একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুরের হাতকুড়া জামে মসজিদের ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলামকে মারধরের ঘটনায় দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার হরতকীতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হাতকুড়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের দুই ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ (৩৫) ও আশরাফুল ইসলাম কদম আলী (৩০)।
জানা গেছে, হাতকুড়া জামে মসজিদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কমিটির সঙ্গে বিরোধের জেরে ১৮ জানুয়ারি ওই দুই ভাই মসজিদের ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলামের ওপর চড়াও হয়। স্থানীয় লোকজন এর প্রতিবাদ করলে তাদের ওপরও ক্ষিপ্ত হয় তারা। একপর্যায় ইমাম বাড়ি চলে যান। আসাদ ও কদম আলী গালিগালাজ করতে করতে ইমামের বাড়ি গিয়ে তাকে মারপিট করে এবং দাড়ি টেনে ছিঁড়ে ফেলে। এরপর ২০ জানুয়ারি মির্জাপুর থানায় মামলা করেন ভোক্তভুগি মুফতি সাইফুল ইসলাম।
এদিকে মামলা হওয়ার ১৫ দিনেও আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় কওমি ওলামা পরিষদ টাঙ্গাইল ও মির্জাপুর শাখার উদ্যোগে শনিবার (৪ জানুয়ারি) উপজেলার কুরনী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ করেন। সমাবেশে দুই ভাইকে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।
মির্জাপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এস এম মনসুর মুসা জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে রোববার দিনগত রাতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার হরতকীতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের আলোচিত সিদ্দিকী পরিবারের সন্তান মুরাদ সিদ্দিকীর আওয়ামী লীগে যোগদান ও জেলা কমিটিতে পদ পাওয়ার বিষয়ে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। তাঁকে জেলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে দলের কেন্দ্র থেকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে বলে জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন। তবে মুরাদ সিদ্দিকীকে দলে নেওয়ার ঘোরবিরোধী জেলার কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি অংশ।
মুরাদ সিদ্দিকী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের সিদ্দিকী এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর ভাই। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত করা হবে। এ অবস্থায় মুরাদ সিদ্দিকী জেলা আওয়ামী লীগে পদ পাচ্ছেন, নাকি এবারও দলে ঢুকতে ব্যর্থ হচ্ছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, ১৯৯৯ সালে কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ ছেড়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নামে নতুন দল গঠন করেন। মুরাদ সিদ্দিকী তখন ভাই কাদের সিদ্দিকীর দলে যোগ দেন। ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। এরপর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।
মূলত ২০০৯ সাল থেকে মুরাদ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ২০১৫ সালে মুরাদ সিদ্দিকীর অনুসারী টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান ওরফে মিরনসহ অনেকেই আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তাঁরা পরবর্তী সময় জেলা আওয়ামী লীগে পদ-পদবিও পান। কিন্তু মুরাদ সিদ্দিকী যোগ দিতে ব্যর্থ হন। দলে ঢুকতে না পারলেও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং দলীয় কার্যালয়ে মুরাদ সিদ্দিকী যাতায়াত শুরু করেন।
গত ৭ নভেম্বর টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। সেখানে মুরাদ সিদ্দিকী বড় মিছিল নিয়ে অংশ নেন। সম্মেলনে ফজলুর রহমান খানকে সভাপতি এবং সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তবে এখনো কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি।

মুরাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের আদর্শের বাইরে কেউ নই। সব সময়, সব অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করেছি। আওয়ামী লীগের সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছি। দল যদি আমাকে কোনো দায়িত্ব দেয়, তা পালন করার জন্য প্রস্তুত আছি। এ জেলার কৃতী সন্তান দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, জেলা শাখার সভাপতি ফজলুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলামের নেতৃত্বে আমি কাজ করতে চাই।’
জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে জেলার নেতাদের বলা হয়েছে মুরাদ সিদ্দিকীকে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে রাখার জন্য। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ এবং কয়েকজন সংসদ সদস্য চান না মুরাদ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে পদ পাক। তাঁরা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করে মুরাদ সিদ্দিকীর পদপ্রাপ্তি ঠেকাতে চেষ্টা করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও একাধিক সংসদ সদস্য বলেন, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে জেলা আওয়ামী লীগ ভালো চলছে। মুরাদ সিদ্দিকীকে দলে পদ দেওয়া হলে আবার একটি নতুন বলয় সৃষ্টি হতে পারে। তাই তাঁরা এ মুহূর্তে মুরাদ সিদ্দিকী দলে আসুক, তা চান না। তিনি দলে এলে টাঙ্গাইল সদর অথবা কালিহাতী আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর যোগদান ওই আসন দুটির বর্তমান সংসদ সদস্যদের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম বলেন, ‘মুরাদ সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগে যোগদানের চেষ্টা করছেন, এটা সত্য। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম “আলোচনা সাপেক্ষে তাঁকে নেওয়া যেতে পারে” বলে কিছুটা সম্মতি দিয়েছেন। আগামী দুই একদিনের মধ্যে আমরা বসব। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান সাহেব আছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ৫টি চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ৪৭ লাখ টাকার প্রতারণা মামলায় ইভ্যালির সিইও মো. রাসেলকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুনিরা সুলতানা এ জামিনের আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফেন্সি খান জানান, ২০২২ সালে সদর উপজেলার রাসেদ্দুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ৫টি চেক জালিয়াতির মোট ৪৭ লাখ টাকার প্রতারণার মামলা করেন। আজ সেই মামলায় ঢাকার কাশিমপুর কারাগার থেকে রাসেলকে টাঙ্গাইল আদালতে হাজির করা হয়।
পরে তিনি ২টি এবং তার সিনিয়র আইনজীবী হুমায়ুন কবির ৩টি মামলার জামিন আবেদন করেন। আদালত ৫টি মামলায় আসামি রাসেলকে জামিন দেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে কম্বল বিতরণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়র ও টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের এমপি প্রার্থী মাসুদুল হক মাসুদ। তার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়।
দুটি প্রাইভেটকার ও ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে হামলাকারীরা।এসময় হামলার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে আহত হন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক।
পরে হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি ও বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়।এ হামলার ঘটনায় সাংবাদিকসহ ১২জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহত সাংবাদিকরা হলেন, নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্টের জেলা প্রতিনিধি অভিজিৎ ঘোষ, ডিবিসি টেলিভিশনের ক্যামেরা পারসন আশিকুর রহমান ও ঢাকা প্রকাশের জেলা প্রতিনিধি ফরমান শেখ।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আলমনগর বোর্ড বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়রের দাবি, স্থানীয় সংসদ সদস্য এমপি তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনিরের সমর্থকরা এ হামলা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেশবাসীকে জানাতে লিফলেট ও কম্বল বিতরণ করতে যাচ্ছিলাম। এসময় স্থানীয় এমপি ছোট মনিরের নির্দেশে তার ক্যাডার বাহিনী আমাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় নেতৃত্ব দেন গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার সুরুজ।
হামলায় আহত সাংবাদিক ফরমান শেখ জানান, ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ গোপালপুরের কম্বল ও সরকারের উন্নয়নমূলক লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠান কভার করছিলাম আমরা কয়েকজন সাংবাদিক। এসময় অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় তিনজন সাংবাদিকদের উপর হামলা চালানো হয়।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, হামলার ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। দুইপক্ষকে দুই দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর- গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। উপজেলা আওয়ামী লীগকে না জানিয়ে ভূঞাপুরের মেয়রের এইভাবে কম্বল বিতরণ করা ঠিক হয়নি।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে একটি বাজারে আগুন লেগে সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এসময় চারটি দোকান ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে উপজেলার আইসড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম আইসড়া গ্রামের মৃত সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
তিনি বাজারে টেইলার্সের দোকান করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ২টার দিকে আইসড়া বাজারে হঠাৎ করে একটি দোকানে আগুন জ্বলে ওঠে।
এসময় বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। এরমধ্যেই চারটি দোকানে আগুনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় টেইলার্সের দোকানের ভেতরে থাকা মঞ্জুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আগুনে চারটি দোকানে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল সরকার বলেন, হঠাৎ করে টেইলার্সের দোকান থেকে আগুন জ্বলে ওঠে। এসময় ওই দোকানের ভেতরে মঞ্জুরুল ঘুমিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে বের হতে না পারায় আগুনে পুড়ে তার মৃত্যু হয়। আগুনে চারটি দোকানের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বাসাইল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম বলেন, টেইলার্সের দোকানে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধারণা করছি টেইলার্সের দোকানে থাকা ব্যক্তিটি আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে সেখানেই মারা যান। এ ঘটনায় চারটি দোকান ঘর পুড়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঐতিহ্যবাহী ডুবের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বাসাইল সদর এবং কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের বংশাই নদীর পূর্ব-উত্তর তীরে রাশড়া-সৈয়দামপুর গ্রামে দিনব্যাপী কয়েক হাজার লোকের সমাগমে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
দেবতার (মাদব ঠাকুর) মূর্তিতে প্রণাম স্মরণ করে ভোরে গঙ্গাস্নানের মাধ্যমে মেলার বা পূজার কার্যক্রম শুরু করা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের পাপ মোচনের লক্ষে ভোরে মানত ও গঙ্গাস্নান পর্ব সমাপন করে।
তবে চলাচলের সুবিধা না থাকায় মেলায় আগতরা মেলাস্থলে যাতায়াত এবং ঠিক সময়ে গঙ্গাস্নানের জন্য পৌঁছাতে পারছেন না বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, বৃটিশ শাসনামলে বক্ত সাধু নামে খ্যাত এই সন্যাসীর (মাদব ঠাকুর) মূর্তি প্রতিস্থাপন করে মনোবাসনা পূর্ণ করতে গঙ্গাস্নান, পূজাঅর্চনা করা শুরু হয়। ওই সময়ে অনেকে এসব করে সফল হয়েছে বলে লোকমুখে প্রচলিত। তখন থেকে প্রতিবছর মাঘী পূর্ণিমার রাত থেকে গঙ্গাস্নান, পূজাঅর্চনা চলতে থাকে এবং পরে স্থানীয় সনাতনীরা একে মেলা এবং আনন্দ উৎসব হিসেবে পালন করে আসছে। ওই সময় থেকে এটা ডুবের মেলা নামে পরিচিত।
মেলায় বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবার, বাঁশবেতের তৈজসপত্র, মাটির তৈরি খেলনা, হাঁড়িপাতিল, বড় মাছ এবং চিড়া-দই, খইসহ বিভিন্ন দোকানিরা তাদের পসরা সাজিয়ে বসে। মেলায় আসা দোকানি সাধুকর বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামে এত লোকের সমাগম হয় এটা অবিশ্বাস্য। বেচাকেনাও ভালো।
মিষ্টি দোকানি দীপক বলেন, প্রতিবছর প্রায় ১০ মণ মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার বিক্রি করি। কোন বাকি নেই । নগদ বিক্রি হয় বলে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের এই মেলায় দোকান দেবার বেশি আগ্রহ দেখা যায়।
ডুবের মেলার আয়োজক জীবন মন্ডল বলেন, প্রায় দেড়’শ বছর ধরে মাঘীপূর্ণিমার সময় আমার পূর্বপূরুষেরা এই মেলার আয়োজন করে আসছে। আমি এই মেলায় ষাট বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছি। এই মেলা উপলক্ষে পার্শ্ববর্তী সখিপুর, মিজার্পুর, ভালুকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের কয়েক হাজার লোকজনের সমাগম হয়। ভোর স্নানের মাধ্যমে শুরু করে দিনব্যাপী এই মেলা চলে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় জমির আইল ধরে পায়ে হেঁটে এই মেলায় আসতে হয় দর্শনার্থীদের। যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় গতবছর অনেক পূর্ণার্থী গঙ্গাস্নানে আসতে পারেনি।
কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আল মামুন জানান, শুনতে পেরেছি ডুবের মেলা যুগ যুগ ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ, জমির আইল ধরে দর্শনার্থীরা যাতায়াত করছে। চেষ্টা করছি এবছর নিজ উদ্যোগে বা প্রকল্পের মাধ্যমে এই রাস্তা করে দেবো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার সালিস বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলায় হান্নান (২৬) নামের এক যুবক মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় হান্নানের বড়ভাই আবু হানিফাও গুরুতর জখম হয়েছেন।
শনিবার ( ৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের আশ্রা দক্ষিণপাড়া মাস্টারবাড়ি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আশ্রা গ্রামের আমজাদ হোসেন ও ইদ্রিস আলীর সঙ্গে প্রতিবেশী হাতেম আলীর জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সালিস বৈঠক হয়। শনিবার বিকেলেও মাস্টারবাড়ি মোড়ে এ নিয়ে সালিস বৈঠক চলছিল। বৈঠক চলাকালেই হাতাহাতি ও মারামারি হয়। এর একপর্যায়ে বড়ভাই আবু হানিফার ওপর আক্রমণকারীরা চরাও হলে ছোট ভাই হান্নান ফেরাতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হন। তখন হান্নান আত্মরক্ষার্থে দৌড়ে গিয়ে নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে গিয়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
স্থানীয় চিকিৎসক আব্দুল কাদের তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হেলাল উদ্দিন জানান, ‘হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই রাস্তায় আহত রোগীর মৃত্যু হয়েছে।’
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল আমিন জানান, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মহিষমারা ইউপির এক নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সরাফত আলী ও তিন নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জুয়েল রানাকে লাউফুলা পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে আনা হয়েছে। এ নিয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল এখন ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে চলে গেছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে আক্রমণ করে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছে। গত ২৯ জানুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকে এই অবস্থা চলছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সাধারণ নেতা-কর্মীরা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের এক পক্ষে আছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে আছেন পৌর মেয়র আবু হানিফ আজাদ। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান।
সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামের বিরোধীদের অভিযোগ, এক বছর আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। তারপর গত অক্টোবরে সংসদ সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বসে একটি খসড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি করেন। কিন্তু ২৯ জানুয়ারি যে কমিটি প্রকাশ করা হয়, সেখানে খসড়া কমিটির ২৩ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়। সেখানে সংসদ সদস্যের আত্মীয়স্বজনসহ অন্য দলের লোকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সংসদ সদস্যের অনুসারীদের দাবি, অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মীদের উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা আগে মূল্যায়ন করেননি। এবার সংসদ সদস্য তাঁদের মূল্যায়ন করছেন।
২৯ জানুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা নবগঠিত হতেয়া-রাজাবাড়ি ইউনিয়নে কর্মিসভার আয়োজন করে। সেখানে অধিকাংশ বক্তাই সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। ওই সভায় হাতিবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. গিয়াস উদ্দিন সংসদ সদস্যের মুক্তিযোদ্ধা হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, জোয়াহেরুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। সংসদ সদস্য হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়েছেন।
এদিকে সংসদ সদস্যের অনুসারীরা শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বড়চওনায় এক সমাবেশ করেন। সেখানে অধিকাংশ বক্তা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনুপম শাহজাহান এবং সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত শিকদারকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। ওই সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান শরীফ তাঁদের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন।
কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম বক্তব্যে বলেন, অনুপম শাহজাহান ও শওকত শিকদারকে তিনি টাকাপয়সা ও সোনা দিয়েছেন। তখন তাঁর অনেক মূল্যায়ন ছিল। এখন তাঁর টাকাও নেই, মূল্যায়নও নেই।
বহুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, শওকত শিকদার যখন উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন তাঁকে প্রকল্প দেওয়ার কথা বলে টাকাপয়সা নিয়েছেন। কালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল হোসেন বলেন, ‘ওনাদের টাকা দিলেই মজা, না দিলেই তাঁরা বেজার।’
এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনুপম শাহজাহান বলেন, এ অবস্থা জোয়াহেরুল ইসলামই শুরু করেছেন। তাঁর সঙ্গে বসে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি খসড়া করেছিলেন। তিনি সেখান থেকে ২৩ জনের নাম কেটে ইচ্ছামতো নাম বসিয়ে দিয়েছেন। দলতো পরিবার নিয়ে হয় না। তিনি আত্মীয়স্বজন দিয়ে দলের কমিটি ভরে ফেলেছেন।
বিরোধিতার জন্যই নেতারা বিরোধিতা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এর কোনো মানে হয় না। আমি সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করছি। কিছু লোক আমাকে হেয় করার জন্য ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তৃতা করছেন। তাঁরা আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত রেষারেষি করছেন। এটা ঠিক নয়।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, এক পক্ষ আরেক পক্ষের নেতাদের সম্পর্কে নানা অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ তুলছেন। এতে দলীয় নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দলের ও সরকারের ইমেজ এলাকায় নষ্ট হচ্ছে। বৃহত্তর স্বার্থে সবার একযোগে কাজ করা উচিত।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে খলিলুর রহমান (৬০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে একমাত্র আসামীকে টাঙ্গাইল জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের ভাদুরীরচর গ্রামের মৃত মসলিম উদ্দিনের ছেলে ও ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য।
জানা যায়, শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) খলিলুর রহমান মাদরাসার গেট থেকে ওই ছাত্রীকে ডেকে নেন। তারপর চকলেট দেওয়ার কথা বলে কৌশলে পাশের পুকুর পাড়ের নির্জন ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসলে আসামি দৌঁড়ে পালিয়ে যান।
গোপালপুর থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, ওই শিশুটির মা বাদি হয়ে শনিবার রাত, ১১ টায় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
তিনি আরো জানান, মামলার একমাত্র আসামী খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে রবিবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতির সংবাদ প্রচার করায় সময় টিভির বার্তাপ্রধান মুজতাবা দানিশের বিরুদ্ধে ডিজিটাল অ্যাক্ট আইনে করা মামলা ও পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী জেলায় নিয়োজিত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা পালন করেন এ কর্মসূচি।
এ সময় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার জাফর আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক ও আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার কাজী জাকেরুল মাওলা, বাংলা ভিশনের জেলা প্রতিনিধি আতাউর রহমান আজাদ, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখরসহ জেলায় নিয়োজিত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত হয়ে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
সমাবেশে সাংবাদিকরা জানান, ডিজিটাল অ্যাক্ট আইন করে প্রতিনিয়তই সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির সংবাদ প্রচার করায় সময় টিভির বার্তাপ্রধান মুজতাবা দানিশ ও রংপুর ব্যুরোপ্রধান রতন সরকারের নামে ডিজিটাল অ্যাক্ট আইনে মামলা করে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই সাংবাদিক সমাজ মেনে নিতে পারে না।
সাংবাদিক নেতারা আরও বলেন, সম্প্রতি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ডিজিটাল অ্যাক্ট আইনে সাংবাদিকদের কোনো সমস্যা হবে না বলে জানান। তারপরও এই আইনেই সাংবাদিকরাই হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। তাই অনতিবিলম্বে সময় টিভির বার্তাপ্রধান ও সাংবাদিক রতন সরকারের নামে দায়ের করা ডিজিটাল অ্যাক্ট আইনে করা মামলা প্রত্যাহারসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা মামলা প্রত্যাহার ও পুলিশি হয়রানি বন্ধ না হলে অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ।
উল্লেখ্য, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের তোয়াক্কা না করে ফল প্রকাশ, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে পাস করানোসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরা পড়লেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হক। বিতর্কিত সাবেক ভিসি ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর সময়কালে সংঘঠিত এসব অপকর্মের বিচার চাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন সাবেক ভিসি কলিমুল্লাহ চক্রের প্রভাবশালী সামসুল হক। সময় টিভিতে এসব সংবাদ প্রচারের অভিযোগে সময় টিভির বার্তাপ্রধান ও রংপুর ব্যুরোপ্রধানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল অ্যাক্ট আইনে মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ নদী-চর-খাল-বিল গজারির বন, টাঙ্গাইল শাড়ী তার গরবের ধন। টাঙ্গাইলের ফুসফুস খ্যাত মধুপুরের শাল গজারির বন নব্বইয়ের দশক থেকে পর্যায়ক্রমে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলদারিত্বের কারণে বিলীন হওয়ার পথে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একসময় ৪৫ হাজার ৫৬৫.৩৮ একর এলাকা জুড়ে মধুপুরের শালবন বিস্তৃত ছিল। দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় প্রভাবশালীদের জবর দখলের কারণে শালবনের বিস্তৃতি এসে দাড়িয়েছে ৯ হাজার একরে। এ হিসেবে মধুপুর বনাঞ্চলের পাঁচ ভাগের চার ভাগই এখন জবর দখলকারীদের নিয়ন্ত্রণে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, রাজনীতিক ও বনাঞ্চলের নিকটবর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে বহিরাগত প্রভাবশালীরা স্থানীয় নৃ-জনগোষ্ঠীদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার একর বনভূমি উজাড় করে নিচ্ছে। সম্প্রতি দোখলা রেঞ্জ অফিসের প্রায় ৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব পার্শ্বের গহীন শালবনের মাগিচোরাচালা এলাকায় গজারি, সিদা, আজুগিসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩ শতাধিক গাছ কেটে নিয়ে গেছে স্থানীয় একটি চক্র।

সরেজমিনে, মধুপুর বনাঞ্চলের দোখলা রেঞ্জের আওতাধীন মাগিচোরাচালা এলাকায় গিয়ে দেখা যায় বনখেকো একটি চক্র বনাঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে গেছে। শুধু ডালপালাগুলো ওইখানে অযাচিতভাবে পড়ে আছে। উজারকৃত বনের পাশেই রয়েছে কয়েকটি উডলট বাগান। জয়নাগাছা গ্রামের দক্ষিণপার্শ্বে ওইসব উডলট বাগানের মালিক সেলিম মিয়া, রনজিত মেম্বার ও দেলু ফকির। তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, পার্শ্ববর্তী হরিনধরা গ্রামের তোতা মিয়া বন বিভাগকে ম্যানেজ করে প্রাকৃতিক বাগানের গাছ কেটে প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে আনারস রোপনের পায়তারা করছে।
তারা আরো জানান, দোখলা রেঞ্জ অফিসার হামিদুল ইসলাম তোতা মিয়ার চাচা শ্বশুর হওয়ার সুবাদে অর্থের বিনিময়ে তাকে ম্যানেজ করে গাছ কেটে আনারস বাগান করার পায়তারা করছে।

তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বন কর্মকর্তাদের যোগসাজসে স্থানীয় প্রভাবশালীরা নতুন নতুন বনভূমির গাছ কেটে প্রথমে জমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে ওই জমিতে আনারস কলাসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করেন। এভাবেই পর্যায়ক্রমে মধুপুর গড়ের হাজার হাজার একর বনভূমি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে।
তোতা মিয়া জানান, তিনি কখনো কোন বনের জায়গা জবর দখল করেননি। তার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিতে আনারস কলাসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে থাকেন। এছাড়া অন্যের কলা বাগান কিনেও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলা বিক্রি করে থাকেন। রেঞ্জ অফিসার হামিদুল হক তার চাচা শ্বশুর নন।
মধুপুর বনাঞ্চলের দোখলা রেঞ্জের দায়িত্বরত বিট কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম জানান, তিনি গত মাসে এই রেঞ্জে দায়িত্ব নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের গাছকাটা এবং বনের জায়গা জবর-দখলের প্রচলন থাকলেও তিনি এসে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় জবর-দখলকারীরাই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কুৎসা রটাচ্ছেন।
টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান জানান, বনের গাছ চুরি ও ভূমি জবর-দখলের বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক মসজিদ ও মাদরাসার পেশ ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলামের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে স্থানীয় আমরা মির্জাপুরবাসী নামে একটি সংগঠন। এসময় তারা আসামীদের গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম ঘোষণা দেন।
শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের কুরনী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুফতি আব্দুর রহমান, মুফতি এরশাদুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদ, হাফেজ মাওলানা আব্দুর মামুন, জাকির হোসেন, মোহাম্মদ আলী, আব্দুর রহীম ও হাবিুল্লাহ প্রমুখ।
স্থানীয়রা জানান, সমজিদ ও মাদরাসার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পেম ইমামের উপর হামলা করা হয়।
হামলায় অভিযুক্তরা হলেন যুবলীগ নেতা ও হাতকুড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ আলীর ছেলে আসাদুল্লাহ আসাদ ও তার ভাই কদম আলী।
আয়োজকরা জানান, হাতকুড়া গ্রামের সামাজিক মসজিদ ও মাদরাসার জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ১৮ জানুয়ারি যুবলীগ নেতা আসাদ ও তার ভাই কদম আলীসহ কতিপয় সন্ত্রাসী মসজিদ ও মাদরাসার পেশ ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলামের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এসময় তারা ইমামের মুখের দাড়ি কেটে নেয়।
জানা গেছে, এ বিষয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা হলেও ঘটনার ১৫ দিন পার হলেও আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার আমরা মির্জাপুরবাসী নামে একটি সংগঠন এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।
প্রতিবাদ সমাবেশে আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার না করা হলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন আয়োজকরা।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার সেকেন্ড অফিসার মো. মোশারফ হোসেন জানান, মামলার পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে গেছে। আসামিদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।