আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ইউক্যালিপটাস গাছ কাটার সময় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে চাপা পড়ে আসাদ মিয়া (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (১ জুন) দুপুরে মির্জাপুর পৌরসভার পাহাড়পুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আসাদ মিয়া পাহাড়পুর এলাকার নবাব আলীর ছেলে। সে পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মির্জাপুর পৌরসভার পাহাড়পুর এলাকার নুরুল হক ভূইয়ার স্ত্রী মিনু বেগম তার বাড়ির বড় ইউক্যালিপটাসসহ কয়েকটি গাছ দেওহাটা বাজারের তিনজন কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। শ্রমিকরা গত এক সপ্তাহ ধরে গাছগুলো কাটার কাজ করছিলেন। রবিবার দুপুরে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ একটি গাছ কাটার সময় সেটি বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে যায়। এতে সঙ্গে সঙ্গে দুটি খুঁটি ভেঙে পড়ে। ঠিক সেই সময় রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আসাদ মিয়া। খুঁটির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত আসাদ মিয়া সাহাপাড়া বাবুবাজারে সবজি বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন।
খবর পেয়ে মির্জাপুর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সাবেক দুই কাউন্সিলর আজম খান ও শামীম খান বলেন, রাস্তার পাশে গাছ কাটার সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়নি। বিশাল আকৃতির গাছ এভাবে কাটার আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ মির্জাপুর জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মোকলেছুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ড্রাম-ট্রাকের সাথে একটি বেপোরোয়া গতির মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক স্কুলছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় গুরুত্বর আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল আরোহী তার সহপাঠী তুহিন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের উদ্যমপুর বর্ণি নির্মাণাধীন ব্রীজের পশ্চিমপাশের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত স্কুল ছাত্রের নাম রিয়াদ হোসেন (১৪)। সে উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের নবগ্রাম এলাকার সুরুজ্জামালের ছেলে। রিয়াদ স্থানীয় নবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে নিহত রিয়াদ ও তার বন্ধু তুহিন এক আত্মীয়ের মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়। ঘুরাঘুরি শেষে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের উদ্যমপুর বর্ণি নির্মাণাধীন ব্রীজের পশ্চিমপাশের সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ড্রাম-ট্রাকের পেছনে তাদের বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের সাথে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল চালক রিয়াদের মাথার মস্তক বের হয়ে যায়। সে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে। তার বন্ধু তুহিন পেছন থেকে ছিটকে পড়ে গুরুত্বর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। বর্তমানে সে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মো. মামুন ভূঞা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল করা হয়েছে। আইনগতভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিএনপি অফিসে চেয়ারে বসে টেবিলে পা তুলে সিগারেট খাচ্ছেন হারুন আর রশিদ নামে আওয়ামী লীগের এক কর্মী।
রবিবার (২৫ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ ছবি ভাইরাল হয়। ওই আ.লীগ কর্মী রাত-দিন অফিসে আড্ডা দেন।
‘জিয়ার সৈনিক’ নামে ফেসবুক আইডি থেকে হারুন অর রশিদের টেবিলে পা তোলা ও হাতে জ্বলন্ত সিগারেটের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে ‘বাহ্! আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি কুখ্যাত ভূমিদস্যু একাব্বর চেয়ারম্যানের ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী হারুন বলে কথা ‘
বিএনপির অফিসে হাতে সিগারেট আর টেবিলে পা তুলে বসে থাকা সাধারণ জনগণকে মোটেও অবাক করেনি। কারণ এই এলাকায় স্বজনপ্রীতি রাজনৈতিক হালচাল। কিন্তু প্রশ্ন হলো আওয়ামী লীগের সময় এ স্বজনগুলো কোথায় ছিল?
জানা গেছে, ওই অফিসে উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা বসেন। তবে এটি ২নং ওয়ার্ড বিএনপির অফিস। অফিসটি উপজেলার গারোবাজরে অবস্থিত।
আর হারুন ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী। তার বাড়ি সিংহচালা গ্রামে। তার বাবা একাব্বর আলী ছিলেন বৃহত্তর রসুলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে লক্ষিন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও ওই ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর হারুন পালিয়ে ভারতে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঢাকা থেকে ফেরত আসেন। পরবর্তীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় প্রকাশ্যে আসেন হারুন। বিএনপির নেতাদের সঙ্গে গড়ে তোলেন সখ্যতা। এর ফলেই তিনি পৌঁছে যান বিএনপির অফিস পর্যন্ত। ওই অফিসে দিন-রাত আড্ডা দেন তিনি।’
স্থানীয়রা জানান, তিন মাস আগে বিএনপির এই অফিস উদ্বোধন করা হয়। ১৫ দিন না যেতেই হারুন ওই অফিসে যাতায়াত শুরু করেন। সঙ্গে নিয়ে যান আওয়ামী লীগের আরও অনেক নেতাকর্মী। রাত-দিন অফিসে আড্ডা দেন।
উপজেলা বিএনপির সদস্য ও লক্ষিন্দর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী আকন্দ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতার দোষ কম। আমাদের নেতৃত্বে যারা আছেন, তারা এই অফিস পরিচালনা করেন। অর্থাৎ সিনিয়ররা আওয়ামী লীগদের সঙ্গে নিয়ে অফিসে বসেন। বিএনপির সিনিয়ররা আওয়ামী লীগ ছাড়া চলতে পারেন না। জুলাই বিপ্লবের পর দেশ ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলেন হারুন। কিন্তু আমাদের কিছু লোক অভয় দিয়ে এলাকায় রাখার ব্যবস্থা করেছে হারুনকে। মনে হয় অফিসটা আমাদের না, আওয়ামী লীগের অফিস।’
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয় হারুন আর রশিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এটা আসলে বিএনপির অফিস না। এটা খেলাঘর। কারণে-অকারণে ওই ঘরে যাওয়া হয়। ওই ঘরটি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ইকবাল তালুকদারের ভাই খোরশেদ তালুকদারের। সম্পর্কে ইকবাল তালুকদার আমার মামা। ছবিটি যে রাতে তোলা হয়েছে সেই রাতে ওই ঘরে আড্ডায় আমার সঙ্গে ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম।’
লক্ষিন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসিম চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। গারোবাজারের ওই অফিসটা ইউনিয়ন বিএনপির না, ওইটা ২নং ওয়ার্ড বিএনপির অফিস। ওইখানে বসেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইকবাল তালুকদার।’
ইকবাল তালুকদার বলেন, ‘লক্ষিন্দর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা এ অফিসে বসেন। হারুন আমার বোনের দেবরের ছেলে। সম্পর্কে ভাগনে। কখন সে এই অফিসে এসে এ কাজ করেছে আমি জানি না।’
এ ব্যাপারে ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে যদি কেউ আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে রানা আহাম্মেদ নামের এক ঠিকাদারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও ফাঁকা গুলির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৬ মে) দুপুরে শহরের বেলটিয়াবাড়ী এলাকার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের বেলটিয়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত রানা আহাম্মেদ (৫৫) শহরের পলাশতলী এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারী পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী হাসান সাদিক বলেন, ‘রানাসহ আমরা পাঁচজন ঠিকাদার বেলটিয়া মোড়ের একটি চায়ের দোকানে একত্রে বসে ছিলাম। এসময় সন্ত্রাসীরা রানাকে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে রড দিয়ে পেটাতে শুরু করে। ভয়ে তার কাছে যেতে পারিনি। পরে আমাদের ডাক-চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে ৬ থেকে ৭ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দুইটি রিভলবার দিয়ে চার থেকে পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে দ্রুত একটি অটোরিকশায় করে রাবনা বাইপাসের দিকে চলে যায়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রানা আহাম্মেদের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি পক্ষের সাথে বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, জমি সংক্রান্ত বা ঠিকাদারী কোনো দ্বন্দ্বের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
হামলায় আহত রানা আহাম্মেদ বলেন, পেশাগত কাজে আমি বেলটিয়াবাড়ী মোড় বিদ্যুৎ অফিস থেকে বের হলে কয়েকজন সন্ত্রাসী আমাকে ঘিরে ধরে। তাদের মধ্যে দুইজন দুই দিক থেকে দুটি পিস্তল আমার মাথায় ঠেকায়, তারপর ২ থেকে ৩ জন আমাকে রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। পরে আমি মাটিতে লুটিয়ে পরি।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক হাশিম রেজা বলেন, তার শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
এই বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহম্মেদ জানান, ঘটনা শোনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়ে।ছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে টাঙ্গাইল থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশ।
রবিবার (২৫ মে) রাতে টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম হায়দার রহমান জয় (২১)। সে টাঙ্গাইল পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সারুটিয়া এলাকার মো. নাহিদা মিয়ার ছেলে। জয় করটিয়া সাদা’ত কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র। বর্তমানে তার পরিবার টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার ছাতা মসজিদ সংলগ্ন মো. শিকদার মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকেন।
ঠাকুরগাঁও সদর থানায় লিখিত অভিযোগটি করেন বিএনপি’র মহাসচিবের পক্ষে তার চাচাতো ভাই নূর-এ-শাহাদাৎ স্বজন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তানভীর আহাম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, রবিবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের একটি দল হায়দার রহমান জয়কে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত জয়ের পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া জব্দকৃত মোবাইল ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় ল্যাবে পাঠানো হবে।
লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চাচাতো ভাই নূর-এ-শাহাদাৎ স্বজন উল্লেখ করেছেন, গত ১৭ মে ২০২৫ রাত আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি জানতে পারেন যে, ‘জয় খান’ (হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর : ০১৭০৪-৫৫৩০৫৫) নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এবং শাকিল আহমেদ নামে এক ব্যক্তি (পরিচয় ও ঠিকানা অজ্ঞাত) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি তৈরি করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এই ভুয়া আইডি ব্যবহার করে প্রতারকচক্র নিজেদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং সংসদ সদস্যের মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চাঁদা দাবি করছিল। অভিযুক্তরা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে সাইবার স্পেসে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রূপ ধারণ করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে তদবিরের কথা বলে অর্থ দাবি করছিলেন।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। ভবিষ্যতে তার নাম ভাঙিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি সাধিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।
নূর-এ-শাহাদাৎ স্বজন জানান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই তাকে এ প্রতারণার বিষয়টি জানান। সে ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি৷
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরোয়ারে আলম খান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে হায়দার রহমান জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। সে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ বনবাসীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১২৯ টি মামলা প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এছাড়া মধুপুর গড়ের শালবনে আবারও শাল গাছ রোপণের ঘোষণা দেন তিনি।
রবিবার (২৫ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল বন বিভাগের আওতাধীন মধুপুরের টেলকি এলাকায় শাল চারা রোপণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শালবনে আবার শাল গাছ ফেরত আনা হবে। তাই আসন্ন বর্ষায় বেশি বেশি শাল গাছ রোপণ করতে হবে। এখানে যারা বনবাসী আছেন তাদের এই বন রক্ষায় ভূমিকা পালন করতে হবে। এসব কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। বনে যে জায়গা বেদখল আছে সে গুলো চিহ্নিত করতে সীমানা পিলার দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শালবনে বাণিজ্যিকভাবে ইউক্যালিপটাস ও আকাশিয়া গাছ রোপণ করা হয়। সেগুলো ক্রমান্নয়নে বন্ধ করা হবে।
এছাড়া মধুপুর বনাঞ্চলের রাজাবাড়ী এলাকায় সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজ পরিদর্শন ও সীমানা পিলার স্থাপনের মাধ্যমে ‘স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে মধুপুর শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের কার্যক্রমও উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, প্রখ্যাত বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী প্রমূখ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর (এলেঙ্গা) হাইওয়ে থানা পুলিশের আয়োজনে মহাসড়কে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধ কল্পে ওপেন হাউস ডে এবং কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ মে) সকাল ১১ টায় এলেঙ্গা হাইওয়ে থানা প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ শরিফ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এলেঙ্গা হাইওয়ে থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি ও এলেঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. শাফি খান।
এলেঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাহবুব রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, এলেঙ্গা পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ফকির, এলেঙ্গা পৌর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন, পৌর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আল আমীন মিয়া, কালিহাতী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মো. আমিনুর ইসলাম, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক শরিফ মোল্লা প্রমূখ।
সভায় বক্তারা সড়কে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই প্রতিরোধে হাইওয়ে থানা পুলিশকে জনগণের সহযোগিতা নিয়ে সকল সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয় সভা থেকে।
আরমান কবীরঃ গ্রাহকদের পরিমাণে জ্বালানি তেল (পেট্রোল, অকটেন) কম দেওয়ার অপরাধে টাঙ্গাইল ফিলিং স্টেশনে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর।
শনিবার (২৪ মে) দুপুরে অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল।
আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, পেট্রোল পাম্পগুলোতে পরিমাণে কম তেল দিয়ে ভোক্তাদের ঠকানো হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে টাঙ্গাইলের দুটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে টাঙ্গাইল ফিলিং স্টেশনে প্রতি পাঁচ লিটার পেট্রোলে ৩০০ মিলি কম দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণ পাওয়া যায়। ভোক্তাদের ঠকানোর দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৫ ও ৪৬ ধারায় ৭০ হাজার টাকা জরিমানা এবং পেট্রোল পাম্পের পরিমাপ যন্ত্রটি ঠিক করা হয়েছে। সেই সাথে ওই প্রতিষ্ঠানকে সর্তক করা হয়েছে।
এসময় জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক নাজিমুদ্দিনসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে সোয়াদ আল সাফওয়ান (৫) নামে এক শিশু নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৩ মে) দুপুরে উপজেলার সখীপুর-গোড়াই আঞ্চলিক সড়কের লাইফ কেয়ার ক্লিনিক সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাফওয়ান পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জামতলা বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন মাসুম মিয়ার একমাত্র সন্তান। পুলিশ ট্রাকটি আটক করেছে।
জানাগেছে, বাবা-মা ও সাফওয়ান অটোরিকশা করে লাইফ কেয়ার ক্লিনিক সংলগ্ন এলাকায় সাফওয়ানের খালার বাসায় বেড়াতে যান। অটোরিকশা থেকে নেমে রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই ওই শিশু নিহত হয়।
এ বিষয়ে নিহত সাফওয়ানের মামা সাজু জানান, সাফওয়ান আমার খুবই আদরের ভাগিনা ছিল। এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফ আশিকুর রহমান বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এবং গাড়িটি (ট্রাক) আটক করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা লেগে খাদে পড়ে বাসের ২ জন যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় আহত হয়েছে আরও ১০ জন।
শুক্রবার (২৩ মে) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মুলিয়া নামক স্থানে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন- জেলার ঘাটাইল উপজেলার গুসাইবাড়ি এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে আব্দুস সালাম ও মির্জাপুর উপজেলার ছাটিয়াচুরা এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে এস এম আলম।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানান, টাঙ্গাইল থেকে ময়মনসিংহগামী প্রান্তিক বাস উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মুলিয়া নামক স্থানে এসে পৌঁছলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়। এছাড়া এই সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জন আহত হয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিবারের সাথে কথা বলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
আরমান কবীরঃ নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের টাঙ্গাইল শহর শাখার সভাপতি মীর ওয়াছেদুল হক তানজিলকে (২৬) মারুফ হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকালে টাঙ্গাইল সদর থানা আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খান এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল আদালতের পুলিশ পরিদর্শক লুৎফর রহমান। তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত মারুফ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মীর ওয়াছেদুল হক তানজিলের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ। বিজ্ঞ আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর পূর্বে বুধবার (২১ মে) রাতে রাজধানী ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত তানজিল টাঙ্গাইল পৌরসভার থানাপাড়া এলাকার মৃত মীর নুরুল হক কামালের ছেলে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহাম্মেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রাজধানী ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার রাত ৯ টার দিকে টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মীর ওয়াছেদুল হক তানজিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত তানজিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দায়ের করা ৬টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এর মধ্যে দুটি হত্যা মামলাও রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল সদর থানায় দায়েরকৃত মারুফ হত্যা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে টাঙ্গাইল সদর থানা আমলি আদালতে তাকে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে তানজিলকে টাঙ্গাইল কোর্টে হাজির করার পূর্বেই কোর্ট চত্বর এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এরপরেও তানজিলকে কোর্টে হাজির করার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার হামলার শিকার হন তিনি। এছাড়া তাকে দেখতে আসা তার মামাতো ভাই শাহেদ আল শাফি ব্যাপক মারধরের শিকার হন। একপর্যায়ে শাফি নিজের জীবন বাঁচাতে কোর্ট চত্বরের গারদ খানায় আশ্রয় নেয়। এসময় কোর্ট চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনার তৈরি হয়।
এছাড়া বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা তানজিলের ফাঁসির দাবিতে সকাল থেকে বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে কোর্ট চত্বর মুখরিত করে রাখে।
আরমান কবীরঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে তিন মাসের মাথায় আবারও যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানীরও ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২০ মে) রাত সাড়ে ১১টা থেকে বুধবার (২১ মে) ভোর ৫টা পর্যন্ত রংপুরগামী বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডাকাতদল লুটপাট চালায় বলে জানান টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক যাত্রী টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে আল ইমরান পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে মহাসড়কের বিভিন্নস্থান থেকে যাত্রী সেজে ডাকাতরা বাসে ওঠেন। সুযোগ বুঝে তারা বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেয়।
বাসের সুপারভাইজার ও যাত্রীরা জানান, রাত ৮টার দিকে আব্দুল্লাহপুর থেকে বাসটি রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে সাভারের নরসিংহপুর, বাইপাইল, আশুলিয়া থেকে কিছু যাত্রী উঠে। প্রায় ৯ থেকে ১০ জন নারীসহ ৩৮ যাত্রী নিয়ে বাসটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা অতিক্রম করে।
যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের সংযোগ সড়কের কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পর যাত্রীবেশী আট থেকে ১০ জন ডাকাত ছুরি, চাপাতিসহ দেশিও অস্ত্রের মুখে চালকের কাছ থেকে বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এ সময় ডাকাতরা বাসটি নিয়ে বেশ কয়েকবার টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-আশুলিয়ায় যাওয়া-আসা করে।
পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস সড়কের শিবপুর এলাকায় বাসটি রেখে ডাকাতদল চলে যায় বলে জানান যাত্রীরা।
বাস চালকের সহকারী ২১ বছর বয়সি আতিকুর রহমান রাঙ্গা বলেন, ডাকাতরা যাত্রীদের ও বাসের চালকসহ সকলের চোখ, মুখ বেঁধে ফেলে। যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের গোলচত্বর এলাকায় গিয়ে বাসটি ঘুরিয়ে আবার ঢাকার দিকে চলতে থাকে।
এ সময় প্রত্যেক যাত্রীকে তল্লাশি করে মোবাইল ফোন, টাকা, সোনারগহনা এবং অন্যান্য মালামাল লুট করে নেয়। রাতভর কয়েকবার বাসটি নিয়ে ওই এলাকা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত চক্কর দেয়। বাসটি নিয়ে ডাকাতরা চার থেকে পাঁচ বার টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-আশুলিয়া সড়কে যাওয়া-আসা করে।
ভোরে ডাকাতদল বাসটি ছেড়ে দিলে যাত্রীদের নিয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ করা হয় বলে জানান এই বাস চালকের সহকারী।
বাসের যাত্রী বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ৫২ বছর বয়সি আফাজ উদ্দিন বলেন, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য নারী যাত্রীদের তল্লাশীর সময় তাদের শ্লীলতাহানী করা হয়। আমার চোখমুখ বাঁধা ছিল। তবে ঘটনার সময় নারী যাত্রীদের কান্নাকাটি ও কাকুতি-মিনতি শুনতে পাই।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ডাকাতদের ধরতে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ইউনিক রয়েলসের একটি যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানীর ঘটনা ঘটে।