একতার কণ্ঠঃ ছোট্ট ফাহিমকে (৯) একা রেখে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন তার বাবা, মা ও বড়ভাই। একই পথের যাত্রী হয়েছেন তার খালাও।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি)দুপুরে ফাহিমদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে রাখা চারটি লাশের খাটিয়া। পাশেই সামাজিক কবরস্থানে চলছে কবর খোঁড়ার কাজ।
খবর পেয়ে ছুটে এসেছেন স্বজনরা। এসেছেন এলাকাবাসীসহ শুভাকাঙ্ক্ষীরা। কিছুক্ষণের মধ্যে রবিন মিয়া নামে একজন গোপালপুর থেকে ফাহিমকে বাড়ি নিয়ে আসলেন। উঠোনে চেয়ারে বসতে দেওয়া হল তাকে। ঘিরে ধরলেন স্বজনরা। কেউ একজন পাশে থেকে বাবা-মা আর ভাইয়ের কথা তাকে জিজ্ঞেস করলে জবাবে সে জানায়, ‘মা-বাবা আর ভাই ঢাকা গেছে। লাশ আনতে গেছে মানুষ।’
এতটুকুর বাইরে ফাহিমের মুখ থেকে আর কোনো কথা বের হচ্ছিল না। মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। চাচি শিউলী বেগম বুকে জড়িয়ে ঘরে নিয়ে গেলেন সদ্য এতিম ফাহিমকে।
বুধবার রাতে সাভারে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তার বাবা ফারুখ হোসেন সিদ্দিকী (৪৭), মা মহসিনা সিদ্দিকী (৩৬), বড়ভাই ফুয়াদ সিদ্দিকী (১৪) ও খালা সীমা খন্দকার (৩৮)। ফারুখ তার পরিবার নিয়ে থাকতেন ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের ভবনদত্ত গ্রামে। আর সীমা খন্দকারের বাড়ি পার্শ্ববর্তী উপজেলা গোপালপুরে।
নিহত ফারুখ হোসেন সিদ্দিকী ছিলেন ভবনদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার ছোটভাই মামুন সিদ্দিকী বলেন, তারা তিন ভাই একবোন। বোন সবার বড়। ইতালি প্রবাসী। বড়ভাই ফারুখ হোসেন সিদ্দিকীর বড় ছেলে ফুয়াদ সিদ্দিকী স্থানীয় ভবনদত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মেধাবী ছাত্র। শ্রেণিতে তার রোল দুই। ছোট ছেলে ফাহিম সিদ্দিকী গোপালপুর উপজেলায় এক মাদ্রাসায় হোস্টেলে থেকে হেফজ পড়ছে। ফুয়াদ হঠাৎ করেই কিছুদিন থেকে অসুস্থ। শরীরে রক্ত কমে যায়। তবে ডাক্তার বলেছেন থ্যালাসেমিয়া নয়।
মামুন আরও জানান বুধবার মায়ের সঙ্গে নানার বাড়ি গোপালপুরে যান ফুয়াদ। ওই রাতে হঠাৎ করে বাথরুমে গিয়ে পড়ে যায় ফুয়াদ। দ্রুত রাত ১১টার দিকে তাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তার মা মহসিনা সিদ্দিকা ও খালা সীমা খন্দকার। পথে ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন ফারুখ সিদ্দিকী। মামুন জানান, রাতে তার কাছে ফোন করে সবাইকে দোয়া করতে বলেন। এরপর আর কোনো কথা হয়নি।
নিহত ফারুখ সিদ্দিকীর আরেক সহকর্মী তার চাচাতো বোন সোমা সিদ্দিকা বলেন, ভাইয়ের সঙ্গে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফোনে কথা হয়। এরপর রাতে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের ব্যবহৃত ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে দুর্ঘটনার বিষয়টি জানান ঢাকায় পুলিশে কর্মরত নিহত সীমা খন্দকারের স্বামী।
নিহত ফারুক হোসেন সিদ্দিকীর আরেক সহকর্মী মো. রুবেল মিঞা বলেন, প্রধান শিক্ষক খুব নীতিবান ছিলেন। একজন নীতিবান মানুষের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এমন শিক্ষক আর হবে না। আমাদের সবসময় আগলে রাখতেন।
স্থানীয় দেওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন জানান, রাতে তিনি ফারুক সিদ্দিকীকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়ে বাড়ি আসেন। এক সঙ্গে চা পান করেছেন। তার ভাষ্য এলাকায় ফারুক সিদ্দিকীর মতো ভালো মানুষ আর হবে না। তার মৃত্যুতে কাঁদছে পুরো গ্রামের মানুষ।
প্রসঙ্গত, বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভারের ফুলবাড়িয়া পুলিশ টাউনের সামনে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স ও দুইটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন মারা যান।
একতার কণ্ঠঃ মিথ্যা ও হয়রানিমুলক মামলা বন্ধের দাবিতে টাঙ্গাইলে ছাত্র ফেডারেশনের পৌর শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বুধবার( ৮ জানুয়ারি)দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
ছাত্র ফেডারেশন টাঙ্গাইল পৌর শাখার আহ্বায়ক আদিবা হুমায়রার সভাপতিত্বে ও সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মুনঈমের সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, ছাত্র ফেডারেশন টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সভাপতি ফাতেমা রহমান বীথি, প্রচার সম্পাদক তাওহীদা ইসলাম স্বপ্নীল,দপ্তর সম্পাদক প্রেমা সরকার, পৌর শাখার সদস্য আনিক হাসান, শিশির,অভ্যুত্থানে আহত ছাত্র সাদী রহমান সাদ,মিথ্যা মামলার ভুক্তভোগী নিলয় আহমেদ, মিথ্যা মামলার ভুক্তভোগী তাওহীদ ইসলামসহ জেলা কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন- ২৪ এর অভ্যুত্থানের পর সারাদেশে আন্দোলনে যুক্ত থাকা সাধারণ ছাত্র-জনতার নামেও মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত অপরাধীরা মিথ্যা মামলার সুযোগ ব্যবহার করে পার পেয়ে যাচ্ছে। জুলাইয়ের স্পিরিট ধরে রাখতে হলে জুলাই অভ্যুত্থানে যারা গণহত্যার সাথে জড়িত তাদেরকে গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একতার কণ্ঠঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর ত্রাণ তহবিল হতে টাঙ্গাইল সদরের পশ্চিমের চরাঞ্চল কাকুয়া ও কাতুলী ইউনিয়নে অসহায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারী)রাতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ও কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ৭৫০ জন ছিন্নমূল ও অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো; আব্দুল্ল্যাহ -আল-মামুন, টাঙ্গাইল সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ডেপুটি নেজারত কালেক্টর মো. আল আমিন কবির প্রমুখ।
এ প্রসঙ্গে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আকতারুজ্জামান বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল হতে ১০ হাজার কম্বল বরাদ্দ পেয়েছিলাম। ১২ উপজেলায় ৫০০ করে ছয় হাজার বিতরণ করা হয়েছে। বাকিরা চার হাজার হতে কাকুয়া ও কাতুলী ইউনিয়নে অসহায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ৭৫০ টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,এছাড়াও শীতবস্ত্র কেনার জন্য সরকারিভাবে ১২ উপজেলায় তিন লাখ টাকা করে মোট ৩৬ লাখ ও পরবর্তীতে আরো ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া ১১টি পৌরসভার মধ্যে প্রথম শ্রেণির জন্য দুই লাখ করে, দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য দেড় লাখ করে ও তৃতীয় শ্রেণির জন্য এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চারাবাড়ি এলাকার সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সংসদের (এসডিএস) জমি থেকে রাতের আঁধারে ভেকু বসিয়ে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে।
ওই জমির দলিল বাতিলসহ আদালতে দু’টি মামলা চলমান থাকলেও প্রায় এক মাস যাবত মোজাম্মেল রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ডাম ট্রাক দিয়ে বিক্রি করছেন। এতে টাঙ্গাইল-তোরাপগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ভাবে মাটি বিক্রির বন্ধের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
জানা গেছে,গত ১২ মার্চ সদর উপজেলার বেলটিয়াবাড়ী গ্রামের মৃত আ. ছবুর প্রামানিকের ছেলে মো. ইসমাইল হোসেন সিরাজী বাদি হয়ে টাঙ্গাইলের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় শহরের দিঘুলিয়া এলাকার মৃত শামছুল হকের ছেলে মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সখীপুরের কচুয়া রোড আড়াইপাড়া গ্রামের মো. আনছার আলী ছেলে মো. নুরুল ইসলাম, সদর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের মো. ইমান আলীর ছেলে মো. আকবর আলী, মাগুরাটা গ্রামের মৃত আইন উদ্দিনের ছেলে মো. হাবিবুর রহমান, স্বদেশ রোড এলাকার মো. সুরুজ্জামানের ছেলে মো. জাকির হোসেনকে বিবাদি করা হয়। একই দিন মো. ইসমাইল হোসেন সিরাজী বাদি হয়ে আরেকটি একটি মামলা করেন। মামলায় শহরের দিঘুলিয়া এলাকার মৃত শামছুল হকের ছেলে মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সখীপুরের কচুয়া রোড আড়াইপাড়া গ্রামের মো. আনছার আলী ছেলে মো. নুরুল ইসলাম, শহরের পাতুলীপাড়া এলাকার মৃত কলিল উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে মো. ওস্তাগীর হোসেন, একই এলাকার মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে মো. মোকছেদ আলী ও স্বদেশ রোড এলাকার মো. সুরুজ্জামানের ছেলে মো. জাকির হোসেনকে বিবাদি করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার বেলটিয়াবাড়ী গ্রামের মৃত আ. ছবুর প্রামানিকের ছেলে মো. ইসমাইল হোসেন সিরাজী ইসলামিক রিসার্স ইনস্টিটিউটের (আই আর আই) প্রোপ্রাইটর ও মহাপরিচালক হিসেবে এবং স্যোসাল ডেভেলপমেন্ট সংসদ (এসডিএস) বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। যা এসডিএস নামে বেশি পরিচিতো। ১৯৮৯ সালের ২ মে প্রতিষ্ঠান রেজিষ্ট্রিকৃত হয়। প্রতিষ্ঠানটি বেকার যুবক/যুবতীদের কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে স্বাবলম্বী করা, কৃষি পনর্বাসন, পশু খামার, মৎস্য খামার, হাস মুরগীর খামার, শাক সবজি চাষসহ নানাভাবে প্রান্তিক সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করে আসছিলো। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন সিরাজী বিরুদ্ধে মামলা হলে তিনি কারাগারে যান। এ দিকে প্রতিষ্ঠানের কার্যকরী কমিটির মেয়াদ ১৯৯৯ সালে শেষ হওয়ার পর নতুন কমিটি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান সম্পদ লুট হয়।
২০১৫ সালে মো. নুরুল ইসলাম ইসলামিক রিসার্স ইনস্টিটিউটের মহা পরিচালক দাবি করে মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকের কাছে জমি বিক্রি করেন। মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক সাইনবোর্ডে উল্লেখ করেছেন ক্রয় সূত্রে তিনি ৮০০ শতাংশ জমির মালিক।
চারাবাড়ি এসডিএস এ সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, একটি ভেকু ও একটি ড্রাম ট্রাক পার্কিং করে রাখা হয়েছে। ড্রাম ট্রাক ও ভেকুর ৫০ মিটার দক্ষিণে মাটি কাটার প্রমাণ পাওয়া যায়।
পাহারায় থাকা রিপন আহমেদ জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত মাটি কেটে বিক্রি করা হয়। এখানে অনুমতি ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। তবে দিনে মাটি কাটা হয় না।
এসডিএসে প্রতিবেদন করতে গেলে মোজাম্মেলের লোকজন এই প্রতিবেদকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যামেরা বন্ধ করতে বলেন, পরে মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, আমি রেজিষ্ট্রিকৃত জমি থেকে মাটি কাটছি। ইতিপূর্বে ১৪৪ ধারার মামলা হলে আদালত সেটিকে খারিজ করে দেয়। আমার এই এসডিএসের ভিতরে ছবি তুলতে হলে অনুমতি নিয়ে ছবি তুলতে হবে।
টাঙ্গাইল জজ কোর্টের আইনজীবী মালেক আদনান বলেন, জমিতে মামলা চলমান থাকলে কোন পক্ষ তা ভোগ বা মাটি কাটতে পারবে না।
এদিকে এসডিএসর ম্যানেজার মমিউর রহমান বলেন,মোজাম্মেল মিয়া আওয়ামীলীগ সরকারের সময় থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জমি দখল করে মাটি কাটতেছে ,আমরা পুলিশ প্রশাসন এবং আদালতে মামলা করেছি, কোন সুরাহ পাচ্ছি না। জোরপূর্বক মাটি কাটতেছে মোজাম্মেল।
এবিষয়ে এসডিএসের গ্রাহক সমিতির সভাপতি সালাম চাকলাদারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এখানে মোজাম্মেল হক আওয়ামীলীগের সরকার আমলে জোর করে যায়গা দখল করে নেন। যেটা সম্পূর্ণ অবৈধ। তার জমি এটা মামলায় টিকবেনা দেখেই সে সেখান থেকে রাতের আধারে মাটি কেটে বিক্রি করছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার(৭ জানুয়ারি )বেলা ১১ টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৫ শতাধিক মানুষের মাঝে এ কম্বল বিতরণ করা হয়।
সাকসু’র সাবেক জিএস চিত্তরঞ্জন দাস নুপুরের সভাপতিত্বে বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এডঃ আলী ইমাম তপন, সাবেক সহ-সভাপতি সাদেকুল আলম খোকা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আমরা শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করছি । শেখ হাসিনা বলে বেড়াতো তিনি পালান না তবে তিনি ভারতের পালিয়ে জীবন বাঁচিয়েছে।বক্তারা হাসিনার কঠিন বিচার দাবী করেন।
জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউল হক শাহিনের অর্থায়নে এ কম্বল বিতরণ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন মানববন্ধনে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) সকালে শহরের পার্ক বাজার মোড়ে ঘন্টা ব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।এই মানববন্ধনে বিপুল সংখ্যক বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সম্রাট পাহলী, টাঙ্গাইলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী ইসরাত জাহান ইতি, পৌর মৎস্যজীবী ব্যবসায়ী সমিতি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন রানা, জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য এম আমিনুল হক,এনামুল হক মনি পাহেলী, আশরাফ পাহেলীর বোন শম্পা পাহেলি, মোঃ শরিফুল ইসলাম প্রমূখ।
মানববন্ধন বক্তারা বলেন, বিএনপি নেতা আশরাফ পাহেলী একদিনে তৈরি হয়নি। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের পরীক্ষিত নেতা আশরাফ পাহেলী। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার মাত্র এক ঘন্টা আগেও পাহেলী বাসায় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
বক্তারা আরোও বলেন, সম্প্রতি টাঙ্গাইল জজ কোর্টে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা একটি মামলার ঘটনায় আশরাফ পাহেলীকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন মানববন্ধনে অপপ্রচারের চালানো হচ্ছে। মামলায় বাদী জয়নাল আবেদিন আশরাফ পাহেলীর রাজনৈতিক সহকর্মী। তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহত হয়েছেন। এবং এর বিচার চেয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আমাদের জানা মতে, তিনি যাদের নামে মামলা করেছেন তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আমরা এই মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে সেই সব মিথ্যা অপপ্রচার কারীদের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় তাঁদের বিরুদ্ধে মানহানীর মামলা দায়ের করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে দ্রুতগতির বিনিময় বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাইফুল ইসলাম (২১) নামে এক কলেজ ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার দিগর ইউনিয়নের আঠারোদানা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফুল ঘাটাইল উপজেলার দিগর ইউনিয়নের আঠারোদানা এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে। সাইফুল কালিহাতীর শাহজান সিরাজ কলেজের ছাত্র ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের বন্ধু মোটরসাইকেল আরোহী শাহীনুর (২০) গুরুতর আহত হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার বিকালে দুই বন্ধু চাচাত ভাইয়ের মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হন। এ সময় বাড়ির কাছেই টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে ঢাকাগামী বিনিময় বাসের সাথে মোটরসাইকেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের থাকা সাইফুল মাথা থেতলে মৃত্যু বরণ করে।
পরে মোটরসাইকেলের অপর আরোহী শাহীনকে স্থানীয়রা উদ্ধারকরে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তার ডান হাত ভেঙে গেছে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,মোটরসাইকেলের সাথে অজ্ঞাত একটি বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছেন । এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে রবিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ছাত্রদল জেলা শাখার পক্ষ থেকে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কোরআন তেলাওয়াত, দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দলীয় সংগীত গাওয়া এবং কবুতর মুক্ত করে দিনের কর্মসূচি শুরু করা হয়।

পরে একটা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। শোভা যাত্রায় ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীসহ সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে।
পরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক দুর্জয় হোড় শুভ‘র সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন, বিএনপি’র ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো,জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল ও জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এম এ বাতেন প্রমুখ।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলি, যুবদলের আহবায়ক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলাম ঝলক
জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক মনির প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচার আন্দোলন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ছাত্রদল বাংলাদেশের গনতন্ত্র রক্ষায় অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মী শাহাদতবরণ করেছে। আর আন্দোলনের মুল দায়িত্ব পালন করেছে বিএনপি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র করে লাভ হবেনা। ছাত্রদল সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। এর জন্য নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহবান জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান তোতার বাসায় রাতের আধারে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মালামাল ও নগদ অর্থসহ চুরি যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গত বুধবার (১ জানুয়ারি) ভুক্তভোগীর মেয়ে শাহনাজ আক্তার তৃষ্ণা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মঙ্গরবার দিবাগত রাতে দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের শুভকী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শাহনাজ আক্তার তৃষ্ণা উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের শুভকী গ্রামে চাঁন মিয়ার স্ত্রী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান তোতার মেয়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার শুভকী গ্রামে তার বাড়িতে প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে তার ভাগনী জামাই সজীব ঘরের দরজা-জানালা ভালভাবে আটকিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রাতের যেকোন সময় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা উক্ত বাড়ি-ঘরের দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে ঘরে রাখা আলমারীর তালা ভেঙ্গে আলমারীতে রাখা নগদ ১ লাখ সত্তুর হাজার টাকা এবং ১ ভরি ৫ আনা ওজনের স্বর্ণের গহনা (যার মূল্য অনুমান ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা) নিয়ে যায়। অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা চলে যাওয়ার সময় উক্ত ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখে যায়। তার ভাগনী জামাই ও ভাগনী শব্দ পেয়ে ঘুম থেকে উঠে দেখে যে, ঘরের দরজা এবং ঘরের আলমারী খোলা। আলমারীতে রাখা উক্ত টাকা এবং গহনা অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা নিয়ে গেছে। পরে শাহনাজ আক্তার তৃষ্ণা বুধবার (১ জানুয়ারি) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রতিবেশী সামেদা আক্তার, রাশেদা বেগম, নুরুল ইসলাম ,মো. আফজাল হোসেনসহ অনেকেই জানায়, আযান দেওয়ার আধঘন্টা পুর্বে মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান তোতার বাড়িতে হাউমাউ করার শব্দ পেয়ে তারা এগিয়ে যান। পরে দেখেন স্টিলের আলমারী ও সুকেচ ভাঙা। ওই বাড়িতে বেড়াতে আসা আলতাফ হোসেন নামের এক ব্যক্তি জানান, মুক্তিযোদ্ধার ছেলে আরিফ তার খালাতো ভাই। কিছুদিন পুর্বে তার খালাতো ভাই আরিফ ৩ লাখ টাকা ধার করেন। সেই ধারের টাকার জন্য বাড়িতে সাইনবোর্ড লাগিয়েছে পাওনাদার। পাওনাদারের টাকা পরিশোধ করার জন্য তিনি গরু বিক্রি করে ১ লাখ সত্তুর হাজার টাকা নিয়ে এসেছেন।
মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে ও মামলার বাদী শাহনাজ আক্তার তৃষ্ণা বলেন, তার ভাই সম্প্রীতি ৩ লাখ টাকা সুদ করেন। সেই টাকার জন্য সুদ কারবারীরা আদালতে মামলা দায়ের করেন। ইতোমধ্যে তিনি ওই সুদকারবারীকে কিছু টাকা পরিশোধ করেছেন। সাকুল্য টাকা দিতে না পারায় তাদের বাড়িতে ওই সুদ কারবারীরা সাইনবোর্ড লাগায়। ওই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য আমার খালতো ভাই আক্তার হোসেন গরু বিক্রি টাকা নিয়ে আসছিলো। সেই টাকা ও আমাদের স্বর্ণ অলংকার গুলো চুরি করে নিয়ে যায়। এঘটনায় তিনি দেলদুয়ার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোয়েব খান বলেন, ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত পুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঝটিকা মিছিল করায় অভিযান চালিয়ে ২জন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ জানুয়ারি)দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের সভাপতি আশিক হাসান মুন্না(২৩) ও যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক রাহাত,(১৯)।
জানা গেছে, শনিবার ভোরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মীর ওয়াছেদুল হক ওরফে তানজীলের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী শহরের নিরালা মোড় থেকে ঝটিকা মিছিল করেন। পরে শহরের মেইন রোডে অবস্থিত জেলা আওয়ামী কার্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন করে তারা ।শনিবার রাতেই অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকাল ৭ টার দিকে নিরালা মোড় এলাকা থেকে ঝটিকা মিছিলটি বের করা হয় । পরে তারা মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের অফিসের দিকে যায়। পরে সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে চলে যায়। মীর ওয়াছেদুল হকসহ মিছিলে অংশ নেওয়া অনেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের টাঙ্গাইল শহর শাখার নেতাকর্মী। তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা রয়েছে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তারা আত্মগোপনে আছেন।
এ প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টাঙ্গাইলের সমন্বয়ক আল আমিন বলেন, ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যায়িত। সেই দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ কখনও কোনো কর্মকাণ্ড করতে পারবে না। এ বিষয় সরকারের কঠোর নজরদারি রাখা উচিত।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উচিত এ নিষিদ্ধ দলের সন্ত্রাসীরা যে যেখানেই লুকিয়ে থাকুক তাদের প্রত্যেককে দ্রুত গ্রেপ্তার করা। তা না হলে এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)তানবীর আহমেদ জানান ,পুলিশের বিশেষ অভিযানে শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পৌর এলাকা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দুজনের নামে মামলা রয়েছে।
তিনি আরো জানান,রবিবার (৫ জানুয়ারি) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ঝটিকা মিছিল ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) ভোরে টাঙ্গাইল শহরে নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচি পালন করে।

জানা গেছে, শনিবার ভোরে টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র নিরালার মোড় থেকে মিছিলটি বের করে নিষিদ্ধ সংগঠনটি। মিছিলটি নিরালার মোড়ে হয়ে মেইন রোডের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে গিয়ে পূণরায় ঘুরে জগলু রোডের দিকে চলে যায়। ‘জয় বাংলা’স্লোগান দিয়ে মিছিলটি বের করলেও বেশিক্ষণ শহরে অবস্থান করতে পারেনি তারা।এর আগে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়াসহ মিছিলের নেতৃত্ব দেয় শহর ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়ারেছুল হক তানজীল। কর্মসূচিতে ৮ থেকে ১০জন নেতাকর্মীউপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে।
এ দিকে নিষিদ্ধ সংগঠনের হঠাৎ কর্মসূচি পালনে হতবাক টাঙ্গাইল শহরের সাধারণ মানুষ। এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে জেলায় ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ছাত্র ফেডারেশনের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ফাতেমা রহমান বিথী তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগের মিছিল ও পুষ্পস্তবক অর্পণের ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘টাঙ্গাইল ছাত্রলীগের আজকের মিছিল এটা। শহর ছাত্রলীগের সভাপতি তানজীলসহ বাকি গুন্ডা বাহিনী দিব্যি ঘুরে বেড়ায়, উদ্যানে এসে মুড়ি খেয়ে যায়। তাহলে টাঙ্গাইলের প্রশাসন আসলে কি করে?
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুরো শহরে টহল দেওয়া হয়েছে। তবে নিষিদ্ধ সংগঠনের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য,গত ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর জেলায় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এই ধরনের কর্মসূচি এই প্রথম পালন করা হলো।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের ধলাটেঙ্গর এলাকার ৫ নম্বর রেল ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন- ধলাটেঙ্গর এলাকার নিলু মণ্ডল ও তার স্ত্রী কল্পনা রানী মণ্ডল।
নিহতের পরিবারের লোকজন জানান, সকালে উপজেলার রৌহা গ্রামে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বাড়ি ফিরছিলেন ওই দম্পতি।
পথে ধলাটেঙ্গর ৫ নম্বর রেল ব্রিজের কাছে রেললাইন পার হওয়ার সময় উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
যমুনা সেতু পূর্ব ইব্রাহীমাবাদ স্টেশন মাস্টার শাহীন মিয়া দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,ঘটনার পরপরই মরদেহ দুটি পরিবারের লোকজন নিয়ে গেছেন।