আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের রসুলপুরে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’ শুরু হয়েছে। স্থানীয় রসুলপুর বাছিরন নেছা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে রবিবার (২৭ এপ্রিল) পর্যন্ত। এই মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর ১১, ১২ ও ১৩ বৈশাখ (সনাতন পঞ্জিকা অনুসারে) রসুলপুরে এই জামাই মেলা বসে। এই মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের অন্তত ৩০ গ্রামের জামাইয়েরা শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসেন। তারাই মেলার মূল আকর্ষণ। আর মেলায় জমায়েত হন ৩০ গ্রামের জামাইয়েরা। এ মেলার বয়স দেড়শ বছরেও বেশি হবে। এ এলাকার মানুষের কাছে ঈদ বা পূজাপার্বণের মতোই এই মেলা উৎসবের। মেলাটি বৈশাখী মেলা হিসেবে ব্রিটিশ আমলে শুরু হলেও এখন এটি ‘জামাই মেলা’ হিসেবে পরিচিত। মেলাকে সামনে রেখে রসুলপুর ও এর আশপাশের বিবাহিত মেয়েরা তাদের স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন। আর জামাইকে মেলা উপলক্ষে বরণ করে নেওয়ার জন্য শ্বশুর-শাশুড়িরা বেশ আগে থেকেই নেন নানা প্রস্তুতি। এছাড়া রসুলপুরসহ আশপাশের গ্রামের যুবকদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী করা হয়ে থাকে। এতে করে মেলার পরিবেশ স্বাভাবিক থাকে।
এছাড়া মেলার দিন শাশুড়ি মেয়ের জামাইয়ের হাতে কিছু টাকা দেন। সেই টাকা দিয়ে জামাই বাজার করে এনে শ্বশুরবাড়ির লোকদের খাওয়ান। এ কারণেই মেলাটি ‘জামাই মেলা’ হিসেবে পরিচিত। তিন দিনে রসুলপুরসহ আশপাশের গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে এই মেলায়।
শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, মেলায় বিভিন্ন ধরনের খেলনা, প্রসাধনী, মুড়ি-মুড়কি, আকড়ি, চিনির সাজ, বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকানসহ ছোট-বড় দেড় শতাধিক দোকান বসেছে। মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন দোকানিরা। মিষ্টি জাতীয় পণ্যের দোকানও আছে। এছাড়া এ মেলায় একাধিক ফার্নিচারের দোকানও বসেছে। বড়দের পাশাপাশি ছোট ছেলে-মেয়েরাও এ মেলা উপভোগ করছে। তবে মেলার স্থানটি ছোট হওয়ায় ও প্রচন্ড গরমের কারণে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নাজেহাল অবস্থা। এছাড়া শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়াতে মেলায় তিল ধারনের জায়গা নেই। অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে মেলায় ঢুকতে না পেরে মন খারাপ করে ফিরে চলে যাচ্ছে। এদিকে মেলায় কোন ধরনের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই পাশের পেট্রলপাম্পসহ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশেই গাড়ি রেখে মেলায় প্রবেশ করছে।
স্থানীয় রসুলপুর গ্রামের রবীন মিয়া বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখনও দাদার কাছে এই মেলার কথা শুনেছি। বাড়ির মেয়ের জামাইরা মেলাকে কেন্দ্র করে বাড়ি আসায় ও মহাসড়কের পাশে হওয়ায় মেলাটি প্রতিবছর জমে উঠে। এটি টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও বড় মেলা।
কালিহাতী থেকে আসা আদর ঘোষ (এলাকার জামাই) বলেন, প্রতিবছরই আমরা শ্বশুরবাড়ি থেকে মেলায় আসার দাওয়াত পাই। এই মেলা আমাদের জামাইদের কাছে খুব আকর্ষণীয়। মেলাকে কেন্দ্র করে অনেক আত্মীয়র সঙ্গে দেখা হয়, তাদের সঙ্গে ভাব বিনিময় হয়। সব মিলিয়ে আমরা মেলার এই তিন দিন আনন্দে মেতে উঠি।
টাঙ্গাইল শহর থেকে মেলায় ঘুরতে আসা চাকরিজীবী শিরীন আক্তার বলেন, এই মেলাটি একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মেলা শুনে প্রথমবারের মত ঘুরতে এসেছি। তবে মেলায় কিছুটা অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আশাকরি, মেলা কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলিকে নজরে আনবেন। বিশেষ করে, যদি সম্ভব হয় মেলাটি আরো বড় জায়গায় আয়োজন করলে অনেক সুন্দরভাবে দর্শনার্থীরা এই মেলাটি উপভোগ করতে পারবে। আমি এই মেলার সর্বাঙ্গিন সাফল্য কামনা করছি।
মেলায় ঘুরতে আসা স্থানীয় আছমা বেগম বলেন, এটি টাঙ্গাইল জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। শুক্রবার দুপুর থেকেই নারী পুরুষ, শিশু থেকে বৃদ্ধ সব শ্রেণি পেশার মানুষ মেলায় ভিড় করছে। তারা বিভিন্নভাবে মেলায় বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখছেন। কেওবা তাদের পছন্দের সামগ্রী কেনাকাটা করছেন ।
মেলায় আসা আকড়ি ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বলেন, অন্যান্য কাজের পাশাপাশি মেলা আসলে একটু বাড়তি লাভের আশায় কয়েক বছর যাবত এই মেলায় আকড়ি বিক্রি করে আসছি। বর্তমানে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে আকড়ি বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে ব্যবসা ভালোই হচ্ছে। অন্যান্য মেলার চেয়ে এ মেলা অনেক নিরাপদ।
মেলা কমিটির আহ্বায়ক ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এবারের মেলায় দেড় শতাধিক দোকান বসেছে। এই মেলায় মিষ্টি জাতীয় খাবার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। মেলায় খাবার আইটেম, খেলনাসহ বিভিন্ন ফার্নিচারও পাওয়া যায়। মেলায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মেলার নিরাপত্তার জন্য বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তবে প্রচন্ড গরম পড়ায় মেলায় আগত দর্শনার্থীদের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। এবছর অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি লোকজনের ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সাইফুল আলম (৪০) নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার ডুবাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফুল আলম টাঙ্গাইল পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সাকরাইল পশ্চিম পাড়া এলাকার মৃত সাব্বির আহমেদের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল পার্ক বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী ছিলেন।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে তিন টার দিকে সাইফুল আলম এক জেলেকে সাথে নিয়ে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাযোগে মির্জাপুরের একটি হ্যাচারিতে মাছের রেনু কিনতে যাচ্ছিলেন। মহাসড়কের ডুবাইল এলাকায় পৌঁছলে তিন ছিনতাই মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। সাইফুল আলম তাদের বাঁধা দিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। পরে সাইফুল আলমকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেব খান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতঘরে প্রবেশ করে উল্টে গিয়ে সেই ট্রাকের নিচে ঘুমন্ত অবস্থায় চাপা পড়ে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কের ভূঞাপুর পৌর এলাকার টেপিবাড়ী মোড় নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। ভূঞাপুর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনন্ত দাস মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত রমেচা বেগম (৫৫) একই এলাকার আব্দুল কদ্দুসের স্ত্রী।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার ফজর নামাজ আদায় করে রচেমা বেগম ঘুমিয়ে পড়ে এবং তার স্বামী কদ্দুস নামাজ পড়তে মসজিদে চলে যান। এরমধ্যেই হঠাৎ জামালপুরগামী পাথরবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রমেচার বসতঘরে ঢুকে উল্টে পড়ে এবং সেই ট্রাক চাপায় ঘুমন্ত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এসময় স্থানীয়রা ট্রাক চালককে আটকে রাখে। খবর পেয়ে ভূঞাপুর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ এসে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনন্ত বলেন, পাথরবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতঘরে উল্টে যায় এবং সেই ট্রাকের চাপা পড়ে ঘুমন্ত অবস্থায় এক নারী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রাক চালকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের উত্তরের প্রবেশদ্বার রাবনা বাইপাস ও দক্ষিণের প্রবেশদ্বার বেবিস্ট্যান্ড এলাকা। এই শতাব্দি প্রাচীন পৌর শহরের এই ২টি প্রবেশদ্বারে অপরিকল্পিতভাবে শহরের বর্জ্য ফেলে ময়লার ভাগারে পরিণত করেছে টাঙ্গাইল পৌর কর্তৃপক্ষ।
টাঙ্গাইল পৌর শহরের উত্তর কিংবা দক্ষিণ দিক দিয়ে নতুন কেউ প্রবেশ করলে এই জেলা শহর সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। এছাড়া এই রাস্তায় চলাচলকারী শহরবাসীকে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ সহ্য করে চলাচল করতে হয়। অনেকটা যেন দুর্গন্ধ দিয়ে তাদের আমন্ত্রণ জানায় এই পৌর শহরটি।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে খোলাস্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। দুর্গন্ধে স্থানীয় মানুষ ও পথচারীরা অতিষ্ট। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জোরালো দাবি থাকলেও এখনো করতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল পৌরসভাটি ১৮৮৭ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৯ দশমিক ৪৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৌরসভায় ২ লাখেরও বেশি লোকের বসবাস। মোট ভোটার ১ লাখ ৪০ হাজার ২৩১ জন। এ পৌরসভায় ১৩৮ বছরেও গড়ে উঠেনি আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান। নেই আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও।
সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাবনা বাইপাসের রাস্তার পাশে বিশাল এলাকা জুড়ে ময়লার স্তুপ। শহরের ময়লাগুলো পৌরসভার ভ্যানে করে খোলাভাবে ঢেলে ফেলা হচ্ছে। জেলার উত্তরের ৬ উপজেলা ও উত্তরবঙ্গের মানুষ শহরে যাতায়াত করেন এই সড়কটি দিয়ে। যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে নাকে কাপড় চেপে যাচ্ছেন। পথচারীরা এ এলাকায় একমিনিটের জন্যও দাঁড়াচ্ছেন না।
ময়লার মধ্যে পড়ে আছে গরু-শকুরের মরদেহ। এদিকে এরমধ্যেই টোকাইরা ময়লা থেকে তাদের কাঙ্ক্ষিত জিনিস খুঁজছে।
অপরদিকে, শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ পাশের খালে প্রতিনিয়ত ময়লা ফেলা হচ্ছে। টাঙ্গাইলের নাগরপুরসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ কাগরামী সড়কে যাতায়াত করেন। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি এমএম আলী কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা এ পথেই চলাচল করেন। দুর্গন্ধে আশপাশের বসতি ও দোকানদারদের করুণ অবস্থা।
বেবিস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের কি যে খারাপ লাগে সেটা বলে বোঝোতে পারবো না। ঘরে থাকা, রান্না ও খাওয়া কিছুই তৃপ্তি সহকারে করতে পারিনা। অনেকবার বলেছি কোন লাভ হয়নি।
আসিফ হোসেন নামের এক স্কুল ছাত্র বলেন, এখান দিয়ে স্কুলে যাবার সময় দুর্গন্ধে পেট ফুলে যায়। বাতাসে দুর্গন্ধ বাড়িতে চলে আসে। এখানে ময়লা না ফেলার অনুরোধ করি।
রাবনা বাইপাস এলাকার দোকানদার সরোয়ার হোসেন বলেন, ময়লার জন্য দোকানে গ্রাহক আসতে চায় না। দোকানের খাবারের মধ্যে মাছি বসে। দোকানদারি করা খুব কষ্টের। তবুও পেটের দায়ে দুর্গন্ধের সাথে থাকতে হচ্ছে।
আকবর আলী নামের এক অটোরিকসা চালক বলেন, আমি এ সড়কেই প্রতিদিন গাড়ি চালাই। দুর্গন্ধে অবস্থা ভয়াবহ। যাত্রীরা উঠতে চায় না।
বারেক মিয়া নামে এক যাত্রী বলেন, শহরে ঢোকার মূল রাস্তায় এমন ভাগাড় সত্যিই অশোভন।
পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খুবই দুর্বল। রাবনা বাইপাস এলাকা এবং কাগমারী এলাকায় যেভাবে বর্জ্য ডাম্পিং করা হচ্ছে তাতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। শহরের প্রবেশ পথে বর্জ্য ফেলার কারণে জীববৈচিত্রসহ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এভাবে ডাম্পিং বন্ধ করে পৌরসভার নিজস্ব জায়গায় ডাম্পিং করার দাবি করছি। পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষার্থে আইনি প্রয়োগও দরকার। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করে স্বাস্থ্য বান্ধব করতে পৌরসভাইে মূল ভূমিকা নিতে হবে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাইন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. সাইফুল্লাহ বলেন, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলার কারনে দুর্গন্ধ ও রোগ জীবানু ছড়ায়। ময়লার ভাগাড় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানকার মাটি হারাচ্ছে উর্বরতা। অন্যদিকে প্লাস্টিক বর্জ্য নালায় ঢুকে সৃষ্টি করছে জলাবদ্ধতা।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: সুজাউদ্দিন তালুকদার বলেন, খোলা ময়লা আবর্জনা থেকে রোগ জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে মানুষসহ পাখ-পাখালির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ফুসফুসে বিভিন্ন জটিল রোগ হতে পারে। বায়ু দূষনের কারনে এলার্জি এবং এজমার সমস্যা প্রকট হচ্ছে। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। বাতাসে ভারী ধাতু ছড়িয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করছে। ফলে লিভার-কিডনির রোগ, ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, খোলা জায়গায় ময়লা আবর্জনা ফেলার কারনে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। বিগত সরকার এবং পৌর কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারনেই শতাব্দী প্রাচীন এই পৌরসভায় যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেনি।
টাঙ্গাইল পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শিহাব রায়হান বলেন বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের কাছে জায়গা চাওয়া আছে। সেইসাথে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে কাজ শুরু হবে। আশাকরি, খুব দ্রুতই ভোগান্তির সমাধান এবং শহরবাসী একটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পাবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়া দুর্বৃত্তদের কোপের আঘাতে আহত চালক আবু হানিফ (৪৫) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত হানিফ সখীপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের খানপাড়া এলাকার শামসুল হক খানের ছেলে। গত ৫ এপ্রিল রাতে যাত্রীবেশে অটোরিকশায় ওঠা তিন ব্যক্তি হানিফকে কুপিয়ে তাঁর রিকশাটি নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে সখীপুর পৌর শহর থেকে নলুয়া বাজারে যাওয়ার কথা বলে তিন ব্যক্তি হানিফের অটোরিকশা ভাড়া করেন। পথিমধ্যে বোয়ালী বাজার পার হলে একটি পিকআপ ভ্যান রিকশাটির গতি রোধ করে। এ সময় অটোরিকশায় থাকা যাত্রীবেশী একজন হানিফের মাথায় চাপাতি দিয়ে কোপ দেন। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁকে পিকআপে তুলে তিন কিলোমিটার দূরে দেওদীঘি বাজারের কাছে ফেলে যায়। সেই সঙ্গে রিকশাটি ছিনিয়ে নেয়।
রাত ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন হানিফকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অন্যদিকে পরদিন নলুয়া-কালমেঘা সড়কের কানু মার্কেট এলাকা থেকে রিকশাটি জব্দ করা হয়।
এদিকে হানিফকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পেয়ে তিনি কিছুটা সুস্থ হলে সোমবার (২১ এপ্রিল) তাঁকে বাসায় আনা হয়। মঙ্গলবার তিনি পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের চাচাতো ভাই ইমরান খান বলেন, অটোরিকশাটি পাওয়া গেলেও হানিফ ভাইকে ফেরানো গেল না। আমরা ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি করছি।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার পরদিনই পুলিশ অটোরিকশাটি জব্দ করে হানিফের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছিল। ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অভিনব কায়দায় পায়ুপথে লুকিয়ে হেরোইন পাচারকালে এক মাদক ব্যবসায়ী বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জেলার মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গোড়াই এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সইবুর রহমান (৬৬) রাজশাহীর দরগাপাড়া এলাকার মৃত নইমুদ্দিনের ছেলে। তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ি থেকে ঢাকায় হেরোইন পাচারের জন্য পায়ুপথে বহন করছিলেন বলে জানায় র্যাব।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর মিডিয়া অফিসার নাজমুল ইসলাম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলার মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গোড়াই এলাকা থেকে প্রথমে সইবুর রহমানকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে হেরোইনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সইবুর তার পায়ুপথে হেরোইন লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন। পরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে পায়ুপথে লুকিয়ে রাখা ৬৪ গ্রাম হেরোইন বের করা হয়। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে মির্জাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবনে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে । সোমবার (২১ এপ্রিল) রাতে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিতু সরকার উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের আটঘড়ি গ্রামের দীলিপ সরকারের স্ত্রী।
পুলিশ ও পারিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে উপজেলার আটঘড়ি গ্রামের দীলিপ সরকারের সাথে গাজীপুর জেলার কাশিপুর গ্রামের মিতু সরকারের বিয়ে হয়। সংসারে তাদের এক মেয়ে ও ছেলে রয়েছে। দীলিপ সরকার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সোহাগপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সোমবার সকালে সকলের অগোচরে মিতু সরকার অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পরে তাকে উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়। তবে কী কারণে মিতু অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করেছেন তা জানাতে পারেনি তার পরিবার।
মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ক্ষতিকর রং-কেমিক্যাল দিয়ে মেয়াদহীন আইসক্রিম উৎপাদন করায় দুই আইসক্রিম ফ্যাক্টরি মালিককে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার পৌলী এলাকা ও এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর টাঙ্গাইল এ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক নাজিমুদ্দিনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।
ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর সূত্র জানা যায়, ভেজাল ওই দুই আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেখানে অনুমোদনহীন বিভিন্ন ক্ষতিকর রং ও কেমিক্যাল, বিভিন্ন নামে বেনামে ঠিকানা ব্যবহার করে মেয়াদহীন আইসক্রিম উৎপাদন করে আসছিল এই দুই ফ্যাক্টরি। পরে পৌলী বাজার এলাকায় জিথী আইসক্রীম ও স্বাধীন আইসক্রীম কারখানায় অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এসময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে জিথী আইসক্রীম কারখানা মালিককে ৫০ হাজার এবং স্বাধীন আইসক্রীম কারখানা মালিককে ১৫ হাজার টাকা করে মোট দুই কারখানা মালিককে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, দুই আইসক্রিম ফ্যাক্টরির মালিক অঙ্গীকার করেছেন বৈধ কাগজপত্র না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। আগামীতে ভেজাল খাদ্য উৎপাদনের বিরুদ্ধে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল পৌরসভার আলোচিত নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহম্মেদ আজমীকে রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
১৭ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবয় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. কবীর উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা যায়।
একই আদেশে রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ্জাহান আলীকে শিব্বির আহম্মেদ আজমীর স্থলে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, আগামী ২৯ এপ্রিলের (মঙ্গলবার) মধ্যে আজমীকে তার বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় আগামী ৩০ এপ্রিল (বুধবার) বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) বলে গণ্য হবেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে শিব্বির আহম্মেদ আজমী বলেন, ইতিমধ্যে আমি অফিস আদেশের কপিটি হাতে পেয়েছি। অফিস আদেশের নির্দেশ মোতাবেক নতুন কর্মস্থলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যোগদান করবো।
উল্লেখ্য, দুর্ণীতি প্রমানিত হওয়ার পরেও স্বপদে বহাল হয়েছিলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার আলোচিত বেড়াডোমা ব্রিজের দায়িত্বরত নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহম্মেদ আজমী। বুধবার (১৬ এপ্রিল) লঘুদন্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সচিব মো.রেজাউল মাকসুদ জাহেদী স্বাক্ষরিত এক আদেশে তিনি বহাল হন। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে রাজধানীর নওহাটা পৌরসভায় বদলি করা হয়।
প্রকাশ, টাঙ্গাইল শহরের আলোচিত বেড়াডোমা ব্রিজের দায়িত্ব পালনকালে নির্মাণাধীন অবস্থায় ঢালাইকাজের পূর্বেই সেন্টারিং-এ ড্রইং ও ডিজাইন অনুসারে না করে গাছের বল্লী ও বাঁশের খুটি ব্যবহারে ঠিকাদারকে শুধু চিঠির মাধ্যমে নিষেধ করেন আজমী। ঢালাই কাজ বন্ধ না করে এবং ঢালাইয়ের সময় উপস্থিত না থাকায় চরম দায়িত্বে অবহেলা করেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহম্মেদ আজমী। একারণে টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৯৯২ সালের বিধি ৪০-এর উপ বিধি (ক) ও (খ) অনুয়ায়ী দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য ওই প্রকৌশলীর নামে বিভাগীয় মামলা (নং-৪/২০২৩) দায়ের করা হয়।
পরে মামলাটি ২০২৩ সালের ১১ জুলাই শুনানীতে অভিযোগ প্রমানিত হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি তদন্ত শুরু করলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হয় এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরে বিভাগীয় কর্মকর্তা টাঙ্গাইল পৌরসভার বরখাস্তকৃত ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ, কারণ দর্শানোর জবাব, বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনাক্রমে বর্নিত দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় পৌরসভার কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা ১৯৯২ এর বিধি ৪০-এর উপ বিধি ক’ ও খ; অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলা এবং অসদাচারনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে পৌরসভার কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা ১৯৯২ এর বিধি ৪১-এর উপ বিধি (ই) অনুযায়ী আদেশ জারির তারিখ হতে ০১ (এক) বছরের জন্য বেতন বর্ধন স্থগিত রাখার লঘুদন্ড প্রদান করেন এবং বরখাস্তকালীন সময় অসাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য করে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে বহাল রাখেন তাকে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি (দক্ষিণ) পুলিশ।
রবিবার (২০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সখিপুর পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
সোমবার (২১ এপ্রিল) সকালে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত হারুন মিয়া (৪৫) উপজেলার কাঁকড়াজান ইউনিয়নের সাপিয়াচালা গ্রামের ফয়েজ আলীর ছেলে।
টাঙ্গাইল ডিবির (দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সখীপুর পৌর শহরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে হারুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার পিস মাদক ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত হারুনের বিরুদ্ধে সখীপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২১ এপ্রিল) সকালে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ৩২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪), সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার সাগরদীঘি বাজার থেকে ৩২ কেজি গাঁজাসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চট্রগ্রামের বুজপুর উপজেলার উদিয়া পাথর গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে ইব্রাহিম খলিল (৩৫) ও জোড়ারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম সোনাই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে বেলাল হোসেন (২৮)।
র্যাব-১৪ টাঙ্গাইল অফিস সুত্রে জানা যায়, র্যাবের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী-ভালুকা-ঘাটাইল আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত মেসার্স হাজী থাই এ্যালুমিনিয়াম এন্ড টাইলস হাউজের সামনে পাকা রাস্তার উপর হতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৩২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে । উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ৯,৬০,০০০/-(নয় লাখ ষাট হাজার টাকা)। এ সময় ৩২ কেজি গাঁজা ও মাদকদ্রব্য গাঁজা বহনের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক এবং গাড়িতে রক্ষিত ১৪ টন সরিষাসহ আটক করা হয়।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৪, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. কাওসার বাঁধন জানান, এ ঘটনায় ঘাটাইল থানায় মামলা দায়েরর্পূবক আসামী ও আলামত হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ দুর্ণীতি প্রমানিত হওয়ার পরেও স্বপদে বহাল হলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার বেড়াডোমা ব্রিজের দায়িত্বরত প্রকৌশলী শিব্বির আহম্মেদ আজমী। বুধবার (১৬ এপ্রিল) লঘুদন্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সচিব মো.রেজাউল মাকসুদ জাহেদী স্বাক্ষরিত এক আদেশে তিনি বহাল হন।
জানাযায়, টাঙ্গাইল শহরের আলোচিত বেড়াডোমা ব্রিজের দায়িত্ব পালনকালে নির্মাণাধীন অবস্থায় ঢালাইকাজের পূর্বেই সেন্টারিং-এ ড্রইং ও ডিজাইন অনুসারে না করে গাছের বল্লী ও বাঁশের খুটি ব্যবহারে ঠিকাদারকে শুধু চিঠির মাধ্যমে নিষেধ করেন তিনি। ঢালাই কাজ বন্ধ না করে এবং ঢালাইয়ের সময় উপস্থিত না থাকায় চরম দায়িত্বে অবহেলা করেন পৌর প্রকৌশলী শিব্বির আহম্মেদ আজমী। একারণে টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৯৯২ সালের বিধি ৪০-এর উপ বিধি (ক) ও (খ) অনুয়ায়ী দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য ওই প্রকৌশলীর নামে বিভাগীয় মামলা (নং-৪/২০২৩) দায়ের করা হয়।
পরে মামলাটি ২০২৩ সালের ১১ জুলাই শুনানীতে অভিযোগ প্রমানিত হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি তদন্ত শুরু করলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হয় এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরে বিভাগীয় কর্মকর্তা টাঙ্গাইল পৌরসভার বরখাস্তকৃত ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ, কারণ দর্শানোর জবাব, বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনাক্রমে বর্নিত দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় পৌরসভার কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা ১৯৯২ এর বিধি ৪০-এর উপ বিধি ক’ ও খ; অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলা এবং অসদাচারনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে পৌরসভার কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা ১৯৯২ এর বিধি ৪১-এর উপ বিধি (ই) অনুযায়ী আদেশ জারির তারিখ হতে ০১ (এক) বছরের জন্য বেতন বর্ধন স্থগিত রাখার লঘুদন্ড প্রদান করেন এবং বরখাস্তকালীন সময় অসাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য করে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে বহাল রাখেন তাকে।
এদিকে, অভিযুক্ত ওই প্রকৌশলীকে বহালের খবরে টাঙ্গাইল পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এঘটনায় অভিযুক্ত টাঙ্গাইল পৌরভার প্রকৌশলী শিব্বর আহম্মেদ আজমী মুঠোফোনে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহতীত প্রমানিত হওয়ায় পৌর কর্মচারী আইন অনুযায়ী বিভাগীয় কর্মকর্তা বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে। তিনি রবিবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় যোগদান করবেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌসভার প্রসাশক মো. শিহাব রাহয়ান মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে পৌরসভার প্রকৌশলীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার হয়েছে। তবে অফিসিয়ালভাবে তিনি কোন চিঠি বা কাগজপত্র পাননি।