/ হোম / এক্সক্লুসিভ
টাঙ্গাইলে হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা 

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর কোকরাইল গ্রামে রায়হান নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

সোমবার(৫ মে) সকালে গ্রামের একটি পুকুর থেকে নিহত রায়হানের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করেছ পুলিশ।

নিহত রায়হান উপজেলার কোকরাইল গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে।সে হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলার আসামি ছিলেন।’

নিহতের পরিবার জানায়, রায়হান সোমবার ভোররাত ২টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে সকালে গ্রামের একটি পুকুরে তার মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা।পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

নিহতের বাবা বাদল মিয়া জানান, ভোর ৪টার দিকে মুন্না নামের একজন আমাকে ডাকতে যায় এবং বলে আপনার ছেলেকে মেরে ফেললো, আমি খবর শুনে ছুটে আসি এবং আশপাশে খোঁজ করি। খোজাখুজির একপর্যায়ে কোকরাইল গ্রামের রিপনের পুকুরে রক্তাক্ত অবস্থায় তার ছেলের মরদেহ দেখতে পান তিনি।

নিহতের স্ত্রী জানান, আমার স্বামী রাত দুইটার দিকে ফোন দিয়ে মুড়ি ভর্তা করার জন্য পেঁয়াজ মরিচ কেটে রাখতে বলে। তার কিছুক্ষণ পরে বাড়ীতে এসে কেটে রাখা পেঁয়াজ মরিচ ও মুড়ি চানাচুর নিয়ে যায়, সে সময় তিনি প্রচুর মদ্যপ অবস্থায় ছিল এবং তার সাথে আরও একজন লোক ছিলো যাকে আমি চিনতে পারিনি।

কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ‘নিহত রায়হান মাদক সেবন ও বিক্রয় এবং হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলার আসামি।

উল্লেখ্য, নিহত রায়হান নিয়মিত মাদক সেবন এবং মাদক বিক্রির সাথে জড়িত ছিলো। এছাড়াও নিহত রায়হান বহু আলোচিত রামপুরের সলিট হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. মে ২০২৫ ০৮:২৮:পিএম ১ বছর আগে
সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. রাজ্জাকের ব্যক্তিগত সহকারী আল-আমিন গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. রাজ্জাকের ব্যক্তিগত সহকারী আল-আমিন গ্রেপ্তার

আরমান কবীর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি’র ব্যক্তিগত সহকারী আল-আমিন কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১ মে )সকালে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বোয়ালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মধুপুর থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আল আমিন (৩৫) জেলার ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি গ্রামের মৃত আয়াত আলী মুন্সীর ছেলে।

মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি )এরমানুল কবির জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধুপুরের বোয়ালী এলাকায় শ্বশুরবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে (বৃহস্পতিবার ১ মে) সকাল ১১ টার সময় সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপির ব্যক্তিগত সহকারী আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আল আমিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

তিনি আরও জানান ,গ্রেফতারকৃত আল আমিনকে শুক্রবার(২ মে) সকালে টাঙ্গাইল কোটে প্রেরণ করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. মে ২০২৫ ০৩:০৩:এএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলে শেষ হলো ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শেষ হলো ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে শেষ হলো দেড়শ’ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী তিন দিনব্যাপী ‘জামাই মেলা’। এ মেলায় জামাই ছাড়াও দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছিল। ফলে আয়োজক কমিটিসহ মেলায় আগত সকল ধরনের দোকানিরাও তাদের পণ্য ভালো বিক্রি করতে পেরে অনেক খুশি।

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের রসুলপুর বাছিরননেছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিন দিনব্যাপী এ মেলা শুরু হয়। মেলা চলেছে রবিবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৮টা পর্যন্ত।

জানা গেছে, প্রায় দেড়শ বছর ধরে সনাতন পঞ্জিকা অনুসারে প্রতিবছর ১১, ১২ ও ১৩ বৈশাখ রসুলপুরে তিন দিনব্যাপী এই ‘জামাই মেলা’ বসে। মেলাকে কেন্দ্র করে জেলার কালিহাতী, ভূঞাপুর, ঘাটাইল ও সদর উপজেলার আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মেয়েরা তাদের স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন। মেলা উপলক্ষে জামাইকে বরণ করে নেওয়ার জন্য শ্বশুর-শাশুড়িরাও বেশ আগে থেকেই নেন নানা প্রস্তুতি। এ ছাড়া মেয়ের জামাইরা মেলা থেকে শ্বশুরবাড়ির জন্য বিভিন্ন কেনাকাটা করেন।

এই মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দোকানিরা এসেছিল বিভিন্ন পণ্য নিয়ে। দোকানে বিভিন্ন ধরনের খেলনা, প্রসাধনী, খাবারের দোকান, মিষ্টির দোকানসহ ছোট-বড় দোকান বসেছিল।

রবিবার সন্ধ্যায় কথা হয় হাসান হাসান নামের এক দর্শনার্থীর সাথে। তিনি বলেন, মেলাটি জামাই মেলা নামে পরিচিত। মেলাটিকে কেন্দ্র করে এ এলাকার জামাইরা একত্রিত হয়েছিল। এমন মেলায় আসতে পেরে খুবই আনন্দিত তিনি।

স্থানীয় রসুলপুরের বাসিন্দা সেলিম মন্ডল বলেন, প্রায় দেড়শ বছর ধরে এ মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এলাকার মানুষের কাছে ঈদ বা পূজা-পার্বণের মতোই এ মেলা একটি উৎসব। মেলাটি বৈশাখী মেলা হিসেবে শুরু হলেও এখন এটি জামাই মেলা হিসেবে পরিচিত।

তিনি আরও বলেন, আমার একটি মাত্র বোন। বছরে একরার আসে এ জামাই মেলাকে কেন্দ্র করে। গতবার মেলায় জামাই আসতে পারেনি। এবার তিনি এসেছেন।

মেলায় আগত জেলার কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তিনি প্রতিবছর এই মেলায় ঘুরতে আসেন। মেলা থেকে বাড়ীর জন্য কয়েক কেজি মিষ্টান্ন ‘রসগোল্লা’ কিনেছেন।

রসুলপুরের জামাই স্বপন মন্ডল বলেন, গতবার আসতে পারিনি। এবারের মেলাতে প্রথম দিন আসিনি। আজ তৃতীয় দিন সকালে এসেছি। শ্বশুরবাড়ি এসে বিকেলে মেলায় আসছি। শ্বশুরবাড়ির বাচ্চাদের জন্য বিভিন্ন জিনিস কিনেছি। পরে মাছ এবং মিষ্টি কিনে নিয়ে যাব। আমার শাশুড়ি মেলায় আসার সময় দুই হাজার টাকা দিয়েছেন।

মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব আনিসুর রহমান বলেন, মেলা সফল করতে সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছিলেন দোকানিরা। তারা খাবারের দোকান, মিষ্টি জাতীয় পণ্যের দোকানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলনা, প্রসাধনীর দোকানও দিয়েছিলেন। এ ছাড়াও শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের রাইড এর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রসুলপুরের এ মেলাটি বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম। রবিবার রাত ৮টার দিকে মেলাটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। তিন দিনে মেলায় প্রায় দুই কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. এপ্রিল ২০২৫ ০২:১০:এএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’ শুরু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’ শুরু

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের রসুলপুরে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’ শুরু হয়েছে। স্থানীয় রসুলপুর বাছিরন নেছা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে রবিবার (২৭ এপ্রিল) পর্যন্ত। এই মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর ১১, ১২ ও ১৩ বৈশাখ (সনাতন পঞ্জিকা অনুসারে) রসুলপুরে এই জামাই মেলা বসে। এই মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের অন্তত ৩০ গ্রামের জামাইয়েরা শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসেন। তারাই মেলার মূল আকর্ষণ। আর মেলায় জমায়েত হন ৩০ গ্রামের জামাইয়েরা। এ মেলার বয়স দেড়শ বছরেও বেশি হবে। এ এলাকার মানুষের কাছে ঈদ বা পূজাপার্বণের মতোই এই মেলা উৎসবের। মেলাটি বৈশাখী মেলা হিসেবে ব্রিটিশ আমলে শুরু হলেও এখন এটি ‘জামাই মেলা’ হিসেবে পরিচিত। মেলাকে সামনে রেখে রসুলপুর ও এর আশপাশের বিবাহিত মেয়েরা তাদের স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন। আর জামাইকে মেলা উপলক্ষে বরণ করে নেওয়ার জন্য শ্বশুর-শাশুড়িরা বেশ আগে থেকেই নেন নানা প্রস্তুতি। এছাড়া রসুলপুরসহ আশপাশের গ্রামের যুবকদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী করা হয়ে থাকে। এতে করে মেলার পরিবেশ স্বাভাবিক থাকে।

এছাড়া মেলার দিন শাশুড়ি মেয়ের জামাইয়ের হাতে কিছু টাকা দেন। সেই টাকা দিয়ে জামাই বাজার করে এনে শ্বশুরবাড়ির লোকদের খাওয়ান। এ কারণেই মেলাটি ‘জামাই মেলা’ হিসেবে পরিচিত। তিন দিনে রসুলপুরসহ আশপাশের গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে এই মেলায়।

শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, মেলায় বিভিন্ন ধরনের খেলনা, প্রসাধনী, মুড়ি-মুড়কি, আকড়ি, চিনির সাজ, বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকানসহ ছোট-বড় দেড় শতাধিক দোকান বসেছে। মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন দোকানিরা। মিষ্টি জাতীয় পণ্যের দোকানও আছে। এছাড়া এ মেলায় একাধিক ফার্নিচারের দোকানও বসেছে। বড়দের পাশাপাশি ছোট ছেলে-মেয়েরাও এ মেলা উপভোগ করছে। তবে মেলার স্থানটি ছোট হওয়ায় ও প্রচন্ড গরমের কারণে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নাজেহাল অবস্থা। এছাড়া শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়াতে মেলায় তিল ধারনের জায়গা নেই। অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে মেলায় ঢুকতে না পেরে মন খারাপ করে ফিরে চলে যাচ্ছে। এদিকে মেলায় কোন ধরনের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই পাশের পেট্রলপাম্পসহ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশেই গাড়ি রেখে মেলায় প্রবেশ করছে।

স্থানীয় রসুলপুর গ্রামের রবীন মিয়া বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখনও দাদার কাছে এই মেলার কথা শুনেছি। বাড়ির মেয়ের জামাইরা মেলাকে কেন্দ্র করে বাড়ি আসায় ও মহাসড়কের পাশে হওয়ায় মেলাটি প্রতিবছর জমে উঠে। এটি টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও বড় মেলা।

কালিহাতী থেকে আসা আদর ঘোষ (এলাকার জামাই) বলেন, প্রতিবছরই আমরা শ্বশুরবাড়ি থেকে মেলায় আসার দাওয়াত পাই। এই মেলা আমাদের জামাইদের কাছে খুব আকর্ষণীয়। মেলাকে কেন্দ্র করে অনেক আত্মীয়র সঙ্গে দেখা হয়, তাদের সঙ্গে ভাব বিনিময় হয়। সব মিলিয়ে আমরা মেলার এই তিন দিন আনন্দে মেতে উঠি।

টাঙ্গাইল শহর থেকে মেলায় ঘুরতে আসা চাকরিজীবী শিরীন আক্তার বলেন, এই মেলাটি একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মেলা শুনে প্রথমবারের মত ঘুরতে এসেছি। তবে মেলায় কিছুটা অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আশাকরি, মেলা কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলিকে নজরে আনবেন। বিশেষ করে, যদি সম্ভব হয় মেলাটি আরো বড় জায়গায় আয়োজন করলে অনেক সুন্দরভাবে দর্শনার্থীরা এই মেলাটি উপভোগ করতে পারবে। আমি এই মেলার সর্বাঙ্গিন সাফল্য কামনা করছি।

মেলায় ঘুরতে আসা স্থানীয় আছমা বেগম বলেন, এটি টাঙ্গাইল জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। শুক্রবার দুপুর থেকেই নারী পুরুষ, শিশু থেকে বৃদ্ধ সব শ্রেণি পেশার মানুষ মেলায় ভিড় করছে। তারা বিভিন্নভাবে মেলায় বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখছেন। কেওবা তাদের পছন্দের সামগ্রী কেনাকাটা করছেন ।

মেলায় আসা আকড়ি ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বলেন, অন্যান্য কাজের পাশাপাশি মেলা আসলে একটু বাড়তি লাভের আশায় কয়েক বছর যাবত এই মেলায় আকড়ি বিক্রি করে আসছি। বর্তমানে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে আকড়ি বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে ব্যবসা ভালোই হচ্ছে। অন্যান্য মেলার চেয়ে এ মেলা অনেক নিরাপদ।

মেলা কমিটির আহ্বায়ক ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এবারের মেলায় দেড় শতাধিক দোকান বসেছে। এই মেলায় মিষ্টি জাতীয় খাবার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। মেলায় খাবার আইটেম, খেলনাসহ বিভিন্ন ফার্নিচারও পাওয়া যায়। মেলায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মেলার নিরাপত্তার জন্য বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তবে প্রচন্ড গরম পড়ায় মেলায় আগত দর্শনার্থীদের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। এবছর অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি লোকজনের ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. এপ্রিল ২০২৫ ০২:০৪:এএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলে নিখোঁজের ৩ দিন পর সেপটিক ট্যাংকে মিলল কলেজ ছাত্রের মরদেহ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নিখোঁজের ৩ দিন পর সেপটিক ট্যাংকে মিলল কলেজ ছাত্রের মরদেহ

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে নিখোঁজের ৩ দিন পর সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে আব্দুল আলিম (১৯) নামের এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে কালিহাতী পৌরসভার সাতুটিয়া দক্ষিণ পাড়া থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আলিম ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের চানতারা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী জহুরুল ইসলামের ছেলে।

নিহত আলিমের মা আকলিমা আক্তার জানান, আলীম কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

সে গত ১২ এপ্রিল(শনিবার )সকালে কালিহাতীতে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে একটি সুজকি মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। ওই দিন দুপুর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার পর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। বাড়ি ফিরে না আসায় এ বিষয়ে ঘাটাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
গত তিন ধরে খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার(১৪ এপ্রিল) দুপুরে কালিহাতী উপজেলার সাতুটিয়া দক্ষিণ পাড়া এলাকার জামাল বাদশা বসতঘরের পেছনে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় লাশটি উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে আলিমের মা আকলিমা আক্তার কালিহাতী থানায় গিয়ে লাশের পরনের পোশাক দেখে লাশটি আলিমের বলে তার শনাক্ত করেন

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আদিবুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. এপ্রিল ২০২৫ ০১:০২:এএম ১ বছর আগে
বর্ণাঢ্য আয়োজনে টাঙ্গাইলে বাংলা নববর্ষ উদযাপন - Ekotar Kantho

বর্ণাঢ্য আয়োজনে টাঙ্গাইলে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে ১৪৩২ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবার সকালে একটি বর্ণাঢ্য রেলি বের করা হয়।রেলিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন করে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে জনসেবা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে লোকজ মেলা উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান,পৌর প্রশাসক শিহাব রায়হান প্রমূখ।

সোমবার সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে দিনটি উপলক্ষে জেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য রেলি বের করা হয়। রেলিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে পুনরায় শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এসে শেষ হয়। পরে এখানে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য লাঠি বারির আয়োজন করা হয়।

এ দিকে টাঙ্গাইলের পৌরসভার চাউল্ডহুড ও স্টার ওয়ার্ল্ডের আয়োজনে এ ঘোড়া রেলির আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নুরুল ইসলাম,রুবেল,মোহাব্বত হোসেন,মহিউদ্দিন সুমন,বাতেন,শামীম আল মামুন, শাফিউজ্জামান মোস্তফা প্রমূখ।

অন্যদিকে, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলা শুভ নববর্ষ ১লা বৈশাখ-১৪৩২ পালন করা হয়েছে।

সকাল ১০ টায় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল আজীম আখন্দ-এর নেতৃত্বে বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিন করে মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় সকল অনুষদের ডিনবৃন্দ, গ্রন্থাগারিক, শিক্ষার্থীকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, অফিস প্রধান এবং অন্যান্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া নববর্ষ উপলক্ষে মুক্তমঞ্চে মাভাবিপ্রবি সাহিত্য সংসদের নববর্ষ বই মেলা, রোটারেক্ট ক্লাব অব মাওলানা ভাসানীর খেলাধুলা ও খাবারের দোকান, ধ্রুবতারার আয়োজনে পান্তা-ইলিশ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. এপ্রিল ২০২৫ ০১:৩৯:এএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলে নওমুসলিমের বাড়ি ভেঙে ফেলায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নওমুসলিমের বাড়ি ভেঙে ফেলায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে বনবিভাগের লোকজন নওমুসলিম নারীর বাড়ি ভেঙে দেওয়ায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা।

বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ওই সড়কের মধুপুর উপজেলার পচিশ মাইল এলাকায় তারা বিক্ষোভ শেষে সড়ক অবরোধ করে। রাত আটটা পর্যন্ত অবরোধ ক‌রে রা‌খা হয়।

জানা যায়, মধুপুর উপজেলার গাছাবাড়ি এলাকা এক খৃষ্টধর্মীয় গারো নারী কয়েক বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। বর্তমানে সুমাইয়া নামের ওই নারী পচিশমাইল এলাকায় ফারুক হোসেন নামের এক ব্যাক্তির বাড়িতে একটি কক্ষে বিনা ভাড়ায় বসবাস করেন। ওই নারীর প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অর্থ দিয়ে পচিশ মাইল বাসস্ট্যান্ডের কাছে বসতিপূর্ণ এলাকায় ৪ শতাংশ জমির দখলস্বত্ব কিনে দিয়ে ঘর নির্মাণ করে দেন। সেই ঘরটির নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। বুধবার সকালে বন বিভাগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে সুমাইয়া নামের ওই নওমুসলিম নারীর ঘরটি ভেঙে দেয়।

সুমাইয়া শেখ জানান, ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় এখন একেবারে অসহায়। বর্তমা‌নে একজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছি। স্থানীয় বাসিন্দারা অনুদান ও যাকাতের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করায় বাড়িটি করা সম্ভব হয়েছিল। নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় এখনো আমি ওই ঘরে উঠতে পারিনি। বুধবার সকালে বনবিভাগের লোকজন সেনাবাহিনী নিয়ে এসে আমার ঘর ভেঙে ফেলে। ঘরে বেড়া চাল দা, শাবল, কুড়াল দিয়ে কেটে নষ্ট করে ফেলে।

তিনি আরো বলেন, কোনো প্রকার নোটিশ দেওয়া হয়নি। ঘর করা যাবে না বা ঘর সরিয়ে নিন এমন কোনো বার্তাও কেউ কখনো দেয়নি। হঠাৎ করেই বুধবার সকালে আমার ঘর ভেঙে দেয় বনবিভাগ। আমি এর ক্ষতিপূরণ চাই। চারদিকে শতশত বাড়ি ঘর। আমার ওপর এই নিষ্ঠুরতার বিচার চাই।

এদি‌কে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা আসরের নামাজের পর থেকেই জলছত্র থেকে পচিশমাইল এলাকা পর্যন্ত বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। মাগরিবের আগে পচিশমাইল এলাকায় সমাবেশ শেষে বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা।

সমাবেশে বক্তব্য দেন, বিএডিসি মসজিদের ইমাম ইব্রাহীম তকী, মুফতি আরিফ আদনান, পচিশমাইল জামে মসজিদের খতিব আব্দুল বাছেদ, মুফতি মাসুম বিল্লাহ, ব্যবসায়ি আব্দুল মজিদ, আব্দুস সামাদ খান, আবু হানিফ, হাফেজ সোহাইল আহমেদ প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে সড়কেই তারা মাগরিবের নামাজ আদায় করেন।

এই অবরোধের ফলে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ হয়ে চলাচলকারি সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। সড়কের উভয় প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এ বিষ‌য়ে গাছাবাড়ী বিটের বন কর্মকর্তা আব্দুল কদ্দুছ জানান ,রেঞ্জ অফিস থেকে বলেছে তাই উচ্ছেদ অভিযানে গিয়েছি। নতুন এসেছি এর বেশি কিছুই জানিনা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. এপ্রিল ২০২৫ ০৭:৩৩:পিএম ১ বছর আগে
বিবিএফসি-২৫, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গান গাইবেন নগর বাউল “জেমস” - Ekotar Kantho

বিবিএফসি-২৫, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গান গাইবেন নগর বাউল “জেমস”

আরমান কবীর/সাহান হাসানঃ আগামী ৩১মে (শনিবার) টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২৫ (বিবিএফসি) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গান গেয়ে দর্শকদের মাতাবেন নগর বাউল ব্র্যান্ডের রক তারকা জেমস।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান, বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৫ এর চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক মিয়া।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান খান, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট আলী ইমাম তপন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদ হক সানু, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন দুরন্ত-১৬ ব্যাচের অসিফ তুষার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০১৬ সালে বিন্দুবাসিনীর ২০০৮ সালের এসএসসি ব্যাচের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এই বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন শুরু করা হয়। এ বছর এই চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক হচ্ছে দুরন্ত-১৬ (এসএসসি ব্যাচ-২০১৬)। এবারের আসরে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের মোট ২৫টি দল অংশগ্রহণ করবে।

লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, আগামী ৩১মে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্য দিয়ে বিবিএফসি-২০২৫ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে । ঈদুল আজহার পরবর্তী তিনদিনব্যাপী এই টুর্নামেন্ট চলবে। টুর্নামেন্টের সমাপ্তি হবে চূড়ান্ত পর্ব ও জমকলো সমাপ্তি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. এপ্রিল ২০২৫ ০২:০০:এএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলে প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে প্রেমিকের আত্মহত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে প্রেমিকের আত্মহত্যা

আরমান কবীর টাঙ্গাইলে প্রেমিকাকে(২৫) ভিডিও কলে রেখে এক কিশোর প্রেমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরকিয়া প্রেমের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন উত্তরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই প্রেমিকাকে গাছে বেঁধে রাখে স্থানীয়রা । পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তানভীর আহমেদ।

নিহত ঐ কিশোরের নাম রাসেল মিয়া (১৬)। সে দরুন উত্তর পাড়া এলাকার মোঃ চাঁন মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। রাসেল পেশায় একজন অটোরিকশা মেকানিক ছিল।

স্থানীয়রা জানায়,প্রেমের সম্পর্ক ছিল রাসেল ও স্থানীয় মারিয়ার মধ্যে। মারিয়ার বিয়ে হয়ে গেছে এক প্রফেসরের সঙ্গে এবং একটি ছেলেও আছে তাদের। এদিন হঠাৎ সকাল ১১টার সময় খবর পাই রাসেল আত্মহত্যা করেছে। তখন মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে দেখতে পাই মারিয়ার সঙ্গে কথোপকথন।

রাসেল ও মারিয়ার মধ্যে ঝগড়া চলছিল মনে হয়। রাসেল আত্মহত্যা করার সময় মারিয়ার সঙ্গে কথাও বলেছে। আত্মহত্যার বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। অপরদিকে, প্রেমিকা মারিয়াকে এলাকাবাসী আটক করে গাছের সঙ্গে বেধে রাখে।

নিহতের পিতা চাঁন মিয়া জানান, তিনি ঈদ উপলক্ষে তার বড় ছেলের শশুর বাড়ী ঘাটাইল বেড়াতে গিয়েছিলেন। টাঙ্গাইলের অন্য একটি বাড়িতে তার স্ত্রী ও মেঝ ছেলে ছিল । ছোট ছেলে রাসেল একাই বাড়িতে ছিল। বুধবার সকালে তার মেঝ ছেলে বাড়ি গিয়ে রাসেলের ঘর ভিতর থেকে বন্ধ দেখে, বাহির থেকে ডাকাডাকি শুরু করে। রাসেলের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে তারা ঘরের খোলা জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে রাসেলকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলতে দেখে। পরে তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে ঘরের দরজা ভেঙে রাসেলকে সিলিং ফ্যান থেকে নামিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

তিনি আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে রাসেল অভিমান করে মঙ্গলবার বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিট থেকে বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে যে কোন সময় আত্মহত্যা করেছে।আমি এই ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছি।

টাঙ্গাইল সদর থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের পিতা চাঁন মিয়া বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩. এপ্রিল ২০২৫ ০২:৫৭:এএম ১ বছর আগে
মির্জাপুরে গুলি করে গরু ব্যবসায়ীদের ৭৮ লাখ টাকা লুট - Ekotar Kantho

মির্জাপুরে গুলি করে গরু ব্যবসায়ীদের ৭৮ লাখ টাকা লুট

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ডাকাতেরা গুলি করে গরু ব্যবসায়ীদের ৭৮ লাখ টাকা লুট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার(২২ মার্চ) সন্ধায় গোড়াই-সখীপুর আঞ্চলিক সড়কে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী গরু ব্যবসায়ীরা হলেন, রাজশাহীর পবা উপজেলার বিন্দারামপুর গ্রামের মোকসেদ আলীর ছেলে পিয়ারোল, একই এলাকার লিটন মিয়া, মনিরুল ও জেবেল মিয়া।

ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলে গরুর অন্যতম বৃহৎ হাট হচ্ছে মির্জাপুরের কাইতলা। শনিবার ছিল সাপ্তাহিক হাটবার। ভুক্তভোগী গরু ব্যবসায়ীরা বেচাবিক্রি শেষে সন্ধায় প্রাইভেট কারে হাট থেকে ফিরছিলেন। পথে নয়াপাড়া এলাকায় ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেল ও একটি মাইক্রোবাসে এসে ডাকাতেরা ব্যবসায়ীদের প্রাইভেট কারের গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। পরে ডাকাতেরা প্রাইভেট কারের গ্লাস ভেঙে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁদের সঙ্গে থাকা ৭৮ লাখ টাকাভর্তি দুটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এর পর খাটিয়ারহাট সড়ক দিয়ে তারা পালিয়ে যায় বলে গরু ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

খবর পেয়ে মির্জাপুর সার্কেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান মাহাবুব সিদ্দিকী ও মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন পুলিশের একাধিক টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা এ ব্যাপারে গরু ব্যবসায়ী ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।

গরু ব্যবসায়ী পিয়ারোল বলেন, ‘ডাকাতেরা গুলি ছুড়লে আমরা ভয় পেয়ে যাই। পরে অস্ত্র ঠেকিয়ে আমাদের ৭৮ লাখ টাকাভর্তি দুটি ব্যাগ নিয়ে চম্পট দেয়। খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে আসেন।’

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি )মো. মোশারফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করেছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. মার্চ ২০২৫ ০৫:২৯:এএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে কোটি টাকা আত্মসাৎ: ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে কোটি টাকা আত্মসাৎ: ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বেসরকারী সংস্থা সোনিয়া ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী সোনিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া লোক পাঠানোর নাম করে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ এর অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

রবিবার (১৬ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দুই ঘন্টা ব্যাপী ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি এমএম আলী কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট আজীম উদ্দিন বিপ্লব, ভাসানী পরিষদের খোদা-ই-খেদমতগারের হাসরত খান ভাসানী, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রকি হায়দার, জোবায়ের হোসেন প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বেসরকারি সংস্থা সোনিয়া ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী সোনিয়া আক্তার আস্ট্রেলিয়ায় ভালো বেতনে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জায়গার মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত অস্ট্রেলিয়া নিতে না পারায় ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে নানা তালবাহানা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সম্প্রতি সোনিয়া টাঙ্গাইল পৌরসভার সন্তোষ এলাকার সাজু মিয়ার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে গ্রেফতার করিয়েছেন। অবিলম্বে সাজুর মুক্তির দাবি জানান তারা। বক্তারা অনতিবিলম্বে সোানিয়াকে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানান মানববন্ধন থেকে।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে শহরের নিরালা মোড় হয়ে পুনরায় প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।

এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ করে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৭. মার্চ ২০২৫ ০৫:০২:এএম ১ বছর আগে
১৭ বছর পর নিজ জন্মভূমি টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু - Ekotar Kantho

১৭ বছর পর নিজ জন্মভূমি টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু

আরমান কবীরঃ দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজ জন্মভূমি টাঙ্গাইলে এসেছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান সদ্য কারামুক্ত আব্দুস সালাম পিন্টু।

রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১ টা ৩০ মিনিটে তিনি সড়ক পথে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল শহরের প্রবেশদ্বার নগরজলফৈ বাইপাসে পৌঁছালে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ তাঁকে স্বাগত জানায়।

এ সময় তাকে বহনকারী গাড়ি বহরে ফুলের পাপড়ি ছিটানো হয়। নগরজলফৈ বাইপাস থেকে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের আসার পথে তাকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তার টাঙ্গাইল আগমনকে কেন্দ্র করে জেলা শহর জুড়ে উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

পরে বিকেলে জেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে সদ্য কারামুক্ত বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টুর গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটি সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে সালাম পিন্টু বলেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে আমাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিল। দেশবাসী ও বিশেষ করে টাঙ্গাইলবাসির দোয়া ও ভালোবাসায় আজ আমি আমার জন্মভূমিতে জীবিত অবস্থায় ফিরতে পেরেছি। মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে আমি আজ আপনাদের মাঝে পৌঁছাতে পেরেছি। যতদিন জীবিত থাকবো- আপনাদের কল্যাণে আমি নিজেকে উৎসর্গ করলাম।

শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আয়োজিত সংবর্ধনা স্থলে প্রিয় নেতাকে দেখতে নেতাকর্মীসহ সাধারন মানুষের ঢল নামে। নানা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পৌর উদ্যান এলাকা। এ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন জায়গায় সাজানো হয়েছে তোরণ দিয়ে । লাগানো হয়েছে ব্যানার ও পোস্টার।

জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আযম খান, বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপি’র সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ওবায়দুল হক নাসির, জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধাা হামিদুল হক মোহন, জেলা বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল হক সানু প্রমূখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে আব্দুস সালাম পিন্টু দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত ও দোয়া পাঠ করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ০৪:০৩:এএম ১ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।