইদের ছবি অংকনকারী শিক্ষক মানববন্ধনে অংশ নেয়। এতে করে অধ্যক্ষ শাহানাজ ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকদের চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন।

পরে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসক বরাবর অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করে একটি স্মারকলিপি দেন। জেলা প্রশাসক তদন্ত কমিটি করে সময় নেয়। সকালে অধ্যক্ষ স্কুলে আসায় আবার অভিভাবকরা আন্দোলন শুরু করেন। এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ শাহনাজ বেগম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে তাকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০২:৪২:এএম ২ বছর আগে
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ১৯ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার - Ekotar Kantho

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ১৯ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

একতার কণ্ঠঃ প্রতিহিংসামূলক কার্যকলাপের দায়ে টাঙ্গাইলের সন্তোষে অবস্থিত মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ১৯ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয় এ তথ্য।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বিশেষ ছাত্র সংগঠনের প্রতিহিংসামূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে গত ২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের ২৪৭তম জরুরি সভার অনুমোদনক্রমে ১৯ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। তাদের চলতি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাসহ সকল প্রকার একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও হলে অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সাময়িক বহিষ্কৃত ও ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত শিক্ষার্থীরা হলেন, ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইএসআরএম বিভাগের শিক্ষার্থী মানিক শীল, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির ও শাওন ঘোষ, সুজন মিয়া, নাইম রেজা, খালেকুজ্জামান নোমান, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিক ইকবাল, রায়হান আহমেদ শান্ত ও আনোয়ার হোসেন অন্তর, গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আবিদ হাসান মারুফ, শাখাওয়াত আহমেদ শুভ্র ও আব্দুল্লাহ সরকার উৎস, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান, রিফাত হোসেন, সিপিএস বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ রাজু, ইমরানুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রানা বাপ্পি ও যোবায়ের দৌলা রিয়ন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এআরএম সোলায়মান জানান, এর আগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি পরে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে শৃঙ্খলা বোর্ডের সভায় বিভিন্ন বিভাগের ওই ১৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের সুপারিশ করে।

তিনি আরও জানান, এটি সাময়িক ব্যবস্থা। প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে যথাসময়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০২:০৯:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইল প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন

একতার কণ্ঠঃ ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে টাঙ্গাইল প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষের পদত্যাগ ও বিচার দাবি করেছে শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা। এদিকে অভিবাবকরা মানববন্ধন করতে গেলে স্কুলের অধ্যক্ষের স্বামী তার লোকজন নিয়ে মানববন্ধনে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগও করেছে তারা।

রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের জেলা সদর রোডে অবস্থিত প্রি- ক্যাডেট স্কুলের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়

অভিবাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের হিজাব পরিহিত ছাত্রীদের নানা বাঁধার মুখে পড়তে হচ্ছে। ছাত্রীরা হিজাব পড়ে প্রবেশ করতে চাইলে তাদেরকে গেটে বাঁধা দেওয়া হয়। তাছাড়া স্কুলের কতিপয় শিক্ষক প্রতিনিয়ত ছাত্রীদের হিজাব পড়তে নিষেধ করে আসছে।

সম্প্রতি হিজাব পড়াকে কেন্দ্র করে এক অভিবাবকের সাথে শিক্ষকদের কথাকাটাকাটি হয়। এ বিষয়টি জানাজানির পর অভিবাবকদের মাঝে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদে তারা স্কুলের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে তারা প্রেসক্লাবের সামনে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করতে গেলে অধ্যক্ষের স্বামী হারুন অর রশীদ তার লোকজন নিয়ে বাঁধা দেয়। এ সময় তারা ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর অভিবাবকরা অধ্যক্ষের কার্যালয় ঘেরাও করে রাখে।

শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা অভিযোগ করে বলেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি চলে আসছে। ছোট খাটো বিষয় নিয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়ে প্রায়ই অধ্যক্ষের কাছে লাঞ্চিত হন তারা। স্কুলের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে কোন টিফিন টাইম নেই। শিক্ষার্থীরা অনেকটা পালিয়ে পালিয়ে টিফিন করে থাকে। এছাড়া কোচিং বানিজ্য, সকল বই খাতা-কলমসহ শিক্ষা সরঞ্জাম স্কুল থেকে অনেক বেশি দামে কিনতে বাধ্য করা হয়। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে নানাভাবে হয়রানীর শিকার হতে হয় শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন স্কুলের অধ্যক্ষ শাহানা বেগম। স্কুলে শিক্ষার্থীদের হিজাব পড়া নিষিদ্ধ করা হয়নি বলেও জানান তিনি

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০২:৫৮:এএম ২ বছর আগে
বিএনপি নেতা স্বপন ফকিরের আর্থিক সহায়তা পেল আহত আরও ৯ পরিবার - Ekotar Kantho

বিএনপি নেতা স্বপন ফকিরের আর্থিক সহায়তা পেল আহত আরও ৯ পরিবার

একতার কণ্ঠঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত আরও ৯ পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব ফকির মাহবুব আনাম স্বপন (স্বপন ফকির)।

বিএনপি’র চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে শুক্রবার (৩০ আগস্ট) দিনব্যাপি জেলার দেলদুয়ার, নাগরপুর ও মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আহত পরিবারের হাতে এই আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

আহতদের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন- কেন্দ্রীয় বিএনপি’র শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও মির্জাপুর-৭ আসনের সাবেক এমপি আবুল কালাম সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মির্জাপুর উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট আব্দুর রউফ, সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আরিফ, দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি চাঁন খান, সাধারণ সম্পাদক এস এম ফেরদৌস, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভ, সদস্য সচিব এম এ বাতেন, জেলা ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল হাসান শরীফ ও টাঙ্গাইল জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ববৃন্দ।

এরআগে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করা ধনবাড়ীর ইকরামুল হক সাজিদ, পোশাককর্মী বিপ্লব, ভূঞাপুরের ফিরোজ তালুকদার পলাশ ও গোপালপুরের নলিন গ্রামের কলেজছাত্র ইমনসহ জেলার মধুপুর, টাঙ্গাইল সদর, মির্জাপুর, দেলদুয়ার ও নাগরপুর উপজেলায় আহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত নিহত ও আহত ৩২ পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন মাহবুব আনাম স্বপন (স্বপন ফকির)। এই সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানা গেছে ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১. সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০২:২০:এএম ২ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।