আরমান কবীরঃ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের টাঙ্গাইল জেলা শাখার নেতা সোহেল আনসারীকে (৪০) ঢাকা মহানগর আ’লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগরী গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের একটি দল।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত সোহেল আনসারী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের করটিয়া কলেজ পাড়া এলাকার নূর মিয়া আনসারীর ছেলে।
সোহেল টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ্জাহান আনসারীর ভাতিজা। শাহ্জাহান আনসারীকে গত বছরের ১০ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বিকালে পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুরের উত্তর ছায়া-বীথি এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় গাজিপুর জেলা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার তালেবুর রহমান জানান, টাঙ্গাইলের করটিয়ায় অবস্থিত সরকারি সা’দত কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল আনসারীকে (৪০) ঢাকা মহানগরী গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের একটি দল মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল আনসারী ঢাকা মহানগরীর আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণ করতে এসেছেন বলে স্বীকার করেন। এছাড়াও তার নামে টাঙ্গাইল জেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরমান কবীরঃ ফিলিস্তিনের গাজা ও রাফায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর গণহত্যার প্রতিবাদে দিনব্যাপী বিক্ষোভে উত্তাল ছিল টাঙ্গাইল শহর।
সোমবার (৭ এপ্রিল) বৈশ্বিক ধর্মঘট কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে টাঙ্গাইলে দিনব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
দুই হাজারের বেশি ছাত্র-ছাত্রী সোমবার সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ফিলিস্তিনের গাজায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। পরে উপস্থিত পথচারীদের মাঝে ফিলিস্তিনের ওপর নৃশংসতার কথা ব্যক্ত করেন তারা।
পরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব চত্বর থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের ময়মনসিংহ রোড হয়ে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এসে শেষ হয়।
মিছিলের ধ্বনি ছিল ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহ্ আকবার, মুসলিমদের ওপর অত্যাচার বন্ধ হউক, ইহুদিরা নিপাত যাক। বিশাল এই মিছিলটি টাঙ্গাইলের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার ব্যানারে আয়োজন করা হয়।
সোমবার বাদ জোহর একই দাবিতে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখা ও জেলা ইমাম মোয়াজ্জেম সমিতি। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়।
এরপর বিকালে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখার পক্ষ থেকে একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
একই দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ সমাবেশে করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন টাঙ্গাইল জেলা শাখা ও সৃষ্টি একাডেমিক স্কুল। এই মিছিলে সহস্রাধিক ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে।
আরমান কবীরঃ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের টাঙ্গাইল জেলা শাখার নেতা সাদ্দাম হোসেন (৩০) ওরফে স্বাক্ষর রাজধানী ঢাকার উওরায় পুলিশের এক মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।
বুধবার (২ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন সোনারগাঁও রোডের জমজম টাওয়ারের সামনে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত সাদ্দাম হোসেন টাঙ্গাইল পৌর শহরের পূর্ব আদালত পাড়া এলাকার এডভোকেট মকবুল হোসেন চৌধুরীর ছেলে।
স্বাক্ষর টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুঞাপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির ও তার বড় ভাই টাঙ্গাইল শহর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্যও ছিলেন।
তার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় ধারা-৩৬ (৫) মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানায় উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভির আহমেদ জানান, গ্রেপ্তারের বিষয়টি আমি অবগত নই।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ আগষ্ট বড় মনিরের সাথে টাঙ্গাইল শহরের বড় কালী রোডে ছাত্র জনতার উপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় স্বাক্ষর। গত ৫ আগষ্টের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। স্বাক্ষর ছাত্র জনতার উপর হামলার মামলায় অভিযুক্ত আসামী।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাবুল আহমেদ (১৮) নামের এক টিকটকার নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঢাকা-সখীপুর আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার দেওদীঘি বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বাবুল জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার দক্ষিণ দরিয়াবাদ এলাকার মন্তাজ শেখের ছেলে। সখীপুরে তিনি অপর টিকটকার বন্ধু রবিউলের বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে টিকটক ভিডিও করার সুবাদে বাবুল ও সখীপুরের রবিউল নামের এক যুবকের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শনিবার বাবুল ইসলামপুর থেকে সখীপুরে মোটরসাইকেল নিয়ে বেড়াতে আসেন। তাঁরা কয়েকজন বন্ধু মিলে পাঁচটি মোটরসাইকেল নিয়ে উপজেলার হাতীবান্ধা তালিম ঘরে বেড়াতে যান। পরে সেখান থেকে সন্ধ্যায় তাঁরা বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে সখীপুরে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বাবুলের মোটরসাইকেলটি দেওদীঘি বাজারে এসে প্রথমে একজন পথচারী এবং পরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ধাক্কা দেয়। তাতে ঘটনাস্থলেই বাবুল নিহত হন। এ সময় পথচারী ও এক অটোরিকশাযাত্রী গুরুতর আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, বাবুলের মরদেহ থানা হেফাজতে রেখে তাঁর পরিবারকে খবর পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও অভিভাবকেরা উঠতি বয়সী যুবকদের হাতে দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তুলে দিচ্ছেন। ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এসব দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কটুক্তি ও অশোভন কার্টুন পোষ্টের জেরে গণপিটুনির শিকার হয়েছে এক হিন্দু যুবক। বর্তমানে এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ওই যুবককে উদ্ধার করে প্রথমে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে নিরাপত্তা জনিত কারণে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রবিবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে দেলদুয়ার সদর উপজেলার দেলদুয়ার দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃত ওই যুবকের নাম অখিল চন্দ্র মন্ডল (৪০)। সে দেলদুয়ার সদর উপজেলার দেলদুয়ার দক্ষিণ পাড়া এলাকার গেদু চন্দ্র মন্ডলের ছেলে। সে পেশায় একজন স্বর্ণকার।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কটুক্তি ও অশোভন কার্টুন পোস্ট করে উপজেলা সদর ইউনিয়নের দেলদুয়ার দক্ষিণ পাড়া এলাকার গেদু চন্দ্র মন্ডলের ছেলে অখিল চন্দ্র মন্ডল নামের এক হিন্দু যুবক। পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ বিক্ষুব্দ হয়ে ওঠেন। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ওই যুবকের নিজ কর্মস্থল দেলদুয়ার দক্ষিণ পাড়া বাজারের জুয়েলারী দোকানে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চায় ওই যুবকের কাছে। পরে চারপাশের অবস্থা উত্তপ্ত দেখে অভিযুক্ত অখিল পাশের আরেকটি দোকানে আশ্রয় নেয়। এসময় বিক্ষুব্ধ জনগণ তার বিচার চেয়ে দোকানটির চারপাশ ঘিরে রেখে স্লোগান দিতে থাকে।
খবর পেয়ে দেলদুয়ার থানা পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীকেও জানানো হয়। এরমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহমেদ ঘটনাস্থলে পৌছে সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এসময় সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিক্ষুব্ধ জনতা ওই যুবককে দোকানের ভিতরে ঢুকে গণপিটুনি দিতে শুরু করে।
এ সময় পুলিশ সদস্য ও উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আজাদ মিয়া জনতার হাত থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে সিএনজিতে তুলে দেন। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ওই যুবককে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে গণপিটুনিতে আহত ওই যুবক টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ নিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানায় এবং স্লোগান দিতে থাকে।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহমে তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে যতদ্রুত সম্ভব সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল হক হাওলাদার জানান, অভিযুক্ত ওই যুবককে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে সে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার (৭ এপ্রিল) সকালে তাকে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ ওরফে আমান উল্যাহকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ।
শনিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় উপজেলার কাগমারী পাড়া এলাকায় অবস্থিত তার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আমানউল্যাহ উপজেলার বাহাদীপুর গ্রামের হাসান আলীর ছেলে।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কাগমারী পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ধান খেত থেকে ফজিলা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পারখী ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ মাঝিপাড়া গ্রামের একটি ধান খেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে।
মৃত ফজিলা বেগম উপজেলার আউলিয়াবাদ মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত চান মাহমুদের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে মেয়েরা ফজিলা বেগমকে ডাকাডাকি করে। কিন্তু তারা কোনো সাড়াশব্দ পায়নি। ওই সময় ঘরটির দরজা ও জানালা বন্ধ ছিল।
সকাল ৮টার দিকে ঘরে না পেয়ে মেয়েরা তাকে খুঁজতে থাকেন। পরে বাড়ির পাশের ধান খেতে মরদেহটি দেখতে পান। ওই সময় ফজিলা বেগমের মুখে কাঁদা মাখানো ছিল। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে তারা এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ফজিলা বেগমের স্বজনদের ধারণা, কোনো সংঘবদ্ধ চক্র ফজিলাকে হত্যা করে তার গলা, কানে ও হাতে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম বলেন, বৃদ্ধা ফজিলা বেগমের মুখে কাঁদা মাখানো চিল। তার একটি কান কাটা ছিল। নাক ও মুখ থেকে রক্ত ঝরছিল। ধারণা করা হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে পরকীয়া থেকে ফেরাতে না পেরে স্বামী জুয়েল রানাকে (৩৮) লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছেন স্ত্রী তানিয়া আক্তার।
শনিবার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার কালিয়ানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জুয়েল রানা ওই গ্রামের মজনু সিকদারের ছেলে। এ ঘটনায় জুয়েলের বাবা বাদী হয়ে সখীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৫ বছর আগে জুয়েল ভালোবেসে তানিয়াকে বিয়ে করেন। তাদের তিনটি সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর ভালোই চলছিল তাদের সংসারজীবন। সম্প্রতি জুয়েলের সঙ্গে এক নারীর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। কিন্তু এতেও তাদের সম্পর্ক বাদ যায়নি। উপায়ান্তর না পেয়ে শনিবার রাতে কাঠের টুকরা দিয়ে ঘুমিয়ে থাকা স্বামী জুয়েলকে মাথায় আঘাত করেন স্ত্রী তানিয়া। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান জুয়েল।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন স্ত্রী তানিয়া। এর সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছি। এ ঘটনায় জুয়েলের বাবা বাদী হয়ে সখীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে আসামিকে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পরকীয়া সন্দেহে মোবারক হোসেন খান নামের এক ব্যক্তির লিঙ্গ কেটে দিয়েছেন তার স্ত্রী মায়া খাতুন।
বুধবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের লোকেরপাড়া গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, উত্তর লোকেরপাড়া গ্রামের নুলু খানের ছেলে মোবারক হোসেন খান ও তার স্ত্রী মায়া দীর্ঘদিন ঢাকায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সম্প্রতি ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে আসেন তারা। কিছুদিন যাবৎ স্বামীর অন্য কোথাও অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এমন সন্দেহে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এরই জেরে বুধবার দিবাগত রাতে স্বামী-স্ত্রী একসাথে ঘুমানোর পর স্ত্রী মায়া খাতুন ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্বামী মোবারক হোসেন খানের লিঙ্গ কেটে দেয়। পরে তাকে মূমুর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্ত্রী মায়া জানান, দীর্ঘ ৫ মাস যাবৎ সে অন্য নারীর সাথে যোগাযোগ করে আসছে। আমি বার বার তাকে নিষেধ করলেও মানে না। আমি সহ্য করতে না পেরে এমনটি করেছি। তখন আমার মাথা ঠিক ছিলো না।
এদিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাটি নিয়ে কোন মামলা হয়নি। পারিবারিকভাবে মিমাংসার চেষ্টা চলছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আরমান কবীর/সাহান হাসানঃ আগামী ৩১মে (শনিবার) টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২৫ (বিবিএফসি) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গান গেয়ে দর্শকদের মাতাবেন নগর বাউল ব্র্যান্ডের রক তারকা জেমস।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান, বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৫ এর চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক মিয়া।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান খান, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট আলী ইমাম তপন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদ হক সানু, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন দুরন্ত-১৬ ব্যাচের অসিফ তুষার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০১৬ সালে বিন্দুবাসিনীর ২০০৮ সালের এসএসসি ব্যাচের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এই বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন শুরু করা হয়। এ বছর এই চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক হচ্ছে দুরন্ত-১৬ (এসএসসি ব্যাচ-২০১৬)। এবারের আসরে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের মোট ২৫টি দল অংশগ্রহণ করবে।
লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, আগামী ৩১মে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্য দিয়ে বিবিএফসি-২০২৫ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে । ঈদুল আজহার পরবর্তী তিনদিনব্যাপী এই টুর্নামেন্ট চলবে। টুর্নামেন্টের সমাপ্তি হবে চূড়ান্ত পর্ব ও জমকলো সমাপ্তি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।
মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীর টাঙ্গাইলে প্রেমিকাকে(২৫) ভিডিও কলে রেখে এক কিশোর প্রেমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরকিয়া প্রেমের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন উত্তরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই প্রেমিকাকে গাছে বেঁধে রাখে স্থানীয়রা । পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তানভীর আহমেদ।
নিহত ঐ কিশোরের নাম রাসেল মিয়া (১৬)। সে দরুন উত্তর পাড়া এলাকার মোঃ চাঁন মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। রাসেল পেশায় একজন অটোরিকশা মেকানিক ছিল।
স্থানীয়রা জানায়,প্রেমের সম্পর্ক ছিল রাসেল ও স্থানীয় মারিয়ার মধ্যে। মারিয়ার বিয়ে হয়ে গেছে এক প্রফেসরের সঙ্গে এবং একটি ছেলেও আছে তাদের। এদিন হঠাৎ সকাল ১১টার সময় খবর পাই রাসেল আত্মহত্যা করেছে। তখন মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে দেখতে পাই মারিয়ার সঙ্গে কথোপকথন।
রাসেল ও মারিয়ার মধ্যে ঝগড়া চলছিল মনে হয়। রাসেল আত্মহত্যা করার সময় মারিয়ার সঙ্গে কথাও বলেছে। আত্মহত্যার বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। অপরদিকে, প্রেমিকা মারিয়াকে এলাকাবাসী আটক করে গাছের সঙ্গে বেধে রাখে।
নিহতের পিতা চাঁন মিয়া জানান, তিনি ঈদ উপলক্ষে তার বড় ছেলের শশুর বাড়ী ঘাটাইল বেড়াতে গিয়েছিলেন। টাঙ্গাইলের অন্য একটি বাড়িতে তার স্ত্রী ও মেঝ ছেলে ছিল । ছোট ছেলে রাসেল একাই বাড়িতে ছিল। বুধবার সকালে তার মেঝ ছেলে বাড়ি গিয়ে রাসেলের ঘর ভিতর থেকে বন্ধ দেখে, বাহির থেকে ডাকাডাকি শুরু করে। রাসেলের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে তারা ঘরের খোলা জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে রাসেলকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলতে দেখে। পরে তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে ঘরের দরজা ভেঙে রাসেলকে সিলিং ফ্যান থেকে নামিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
তিনি আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে রাসেল অভিমান করে মঙ্গলবার বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিট থেকে বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে যে কোন সময় আত্মহত্যা করেছে।আমি এই ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছি।
টাঙ্গাইল সদর থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পিতা চাঁন মিয়া বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) বিকেলে উপজেলা বিএনপি’র আয়োজনে কালিহাতী উপজেলার পারখী ইউনিয়নের আমজানী ব্রীজ সংলগ্ন মাঠে এ দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
পারখী ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আনছার আলী শিকদারের সভাপতিত্বে ও ড্যাব নেতা ডা. শাহ আলম তালুকদারের আয়োজনে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ, টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের নায়েব আমীর অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, কালিহাতী পৌরসভার সাবেক মেয়র আলী আকবর জব্বার, টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক এ.কে.এম আব্দুল আউয়াল, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেল সভাপতি এসএমএ খালিদ, উপজেলা কৃষক দলের সাবেক আহবায়ক মোজাম্মেল হক হিরো, নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মহর আলী, ফিরোজ মিয়া, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রতন, সাবেক আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক।

এই ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।