একতার কণ্ঠঃ আগামী ৭ জানুয়ারি আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলনে বিএনপি নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করতে লিফলেট বিতরণ করেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি।
শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে মির্জাপুর পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ মিয়ার নেতৃত্বে প্রায় ঘন্টাব্যাপী এই লিফলেট বিতরণ করা হয়।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এস.এম মহসীন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আলী আজম সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক রমজান আলী, উপজেলা যুবদলের তিন যুগ্ম-আহবায়ক ফজলুর রহমান, মো. ফরিদ মিয়া, মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ওয়াজেদ মৃধা, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আরিফুল ইসলাম স্বপন, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি লাভলু সিদ্দিকী, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক ইমরান সিদ্দিকী, সদস্য সচিব সিয়াম আহমেদসহ অনেকেই।
লিফলেট বিতরণের সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র নেতারা উপস্থিত জনগণকে আগামী ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। পাশাপাশি অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন নিশ্চিত করতে বিএনপি’র নেতা-কর্মীসহ সকলকে রাজপথে নেমে আসার আহবান জানান।
বিতরণকৃত লিফলেটে ভোট গ্রহণে নিযুক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বিরত থাকা, জনগণকে সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা, বিদ্যুৎ বিল প্রদানে বিরতসহ সকল প্রকার ব্যাংক লেনদেন যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার কথা লেখা রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। এ ভোটের লড়াইয়ে প্রস্তুত নারী প্রার্থীরাও। তবে নির্ধারিত নারী আসনে নয় বরং পুরুষদের পাশাপাশি প্রতিযোগিতা করেই নির্বাচিত হতে চান টাঙ্গাইলের তিন নারী প্রার্থী, হতে চান সংসদ সদস্য। এ নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তাঁরা।
তাঁরা বিজয়ী হয়ে সন্ত্রাস, মাদক, বৈষম্যমুক্ত সুন্দর সমাজ গড়তে চান। তিনটি আসনে ওই তিন প্রার্থীর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রয়েছেন হেভিওয়েট প্রার্থীসহ ১৯ জন পুরুষ প্রার্থী।
টাঙ্গাইলের আটটি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে তিন নারী প্রার্থী ভোট লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন। তারা হলেন- টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র (ঈগল) প্রতীকের প্রার্থী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) প্রতীকের প্রার্থী রুপা রায় চৌধুরী ও টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে তৃণমূল বিএনপি’র (সোনালী আঁশ) প্রতীকের প্রার্থী পারুল।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের প্রার্থী উপজেলার বেতডোবা গ্রামের সারওয়াত সিরাজ শুক্লা সাবেক মন্ত্রী এবং স্বাধীনতার ইসতেহার পাঠক শাহাজাহান সিরাজের মেয়ে। শুক্লা সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী। তাঁর বাবা শাহাজাহান সিরাজ আওয়ামী লীগ, জাসদ, গণফোরাম, বিএনপি, তিনি যখন যে দল করেছেন তার অনুসারীরা সেই দলেই ঠাই নিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর পরও রয়ে গেছে অনেক ভক্ত। শাজাহান সিরাজের অনুসারীদের সাথে নিয়ে সারওয়াত সিরাজ শুক্লা নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ঈগল প্রতীকের প্রার্থী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, আমার বাবা শাহজাহান সিরাজের পাশে যেভাবে কালিহাতীবাসী দাঁড়িয়েছেন আমার পাশেও সেভাবেই থাকবেন। আমি অবশ্যই কালিহাতীকে মাদক, সন্ত্রাস, বৈষম্যমুক্ত, সুন্দর অনন্য উচ্চতার একটি উপজেলা গড়ার জন্য কাজ করবো। আমি বিজয়ী হলে সবার আগে শিশু ও নারীদের জন্য একটি হাসপাতাল করবো। আমি শতভাগ আশাবাদী ভোট দিয়ে কালিহাতীর জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।
তাঁর বিপরীতে হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী স্বতন্ত্র (ট্রাক) প্রতীকের প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের মনোনীত (নৌকা) প্রতীকের প্রার্থী মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু, জাকের পার্টির (গোলাপ ফুল) প্রতীকের প্রার্থী মোন্তাজ আলী, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রতীকের প্রার্থী লিয়াকত আলী, তৃণমূল বিএনপির (সোনীল আঁশ) প্রতীকের শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (একতারা) প্রতীকের প্রার্থী শুকুর মামুদ ও জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) প্রতীকের প্রার্থী সাদেক সিদ্দিকী ভোট যুদ্ধে রয়েছেন।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৫৫৬ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৯২, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬২, তৃতীয় লিঙ্গ ২ জন।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন রুপা রায় চৌধুরী। তিনি একজন গৃহীনী। মির্জাপুরের বাগজান গ্রামের অনিল মৈশালের মেয়ে ও হিমাংশু শেখর রায় চন্দনের স্ত্রী তিনি। সর্বমহলে পরিচিত এই নারীর নির্বাচন করা হলো একমাত্র নেশা। তিনি এর আগে একবার ইউনিয়ন পরিষদে ও দুইবার জাতীয় সংসদ এবং একবার উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবার জামানত হারানো এই নারী এবারও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
ডাব প্রতীকের প্রার্থী রুপা রায় চৌধুরী বলেন, জনগণের সেবা করা আমার ইচ্ছা। আমার বিশ্বাস, জনগণ একবার না একবার আমাকে সেবা করার সুযোগ দিবেই। আমি বিজয়ী হলে মির্জাপুরকে স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো। সুষ্ঠু ও নিরপক্ষ নির্বাচন হলে আমি আশাবাদী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।
এ আসনে তার বিপরীতে প্রার্থী বর্তমান এমপি ও আওয়ামী লীগের মনোনীত (নৌকা) প্রতীকের প্রার্থী খান আহমেদ শুভ, তিনবারের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র (ট্রাক) প্রতীকের প্রার্থী মীর এনায়েত হোসেন মন্টু, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের (গামছা) প্রতীকের প্রার্থী আরমান হোসেন তালুকদার, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ী) প্রতীকের প্রার্থী গোলাম নওজব চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জহির, জাকের পার্টির (গোলাপ ফুল) প্রতীকের প্রার্থী মোক্তার হোসেন ও জাসদ (মশাল) প্রতীকের প্রার্থী মঞ্জুর রহমান মজনু ভোট যুদ্ধে রয়েছেন।
টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৪৩২ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮০ হাজার ২০৬, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ২২০, তৃতীয় লিঙ্গ ৬ জন।
টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে তৃণমূল বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নাম লিখিয়েছেন পারুল। কালিহাতী উপজেলার গোলড়া গ্রামের গৃহীনী পারুল লোকমান হোসেনের স্ত্রী। তিনি সখীপুর-বাসাইলে অপরিচিত এক নাম। এই আসনে তাকে চেনেন এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। তারপরও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তিনি।
সোনালী আঁশ প্রতীকের প্রার্থী পারুল বলেন, আমি অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি দূর করে দুই উপজেলাকে সুন্দর করে সাজাতে প্রার্থী হয়েছি। দুই উপজেলার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করলে মানবকল্যাণে নিবেদিত থাকবো।
এ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি (গামছা) প্রতীকের প্রার্থী বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের মনোনীত (নৌকা) প্রতীকের প্রার্থী অনুপম শাহজাহান জয়, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) প্রতীকের প্রার্থী আবুল হাশেম ও বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) প্রতীকের প্রার্থী মোস্তফা কামাল।
টাঙ্গাইল-৮ বাসাইল- সখীপুর আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯০ হাজার ১০ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮২, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৪, তৃতীয় লিঙ্গ ৪ জন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও গাড়িসহ মনির (২৫) নামের এক মাইক্রোবাসের চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (২০ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে গোপালপুর থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মাইক্রোবাসের চালক মনির উপজেলার সমেশপুর গ্রামের লোকমানের ছেলে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সরকারের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গোপালপুর পৌরসভার থানা সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালায়। এ সময় দেশীয় অস্ত্রবহনকারী মাইক্রোবাসটিকে থামানোর জন্য সিগনাল দেওয়া হয়। সিগনাল দিলে গাড়িতে থাকা দুইজন পালিয়ে যায়। পরে অস্ত্রসহ চালককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল মোর্শেদ জানান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হাসান এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সরকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে র্যাব ও পুলিশের সহায়তায় ওই মাইক্রোবাস চালককে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আসামিকে এখনো পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কম্পানি অধিনায়ক মেজর মনজুর মেহেদী ইসলাম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারকৃত মনিরকে গোপালপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ভারতীয় মালিকানাধীন কোম্পানি একটি ওয়ার হাউসে ডাকাতির মামলায় টাঙ্গাইলে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চাঁদপুর জেলার পুরান বাজার এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৫), জামালপুর জেলার পোড়াভিটা গ্রামের স্বজলের ছেলে ফরহাদ ওরফে ফারুক (৩৩) এবং ময়মনসিংহের বালিয়া গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (২৭)।
মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) ও বুধবার (২০ ডিসেম্বর) গাজীপুর জেলার বাইমাইল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকালে লুষ্ঠিত ৩ হাজার ৯১৩ কেজি এ্যালুমিনিয়ামের বিদ্যুতিক তার উদ্ধারসহ একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার আরও জানান, গত ১২ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের সদর উপজেলার বিক্রমহাটিতে ভারতীয় মালিকানাধীন কোম্পানির একটি ওয়ার হাউসে ১ হাজার ২০০ মিটারের বিদ্যুতিক তার, মোবাইল ও সিসি ক্যামেরা ডাকাতি করে নিয়ে যায়।
তিনি জানান, এ ঘটনার পর টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে সাইফুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর ২ জনের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।
একতার কণ্ঠঃ আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থী তানভীর হাসান ছোট মনির ও স্বতন্ত্র ‘ঈগল’ প্রতীকের প্রার্থী ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন ওই আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু তার নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করার জন্য ভূঞাপুর পৌর শহরের দারোগ আলী সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কার্যালয়ে সৌজন্যে সাক্ষাতের জন্য বসেন। এসময় তার প্রচারণার সংবাদ শুনে আওয়ামী লীগ মনোনীত ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থিত কর্মীরা ওই কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে অফিসের জানালার গ্লাস ভেঙে যায়। এছাড়াও অফিসের নিচে থাকা মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এরই প্রেক্ষিতে ঘটনার দিন বিকালেই প্রধান নির্বাচন কমিশন টাঙ্গাইল বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু। তার অভিযোগ আমলে নিয়ে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছোট মনিরকে বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা ৩০মিনিটে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি টাঙ্গাইল কার্যালয়ে স্বশরীরে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
অপরদিকে, গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন লিখিত অভিযোগ করেন যে- মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুর সমর্থিতরা ঝাওয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিসে প্রবেশ করে বঙ্গবন্ধুর ছবি, আসবাবপত্র ভাঙচুর ও কেন্দ্র খরচের টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন। এই অভিযোগ আমলে নিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি টাঙ্গাইল কার্যালয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুকে স্বশরীরে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম বলেন, গোপালপুর ভূঞাপুরে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী তানভীর হাসান ছোট মনির ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু এই দুই প্রার্থীর কাছে ব্যাখা চেয়ে বৃহস্পতিবার তলব করা হয়েছে। এই নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ট্রাক চাপায় মহিউদ্দিন মিয়া (৪৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর নিহতের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের গোপিনপুর আষারিয়া চালা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মহিউদ্দিন উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের শহর গোপিনপুর চওনা পাড়া গ্রামের মৃত ফজর আমিনের ছেলে।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, ওই মোটরসাইকেল আরোহী মুরগির খাদ্যে ও ঔষধের জন্য সাগরদিঘী বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আষারিয়া চালা বাজারে পৌঁছলে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিটকে পড়ে। এসময় ট্রাকের চাপায় পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় নিহতের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রেললাইন পার হওয়ার সময় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ২ জনের নিহতের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব মহাসড়কের উপজেলার সল্লা ও হাতিয়ায় পৃথক দুইটি রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের সল্লা গ্রামের মৃত আব্দুলের ছেলে সামছুল (৫৮) ও একই ইউনিয়নের দেউপুর গ্রামের দুলাল শেখের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (৫৬)।
এর মধ্যে দেলোয়ার হোসেন পেশায় অটোভ্যানচালক ও সামছুল রিকশাচালক।
স্থানীয়রা জানান, দেলোয়ার হোসেন হাতিয়া ও সামছুল আলম সল্লা এলাকায় রেলক্রসিং পার হচ্ছিলেন। এ সময় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে স্বজনরা খবর পেয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
ঘারিন্দা রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলী আকবর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সুরতহাল রিপোর্ট ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত দুইজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে শহিদ বেদিতে প্রথমে রাষ্ট্র ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পক্ষে জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান।
এরপর জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে সিভিল সার্জন ডা. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া, টাঙ্গাইল পৌরসভার পক্ষে মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, উপজেলা পরিষদের পক্ষে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী প্রমুখ শ্রদ্ধা জানান।
এরপর জেলা সদর পানির ট্যাংক সংলগ্ন বধ্যভূমি ও শহরের শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শেষে শহিদ বুদ্ধিজীবী, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত ও দেশের কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাদিউজ্জামান সোহেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর)বিকেলে টাঙ্গাইল শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) লোকমান হোসেন জানান, বিএনপি নেতা হাদিউজ্জামান সোহেল নিয়মিত মামলার এজাহারভুক্ত আসামী ছিলেন। বুধবার বিকেলে তাকে শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার(১৪ ডিসেম্বর) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলীকে পুলিশ গ্রেপ্তারের পর উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মো. হাদিউজ্জামান সোহেলকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দায়িত্ব দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ বিএনপি’র চলমান আন্দোলন কর্মসূচীতে ভূমিকা না রাখার অভিযোগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌর বিএনপি’র সভাপতি হযরত আলী মিঞাকে পৌর বিএনপি’র সভাপতি পদ থেকে পরিবর্তনের ৪দিন পর হযরতকে পুনরায় স্বপদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
রবিবার (১০ ডিসেম্বর) বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি বিএনপির ভ্যারিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে প্রচার করা হয়েছে।
তবে রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে হযরত আলী মিঞাকে অসুস্থ থাকায় তাকে অব্যাহতি দিয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি আলী আজম সিদ্দিকীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো উল্লেখ করা হলেও গত ৬ ডিসেম্বর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে হযরত আলী মিঞাকে আন্দোলন কর্মসূচীতে ভূমিকা না রাখার কথা উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে হয়রত আলী মিঞাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। তবে আলী আজম সিদ্দিকী জানান ,ফেসবুকে আমি এরকম একটি বিজ্ঞপ্তি দেখেছি। দলের কেউ আমাকে এ ব্যাপারে অবগত করেনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিজয় দিবস ও টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের আয়োজনে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়ের আনন্দ’ শীর্ষক এ প্রতিযোগিতা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী অর্ধশতাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আল-আমিন এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিপন।
পরে বিজয়ীদের মাঝে বিশেষ পুরস্কার এবং অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে বই ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনন্দপাঠ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আমিনুল হক কায়সার।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের সভাপতি মোঃ শাহজাহান, পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ কামরুজ্জামান, লাইব্রেরিয়ান হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ‘এসো বই পড়ি, নিজেকে আলোকিত করি’ স্লোগানকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে ২০১০ সালে গড়ে ওঠে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠাগারটি মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সেলুন, বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশন অণু-পাঠাগার স্থাপনসহ শিক্ষামূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
একতার কণ্ঠঃ বর্ণাঢ্য কর্মসূচি আয়োজনের মধ্যে দিয়ে টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
১১ ডিসেম্বর সোমবার সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে টাঙ্গাইল পৌরসভার উদ্যোগে দিনব্যাপি বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
দিনের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক।
কর্মসূচির মধ্যে ছিলো সূর্যদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন,বেলুন উড়ানো, কবুতর উন্মুক্ত করণসহ আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে শহরের শহীদস্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরত্বপুর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুূনরায় শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান গিয়ে শেষ হয়।
এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওলিউজ্জামান, পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন,সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মির্জা মঈনুল হোসেন লিন্টুসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শহরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও সর্বস্তরের জনগণ সাধারণ উপস্থিত ছিলো।
এছাড়াও দিনটি উপলক্ষে বিকালে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করে।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে টাঙ্গাইলের সূর্য সন্তানেরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে টাঙ্গাইল মুক্ত করেন। এইদিন রাতে সদর উপজেলার পশ্চিমে অবস্থিত পোড়াবাড়ি দিয়ে কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক ভোলা(বর্তমানে কৃষিমন্ত্রী) সহযোদ্ধাদের নিয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন।
খুব ভোরে পুর্ব দিক দিয়ে শহরে প্রবেশ করেন কমান্ডার বায়েজিত আলম ও খন্দকার আনোয়ার হোসেন, দক্ষিন দিক দিয়ে আসেন ব্রিগেডিয়ার ফজলুর রহমান। আর উত্তর দিক থেকে ময়মনসিংহ সড়ক দিয়ে বীরদর্পে সাজোয়া বহর নিয়ে শহরে প্রবেশ করেন কাদিরিয়া বাহিনীর কমান্ডার বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। এসময় সার্কিট হাউজে থাকা ৫’হাজার পাক বাহিনীর পরাজিত সদস্যরা কাদের সিদ্দিকীর কাছে আত্মসর্মপণ করেন। মুক্ত হয় টাঙ্গাইল। পরে সাধারণ জনগন রাস্তায় নেমে এসে বিজয় উল্লাসে টাঙ্গাইল শহরকে প্রকম্পিত করে তোলে।