/ হোম / এক্সক্লুসিভ
টাঙ্গাইল বাস মালিক সমিতিকে দলীয় কার্যালয়ের মতো ব্যবহার করছে বড়মনি - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল বাস মালিক সমিতিকে দলীয় কার্যালয়ের মতো ব্যবহার করছে বড়মনি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাস-মিনিবাস মালিক সমিতিকে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের মতো ব্যবহার করেছেন গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড়মনি। সমিতিকে দলীয়করণের মাধ্যমে সাধারণ শ্রমিক ও মালিকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাব অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সদস্যগণ।

তারা জানান, প্রতিদিন আনন্দ ভ্রমণের নামে ৫০ টাকার কুপন বানিয়ে সেই টাকা থেকে ৪০ টাকা ভ্রমণ খরচ দেখিয়ে ১০ টাকা করে তার নিজ পকেটে নিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মালিক সমিতির সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক বলেন, ২০১৩ সালের পূর্বে টাঙ্গাইল জেলা বাস মালিক সমিতি ও টাঙ্গাইল জেলা লাক্সারি মিনিবাস মালিক সমিতি নামে দুটি আলাদা পৃথক সমিতি শ্রম মন্ত্রণালয়ের রেজিস্ট্রেশন ছিল। তবে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাবে বড়মনি ও ছোট মনির দুটি সমিতিকে একত্রিকরণসহ রাজত্ব কায়েম করে। সর্বশেষ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড়মনি বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব করে অবৈধ ভাবে নতুন কমিটি গঠন করে দেন। যা এখনও বহাল আছে। জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড়মনি ছাত্র হত্যা ও একাধিক ধর্ষণ মামলার আসামী।

তিনি আরও বলেন, গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে বড় মনি ছাত্রদের ওপর প্রকাশ্যে গুলি ছোড়েন যা টাঙ্গাইলবাসীসহ সারাদেশের মানুষ দেখেছেন। আমরা এ দলীয়করণ বাদ দিয়ে একটি গঠন মূলক কমিটি চাই। বড় মনি ও ওই কমিটির নেতারা মোট ৮১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন, আমরা মালিকরা ওই টাকা ফেরত চাই।

সম্মেলনে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সদস্য সৈয়দ জাহিদুল হক, নিলুফার ইয়াছমিন খান, নজরুল ইসলাম খান, ছানোয়ার হোসেন ছানা, শহিদুর রহমান, রুমি ভূইয়াসহ অন্যান্য সদস্যরাসহ টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. অক্টোবর ২০২৪ ০২:২৫:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনে ১২শ’ রোগী পেল চিকিৎসাসেবা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনে ১২শ’ রোগী পেল চিকিৎসাসেবা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে গরীব ও দুস্থ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান ও ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দিনব্যাপী উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের কাশিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং এর দিকনিদের্শনায় এ ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।

জানা গেছে, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের অধিনস্থ ৯৮ সংমিশ্রিত ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ১৫ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স এবং ২৪ই বেংগল এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মেডিসিন, গাইনী এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়।

এ সময় ১ হাজার ১৭৫ জন গরীব ও দুস্থ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ এবং ৯৫ জন চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়।

ক্যাম্পেইন চলাকালে বঙ্গবন্ধু সেনানিবাসের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মামুনুর রশীদ পরিদর্শন করেন। এসময় সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভবিষ্যতেও ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন কার্যক্রম প্রশংসার দাবি রাখে। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ঔষধ ও চক্ষু রোগীরা চশমা পেয়ে আনন্দিত। তারা সেনাবাহিনীকে এ অঞ্চলের গবীর ও দুস্থ জনসাধারণের পাশে দাঁড়ানোসহ সার্বিক কল্যাণ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সক্রিয় ভূমিকা রাখার দাবি জানান।

কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রমজান মিয়া বলেন, ‘বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ পেয়ে মানুষ অনেক খুশি হয়েছেন। এ অঞ্চলের গরীব ও দুস্থ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও তাদের মাঝে ঔষধ বিতরণ করায় সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. অক্টোবর ২০২৪ ০১:৪১:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে কলেজ ছাত্র ইমন হত্যা মামলা, আ’লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে কলেজ ছাত্র ইমন হত্যা মামলা, আ’লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত কলেজ ছাত্র ইমন হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ২ আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৪।

সোমবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলার দেলদুয়ার ও মির্জাপুর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার( ৮ অক্টোবর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১৪, সিপিসি-৩ কোম্পানি এর কমান্ডার মেজর মনজুর মেহেদী ইসলাম।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের নাসির গ্লাস ইন্ডাস্ট্রির এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাকুল্ল্যা-বাইপাস সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনকে (৪৫) গ্রেফতার করে র‌্যাব।

একই দিন জেলার মির্জাপুর উপজেলার দুল্লাবেগম এলাকায় অভিযান চালিয়ে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুল আলম বাচ্চুকে (৬৪) গ্রেফতার করে র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃত দু’জন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত কলেজ ছাত্র ইমন হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি।

র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত দুই জনকে মির্জাপুর থানা হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. অক্টোবর ২০২৪ ০২:০২:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালিত

একতার কণ্ঠঃ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্নাঢ্য র‌্যালি এবং আলোচনা সভার মধ্যে দিয়ে টাঙ্গাইলে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালন করা হয়েছে।

রবিবার (৫ অক্টোবর) সকালে দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।

র‌্যালিটি শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নিবাহী অফিসার(ইউএনও ) রুহুল আমিন শরিফ ও জেলা তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত প্রমুখ।

আলোচনা সভায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনকরণের গুরুত্ব উপস্থাপন করা হয়।শিশু জন্ম গ্রহণের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করার নির্দেশনা প্রদান করা হয় আলোচনা সভায়।

এ সময় আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. অক্টোবর ২০২৪ ০৪:৩৩:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে আনারসের পাতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন শৌখিন পণ্য - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে আনারসের পাতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন শৌখিন পণ্য

একতার কণ্ঠঃ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ আনারস শুধু ফল হিসেবে নয়, এটির পাতারও ব্যবহার হয় নানান কাজে। অতীতে আনারস ফল তোলার পর পাতা ফেলে রাখা হতো অথবা গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হতো।

কিন্তু বর্তমানে এর পাতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে নানান শৌখিন পণ্য। সেই সঙ্গে মিলছে অর্থকড়িও। ক্রমে এর উৎপাদন এবং ব্যবহারেরও প্রসার ঘটছে।

আনারস উৎপাদনে প্রসিদ্ধ টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়। এখানকার নারীরা প্রথমে ব্যক্তি উদ্যোগে ঘর-গৃহস্থালির কাজে লাগে এমন কিছু শৌখিন জিনিসপত্র বানালেও পাতা থেকে সুতা উৎপাদনে হাত দেয় ‘মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিটি বাংলাদেশ’ নামের একটি বিদেশি সংস্থা। সেটি তাও ২০০৮ সালের কথা। এ সংস্থার প্রকল্পটি ছিল উপজেলার জলছত্র বাজারে। ২০১৭ সালে এসে বনাঞ্চলের জাঙ্গালিয়া গ্রামে ব্যুরো বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে একটি হস্তশিল্পের কারখানা। এখানে শতাধিক নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আনারসচাষিদের ফেলে দেওয়া পাতারও সদগতি হয়েছে। বিনিময়ে তারা আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছে।

ফাইবার এক্সট্রাকশন মেশিনের মাধ্যমে আনারস পাতা থেকে আঁশ বের করা হয়। তারপর ভাঙা প্লেট ও নারিকেলের খোল দিয়ে ঘষে পাতা থেকে আঁশ বের করে পানিতে ধুয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেগুলো রোদে শুকাতে দেওয়া হয়। এক কিলোগ্রাম পাতা থেকে ৬০ সেন্টিমিটার লম্বা শক্ত সুতা পাওয়া যায়। আঁশ বের করার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ৩০ জন মানুষের সাহায্য লাগে। ১০০০ কেজি পাতা থেকে ১০০-১৫০ কেজি আঁশ পাওয়া যায়। এ সুতার বিভিন্নমুখী ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে সুতাগুলো হাতে রশি পাকিয়ে হস্তশিল্প ও গৃহসজ্জার নানান রকম জিনিসপত্র বানানো যায়। এ ছাড়া সুতা থেকে উন্নতমানের কাপড়ও বানানো যায়। আশার বিষয়, আনারস পাতা থেকে উৎপাদিত সুতা দিয়ে উন্নতমানের লেদার বানানোর কাজে এটি দেশের বাইরে রপ্তানি করা হচ্ছে।

আবার যেসব পাতা থেকে সুতা তৈরি করা যায় না, সেগুলো থেকে জুয়েলারি বক্স, টেবিল ম্যাট, ফ্লোর ম্যাট, ফ্লাওয়ার বক্স, ওয়াল হ্যাঙ্গিং, চাবির রিংসহ নানান পণ্য বানানো হয়। আকর্ষণীয় এসব পণ্য যাচ্ছে চীনসহ উন্নত দেশগুলোতে। এখানে কাজ করে অনেক নারীই হয়ে উঠছেন স্বাবলম্বী। আগে যেসব নারী বনে ও আনারসের জমিতে কাজ করে যে টাকা পেত, তার চেয়ে বেশি টাকা পাচ্ছেন এ হস্তশিল্পের কাজ করে। ফলে সংসারের অভাব মিটিয়ে তারা এখন অনেকটা সচ্ছল জীবনযাপন করছেন। কথা হয় উপজেলার বেরীবাইদ গ্রামের ফিরোজ মিয়ার সঙ্গে। তিনি এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছেন। এ শ্রমিক জানান, আনারসের পাতা থেকে এত সুন্দর পণ্য তৈরি হতে পারে তা আগে জানতাম না। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সব জানতে পেরেছি। তার মতো আরও অনেক শ্রমিক এখানে কাজ করছেন। তারা আনারস চাষের পাশাপাশি বাড়তি উপার্জন করতে পার্টটাইম কাজ করছেন।

আনারসচাষী রাজ্জাক মিয়া বলেন, একটি পরিপূর্ণ আনারস গাছে ৩৬টি পাতা হয়। একটি গাছে একবারই ফল ধরে। ওই গাছের গোড়ায় নতুন গাছ জন্মায়। আনারস কাটার পর ওই গাছের অন্তত ১৫-২০টি পাতা কেটে ফেলা হয়। আর নতুন গাছ হওয়ার পর সব পাতাই কাটা যায়। এই পাতাগুলো নিচে পড়ে নষ্ট হয়। মাটিতেই পচে মিশে যায়। কেউ কেউ গবাদিপশুর জন্যও নিয়ে যান। কিন্তু কয়েক বছর ধরে আমরা বিক্রি করছি। আনারস বেচার টাকার পাশাপাশি বাড়তি টাকা পাচ্ছি পাতা বিক্রি করে।

ব্যুরো বাংলাদেশের হস্তশিল্পের কারখানার এজিএম আমীর হামজা বলেন, নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন শৌখিন জিনিসপত্র তৈরি করা হচ্ছে। এতে তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। আগে যারা বন, আনারস বাগানে কাজ করতেন সেসব নারী আমাদের এখানে কাজ করছেন। এখানে ৭০ শ্রমিক নারী-পুরুষ কাজ করছেন। এর মধ্যে অধিকাংশ নারী আছে। যারা সুধিবাবঞ্চিত নারী, স্বামী পরিত্যক্তা নারীরাই এখানে বেশি কাজ করেন। এখানে প্রায় চারশ শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে মজুদ আছে অনেক পণ্য সে কারণে এখন আমরা উৎপাদন আপাতত কমিয়ে দিয়েছি। তবে আমরা একটি কম্পমেস কারখানা তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছি।’ এ উপজেলায় বিভিন্ন স্থানের বাগানগুলো যদি সরকারের পক্ষে আমাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে তাহলে উৎপাদিত পণ্য গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা যেত বলে জানান এ কর্মকর্তা। স্থানীয় শ্রমিক শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের প্রশিক্ষণের সময় দুই থেকে তিন মাস সময় লাগায় তারা তেমনটি আগ্রহ প্রকাশ করে না এ কাজে। এজন্য শ্রমিকদের শিক্ষানবিশকালীন তাদের ভাতা বা প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকলে তারা আগ্রহী হয়ে উঠবে এ পেশায়।

নারী উদ্যোক্তা ও ব্যুরো ক্রাফটের পরিচালক রাহেলা জাকির বলেন, ‘এ উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস বেশি। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এই মানুষদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে মধুপুরে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।’ এ উদ্যোক্তা আরও জানান, চীনের একটি মেলায় তারা অংশগ্রহণ করে এসব পণ্যের বেশ সাড়া পেয়েছেন। এ ছাড়া আরও অনেক দেশই হস্তশিল্পের এ পণ্যের প্রতি আগ্রহের কথা জানিয়েছে। আনারসের কিছু পাতা আছে যেগুলো দিয়ে আঁশ বানানো সম্ভব হয় না সেগুলো দিয়ে আমরা টিস্যু পেপার তৈরি করছি। অর্থাৎ আনারসের কোনো জিনিসই আর ফেলনা নয়। তাদের ওয়ান টাইম প্লেট ও গ্লাস তৈরির পরিকল্পনা চলছে। পরিত্যক্ত প্রাকৃতিক কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব এসব পণ্যের দেশের বাইরে চাহিদা রয়েছে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. অক্টোবর ২০২৪ ০১:২৭:এএম ২ বছর আগে
খাগড়াছড়িতে নিহত শিক্ষকের টাঙ্গাইলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম - Ekotar Kantho

খাগড়াছড়িতে নিহত শিক্ষকের টাঙ্গাইলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

একতার কণ্ঠঃ পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের অভিযোগে আবুল হাসনাত মোঃ সোহেল রানা নামে এক শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাইমহাটি গ্রামে তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাইমহাটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় নিহতদের বাড়িতে মরদেহ পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পরেন তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনেরা।
নিহত সোহেল রানা ওই এলাকার মৃত ইমাম হোসেনের ছেলে।
পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, সোহেল রানাকে পরিকল্পিতভাবে পাহাড়িরা পিটিয়ে হত্যা করেছে।
তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ সময় নিহতের বড় ছেলে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাওন বলেন, আমার বাবা অনেক ভালো মানুষ ছিলেন।এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার দাবি জানাই।

সোহেল রানা খাগড়াছড়ি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন ও সেফটি বিভাগের চিফ ইনস্ট্রাক্টর ছিলেন।প্রতিষ্ঠানটি জেলা সদরের খেজুরবাগান এলাকায়।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি কিছুদিন কারাগারে ছিলেন। এরপর একই প্রতিষ্ঠানে তিনি যেন আবার যোগদান না করেন, সে জন্য শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে।
গত মঙ্গলবার(১ অক্টোবর) দুপুরে আবার তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠে।

এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্কুলটির শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে সোহেল রানাকে অধ্যক্ষের কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে ১০ থেকে ১৫ জন পাহাড়ি তরুণ অভিযুক্ত শিক্ষক সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। এ সময় তাঁকে পুলিশসহ কয়েকজন রক্ষা করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. অক্টোবর ২০২৪ ০৪:০০:এএম ২ বছর আগে
রাবেয়া আক্তার কলির বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা - Ekotar Kantho

রাবেয়া আক্তার কলির বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা

একতার কণ্ঠঃ প্রতারণার অভিযোগে রাবেয়া আক্তার কলির বিরুদ্ধে নারায়নগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেছে এক ভুক্তভোগী। প্রতারণা মামলায় রাবেয়া আক্তার কলিকে ২নং আসামি করা হয়।

অভিযুক্ত রায়েবা আক্তার কলি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মানিকারহাট বাজার সংলগ্ন পেটমানিকা গ্রামের হানিফ মিয়ার মেয়ে। বর্তমানে কলি ঢাকা মহানগরের ডেমরা থানার মুসলিম নগর এস. এম. সি. স্পেশাল প্রাইভেট হাসপাতাল সংলগ্ল জুলেখার বাড়ীর ২য় তলায় দক্ষিণ পাশের ফ্ল্যাটের সাবলেট ভাড়টিয়া হিসেবে বসবাস করছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

নারায়নগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার পাঁচ বিবি গ্রামের ওয়াজিউদ্দিন আহম্মেদের ছেলে মেরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে নারায়নগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। যাহার ধারাঃ- ৪০৬/৪২০/৫০৬ (ii)দঃ বিঃ।

মামলার অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, রাবেয়া আক্তার কলি ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে গত ২০২৩ সনের ২ মে রেজিস্ট্রিকৃত ভাবে বিবাহ হয় মামলার বাদীর সাথে। বিবাহের পর থেকেই বাদীর কাছ থেকে ব্লাকমেইলের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করার নেশা ছিল রাবেয়া আক্তার কলির। তাদের বনিবনা না হওয়ায় গত ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট মাসে দেনমোহর পাওনা বাবদ ৬ লক্ষ টাকা পরিশোধ করার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তাদের। বিবাহ বিচ্ছেদের চুক্তি নামায় কারো বিরুদ্ধে কোন পক্ষই কোন মামলা অথবা প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারবেনা বলে অঙ্গীকার নামা লেখা হয়। মামলার বাদীর কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী ধার নেওয়া ২০ লক্ষ টাকা অভিযুক্ত রাবেয়া আক্তার কলি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও অঙ্গীকারনামা অনুযায়ী বাদীর পাওনা ২০ লক্ষ টাকা যড়যন্ত্র মুলক মামলার ২নং আসামি রায়েয়া আক্তার কলিসহ সকল আসামীরা ওই টাকা আত্মসাৎকরেন। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, কলি দাঙ্গাবাজ, চাঁদা আদায়কারী ও টাকা আত্মসাতকারী বটে।

মামলার বাদী মেরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, মামলার ২নং আসামি রাবেয়া আক্তার কলির একাধিক বিবাহ হয়। কলি তার প্রথম স্বামী রুবেল নামক যুবকের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়। কাবিনের সিরিয়াল অনুযায়ী তিনি ৩নং স্বামী ছিলেন। বর্তমানে আবুল কালাম আজাদ নামক যুবককে স্বামী দাবী করে কলি। আবুল কালাম তার ৪নং স্বামী। রাবেয়া আক্তার কলির বর্তমান দাবীকরা স্বামীও প্রতারনা মামলার আসামি।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, তার কাছ থেকে নেওয়া ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করতে বর্তমান পরিচয়দানকারী রাবেয়া আক্তার কলির স্বামী আবুল কালামসহ সকল আসামিরা ষড়যন্ত্রমূলক সাইবার নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন তার বিরুদ্ধে।

কলির গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলার মানিকারহাট বাজার এলাকার স্থানীয়রা জানান, ট্রাক চালকের মেয়ে কলি বর্তমানে ঢাকায় থাকেন। প্রাইভেটকার যোগে আসতেন ঢাকা থেকে তার গ্রামের বাড়িতে। হঠাৎ আনুমানিক ২৩ বছরের কলি এত টাকা কোথায় পেলেন এমন প্রশ্ন তাদের। তবে রাবেয়া আক্তার কলি ঢাকায় কি কাজ করছেন? এমন প্রশ্ন করে বাংলাদেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করলে অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে জানান তারা।

অভিযোগ প্রসঙ্গে রাবেয়া আক্তার কলির কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবী করেন।

তিনি আরও বলেন, মিরাজ নামক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩. অক্টোবর ২০২৪ ০১:২৮:এএম ২ বছর আগে
ভারতে মহানবীকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ - Ekotar Kantho

ভারতে মহানবীকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

একতার কণ্ঠঃ ভারতের মহারাষ্ট্রে বিজেপি নেতা নিতেশ রানে ও ধর্মগুরু রামগিরি মহারাজ কর্তৃক মুসলমানদের হত্যার হুমকি ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে টাঙ্গাইলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদরের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভটি মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এসে মিছিলটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মোঃ কামরুল ইসলাম, আল-আমিন, মনিরুল ইসলাম, আকরাম, সিয়াম, মুফতি আব্দুর রহমান, মাওলানা ইসমাঈল, মুফতি মুকাব্বির প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, মহানবীকে নিয়ে যারা কটুক্তি করছে অবিলম্বে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় মহানবীর সম্মানে মার্চ টু মুম্বাই কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এই সময় বক্তারা ভারতীয় পন্য বর্জনের আহ্বান করেন সমাবেশ থেকে।

পরে মোনাজাতের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত সমাবেশটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। মোনাজাত করেন মুফতি আব্দুর রহমান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০১:৩২:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে এনজিও’র হিসাব রক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ৫ কর্মকর্তা কারাগারে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে এনজিও’র হিসাব রক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ৫ কর্মকর্তা কারাগারে

একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলে বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) এক হিসাবরক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ওই সংস্থাটির পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার(২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে টাঙ্গাইল শহরের সদর সড়কের বেসরকারি সংস্থা ‘সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট থ্রু ইউনিটি’র (সেতু) প্রধান কার্যালয়ের পাশ থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তাঁর নাম হাসান আলী (২৩)। তিনি সিরাজগঞ্জ উপজেলার উল্লাপাড়া থানার পুঠিয়া গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে। হাসান ওই এনজিওর জামালপুরের পিয়ারপুর শাখার সহকারী হিসাবরক্ষক ছিলেন।

গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মির্জা সাহাদত হোসেনের ছেলে ও সংস্থাটির উপ-পরিচালক (মানবসম্পদ) মির্জা সাকিব হোসেন, উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. শরিফুল ইসলাম, কর্মসূচি ব্যবস্থাপক খায়রুল হাসান ও সহায়ককর্মী রাশেদুল ইসলাম।

সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংস্থাটির পিয়ারপুর শাখার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক, ব্যবস্থাপক ও সহকারী হিসাবরক্ষক তিনজন যোগসাজশ করে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় ১৬ সেপ্টেম্বর তিনজনকে প্রধান কার্যালয় টাঙ্গাইলে আনা হয়। অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপককে ছেড়ে দেওয়া হলেও ব্যবস্থাপক ও হিসাব রক্ষক হাসান আলীকে সপ্তম তলার একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর হাসানের মা-বাবাকে কার্যালয়ে ডেকে এনে বিষয়টি জানানো হয়।

শুক্রবার গভীর রাতে টাঙ্গাইল শহরের সদর সড়কে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় সেতু টাওয়ারের পশ্চিম পাশ থেকে হাসানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বজনদের অভিযোগ, হাসানকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছে।

তবে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের দাবি, শুক্রবার রাতে সাততলা থেকে লাফ দিয়ে হাসান ‘আত্মহত্যা’ করেন। ঘটনার পরপরই রাতে সংস্থাটির পাঁচ কর্মকর্তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

নিহত হাসানের বাবা আবদুল লতিফ বলেন, ‘আমার ছেলেকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। পরে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করছে। আমাকে শুক্রবার রাতে সেতু অফিস থেকে ফোন করে বলা হয়, আপনার ছেলে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছে। আপনি আসেন। পরে থানা থেকে ফোন করে হাসানের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।’

শনিবার সন্ধ্যায় নিহত হাসান আলীর মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আটক পাঁচজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ পাঁচজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়।

সেতুর উপ-পরিচালক (প্রশাসন) বিমল চক্রবর্তী বলেন, পিয়ারপুর শাখার ম্যানেজার ও সহকারী হিসাবরক্ষককে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেন। অফিসের সাততলায় তাঁদের থাকার জন্য একটি রুম দেওয়া হয়। সেখান থেকে লাফ দিয়ে হাসান গতকাল রাতে আত্মহত্যা করেন।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহমেদ বলেন, হাসানের মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। ময়নাতদন্ত করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২২. সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৮:৪১:পিএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে চাচা-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হামলাকারী নিহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে চাচা-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হামলাকারী নিহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে চাচা ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা হামলাকারী তালেব (৩৫) নামের এক যুবককে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় তাজমুল (৪২) নামের আরও একজন আহত হয়েছেন। তাকে পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ধুবড়িয়া ইউনিয়নের কাতার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ছাত্তার (৫০) ও আসাদুল (২৮)। সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্তারের সঙ্গে একই গ্রামের তালেব মিয়ার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তালেবের সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছাত্তারকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় তার ডাক-চিৎকারে ভাতিজা আসাদুল এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করে তালেব। গুরুতর আহতাবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই জনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা ঘাতক তালেবকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচএম জসীম উদ্দিন বলেন, নিহত চাচা-ভাতিজার মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং তালেবের লাশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। তার মরদেহ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৪:৪২:এএম ২ বছর আগে
শেখ হাসিনার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে হবে-সালাহ উদ্দিন - Ekotar Kantho

শেখ হাসিনার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে হবে-সালাহ উদ্দিন

একতার কন্ঠঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলছেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়ে দিল্লিতে বসে ষড়যন্ত্র করছে। সে বাংলাদেশে আসার স্বপ্ন দেখছে, তার স্বপ্ন দেখতে হবে না। শেখ হাসিনা পৃথিবীর যেই প্রান্তেই ষড়যন্ত্র করুক না কেন, তার বিচার বাংলাদেশের আদালতে হবে। নয়তো আন্তর্জাতিক আদালতে হবে। তাকে বিচারের সম্মুখিন করতেই হবে, করব ইনশাআল্লাহ।

সোমবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিতে নিহত শহীদ ফিরোজ তালুকদার পলাশের পরিবারের খোঁজ-খবর ও কবর জিয়ারত করতে এসে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড চত্বরে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বললেন।

সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের বিচার বিভাগকে ঢেলে সাজাতে হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শহীদদের দাবি ছিল- বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ও অসম্প্রদায়িক স্বাধীন সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র। যেখানে আইনের সুশাসন থাকবে সমান, অধিকার সমন্বত থাকবে। আমরা আইনের সুশান প্রতিষ্ঠাতা করব। যে বিচারক বাংলাদেশের প্রকৃত বিচারক হবে, দক্ষ, সৎ, আইনের সুশাসন কায়েম করবে এবং ন্যায় বিচারক হবে।

তিনি বলেন, যদি তা না হয়-আমি বলব কুলাঙ্গার খায়রুল ও কালো মানিকের মতো অবস্থা হবে, যদি আইনের সুশাসন ব্যবস্থা না করেন। যদি দলের বিচারক হন, যা হবার তাই হবে। প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করার সময় পাননি। সেই অবস্থা হবে এবং আমরা তাদেরকে আইনের আওতায় আনব। যারা বিচার বিভাগকে ধ্বংস করেছেন, তারা শুনে রাখুন, কেউ বিচারের আওতা থেকে বাদ যাবেন না।

সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিম্ন আদালতে পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে হাইকোর্টে বর্ধিত করে দশ বছরের সাজা দিয়েছেন। আজকে সারাদেশের মানুষ এবং এই অন্তবর্তী সরকার চিঠি লেখার সময় পায়নি। খালেদা জিয়া মুক্ত। এই রকম বিপ্লব সাধণের মধ্যে দিয়ে আমরা জনগণের বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আন্দোলনে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। যাতে কেউ যেন দেশকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।

টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক উপমন্ত্রী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর মুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি আমার সহকর্মী। বাংলাদেশের একজন উপমন্ত্রী ছিলেন। সে নির্যাতিত, দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে কারাভোগ করছে। আমি ভূঞাপুরের মাটিতে পা রাখার সাথে সাথে শ্লোগানে দাবি উঠে সালাম পিন্টুর মুক্তি চাই, সালাম পিন্টুর মুক্তি চাইতে হবে না। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি মুক্ত হবে।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও যুবদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুরর সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট ওবায়দুল হক নাছির, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক ছানু, উপজেলা বিএনপি সভাপতি এডভোকেট গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. অগাস্ট ২০২৪ ০৫:০২:এএম ২ বছর আগে
ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী নয়, আমরা এখন ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান: জাকির হোসেন - Ekotar Kantho

ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী নয়, আমরা এখন ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান: জাকির হোসেন

একতার কণ্ঠঃ দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে ক্ষুদ্রঋণের ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমানে দেশে সাত শতর বেশি প্রতিষ্ঠান এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। ক্ষুদ্রঋণের অগ্রযাত্রা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশেষ আয়োজন। এ বিষয়ে বুরো বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ও চেয়ার, এনজিও ফেডারেশন জাকির হোসেনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলোর প্রতীক বর্ধন।

প্রথম আলো: ক্ষুদ্রঋণ বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। গত ৫৩ বছরে এনজিওগুলোর ভূমিকা কীভাবে দেখছেন?

জাকির হোসেন: ৫৩ বছরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৭০ সালে দেশে মাথাপিছু আয় ছিল ১০০ মার্কিন ডলার আর বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার। উপার্জন বরাবরই উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত আর এই উৎপাদন ও উপার্জনপ্রক্রিয়ার বিকাশে শুধু সরকার নয়, সরকারের অংশীদার হিসেবে এনজিও-এমএফআই (ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান) খাত নিভৃতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। এ খাত স্বাধীনতা-পরবর্তী দরিদ্র ও হতদরিদ্র-অধ্যুষিত বাংলাদেশে প্রাথমিকভাবে দারিদ্র্য নিরসন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে বেশি নজর দিয়েছে। পরবর্তীকালে দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায়ে ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য নিশ্চিত করেছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও এনিজওগুলোর ভূমিকা পালন করছে। আমাদের এই খাতের মাধ্যমে সাড়ে তিন কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় পৌনে তিন লাখ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

প্রথম আলো: কয়েক বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এনজিওগুলোর কী ভূমিকা রাখতে পারে?

জাকির হোসেন: বিগত দশকগুলোয় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যে উন্নয়ন ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, ২০৩৩ সাল নাগাদ আমরা বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির স্বীকৃতি অর্জন করতে সক্ষম হব। তবে এ দুই সময়ের মধ্যবর্তী ভূরাজনৈতিক ও প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর প্রভাবের কথাও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। এ ধরনের সংঘাত-সংঘর্ষ কিংবা দুর্যোগ গভীরভাবে দেশীয় অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি এগুলোও দায়ী। তবে আমাদের দেশীয় অব্যবস্থাপনা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।

প্রথম আলো: কয়েক বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এনজিওগুলোর কী ভূমিকা রাখতে পারে?

জাকির হোসেন: বিগত দশকগুলোয় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যে উন্নয়ন ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, ২০৩৩ সাল নাগাদ আমরা বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির স্বীকৃতি অর্জন করতে সক্ষম হব। তবে এ দুই সময়ের মধ্যবর্তী ভূরাজনৈতিক ও প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর প্রভাবের কথাও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। এ ধরনের সংঘাত-সংঘর্ষ কিংবা দুর্যোগ গভীরভাবে দেশীয় অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি এগুলোও দায়ী। তবে আমাদের দেশীয় অব্যবস্থাপনা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।

প্রথম আলো: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের টেকসই উন্নয়নে এনজিওগুলো অনেক দিন ধরে কাজ করছে। এ খাতে নতুন আর কী কী করার আছে বলে মনে করেন।

জাকির হোসেন: আপনি ঠিকই বলেছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরেই এনজিও-এমএফআইগুলো কাজ করে যাচ্ছে। তবে এ দুই খাতে আমাদের কাজগুলো প্রাথমিক ও মাঠপর্যায়ের। সম্প্রতি দু-একটি এনজিও বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজসহ হাসপাতাল স্থাপন করে সাধারণ মানুষকে সেবা দিচ্ছে, যদিও এর ব্যাপকতা তেমন একটা নয়। সরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যে মান ধরে রাখতে পারেনি, আমরা তা পেরেছি। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে এনজিও-এমএফআই খাতের অনেকেই মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ব্র্যাক, আশা, বুরো বাংলাদেশ, টিএমএসএস—এগুলোর সবারই কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল কিংবা মেডিকেল কলেজ আছে।

প্রথম আলো: ক্ষুদ্রঋণের সেবা ডিজিটালাইজেশনের প্রয়োজনীয়তা বোধ করছেন কি?

জাকির হোসেন: বুরো বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি এনজিও-এমএফআই এ ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছে। আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল যাত্রায় সংযুক্ত হওয়ার জন্য কাজ করছে। বুরো বাংলাদেশসহ দেশের শীর্ষ কয়েকটি উন্নয়ন সংস্থা শাখাগুলোয় শতভাগ অটোমেশন সম্পন্ন করে পরিপূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বুরো বাংলাদেশ গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ ও সঞ্চয় সেবা দেওয়া শুরু করে ২০১৯ সালে।

প্রথম আলো: আপনাদের প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত কী পরিমাণ ক্ষুদ্রঋণ দিয়েছে? এর কী প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন?

জাকির হোসেন: আমরা গ্রাহকদের এ পর্যন্ত ৯৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছি। এই ঋণের অর্থে অনেক মানুষ, যাঁদের অধিকাংশই নারী, নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন, কেউ উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন, কেউ তাঁর সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন, কেউ কেউ বংশানুক্রমিক পেশা সচল রেখেছেন, কেউবা ছোট ব্যবসা বড় করেছেন। পরিবারে সচ্ছলতা এসেছে। তাঁরা অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন এবং অনেক মানুষকে উদ্যোক্তা হওয়ার সাহস জুগিয়েছেন। সমাজে এর প্রভাব বিপুল। ক্ষুদ্র ও মাঝারি পরিসরে তাঁরা অর্থনীতিতে যে অবদান রাখছেন, তার উৎসে আছে বুরো বাংলাদেশের ঋণসহায়তা।
জাকির হোসেন

প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক, বুরো বাংলাদেশ

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. অগাস্ট ২০২৪ ০৪:৪১:এএম ২ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।