একতার কণ্ঠঃ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, কেউ কেউ বলছেন শেখ হাসিনা হঠাৎ করে ঢুকে পড়বেন। আমরাও চাই আসেন, ঢুকে পড়েন। বিএনপির নেতাকর্মীরা জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু ভাইকে আপনি জেলে রেখেছেন তার কৈফিয়ত দিতে হবে।
রবিবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৮ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে জেলা বিএনপির স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দুদু বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে শ্রদ্ধা এবং সম্মানের। তাকে চিনেছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান। তাকে চিনেছিলেন বলেই শহীদ জিয়াউর রহমান তার আদর্শ গ্রহণ করেছেন। আমাদের নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ঘোষক কৃষকদের কাছে গিয়ে কাঁদার মধ্যে কৃষকের কথা শুনতেন। যেমন শুনতে মওলানা ভাসানী।
তিনি বলেন, যারা দেশটাকে ১৬-১৭ বছর ধরে লুটেপুটে খেয়েছেন। মানুষের ওপর জুলুম করেছেন তাদের বিচারের আওতায় আনার দিন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আমরা সমর্থন দিয়েছি। আপনারা সংস্কার করেন। কিন্তু এমন সময় নিবেন না, যাতে মানুষ ধৈর্যহারা হয়। মানুষের ধৈর্য্য থাকতে থাকতে নির্বাচন দিন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি করা কী অপরাধ। আমাদের অনেক নেতাকর্মী এখনো জেলখানায়। ৬০ লাখ আসামী বিএনপির। দুই থেকে আড়াই লক্ষ মামলা। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করি। তাই আমরা অনুরোধ করবো যারা গণতন্ত্রের জন্য মামলার মুখোমুখি হয়েছে তাদের মামলা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেবেন।
এসময় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মওলানা ভাসানীকে তার হাতে গড়া আওয়ামী লীগ কখনো সম্মান বা শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেনি। বিএনপি গুনী মানুষের সম্মান দিতে জানে। মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাতে অন্তর্বর্তী সরকারের কোন উপদেষ্টা না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করে টুকু।
সমাবেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ওবায়দুল হক নাসির, জেলা বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি হামিদুল হক মোহন, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, শহর বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান আলীমসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও গণভোজের আয়োজন করেছেন মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান চাঁদবাজার (পার্কবাজার) দোকান মালিক সাধারণ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
রবিবার (১৭ নভেম্বর)দুপুরে পার্ক বাজারে আয়োজিত এই দোয়া ও গণভোজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম ঝলক, কৃষক দলের সদস্য সচিব শামীমুর রহমান ভিপি শামীম, জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দ হাবিবুল শাতিল, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর দৌহিত্র আজাদ খান ভাসানী।
অনুষ্ঠানে মাহমুদুল হাসান চাঁদবাজার (পার্কবাজার) দোকান মালিক ব্যবসায়ী মো. বাবলু মিয়ার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, ব্যবসায়ী মো মমিন প্রামানিক, মো. শরীফুল ইসলাম শোভা, সোহেল সরকার, জয় সাহা, উজ্জল পাল, শাহজাদা, নুরুল ইসলাম, রায়হান মিয়া, হাবিবুর রহমান হবু, মজনু মিয়া, রাব্বি, ফজলুল হক, মানিক মিয়া, এম.এ করিমসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন,আমীর হামজা রুবেল ।
অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন পাড় দিঘুলিয়া জামে মসজিদের পেশ ঈমাম মাওলানা নাসির উদ্দিন।
পরে বাজারের ব্যবসায়ীসহ আমন্ত্রিত সহস্রাধিক মানুষ গণভোগে অংশ গ্রহণ করে।
একতার কণ্ঠঃ নভেম্বরেই চালু হচ্ছে বহুল আলোচিত বেড়াডোমা ব্রীজ বলে দাবি করেছেন নির্মাণকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। নির্মাণে চার বছর কেটে গেলেও ব্রীজ উদ্বোধনের সংবাদে সীমাহীন উৎসাহে রয়েছেন এর সুবিধাভোগীরা। নির্মাণের মাঝে দেবে যাওয়ার মত দূর্ঘটনার পরও কাঙ্খিত ব্রীজ নির্মাণের সমাপ্তিতে স্বপ্নের দিন গুণছেন পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ মানুষ।
ব্রীজটি নির্মাণের ফলে এ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন সহজ হবে, তেমননি খুলবে ব্যবসায়িক দ্বার। এর সুফল ভোগ করবে জেলার পশ্চিমাঞ্চলের চার ইউনিয়নের পাঁচ লক্ষাধিক মানুষসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জনসাধারণ।

জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (টিপিআইআইপি) আওতায় এলজিইডির অর্থায়নে টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমা এলাকায় লৌহজং নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৪১.৭০ মিটার দীর্ঘ এই আর্চ সেতুটি নির্মাণ কাজের জন্য ব্রিকস্ অ্যান্ড ব্রিজেস লিমিটেড এন্ড দি নির্মিতি (জেভি) নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর চুক্তিপত্র হয়।
৩ কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টাকা ব্যয়ে এই সেতুর কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর। বর্ধিত সময় অনুযায়ী কাজ সমাপ্তির তারিখ ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর। নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর চারটি বিলের মাধ্যমে ঠিকাদারকে দুই কোটি ৮০ লাখ ৫৩ হাজার ৪৭৬ টাকা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৬ জুন রাত সাড়ে ১০টায় দেবে যায় নির্মাণাধীন সেতুটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেন্টারিং খোলাসহ ঘষা মাজা আর সাজসজ্জার অপেক্ষায় রয়েছে বেড়াডোমা ব্রীজ।
বাসাখানপুর গ্রামের গৃহিনী রোজী জানান, ব্রীজ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছি আমরা। শহরে বাচ্চার স্কুলে যাতায়াতসহ মার্কেট ও বাজারে যাতায়াতের খরচ দ্বিগুণ গুনতে হচ্ছে। বেশি সময় ব্যয় হওয়াসহ চলাচলে রয়েছে নানা ধরণের সমস্যা। ব্রীজ নির্মাণের কাজটি শেষ হওয়ায় স্বস্তি পাচ্ছি। দ্রুত উদ্বোধন হলেই আমাদের দূর্ভোগ কাটবে।
সিএনজি চালক মোস্তফা জানান, প্রায় চার বছর যাবৎ চরম কষ্টভোগ করছি আমরা। ব্রীজটি চালু হলে আমাদের সেই কষ্ট দূর হবে।
স্থানীয় হেদায়েত আলী খানসুর শোভা জানান, পশ্চিম টাঙ্গাইলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ফসল বেড়াডোমা ব্রীজ। ব্রীজে দ্রুত চলাচল শুরু হলে পশ্চিমের কাকুয়া, হুগড়া, বাঘিল ও দাইন্যা ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের দূর্ভোগ কাটবে। শহরতলীতে দ্রুত যাতায়াতের সুবিধার পাশাপাশি ওই অঞ্চলের কৃষিপণ্য শহরের বাজারগুলোতে এনে বিক্রির সুযোগ পাবেন কৃষকরা। এতে ওই সকল কৃষক লাভবান হওয়াসহ শহরবাসীর সবজির চাহিদাপূরণ হবে। সবজিসহ কৃষিপণ্যের দাম কমবে বলেও মনে করেন তিনি।
ঠিকাদার প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম খান জামিল জানান, ব্রীজের কাঠামোগত নির্মাণ শেষ। সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে সেন্টারিং খোলাসহ ঘষা মাজা আর সাজসজ্জার কাজও শেষ হবে। আশা করছি, নভেম্বর মাসেই ব্রীজে চলাচল শুরু করা যাবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ব্রীজের সাটার খোলা, ওয়ারিংসহ কিছু সাজ-সজ্জার কাজ বাকি রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, নভেম্বর মাসেই ব্রীজটি চালু করতে। সম্ভব না হলে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চালু করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ অন্তর্বর্তী সরকারের তিন মাসে মানুষ আশানুরূপ ফল পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।
রবিবার (১৭ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘মানুষ খুব আশা করেছিল। কিন্তু গত তিন মাসে মানুষের আশানুরূপ ফল পায়নি। সাধারণ মানুষের যে উপার্জন তারা বাজারে যেতে পারছেন না। স্ত্রী-সন্তান পরিবার নিয়ে ভালোভাবে খেতে পারছেন না।’
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বলেন, অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ একটা মারাত্মক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু অতীতকে বর্জন ও অস্বীকার করে কেউ যদি এই পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে আহাম্মকের স্বর্গেই বাস করছে। দুই দিন পর তাদেরকেও এ রকম হতে হবে।
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মতো মানুষ উপমহাদেশে কম আছে মন্তব্য করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বলেন, ‘যে মানুষটির (মওলানা ভাসানীর) জন্ম না হলে আমরা আজকে বাংলাদেশের নাগরিক হতাম না, যে মওলানা ভাসানীর জন্ম না হলে পাকিস্তান হতো না, পাকিস্তান না হলে বাংলাদেশ হতো না, বাংলাদেশ না হলে আজকে আমাদের এই অবস্থা হতো না। তার অনাদর দেখে খুব কষ্ট লাগে, খুব খারাপ লাগে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি আল্লাহ তাকে যেন বেহেশত নসিব করেন।’
এ সময় সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অসহায় ও দুস্থদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ভুঞাপুর গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি’র) উদ্যোগে উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের অর্জুনা পূর্বপাড়া বউ বাজার এলাকায় এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
একইসাথে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে গণসংযোগ করেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এ সময় উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম তরুণের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শাহ আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- টাঙ্গাইল জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক রুবেল খান, অর্থ সম্পাদক ওমর ফারুক,
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- টাঙ্গাইল জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ফাহাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি সজিব ও সাধারণ সম্পাদক আলী।
এছাড়াও স্থানীয় গণনেতা সোহেল রানা, যুব নেতা বছির, ছাত্র নেতা আলামিনসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত গণঅধিকার পরিষদ ও তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, মানবিক ও সামাজিক সেবা মূলক কাজের মাধ্যমে জনসাধারণের মনে গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক মার্কার প্রতি ভালোবাসা জন্ম দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আগামীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী জনগণের জবাবদিহি মূলক জনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করা এবং গণতান্ত্রিকভাবে জনগণের কল্যাণমূখী শান্তিতে বসবাসযোগ্য তারুণ্যের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের জামুরিয়া ইউনিয়নের এশিয়া ইটের ভাটায় কাজ করতে গিয়ে মিক্সার মেশিনে পড়ে হাফেজ মন্ডল (৪৫) নামে এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সকাল ৭টায় উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের এশিয়া ইট ভাটায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হাফেজ মন্ডল পার্শ্ববর্তী ভূঞাপুর উপজেলার চর বিহারী গ্রামের মৃত আবু সাঈদ মন্ডলের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে হাফেজ মন্ডল ইট তৈরীর কাজে মাটি মিক্সচার করার সময় অসাবধানতা বশত মেশিনে পড়ে হাত পা পেচিয়ে গেলে হাফেজ এর ডাক- চিৎকার শুনে অন্য শ্রমিকরা দৌড়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তারা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরবর্তীতে ঘাটাইল ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম এসে হাফেজকে পা কেটে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইটভাটায় কাজ করার সময় মিক্সার মেশিনে পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন।
একতার কণ্ঠঃ ছাত্র জনতার গণবিপ্লবে ঘটিত গণহত্যার বিচার,দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার, অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও তাদেরকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করা,সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (PR) জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির প্রত্যাশা পূরণে ইসলামভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে গণসমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বিকালে নাগরপুর সরকারি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নাগরপুর উপজেলা শাখা এই গণসমাবেশের আয়োজন করে।
এ উপলক্ষে দুপুরের পর থেকে ইসলামী আন্দোলনের সমর্থকরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সভাস্থলে উপস্থিত হতে থাকে। পরে বিকালে নাগরপুর সরকারি কলেজ মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।
গণসমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, ১৯৭১ সালের পর থেকে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। শাসন, শোষণ, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং লুটতরাজের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে রেখেছিল। তারা দুর্নীতিতে পরপর পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবর্জন দেখেছেন। অবশেষে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে এদেশের মানুষ আবার দেশ স্বাধীন করেছে।
ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির আরও বলেন, কেবলমাত্র দল ও নেতা পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের শান্তি আসতে পারে না। যতদিন পর্যন্ত ন্যায়, নীতির পরিবর্তন আসবে না, ততদিন পর্যন্ত দেশের মানুষের শান্তি শৃঙ্খলা এবং আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারবে না
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ,নাগরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ বাবুল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুফতি আব্দুর রাজ্জাক এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম, শায়খে চরমোনাই।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব আকরাম আলী, সেক্রেটারি মোহাম্মদ আখিনুর মিয়া, সদস্য হাফেজ মাওলানা রেজাউল করীম ও আলহাজ্ব মাওলানা আলী আকবর নাগরপুরী প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে ইসলামী আন্দোলন এ ধরনের গণ সমাবেশের আয়োজন করছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌরসভার বেড়াডোমা এলাকায় টাঙ্গাইল-বাঘিল আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনায় চলতি সপ্তাহে দুজনের মৃত্যুর পর ঐ সড়কে গতি রোধকের দাবীতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
বুধবার (১৩ নভেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে টাঙ্গাইল-বাঘিল আঞ্চলিক সড়কের বেড়াডোমা চৌরাস্তায় ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে শহীদ জাহাঙ্গীর উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ মডেল একাডেমি, জনসেবা ইসলামী ফাউন্ডেশন ও স্থানীয় এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করে।
এসময় বক্তব্য রাখেন শহীদ জাহাঙ্গীর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.শামসুল আলম, সাবেক কাউন্সিলর নুরুল আলম,জহুরুল ইসলাম আজাদ, যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ করেসপনডেন্ট শামীম আল মামুন, ব্যবসায়ী রুহুল তালুকদার, শহীদ মডেল একাডেমির পরিচালক মাজহারুল ইসলাম সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এসময় বক্তারা দাবী করেন, টাঙ্গাইল-বাঘিল আঞ্চলিক
সড়কে সিএনজি ও অটোরিকশা বেপরোয়া গদিতে চলাচল করে। ফলে এক সপ্তাহের মধ্যেই এই সড়কে দুই জনের প্রাণ গেছে।
বক্তারা বলেন, এই সড়কে যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তা দিতে হবে। প্রত্যেকটি মোড়,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে স্পিডব্রেকার দিতে হবে। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও মোড়ে প্রয়োজনে ফুটওভার ব্রিজ চাই। যানবাহনের বেপরোয়া গতির নিয়ন্ত্রণ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে তানভীর হোসেন (১৫) নামের এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে তানভীরের এক বন্ধু।
মঙ্গলবার(১২ নভেম্বর )রাত ১০টার দিকে উপজেলার পেচারআটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তানভীর হোসেন জেলার সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের দিঘীরচালা গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।
সে একই উপজেলার সুরীরচালা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
দুর্ঘটনায় আহত হয় তানভীরের বন্ধু ফেরদৌস। সে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনাস্থল পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল থানার আওতাধীন থাকায় আমাদের থানায় এ বিষয়ে কেউ কিছু জানাননি।
নিহত তানভীরের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তানভীর মঙ্গলবার বিকেলে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে খবর আসে তানভীর ঘাটাইলের পেচারআটা এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা নামক স্থানে তাঁর মৃত্যু হয়।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে তানভীরের মরদেহ রয়েছে বলে জানান তার নানা আবুল কাশেম। তিনি বলেন, লাশ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
তানভীরের বড় বোন বর্ষা আক্তার বলেন, অনেকবার বলার পর আমার ভাইকে মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলাম, সেই মোটরসাইকেলই ভাইয়ের প্রাণ কেড়ে নিল। মানতে পারছি না ভাই আমার আর কোনো দিন আমার বাড়ি যাবে না।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে রাহাত আহম্মেদ সিয়াম (১৩) নামে এক এতিমখানার ছাত্র ১ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে। সিয়ামকে খুঁজে না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন এতিমখানার শিক্ষক ও তার পরিবারের লোকজন।
সিয়াম ভূঞাপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ডের শাহজাহান দারুস সুন্নাহ এতিমখানা ও ভূঞাপুর ফাজিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
মাদ্রাসা সূত্র জানা যায়, সিয়াম বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে গত ১০ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি নেয়। ছুটি শেষে মাদ্রাসায় ফিরে না আসায় শিক্ষকরা তার বাড়িতে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারে সে বাড়িতে যায়নি। পরে শিক্ষক ও পরিবারের লোকজন তার বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও সন্ধান না পেয়ে তার কয়েক দিন পর মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. জাহিদুল ইসলাম ভূঞাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
এতিমখানার সুপার মাওলানা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সিয়াম নিখোঁজের ১ মাস পার হয়েছে। আজও সে ফিরে আসেনি। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাইনি। সম্প্রতি আমি নিজে বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছি। আমরা তার সন্ধান চাই। এ জন্য সবার সহযোগিতা চাচ্ছি। যদি কেউ সিয়ামের সন্ধান পান তাহলে ০১৭২৪-৫৭২৪২৫ নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করছি।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন জানান, সিয়াম নামে ছেলেটি নিখোঁজ হয়েছে। সে এর আগেও দুইবার নিখোঁজ হয়েছিল। পরে তাকে কক্সবাজার ও জামালপুর থেকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ খুঁজে পায়। সম্প্রতি ছেলেটি বাড়ি যাওয়ার কথা বলে ছুটি নেয়। পরে ছুটি শেষে মাদ্রাসায় না ফিরে আসায় নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে মাদ্রাসা সুপার একটি অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা তার সন্ধানের জন্য কাযক্রম চালাচ্ছি।
একতার কণ্ঠঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিহত শহীদদের স্মরনে “শহীদ স্মৃতি ক্রিকেটার্স কাপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২৪” ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলায় আমেনা স্পোর্টস হাউস চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল ক্রিকেট খেলোয়ার কল্যাণ সমিতির আয়োজনে ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং ওয়ালটনের সার্বিক সহযোগিতায় টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনাল খেলায় আমেনা স্পোর্টস হাউস ও টাঙ্গাইল ইউনিক ক্লাব অংশগ্রহন করে। শুরুতে টাঙ্গাইল ইউনিক ক্লাব টসে জিতে ব্যাটিং করে ১৮ ওভার ১ বলে ৭১ রান করে। বিপরীতে আমেনা স্পোর্টস হাউস ২ উইকেট হারিয়ে ৮ ওভার ৪ বলে ৭৬ রান করে।
আমেনা স্পোর্টস হাউস ৮ উইকেটে বিজয়ী হয়।
এই খেলায় দেবাশীষ ২২ বলে ২১ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহ করে।
পরে বিজয়ী ও টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোরারদের মাঝে পুরষ্কার বিতরন করা হয়। পুরষ্কার বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত, বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন,জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. আফাজ উদ্দিন, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক (গেমস অ্যান্ড স্পোর্টস, মার্কেটিং) এফএম ইকবাল-বিন-আনোয়ার (ডন), টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারন সম্পাদক আলী ইমাম তপন, দৈনিক পথে প্রান্তরে পত্রিকার সম্পাদক ফিরোজ মান্না, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসএসএস এর সহকারী পরিচালক (মানব সম্পদ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ, টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের সদস্যসচিব তৌহিদুর ইসলাম বাবুসহ খেলায় অংশগ্রহনকারী ক্লাবের কর্মকর্তা, খেলোয়ার ও টাঙ্গাইল ক্রিকেট খেলোয়ার কল্যাণ সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পুরষ্কার বিতরন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন টাঙ্গাইল ক্রিকেট খেলোয়ার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবু নাসের মানিক।
এ সময় ম্যান অফ দ্যা টুর্নামেন্ট রিজান, সর্বোচ্চ উইকেট রিফাত আল জাবির, সর্বোচ্চ রান তালহা, টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচ সোহাগ ও ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ মো. হাসানকে পুরস্কার দেয়া হয়। পরে দুই দলকে চ্যাম্পিয়ান ও রানারআপের পুরস্কার দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১লা নভেম্বর) সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল ক্রিকেট খেলোয়ার কল্যাণ সমিতির আয়োজনে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও ওয়ালটনের সার্বিক সহযোগিতায় টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে “ শহীদ স্মৃতি ক্রিকেটার্স কাপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৪ ” শুরু হয়। এই টুর্নামেন্টে মোট ৮ টি ক্রিকেট দল অংশগ্রহণ করে।
এই ৮ টি ক্রিকেট দল গ্রুপ “এ” তে ইয়ং স্পোর্টিং ক্লাব, টাঙ্গাইল টাইগার্স, টাঙ্গাইল ইউনিক ক্লাব ও আরামবাগ স্পোর্টিং ক্লাব এবং গ্রুপ “বি” তে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব, সখিপুর ক্রিকেট এলিভেন, কালিহাতী গ্রিন ওয়ারিয়স ও আমেনা স্পোর্টস হাউস অংশগ্রহণ করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ সোমবার(১১ নভেম্বর )সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তিনি আদালতকে বলেছেন, গ্রেপ্তার করা দুই আসামির ও প্রত্যক্ষদর্শী তিন সাক্ষীর আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও অন্যান্য আলামত থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়, সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান ও তাঁর ভাইদের পরিকল্পনা ও নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে।
সোমবার (১১ নভেম্বর)তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার সাক্ষীর পর্ব শেষ হলো।
টাঙ্গাইলের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস আকবর খান বলেন, এখন বাদী ও আসামি উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের পর মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান ও তাঁর তিন ভাই এই মামলার আসামি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ বলেন, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মাহমুদুল হাসানের আদালতে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। বেলা আড়াইটা পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহণ চলে। পরে আধা ঘণ্টা বিরতি দিয়ে আবার বেলা তিনটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্যদানের সময় তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি তিনি মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান।
তদন্তকালে বিভিন্ন উৎস থেকে জানতে পারেন, এই হত্যার সঙ্গে শহরের কলেজপাড়ার আনিসুল ইসলাম ওরফে রাজা ও মোহাম্মদ আলী জড়িত থাকতে পারেন। তাঁদের গ্রেপ্তার করলে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে এই হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে তাঁরা আদালতে জবানবন্দি দেন। তাঁদের জবানবন্দিতে সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান, তাঁর ভাই পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার পরিকল্পনা ও নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড হওয়ার বিষয়টি বের হয়ে আসে।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াহেদ, আবদুল খালেক ও সনি আদালতে জবানবন্দি দেন। তাঁদের জবানবন্দিতেও হত্যার বর্ণনা উঠে আসে।
অশোক কুমার সিংহ সাক্ষ্য দেওয়ার পর আসামিদের আইনজীবীরা তাঁকে জেরা করেন।
এর আগে মামলার তদন্তের শেষ পর্যায়ে অশোক কুমার সিংহ পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়ে যান। পরে গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মাহফীজুর রহমান ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আমানুররা চার ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। বাদীপক্ষের অভিযোগ, মামলার ২৬ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ হয় অনেক আগেই। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ এলেই কারাগারে থাকা আসামিরা অসুস্থতাসহ নানা অজুহাতে আদালতে আসতেন না। তাঁদের সময়ক্ষেপণের কারণে বিচারের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছিল।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তাঁর পৌরশহরের কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যায় সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর ও তাঁর ভাইদের নাম বের হয়ে আসে।