আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের শেষ নির্বাচনী প্রচারণা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যান টাঙ্গাইল সদরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনী প্রচারণা মিছিল এসে পৌর উদ্যানে সমাবেত হয়।
পরে একটি বিশাল ও বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৌরউদ্যানে এসে শেষ হয়।
মিছিল পূর্ব সমাবেশে অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন,টাঙ্গাইলবাসীর ভালোবাসা ও সমর্থনে আমি অভিভূত। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ও পৌর সভার ১৮টি ওয়ার্ড থেকে থেকে আপনারা আখেরী মিছিলে অংশ নিতে এসেছেন—এ জন্য আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি আরও বলেন,আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে টাঙ্গাইলকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখলদারমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ শহর হিসেবে গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।
এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী পক্ষ বহিরাগতদের টাঙ্গাইলে প্রবেশ করিয়ে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ফরহাদ ইকবাল বলেন,আমার নেতাকর্মীদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করা হচ্ছে। তবে কেউ ভয় পাবেন না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমেই জনগণ এসব অপশক্তির জবাব দেবে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শহর বিএনপির সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান আলীম, সদর থানা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হাদিউজ্জামান সোহেল সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে টাঙ্গাইলে এমনভাবে পর্যটনশিল্প গড়ে তোলা হবে, যাতে আর চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার যেতে না হয়; বরং পর্যটকরাই টাঙ্গাইলে আসবেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের খোলাবাড়ি মাদরাসা মাঠ প্রাঙ্গণে ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগামী দিনে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ‘ভোট দেব ধানের শীষে, দেশ গড়ব মিলেমিশে’ স্লোগান বাস্তবায়নে তিনি কাজ করবেন। তিনি জানান, সম্প্রতি টাঙ্গাইলে নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমানের কাছে টাঙ্গাইলের উন্নয়নে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। তারেক রহমানও সব দাবি পুরণের আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইল সদরের একজন মানুষও যাতে বেকার না থাকে, সেভাবেই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। টাঙ্গাইলে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা গেলে দেড় থেকে দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এর অন্তত অর্ধেক চাকরি সদর উপজেলার মানুষের হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এতে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
চরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে টুকু বলেন, যমুনা তীরবর্তী এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর সেখানে একটি সুন্দর পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এতে অতিরিক্ত ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তখন চরের মানুষকে আর চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার যেতে হবে না; বরং বাইরের মানুষই টাঙ্গাইলে ভ্রমণে আসবে।
বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব দাবি বাস্তবায়ন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে টুকু বলেন, গতকাল একটি দলের প্রধান টাঙ্গাইলে এসেছিলেন, যাদের নাম জামায়াতে ইসলাম। কিন্তু টাঙ্গাইলের উন্নয়ন নিয়ে একটি কথাও বলেননি। জনগণের জন্য কী করতে চান, সেটাও স্পষ্ট করেননি তারা।
তিনি বলেন, মা-বোনদের কোরআন হাতে দিয়ে তারা ভোট চাইছে। ইমানদার লোক কখনো এমন করতে পারে না। এরা স্বাধীনতাবিরোধী, তাদের কর্মকাণ্ডও ইসলামবিরোধী। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেছেন, নীল নদের পানি যেমন নীল নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়।
টুকু আরও বলেন, টাঙ্গাইলকে সন্ত্রাস, কিশোরগ্যাং ও মাদকমুক্ত একটি নিরাপদ নগরে পরিণত করতে তিনি কাজ করবেন। যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সবাইকে নিয়ে একটি নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তোলা হবে বলে তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আরমান কবীরঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর হাত ধরে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতি মিলনায়তনে এই যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় তাদের বরণ করে নেন বিএনপি নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এ সময় সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলী গ্রামের শাহাদত খান, ফিরোজ, আতোয়ার খান, গোলাপ খান, মহির খান, নজরুল মেম্বার, আবু বক্কর সিদ্দিকীসহ শতাধিক নেতাকর্মী এ সময় বিএনপিতে যোগদান করেন।
নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা গামছা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। এবার সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর প্রতি আস্থা রেখে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে বিজয়ী করতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন।
যোগদান অনুষ্ঠানে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজিমুক্ত, কিশোর গ্যাংমুক্ত, নিরাপদ ও আধুনিক টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে কাজ করবেন।
এই যোগাযোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কাজী শফিকুর রহমান লিটন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুর আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আরমান কবীরঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চললেও টাঙ্গাইল জেলা তথ্য অফিসের কোনো প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ছে না। গণভোটকে কেন্দ্র করে বিস্ময়কর নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে জেলা তথ্য অফিস জুড়ে।
জেলার সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে গণভোটের হ্যাঁ ও না ভোটের আমেজ নির্বাচনী মাঠে উজ্জীবিত করা হোক।
ভোটগ্রহণের সময় ঘনিয়ে এলেও সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে মাইকিং, ডিজিটাল ডিসপ্লে,পোস্টারিং বা উঠান বৈঠকের মতো ন্যূনতম কার্যক্রমও শুরু করেনি সংস্থাটি। ফলে রাষ্ট্র সংস্কার তথা পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় জনমনে এক ধরনের অস্পষ্টতা ও অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে জেলা সদর ও জেলার ১২টি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখা গেছে, গণভোটের সমর্থনে বা তথ্য সম্বলিত কোনো ডিজিটাল ডিসপ্লে বা ব্যানার টাঙ্গাইল তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে স্থাপন করা হয়নি।
অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটারদের সচেতন করতে তৃণমূল পর্যায়ে এ দপ্তরের প্রচারণা চালানোর কথা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক ভোটার এখনও জানেন না গণভোটের ভোটদানের নিয়মাবলী। শুধুমাত্র ২-১টি স্থানে নির্বাচন কমিশনের বড় বড় ব্যানার টানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ধরেরবাড়ি গ্রামের আজমত আলী, সবদের মিয়া, মজনু প্রামাণিক, কোনাবাড়ি গ্রামের আমজাদ আলী সরকার ও নাছির উদ্দিন; কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুরের আজাহার তালুকদার, ময়ছের আলী, নাগবাড়ীর আকবর সওদাগর, রতনগঞ্জের লাবু মিয়া, হোসেন আলী, বল্লা গ্রামের মিন্টু মিয়া ও আব্দুস সামাদ; নাগরপুর উপজেলার ছলিমাবাদের আব্দুল হাকিম ও নওশের তালুকদার; মির্জাপুর উপজেলার ফতেহপুরের আরশেদ আলী ও জমির উদ্দিন; সখীপুর উপজেলার মাইধারচালা গ্রামের নসীব উদ্দিন ও কালোমেঘার জমির আলী; ধনবাড়ী উপজেলার মুসুদ্দীর আবুল কাশেম ও নাজমুল হোসেনসহ বিভিন্ন উপজেলার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গণভোট সম্পর্কে তথ্য অফিসের কোনো প্রচারণা তাদের চোখে পড়েনি।
প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে তা-ই জানেন না। তাদের কাছে হ্যাঁ ভোট বা না ভোট দিলে কী হবে সে প্রশ্ন তো অবান্তর। অনেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে অবগত হলেও গণভোট সম্পর্কে কোনো ধারণা রাখেন না।
স্ব স্ব স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, তথ্য অফিসের এই রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার কারণে সাধারণ ভোটাররা গণভোট বিমুখ হতে পারেন যা মোট ভোটদানের হারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে প্রচারণার অভাব প্রকট। রাজনৈতিক দলগুলো ও তাদের প্রার্থীরা স্ব স্ব প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালালেও গণভোটের বিষয়ে কোনো প্রচারণা নেই। ফলে রাষ্ট্র সংস্কারের ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে নেতিবাচকতা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা তথ্য অফিসের জনৈক কর্মচারী জানান, তারা মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে শুধুমাত্র দুই দিন সদর উপজেলার দুই স্থানে মাইকিং করার বাইরে কোনো প্রচারণার তথ্য তিনি দিতে পারেন নাই। তারা মাঠ পর্যায়ের প্রচারণার চেয়ে দাপ্তরিক কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
টাঙ্গাইল জেলা তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা তাহলিমা জান্নাত জানান, বিভিন্ন দপ্তর থেকে আসা নির্দেশনা অনুযায়ী তারা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছেন আলাদাভাবে, তারা কোনো বিশেষ প্রচারণা চালান না। তারা গণভোটের প্রচার-প্রচারণা তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেন। তবে দু’টি স্থানে মাইকিং ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে প্রচারণার তথ্য তিনি দিতে পারেননি।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকেই গণভোটের প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তারা ৩৬০টি বড় বড় ব্যানার ও এক লাখ ৮০ হাজার লিফলেট বরাদ্দ পেয়েছেন। ব্যানারগুলো প্রতিটি উপজেলা ও জেলা সদরে টানানো হয়েছে। লিফলেটগুলোও দ্রুতই জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে ‘গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার(১৪ জানুয়ারি) দিনব্যাপী টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে।
এতে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিণ্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ অংশগ্রহণ করে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্তের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।
রিসোর্স পার্সন হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব(উপ-সচিব) মো. আব্দুস সবুর।
কর্মশালায় ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকালীন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারে প্রেস কাউন্সিল প্রণীত আচরণবিধি প্রতিপালনের গুরুত্ব’ এবং ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চায় প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট-১৯৭৪ এর প্রয়োগ’ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এছাড়া সাংবাদিকদের জন্য অনুসরণীয় আচরণবিধি-১৯৯৩(২০০২ সালে সংশোধিত), তথ্য অধিকার আইন-২০০৯, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট অঅইন-২০১৪ এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন নয়- ঐক্যবদ্ধতা জরুরি। বিভাজিত জাতি সামনে এগিয়ে যেতে পারেনা। এজন্য ঐক্যবদ্ধার বিকল্প আমাদের সামনে নেই।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি স্বাধীন পেশা- এজন্য কোনো নির্দিষ্ট মিডিয়ায় সংযুক্ত না থেকেও ফ্রি-ল্যান্সার হিসেবে সাংবাদিকতা করা যায়, দেশের কল্যাণে কাজ করা যায়। সাংবাদিকদের জন্য প্রেসক্লাব বা কোনো সংগঠনে সংযুক্ত থাকার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই কিম্বা জরুরীও নয়।
ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় টাঙ্গাইলের প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন ও টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যরা অংশ নেন। পরে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জাতীয় পার্টির (জিএম কাদের) বিভিন্ন পর্যায়ের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
সোমবার(১২ জানুয়ারি )দুপুরে বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নির্বাচনী কার্যালয়ে যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় তাদের বরণ করে নেন বিএনপি নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এতে সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ আজাদ, হুগড়া ইউনিয়নের সাবেক সম্পাদক মফিজুর রহমান, ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ, মগড়া ইউনিয়নের সাবেক সাধারন সম্পাদক মাহবুব হাসান ৫ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিন্নাহ খানসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী যোগদান করেন।
বিএনপিতে যোগদান করা নেতাকর্মীরা জানান, জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করেছি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে নির্বাচিত করার জন্য। সকলেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে টুকুর জন্য কাজ করবো।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হারুণ অর রশীদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা।
গত ২৩ নভেম্বর দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন তাঁরা। অভিযোগটি বর্তমানে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)এর কাছে তদন্তাধীন রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পর ইউপি সদস্য মো. হারুণ অর রশীদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পে সুষম বণ্টন না করে নিজের ইচ্ছামতো প্রকল্প বাস্তবায়ন, কাজ না করেই প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, প্রকল্পের টাকা লুটপাট এবং নিজের পছন্দের ইউপি সদস্যদের দিয়ে পরিষদের যাবতীয় কাজ করানোর মতো নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এ ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বরাদ্দ কাজের অধিকাংশ তার ৬ নং ওয়ার্ডের করেছে বলে অভিযোগ করেছেন অধিকাংশ ইউপি সদস্য। ফলে তাদের এলাকাবাসীকে উন্নয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি পরিষদের অন্যান্য ইউপি সদস্যদের অবজ্ঞা করতে থাকেন এবং কাউকে তোয়াক্কা না করে একক সিদ্ধান্তে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এরই মধ্যে তিনি একটি অপহরণ মামলায় জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ওই মামলাটি স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসা করা হয় বলে দাবি করেছেন ইউপি সদস্যরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হারুণ অর রশীদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,ইউপি সদস্যরা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে অপসারণের দাবি তুলেছেন। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া বলেন,মগড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হারুণ অর রশীদের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের দেওয়া অনাস্থার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে এই অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল ।
আসাদুজ্জামান রুমেল জানান ,বিক্রয় রশিদ না থাকায় এবং অধিক দামে বিক্রি করার দায়ে সদর উপজেলায় করটিয়া ইউনিয়নের গড়াসিন বাজারে জামান ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা, একই ইউনিয়নের কুমুল্লি বাজারের আসমা ট্রেডার্সকে ১ লাখ টাকা এবং করটিয়া বাজারের আজাদ ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে কজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল বলেন, জেলায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক দামে বিক্রি করছে।
ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বাধ্য হয়ে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে তিন থেকে চারশো টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার সংগ্রহে বাধ্য হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যোক্তিক। প্রান্তিক পর্যায়ের ভোক্তারা যেন সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে পারে সে ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
অভিযানে সদর উপজেলার সেনেটারি ইন্সপেক্টর সাহিদা আক্তারসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন ।
আরমান কবীরঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াইয়ে পর পর চারটি যানবাহনের ধাক্কায় একটি প্রাইভেটকারের যাত্রী মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ফ্লাইওভারের পূর্বপাশে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হচ্ছেন- ফেনী জেলার জিসান কবির টিপুর স্ত্রী সাদিয়া কবির (৩৭) ও তাঁর ১০ মাস বয়সী কন্যা তাজরিয়া কবির পিয়ম।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিহত সাদিয়া কবির টাঙ্গাইলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে প্রাইভেটকারযোগে ঢাকার মিরপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মহাসড়কের গোড়াই ফ্লাইওভারের পূর্বপাশে পৌঁছালে তাদের বহনকারী সাদা রঙের (ঢাকা মেট্রো খ-১৩-০৪৩০) প্রাইভেটকারটি সামনে থাকা ঢাকাগামী (ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-৩৭৬৩) ট্রাককে ধাক্কা দেয়। ওই প্রাইভেটকারটিকে অপর একটি লাল রঙের (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪-৮৫৪৯) প্রাইভেটকার সজোরে ধাক্কা দেয়। অন্যদিকে পেছনে থাকা অপর একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৮২৩৮) লাল রঙের প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেয়।
এ ঘটনায় সাদা প্রাইভেটকারে থাকা যাত্রী মা ও মেয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে রেকারের মাধ্যমে মহাসড়ক থেকে গাড়িগুলো সরিয়ে নিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ট্রাকের ড্রাইভার পলাতক রয়েছেন।
এ বিষয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সোহেল সারোয়ার বলেন, চারটি পরিবহন পর্যায়ক্রমে ধাক্কা দেয়। এতে দুইজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ পৌষের মাঝামাঝি সময়ে কনকনে হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে টাঙ্গাইলের দিগন্ত।
বুধবার(২৪ ডিসেম্বর) ভোররাত থেকেই জেলা শহরসহ ১২টি উপজেলার পথ-ঘাট ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
এদিন, বুধবার সকাল থেকে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। কুয়াশার তীব্রতায় দৃষ্টিসীমা কমে আসায় চালকরা হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকগুলো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা দেরি করছে। মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
মহাসড়কে চলাচলকারী নাদের পরিবহনের চালক সুমন মিয়া জানান, ঢাকা থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন। মহাসড়কে ভোর থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কুয়াশা পড়েছে। ফলে গাড়ি চালাতে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। অতিরিক্ত ঘনকুয়াশার কারণে সামনে কি আছে তা সহজে বোঝাও যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
সিলেট থাকা আসা পাবনাগামী ট্রাক চালক আব্দুল মোমেন জানান, ঘন কুয়াশার কারণে সামনে কী আছে তা বোঝা মুশকিল হয়ে পড়েছে। ধীর গতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পূর্ব পর্যন্ত মহাসড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি। এ কারণে হেডলাইন জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
যমুনা নদীবেষ্টিত ভূঞাপুর ও কালিহাতী উপজেলার অংশে ঘন কুয়াশার কারণে নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যমুনা বহমুখী সেতু এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোও ধীরগতিতে যাতায়াত করতে দেখাগেছে।
কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও কৃষকরা। প্রচন্ড ঠান্ডায় বোরো ধানের চারা রোপণ ও সবজি ক্ষেতের পরিচর্যা করতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষি শ্রমিকরা। কৃষি বিভাগ থেকে কুয়াশাজনিত রোগবালাই থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের দেখা মিললেও কুয়াশার দাপট পুরোপুরি কমেনি।
যমুনা সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি জানান, অতিরিক্ত কুয়াশা থাকলেও স্বাভাবিক মতোই যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়া মহাসড়কে দুর্ঘটনারোধে সার্বক্ষণিক পুলিশ কাজ করছে।
টাঙ্গাইল আবহাওয়া অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যবেক্ষক জামাল উদ্দিন জানান, সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও গত কয়েকদিন ধরে অতিরিক্ত কুয়াশা পড়ছে। বুধবার টাঙ্গাইলে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি জানান, আগামি কয়েকদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এবং কুয়াশায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রিয়াদ খান (২৫) নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক এক কর্মীকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের মল্লিক মার্কেট এলাকার একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক রিয়াদ খান উয়ার্শী গ্রামের শহীদুজ্জামান খানের ছেলে। সে উয়ার্শী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক হাদিউজ্জামান জানান, রিয়াদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী। তার নামে এর আগেও একটি মারামারি মামলা রয়েছে। সেই মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। কোন মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বন্ধুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার(২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার কালমেঘা-নলুয়া আঞ্চলিক সড়কের বেলতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার কালিদাস পানাউল্লাহ পাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে লিখন আহমেদ (১৫), একই গ্রামের বল্লাচালা পাড়ার মইনুদ্দিনের ছেলে আবির হোসেন (১৫) ও একই গ্রামের ফুলঝুঁড়িপাড়ার প্রবাসী আব্দুর রউফের ছেলে সাব্বির হাসান (২০)।
নিহত লিখন ও আবির কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও নিহত সাব্বির এইচএসসি পাস করে বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কালমেঘা-নলুয়া সড়কের বেলতলী এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই মোটরসাইকেলের আরোহী পাঁচজনকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবিরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাকি চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে লিখন ও সাব্বির মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন আবির ও আরেকটি মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন সাব্বির হাসান। নিহত দুই বন্ধু আবির ও লিখন একই মোটরসাইকেলে ছিলেন।
কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বাদল বলেন, নিহত লিখন ও আবির আমার প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিহত সাব্বির আমার প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী। দুই মোটরসাইকেলের তিনজন নিহত হলেও কাকতালীয়ভাবে তাদের সবার বাড়ি উপজেলার কালিদাস গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, দুটি লাশ থানায় নেওয়া হয়েছে। আরেকটি লাশ ঢাকা থেকে সখীপুর আসছে। পরবর্তীতে আইনানুগ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।