একতার কণ্ঠঃ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান টাঙ্গাইলের সাবেক ছাত্রনেতা মুরাদ সিদ্দিকী। এ উপলক্ষে তিনি টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
রবিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিসের নির্বাচনী সেল থেকে এ দুটি আসনের মনোনয়নপত্র ক্রয় করে তার প্রতিনিধি দল।
টাঙ্গাইলের আলোচিত সিদ্দিকী পরিবারের সন্তান মুরাদ সিদ্দিকী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম এবং সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর ছোট ভাই। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।
এ অবস্থায় মুরাদ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন- এমন খবরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
জানা যায়, বিগত ১৯৯৯ সালে কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ ছেড়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। মুরাদ সিদ্দিকী তখন তার ভাই কাদের সিদ্দিকীর সাথে দলে যোগ দেন। বিগত ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। এরপর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের রাজনীতি থেকে সরে আসেন। বিগত ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে পরাজিত হন।
মূলত ২০০৯ সাল থেকে মুরাদ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিগত ২০১৫ সালে মুরাদ সিদ্দিকীর অনুসারী টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান মিরনসহ অনেকেই আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তাঁরা পরবর্তী সময়ে জেলা আওয়ামী লীগে পদ-পদবিও পান। কিন্তু মুরাদ সিদ্দিকী যোগ দিতে ব্যর্থ হন। দলে ঢুকতে না পারলেও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং দলীয় কার্যালয়ে মুরাদ সিদ্দিকী নিয়মিত যাতায়াত করেন। বিগত ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রায় দশ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
এ ব্যাপারে মুরাদ সিদ্দিকী বলেন, আমার রক্তে আওয়ামী লীগ, আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শের সৈনিক। আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন ক্ষুদ্র কর্মী। রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণে। এবার দুটি আসনে দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছি। সদর আসনে রয়েছে আমার নিজস্ব ভোট ব্যাংক ও কালিহাতী আমার পৈত্রিক নিবাস। সাধারণ মানুষ আমাকে ভালোবেসে এমপি হিসেবে দেখতে চায়। দল আমাকে যে কোন আসন থেকে নৌকা দিলে দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে আসনটি উপহার দিব। দল যদি আমাকে যে দায়িত্ব দিবে সেটা নিষ্ঠার সাথে শতভাগ পালন করবো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলার বাদী কলেজছাত্রী আফরোজ মির্জা এশা’র ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত সৌরভ পাল টাঙ্গাইল পৌরসভার থানাপাড়া এলাকার শ্যামল পালের ছেলে। শনিবার (১৮ নভেম্বর) রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সৌরভের সঙ্গে নিহত বাদী এশার বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে।
রবিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি)আব্দুস ছালাম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার রাতেই নিহত কলেজছাত্রী এশা মির্জার বড় বোন লুনা মির্জা বাদী হয়ে সৌরভকে প্রধান ও তার আপন বড় ভাই জনি মির্জার নামে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, শনিবার রাতে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ এনে এশা মির্জার বোন লুনা মির্জার আপন ভাই জনি মির্জা ও সৌরভ নামের একজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। রবিবার ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। গ্রেপ্তারকৃত সৌরভ পালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় নিহত এশা মির্জা বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় এশা ধর্ষণের কারণে অন্তঃসত্তা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। পরে ৬ এপ্রিল দুপুরে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয় ওই কিশোরী।
এশার দায়ের করা ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বর্তমানে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেনে আগুনের ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আমিনুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ও নাজমুল ইসলাম। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ বলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) ভোর রাতে টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কমিউটার ট্রেনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে ট্রেনের তিনটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় টাঙ্গাইল রেলস্টেশন সহকারী মাস্টার তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে মামলা দায়ের করেন।
একতার কণ্ঠঃ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, আমরা আমেরিকায় বাস করি না বাংলাদেশে বাস করি। আমেরিকা স্যাংশন দিবে এই ভয়ে আমরা বিয়ে করবো না বউ তালাক দিবো, মেয়ের বিয়ে হবে না ছেলের বিয়ে করাবো এটা চিন্তা ভাবনা করা উচিত না। এটা জাতীয় পার্টির জিএম কাদের জীবনের একটি শ্রেষ্ঠ ভুল কথা বলেছেন। এটাও বলবো আমেরিকার রাষ্ট্রদূতের বাংলাদেশে এত দৌঁড়াদৌড়ি ভালো না। এটা তার দেশের ইলেকশন না, ইলেকশন আমাদের দেশের।
শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) সকালে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৭তম ওফাত দিবস উপলক্ষে তার মাজারে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
তফসিল নিয়ে বঙ্গবীর বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা হয়েছে এটা নিয়ে অনেকে খুশি না। আমি নিজেও খুশি না। কিন্তু তার পরেও বলবো একটি গণতান্ত্রিক দেশে পাঁচ বছর পরপর অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ প্রভাব মুক্ত নির্বাচন হওয়া দরকার, বঙ্গবন্ধু নিজে বলেছে সকল প্রকার প্রভাব মুক্ত নির্বাচন করতে হবে। আমি বলবো এখন সরকার নাই, এখন সরকার নির্বাচন কমিশন। ইচ্ছে স্বাধীন যেনো কোন কিছু না করা হয়। গতবারের মতো ভোটারবিহীন ভোট হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ও সব থেকে বেশি ক্ষতি হবে বাংলাদেশের আর তার থেকে বেশি ক্ষতি হবে আমার বোন শেখ হাসিনার।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মনোনয়ন দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ রাখায় তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।
তিনি এ বিষয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত এই ভাসানীর মাজার সকলের জন্য উম্মুক্ত রাখা। সকলেই যেনো ভাসানী হুজুরের মাজার জিয়ারত করতে পারে।
এসময় কাদের সিদ্দিকীর সাথে উপস্থিত ছিলেন সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীব, ভাসানীর নাতি হাসরত খান ভাসানীসহ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
একতার কণ্ঠঃ:টাঙ্গাইলে ঘারিন্দা রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নাশকতার জন্য ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল ঘারিন্দা স্টেশনে গিয়ে আগুন লাগা টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেন পরিদর্শন করেছে পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে রাত ৩টার দিকে দাঁড়িয়ে থাকার ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতিকারীরা। যদিও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
ঘারিন্দা স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী একটি ট্রেন স্টেশনে থাকায় কমিউটার ট্রেনটি দেখা যাচ্ছিল না। পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন স্টেশন ত্যাগ করার পরেই আগুনের ধোয়া দেখতে পায় স্টেশনে থাকা রেল কর্তৃপক্ষ। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার পর প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
টাঙ্গাইল রেলস্টেশনের বুকিং মাস্টার সেলিম জানান, বুধবার সকাল সাতটা থেকে টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেনটি। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে দুর্বৃত্তরা এতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ট্রেনের দুটি বগি পুরোপুরি ও একটি বগির আংশিক পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইদ্রিস আলী জানান, আগুনের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। এ সময় ট্রেনের দুইটি বগির সিট, ফ্যানসহ পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া একটি বগির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি নাশকতা।
পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপক শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত নাশকতা।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, নাশকতা করার জন্য ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন যাবৎ অবরোধ চলছে। অবরোধে নাশকতা এড়াতে আগে থেকেই আনসার পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় নিয়োজিত ছিল। বুধবার দিবাগত রাতে দুষ্কৃতিকারীরা ট্রেনে আগুন দিয়েছে। এতে দুইটি বগি পুরোপুরি পুড়ে গেছে এবং একটি বগির আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এটি একটি নাশকতা। এই ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মামলা করবে। আমরাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।
একতার কণ্ঠঃ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় স্বাগত মিছিল করেছে টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কর্তৃক তফসিল ঘোষণার পর টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে টাঙ্গাইল শহর ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে স্বাগত মিছিলটি বের হয়।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনায়ায় মেইন রোডে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন এমপি, আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, নাহার আহমেদ, শাহজাহান আনছারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা মঈনুল হোসেন লিন্টু, দপ্তর সম্পাদক খোরশেদ আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ মাহম্মুদ তারেক পুলু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শামীমা আক্তার, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক, জেলা যুবলীগের সভাপতি মাসুদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম তালুকদার বিপ্লব, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসী আক্তার রুনু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা মুক্তি আক্তার প্রমুখ।
এসময় জেলা, উপজেলা, শহর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও তার ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ বিএনপি’র ডাকা অবরোধ চলাকালীন টাঙ্গাইল ঢাকাসহ সারা দেশের সাথে গণপরিবহন চালানোর ঘোষণা দিয়েছে বাস-কোচ মিনিবাস মালিক সমিতি। একইসঙ্গে অবরোধ উপেক্ষা করে সকল প্রকার ট্রাকও চলাচল করবে বলে জানানো হয়।
মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তাসহ সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সোমবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলে নতুন বাস টার্মিনালে মালিক-শ্রমিকদের সাথে পুলিশের মত বিনিময় সভায় এ ঘোষণা করে সমিতির নেতারা।
সভায় অবরোধে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দিয়ে গণপরিবহন এবং ট্রাক চলাচল করবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।
টাঙ্গাইলের বাস-কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. শরফুদ্দীন, বাস-কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড়মনি, বাস-কোচ মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম লাভলু, ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি শরিফ হাজারী এবং ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বালা মিয়া প্রমুখ।
জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, দেশের অর্থনৈতিক চাকা নির্ভর করে পরিবহনের উপর। তাই পরিবহন বেশিদিন বন্ধ থাকলে দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর। সে মোতাবেক অবরোধের মধ্যে সারা দেশের সাথে জেলার গণপরিবহন চলাচল চালু থাকবে। নিদিষ্ট সময়ে এসব গণপরিবহন পুলিশের নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে চলাচল করবে। বিভিন্ন জেলার পুলিশ সদস্যদের সাথে সমন্বয় করে নিরাপত্তা দেয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অবরোধ কর্মসূচি থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৫ নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলার করটিয়া বাইপাস এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তারা হলেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব ও মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি মাহমুদুল হক সানু, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মাহবুবুল আলম শাতিল, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এম এ বাতেন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রুবেল, জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব মোস্তফা কামাল ও বিএনপি নেতা মো. সাদন।
এছাড়া শহর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকন্দকে টাঙ্গাইল পৌর শহরের পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়া এলাকার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবু সালাম মিয়া জানান, গত ২৯ অক্টোবর টাঙ্গাইল সদর থানায় দায়েরকৃত একটি নাশকতার মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আদালতের মাধ্যমে তাদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, শনিবার (৪ নভেম্বর) রাত থেকে এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বিএনপি’র নেতাকর্মী কিনা বিষয়টি তার জানা নেই।
প্রসঙ্গত, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি মাহমুদুল হক সানু গত ২ বারের টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া তিনি মাওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখায় গ্রাহকের সঞ্চয়পত্রের ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে ম্যানেজার শহিদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আত্মসাতের এসব টাকা সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখায় তার ভাই, বন্ধুর শাশুড়ি সহ একাধিক একাউন্টের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও টাঙ্গাইল প্রিন্সিপাল কার্যালয় হতে আলাদা আলাদাভাবে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানাগেছে, শহিদুল ইসলাম ম্যানেজার হিসেবে সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখায় ২০২০ সালে যোগদান করে। এরপর দীর্ঘ ৩ বছর ২ মাস কাজ করেন সেখানে। এই দীর্ঘ সময়ে তথ্য প্রযুক্তিতে মেধাসম্পন্ন শহিদুল ইসলাম কৌশলে ব্যাংকের ১৩০ জনের সঞ্চয়পত্রের টাকা লুজ চেকের (জরুরী উত্তোলনের জন্য একক পাতা) মাধ্যমে অন্য একাউন্টে ৫ কোটি ১১ লাখ টাকা সরিয়েছেন। এছাড়া উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের হত দরিদ্রদের ভাতার ৬ লাখ ৮১ টাকাও গায়েব করা হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম তার বড় ভাই ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া গ্রামের মহির উদ্দিন তালুকদারের এগ্রো ফার্ম ও কালিহাতি উপজেলার আদাবাড়ি গ্রামের খালেদা বেগম নামে পলাশ এগ্রো ফার্মেও একাউন্টসহ তার বন্ধু বান্ধবদের একাউন্টের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করেন।
খালেদা বেগমের মেয়ের জামাই পটুয়াখালী জেলায় দুদকের উপ-পরিচালক মামুন চৌধুরীর সাথে শহিদুল ইসলামের বন্ধুত্বের কারণে ওই হিসাব নম্বর ব্যবহার করে টাকা সরানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় সোনালী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে গোবিন্দাসী শাখা হতে ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন শহিদুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী গ্রাহক উপজেলার কয়েরা গ্রামের মর্জিনা জানান, মেয়েদের বিয়ে দেয়ার জন্য জমিজমা বিক্রি ও অন্যান্য মিলিয়ে ২১ লাখ টাকা ব্যাংকে সঞ্চয়পত্রে রেখেছিলাম। কিন্তু পরে লভ্যাংশ তুলতে গিয়ে দেখি সঞ্চয়পত্রে টাকাই জমা হয়নি। ব্যাংক ম্যানেজার কৌশলে অনেক গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছে।
রুহুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শেফালী বেগম জানান, রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তাহলে কি করবো আমরা। কয়েক মাস লাভের টাকা তুলেছিলাম। ম্যানেজার শহিদুলকে বদলি করার পর ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারি আমার সঞ্চয়পত্রই খোলা হয়নি। প্রতিকার চেয়ে ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিয়েছি।
তালুকদার এগ্রো ফার্মেও স্বত্বাধিকারী মহির উদ্দিন বলেন, ব্যাংকে একাউন্ট করার পর ৭ লাখ টাকা ঋণ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই ঋণের টাকাসহ জমি বন্ধক রেখে ভাইকে (শহিদুল) আরও দুই লাখ টাকা দিয়েছি। একাউন্টে কয় টাকা আছে বা নেই আমি কিছুই জানিনা। চেকের পাতাগুলোতে স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছিল সে।
পলাশ এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী খালেদা বেগম বলেন, একাউন্টের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কত টাকা আছে বা নাই। মেয়ের জামাই মামুন চৌধুরীই একাউন্টে লেনদেন করতো তার লোকজন দিয়ে। ব্যাংক ম্যানেজার শহিদুল তার বন্ধু ছিল। তাই গোবিন্দাসী শাখায় একাউন্ট খোলা হয়েছিল। ঝামেলার কারণে দেড় মাস আগে একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছি।
পটুয়াখালী জেলার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মামুন চৌধুরী বলেন, শহিদুলের সাথে ঢাকায় পড়াশুনার সুযোগে পরিচয় হয় তাঁর। পরিচিত হওয়ায় তার ব্যাংকে একাউন্ট খোলা হয়েছে শাশুড়ির নামে।
বিভিন্ন সময় ব্যাংকে লেনদেন করা হয়েছে। শাশুড়ির একাউন্টেতো নগদ টাকা জমা দেয়া হয়েছে কিন্তু সেখানে যদি ম্যানেজার অন্য একাউন্ট থেকে টাকা তার একাউন্টে জমা দিয়ে উত্তোলন করে তাহলে কিছু করার নেই।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বলেন, ম্যানেজারের আইডি হ্যাক করে ব্যাংকের লোকজন টাকাগুলো আত্মসাৎ করে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমাকে বদলি করার পর আমার আইডি ব্যবহার করে টাকা সরানো হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের কাগজপত্রগুলো ব্যাংকের পিয়ন লাভলুর বাড়িতে পোড়ানো হয়েছে। এছাড়া এখনও গ্রাহকদের সঞ্চয়পত্রের টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখার ম্যানেজার ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, যেহেতু তদন্ত হচ্ছে সেহেতু এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করা যাবে না। প্রতিদিনই ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ব্যাংকে ভিড় করছেন টাকা ফেরতের জন্য।
সোনালী ব্যাংক প্রিন্সিপাল অফিস ঘাটাইলের ডিজিএম আব্দুল্লাহ ফয়সাল বলেন, গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম দোষ স্বীকার করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রধান কার্যালয় তদন্ত করছে। অন্যদিকে দুদকে একটি মামলা হয়েছে। গ্রাহকদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা টাকা ফেরত পাবে।
একতার কণ্ঠঃ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হলে বোনের (প্রধানমন্ত্রী) কাছে সুপারিশ করার আশ্বাস দিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম)।
শনিবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে পাইলট গভর্নমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এমন কথা বলেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘ইংল্যান্ডে অবস্থান করছেন আমাদের তারেক রহমান। আমি সেদিনও বলেছি—আরে বাবা, তোমার মা বৃদ্ধ, যেকোনো সময় মারা যেতে পারেন। দেশে এসে তাঁকে সেবা করো। তোমাকে যদি গ্রেপ্তার করে, তাহলে বোনকে (প্রধানমন্ত্রী) আমি সুপারিশ করব, তাঁর মাকে সেবা করার জন্য যেতে দেন। সাহস আছে?’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (তারেক) ইংল্যান্ডে বসে বসে ষড়যন্ত্র করছেন। বাঙালি ষড়যন্ত্র হজম করতে জানে। ইনশাআল্লাহ আমরা এই ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করব।’
বিএনপি’র উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে বীর উত্তম কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘বিএনপিতে কি মুসলমান নেই? ইসরায়েল ফিলিস্তিনের মুসলমান শিশু মারছে, বৃদ্ধ মারছে আর আমেরিকা বলছে—তারা যতক্ষণ পর্যন্ত গাজা উড়িয়ে দিতে না পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েলের পক্ষে থাকবে। সেই পক্ষে বিএনপি?’
কাদের সিদ্দিকী আবারও প্রশ্ন করেন, ‘বিএনপিতে কি দুই-একজনও মুসলমান নেই? আমি তো মনে করি মুসলমান নেই।’
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা ৩০০ আসনে নির্বাচন করব। বোনকে (প্রধানমন্ত্রী) বলি—জনগণ যাতে ভোট দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করেন। নির্বাচনে বিএনপি আসলো কি আসলো না, এটা আমাদের দরকার নাই। আমেরিকার ভোট আমাদের দরকার নাই।’
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘সেদিন দেখলাম নির্বাচন কমিশন চিঠি দিয়েছে, আপনারা দুজনে আমাদের সঙ্গে দেখা করেন।’ এ সময় ধমকের সুরে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশনার, রাজনৈতিক দল কি আপনার কাছে চাকরবাকর? রাজনৈতিক দল হচ্ছে আপনার কাছে মুনিব। দেশে সঠিক রাজনৈতিক দল না থাকলে, আপনার নির্বাচন কমিশন থাকবে না। যখন ইচ্ছা হলো ডেকে পাঠাবেন? তারা কি আপনার বেতনভোগী কর্মচারী? ডাকলে সম্মানের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডাকতে হবে।’
সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকীর বড় ভাই সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিরোধী দলের যারা আজকে ফুসফুস করছে, তারা কারা, কী তাদের পরিচয়, আমরা কি ভুলে গেছি? আমেরিকা ছাড়া তাদের গন্তব্য নেই। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েল ইতিমধ্যে প্রায় ১০ হাজার শিশু-নারী হত্যা করেছে, আর বাইডেন বলছে—হামাসকে যতক্ষণ নির্মূল করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি হবে না। সেই আমেরিকার প্রতি যাদের আনুগত্য, তারা কারা?’
লতিফ সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘তাদের বাপ-দাদারাও ওই আমেরিকার প্রতিই অনুগত ছিল। একাত্তরেও তারা আমাদের কাছে পরাজিত হয়েছে, আজও তারা পরাজিত হবে, তাতে কোনো সন্দেহ করি না।’
সম্মেলনে উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আব্দুস সবুর খানের সভাপতিত্বে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কায়সার চৌধুরী, বেগম নাসরিন কাদের সিদ্দিকী, দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা (বীর প্রতীক), সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, কাদের সিদ্দিকীর সহোদর শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী, সংগীতশিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাস, সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীব, যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুন্নবী সোহেল প্রমুখ বক্তব্য দেন।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, আজকে দেশে একটি রাজনৈতিক দল উন্মাদনা এবং আগুন সন্ত্রাস করছে৷ নির্বাচন করতে দিবে না, সংবিধান অনুযায়ী দেশ চলবে না৷ আমি মনে করি, তারা দেশের মঙ্গল ও কল্যাণ চায় না৷ তারা বিগত সময়ে যেভাবে আগুন দিয়েছিল তা বর্বরোচিত। আমরা দেখেছি ১৪ থেকে ১৫ সালে তারা গাড়ি পুড়িয়েছে, রেল লাইন তুলেছে, বিদ্যুতের লাইন কেটেছে এবং জীবন্ত মানুষকে গাড়িতে পুড়িয়েছে৷ ২৮ আগস্ট একই কায়দায় বর্বরোচিতভাবে পুলিশকে হত্যা করেছে৷
শুক্রবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মুসুদ্দি উত্তর পাড়া গ্রামে খামারি মোবাইল অ্যাপের কার্যকারিতা যাচাই ও উচ্চ ফলনশীল আমন ধানের ফসল কর্তন ও কৃষক সমাবেশে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন৷
তিনি আরও বলেনে, আমরা যদি দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে চাই, তাহলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার৷ দেশে শান্তি দরকার এবং সুন্দর ও সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দরকার। সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সরকার জাতির কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বিএনপি আগুন সন্ত্রাস সহিংসতা পথ ছেড়ে, তারা আবার নির্বাচনে আসবে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে ধরপাকড় করা হচ্ছে না। তাদের কর্মীদেরকে প্ররোচিত করা হচ্ছে আগুন সন্ত্রাস করার জন্য। সেটি কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব মানুষের জানমাল নিরাপত্তা দেওয়া। তাদের গাড়িগুলোর নিরাপত্তা দেওয়া। দোকানপাট খুলে ব্যবসা বাণিজ্যকে অব্যহত রাখা। দোকান বন্ধ থাকলে কর্মচারীরা না খেয়ে মারা যাবে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে । শান্তিপ্রিয় কোন বিএনপি নেতা-কমীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ঘনবসতির দেশ। জমি কমে যাচ্ছে। ৭ কোটির মানুষ এখন ১৭ থেকে ১৮ কোটি৷ এই মানুষকে খাওয়াতে হলে আরও উন্নত জাতের ফলনশীল উৎপাদন করতে হবে৷ সে লক্ষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুটি কাজ করছেন৷
কৃষি মন্ত্রালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সাজ্জাদ, কৃষি মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব রহুল আমিন তালুকদার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাসুদ করিম, বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জালাল উদ্দীন, বাংলাদেশের পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক আবদুল আউয়াল প্রমুখ৷
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গত কয়েক দিন ধরে বেড়েই চলেছে আলু, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম। বাড়তি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। জেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে বাজার মনিটরিং কমিটি থাকলেও তাদের কোন দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই। বাজারে নেই জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা শাখার তৎপরতা।
তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, সর্বশেষ বৃষ্টিতে সবজি খেত নষ্ট এবং হরতাল-অবরোধের কারণে আমদানি কমে যাওয়ায় আলু, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ীরা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি কিনে আনেন। সেখানে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানেও পাইকারি ও খুচরা বাজারে সবজির দাম বেশি। দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ীদের কোনো হাত নেই।
ব্যবসায়ীরা জানান, টাঙ্গাইলের প্রধান পাইকারি কাঁচা বাজার পার্কবাজারে প্রতিদিন মধ্যে রাত থেকে পাইকারি দরে আলু-পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজি বিক্রি করা হয়। শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং কালিয়াকৈর, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পাইকারি দরে আলু-পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি কিনে নিয়ে যান। এই বাজারে খুচরা মূল্যে বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর দিনাজপুরসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আলু-পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। কেনার দামে নির্ভর করে বিক্রির দাম নির্ধারণ করেন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা। পণ্যে গুলোর দাম বাড়ায় বিক্রি কমে গেছে বলেও জানালেন তারা।

পাইকারি ব্যবসায়ী আলী আকবর ও হাফিজ মিয়া বলেন, বর্তমানে টাঙ্গাইলের বাজারে নিজস্ব কোনো আলু নেই। সব আলু উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আমদানি করতে হয়। পাইকারি দরে প্রতি কেজি আলু ৬৫ টাকা ও পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদের যেমন কেনা, তেমন বিক্রি করছি। আমাদের কেউ দাম বাড়ায় না।
খুচরা বিক্রেতা নাজমুল মিয়া বলেন, আলু ৭৫ টাকা, পেঁয়াজ ১৩৫ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, ফুল কপি ৫০ টাকা, শসা দেশী ৮০ টাকা, কচুর মুখি ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।
বুধবার (১ নভেম্বর) সকালে পার্ক বাজারে কথা হয় অটোরিক্সা চালক মজিবুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, আধা কেজি পেঁয়াজ ৭০ টাকা ও আধা কেজি আলু ৪০ টাকা দিয়ে কিনলাম । নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়ানোর জোর দাবি করছি।

বাজারে সবজি কিনতে আসা সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, আমরা বেসরকারি চাকরি করি। সব কিছুর দাম দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। আগে যে বাজার করতে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা লাগতো, এখন সেই বাজার করতে চার হাজার টাকার বেশি লাগে। এই অতিরিক্ত টাকার যোগান দেওয়া আমার জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
পার্কবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর বারেক মিয়া বলেন, এই বাজারে প্রতিদিন প্রায় ১০০টন করে আলু-পেঁয়াজ বিক্রি হয়। এখানে কয়েক জন ব্যবসায়ী ভারত থেকে এলসি করেও পেঁয়াজ আনেন। হরতাল ও অবরোধের প্রভাব পড়েছে এই সব পণ্যের উপর।কয়েক দিন ধরে হরতাল অবরোধের কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ীদের কোনো হাত নেই।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জোবায়ের উজ্জ্বল একতার কণ্ঠকে জানান, গত বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) আমাদের সংগঠনের উদ্যোগে জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক সিকদার শাহিনুর আলম ও জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা খানের সঙ্গে কৃষি পণ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তারা বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।

টাঙ্গাইল জেলা ভোক্ত অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সিকদার শাহিনুর আলম একতার কণ্ঠকে জানান, কৃষি পণ্য আলু ও পিঁয়াজের দাম বৃদ্ধি মনিটরিংয়ের দায়িত্ব কৃষি বিপণন ও সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের । এই অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগন বিষয়টি দেখাশোনা করে থাকেন।
জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা খান একতার কণ্ঠকে জানান, জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে নিয়মিত বাজার মনিটারিং করা হয়। তবে আলু ও পিঁয়াজের ক্ষেত্রে এই কৃষি পণ্য দুটি জেলার মোট চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় উত্তরবঙ্গ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে টাঙ্গাইলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের এই পণ্য দুটির দাম বেশি হয়ে যায়।