আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও সখীপুর উপজেলায় সাপের কামড়ে এক স্কুল ছাত্রী ও এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ।
শুক্রবার (৯ মে) রাত ১টায় ঘাটাইলের দেওপাড়া ইউনিয়নের যুগিয়া টেঙ্গর এলাকা ও শনিবার (১০ মে ) সকালে সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালমেঘা দক্ষিণপাড়া এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, স্কুলছাত্রী মোছা. আঁখি আক্তার (১৪) ও বৃদ্ধা কাজলী বেগম (৬০)।
আঁখি ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের কালিকাপুর উত্তর পাড়া গ্রামের আয়েজ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলী বেগম সখীপুর উপজেলার কালমেঘা দক্ষিণপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী।
দেওপাড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মিয়া বলেন, আঁখি মেধাবী ছাত্রী ছিল। রাতে সে পড়তে বসেছিল, এর মধ্যে টেবিলের নিচে থাকা একটি সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। তীব্র ব্যথায় আঁখি চিৎকার করলে রাতেই তাকে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে অ্যান্টিভেমন না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসক। কিন্তু পথেই মেয়েটির মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকের বরাতে ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মিয়া বলেন, আঁখির পায়ে বিষধর সাপের কামড়ের দাগ ছিল।
এদিকে, কাজলী বেগমের ছেলে হোসেন আলী জানান, তার মা সকালে পানি আনতে ঘরের পাশে নলকূপে যান। সেখানে একটি সাপ তার বাঁ হাতে ছোবল দেয়। এতে তার দুই আঙুলে সাপের দাঁতের দাগ বসে যায়। এ সময় তিনি চিৎকার করে বিষয়টি ছেলেকে জানান।
ছেলে হোসেন আলী আরও জানান, মার চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে আমি সাপ দেখতে পারি নাই। কিন্তু হাতে সাপের কামড়ের দাগ দেখে দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। তারপরও মাকে বাঁচাতে পারলাম না।
তিনি জানান, সাপে কামড়ের দেড় ঘণ্টার মধ্যে মাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার মাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ওই নারী মারা গেছেন। তার বা হাতের দুটি আঙুলে ক্ষতচিহ্ন দেখে বিষধর সাপের কামড় বলেই মনে হয়েছে। বিষয়টি থানায় জানিয়ে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান এই চিকিৎসক।
আরমান কবীরঃ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র জনতা।
শনিবার (১০ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে তারা। পরে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক আল আমিন, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম, মুখ্য সংগঠক ইমতিয়াজ জাবেদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব ফারদিন ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় আন্দোলনকারীরা বলেন, আওয়ামী লীগকে অতিদ্রুতই নিষিদ্ধ করতে হবে। এখন পর্যন্ত কি কারণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলো না তা আমরা জানতে চাই। আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। অনেকেই এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন বক্তারা।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে গলায় ফাঁস দিয়ে ইশীকা আরাত (২০) নামের এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৯ মে) দুপুরে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পুরাতন বটতলা মুরগির বাজার এলাকার এক বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
নিহত ঈশীকা আরাত পৌরসভার বাগানবাড়ি এলাকার আমিনুল ইসলামের মেয়ে। সে বটতলা এলাকার মালেক ভূঁইয়ার বাসায় ভাড়া থাকতেন।
বাগান বাড়ি এলাকার স্থানীয়রা জানান, ঈশীকার ৩ বছর আগে হাজরাঘাট এলাকার রিয়াদ খানের সাথে বিয়ে হয়েছিল। তাদের ২ বছরের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। তাদের সংসারে বনি-বনা না হওয়ায় এক বছর আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরে বাগান বাড়ি এলাকার একটি ছেলের সাথে তার আবারও বিয়ে হয়। সে সংসারও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কিছুদিন পূর্বে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরিবারের সাথে তার সম্পর্ক ভাল ছিল না বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। যে কারণে সে বটতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেমরাজুল ইসলাম রুবেল একতার কণ্ঠ-কে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আরমান কবীরঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে ফিরোজ তালুকদার পলাশ গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
পলাশের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা পৌর শহরের ঘাটান্দি গ্রামে। তিনি মরহুম সোহরাব হোসেন ও বেনু বেগমের ছেলে।
সম্প্রতি শহীদ পলাশের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেট্রো চীফ জুডিশিয়াল আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মেট্রো পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসানের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তার মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের আদেশ দেন।
এরই প্রেক্ষিতে বুধবার (৭ মে) সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারিকুল ইসলামসহ তদন্ত কর্মকর্তা পলাশের লাশ উত্তোলন করতে গেলে মামলার বাদী পলাশের স্ত্রী রেশমা সুলতানা লাশ না তোলার জন্য আবেদন করেন।
এ সময় পলাশের বৃদ্ধা মা বেনু বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার ছেলের লাশ কবর থেকে উত্তোলনে বাধা দেন। ফলে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পুলিশ তার লাশ উত্তোলন না করে ফিরে যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারিকুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশক্রমে শহীদ পলাশের লাশ উত্তোলন করতে চাইলে মামলার বাদী পলাশের স্ত্রী রেশমা সুলতানার আবেদন ও পলাশের মা সহ স্বজনদের আপত্তির কারণে লাশ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়টি মহামান্য আদালতকে অবগত করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্তরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়ি আসার পথে শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে গুলিতে ফিরোজ তালুকদার পলাশ গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
এরপর তাকে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা পৌর শহরের নিজ গ্রাম ঘাটান্দি এলাকায় দাফন করা হয়। তিনি রাজধানীর ঢাকার মিরপুর ১২ নম্বরে সপরিবারে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং রংপুর কেমিক্যাল কোম্পানিতে অফিস সহকারী পদে চাকরি করতেন। তার এক মেয়ে রয়েছে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে পলাশ ছিল বড় এবং তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে নিখোঁজের একদিন পর জঙ্গল থেকে অধীর সূত্রধর (৬৫) নামে এক কাঠমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৭ মে) দুপুরে উপজেলার শোলাকুড়ী ইউনিয়নের পীরগাছা এলাকার সেগুনবাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত অধীর সূত্রধর টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার কোনাবাড়ী এলাকার গোপি সূত্রধরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন।
অধীর সূত্রধরের ভাতিজা মুকুল সূত্রধর জানান, তার চাচা গত মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে বের হন। সারাদিন বাড়ি না ফেরায় তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। বুধবার বেলা ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বনের মধ্যে ঝুলন্ত একজনের মরদেহ দেখে তিনি চাচাকে শনাক্ত করেন। পরে ঝুলন্ত অবস্থায় পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে মধুপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ জানান, স্থানীয় লোকজন জঙ্গলে গরু চড়াতে গিয়ে সেগুনবাগানে ঝুলন্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে তিনি জানান।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রায়হান (২৮) নামে এক যুবককে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুর তিনটার দিকে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম ইব্রাহিম (৩৫)। সে কালিহাতী উপজেলার রামপুর হাটিপাড়া গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে।
ওসি আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যেই মামলার ২নং আসামি ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার দিবাগত রাতে কালিহাতী উপজেলার রামপুর কুকরাইল গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে রায়হানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয় ইব্রাহিম ও তার সহযোগীরা। নিহত রায়হান মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি আলোচিত রামপুরের সলিট হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. রাব্বি (১৮) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী৷
মঙ্গলবার (৬ মে ) বেলা ১১ টার দিকে টাঙ্গাইল-শালগ্রামপুর আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের কাজিবাড়ী গোরস্থান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাব্বি উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর এলাকার সরোয়ার হোসেনের ছেলে। সে দেশের বাহিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন, মোটরসাইকেল আরোহী একই এলাকার মন্টু মিয়ার ছেলে ইফাত (২০) ও ইমান আলীর ছেলে জাহিদ (১৫)। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেল যোগে কাজিবাড়ী থেকে রামপুর যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের গতি বেশি থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যায়। এতে তিনজন গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা চলাকালীন সময় রাব্বি মৃত্যুবরণ করে। আহত অপর দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে গিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অপর দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর কোকরাইল গ্রামে রায়হান নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার(৫ মে) সকালে গ্রামের একটি পুকুর থেকে নিহত রায়হানের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করেছ পুলিশ।
নিহত রায়হান উপজেলার কোকরাইল গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে।সে হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলার আসামি ছিলেন।’
নিহতের পরিবার জানায়, রায়হান সোমবার ভোররাত ২টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে সকালে গ্রামের একটি পুকুরে তার মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা।পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
নিহতের বাবা বাদল মিয়া জানান, ভোর ৪টার দিকে মুন্না নামের একজন আমাকে ডাকতে যায় এবং বলে আপনার ছেলেকে মেরে ফেললো, আমি খবর শুনে ছুটে আসি এবং আশপাশে খোঁজ করি। খোজাখুজির একপর্যায়ে কোকরাইল গ্রামের রিপনের পুকুরে রক্তাক্ত অবস্থায় তার ছেলের মরদেহ দেখতে পান তিনি।
নিহতের স্ত্রী জানান, আমার স্বামী রাত দুইটার দিকে ফোন দিয়ে মুড়ি ভর্তা করার জন্য পেঁয়াজ মরিচ কেটে রাখতে বলে। তার কিছুক্ষণ পরে বাড়ীতে এসে কেটে রাখা পেঁয়াজ মরিচ ও মুড়ি চানাচুর নিয়ে যায়, সে সময় তিনি প্রচুর মদ্যপ অবস্থায় ছিল এবং তার সাথে আরও একজন লোক ছিলো যাকে আমি চিনতে পারিনি।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ‘নিহত রায়হান মাদক সেবন ও বিক্রয় এবং হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলার আসামি।
উল্লেখ্য, নিহত রায়হান নিয়মিত মাদক সেবন এবং মাদক বিক্রির সাথে জড়িত ছিলো। এছাড়াও নিহত রায়হান বহু আলোচিত রামপুরের সলিট হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ঝিনাই নদীর ওপর একটি ব্রিজের নির্মাণকাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় ছয় মাস আগে কাজটি ফেলে রেখে লাপাত্তা হয়েছেন ঠিকাদার। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ। নদীটির দুইপাড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৌকায় করে প্রতিনিয়ত পারাপার হতে হচ্ছে।
জানা গেছে, বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার সংযোগস্থল কাঞ্চনপুর কাজিরাপাড়া এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর ব্রিজটি প্রায় ১০ বছর আগে পানির স্রোতে ভেঙে যায়। এরপর ২০২০ সালে ২৭ কোটি ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮ টাকা ব্যয়ে সেখানে নতুন করে ২৫৬ মিটার গার্ডার ব্রিজের অনুমোদন হয়। কাজটি পায় হায়দার কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড এন্ড মো. লিয়াকত আলী জেবি নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ওই বছরের ১৮ মার্চ নতুন ব্র্রিজের কাজ শুরু করে। ব্রিজটির নির্মাণকাজ ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও শেষ করতে পারেনি। ঠিকাদানী প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬ মাস আগে নির্মাণকাজটি বন্ধ রেখে রাতের আধাঁরে পালিয়ে যায়। এই দীর্ঘ ছয় মাসেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কেউই ব্রিজটি দেখতেও আসেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান বলেন, ‘একজন মানুষ মারা গেলে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক ঘুরে লাশ দাফন করতে হয়। ব্রিজটির কারণে নদীর দুইপাড়ের মানুষের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্ভোগ লাগবে এই নদীতে ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলমান ছিল। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ ফেলে রেখে চলে গেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল আলম খান বলেন, ‘এই ব্রিজটি বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার জন্য খুবই জরুরি। এই ব্রিজ দিয়ে লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতস্থল। এখানে একটি ঈদগা মাঠ রয়েছে, সেখানে ছয়টি গ্রামের মানুষ একত্রে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এছাড়াও তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য একটি কবরস্থান রয়েছে। মানুষ মারা গেলে নৌকায় করে লাশ নিয়ে দাফন করতে হয়। নদীর দুইপাড়ে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্রিজ না থাকায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ নৌকাযোগে পারাপার হচ্ছে। প্রায় ছয় বছর ধরে ব্রিজের নির্মাণকাজ চলমান ছিল। এই দীর্ঘ সময়েও কাজটি শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। এমতাবস্থায় প্রায় ছয় মাস হলো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্রিজের নির্মাণকাজ বন্ধ করে পালিয়ে গেছে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশরাফুজ্জামান বক্তার বলেন, ‘কাঞ্চনপুর কাজিরাপাড়ায় ঝিনাই নদীর ওপর ২৬৬ মিটার ব্রিজের কাজটি ২০১৯ সালে টেন্ডার হয়। ঠিকাদানী প্রতিষ্ঠান শুরুতেই বিলম্ব করে কাজ শুরু করে। প্রথমে কাজের কিছুটা অগ্রগতি ছিল। এক বছর পর থেকে কাজের গতি কমে যায়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন- ঠিদাকারী প্রতিষ্ঠান যদি যথা সময়ে কাজ না করে তাহলে টেন্ডার বাতিল করা হবে। ব্রিজটির কারণে অসংখ্য মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। ব্রিজটি দ্রুতসময়ের মধ্যে নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘বাসাইল উপজেলার কাজিরাপাড়ায় ঝিনাই নদীর ওপর ২৫৬ মিটার ব্রিজের কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজটির বর্তমানে অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। বেশ কিছুদিন ধরে কাজটি বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন সময় ঠিকাদারকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কাজ শুরু করে আবার বন্ধ করে দেয়। কাজটি বাতিলের জন্য আমাদের জেলা কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যেহেতু কাজটি অনেক ধরে বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার। সুতরাং কাজটি বাতিল করার জন্য আবার সুপারিশ করা হবে। কাজটি বন্ধ রাখায় ঠিকাদারকে জরিমানার আওতায় আনার জন্য প্রস্তাব করা হবে। রি-টেন্ডার করে খুব দ্রুত কাজটি শেষ করা হবে।’
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাইড ইঞ্জিনিয়ার মো. আখতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকিং-এ সমস্যা হচ্ছে। এজন্য কাজটি বন্ধ রয়েছে। আমাদের সাথে ন্যাশনাল ব্যাংকের চুক্তি রয়েছে। সেখানে আমার একটি বিল পড়ে আছে। ব্যাংকিং-এ সমস্যা সমাধান না হলে তো ব্রিজের কাজটি আমাদের করতে দিবে না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও )মোছা. আকলিমা বেগম বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে। মূলত ঠিকাদারের কারণে কাজটি বন্ধ রয়েছে। তার প্রেক্ষিতে ঠিকাদারকে সর্বশেষ পত্র দিয়েছে কাজটি করার জন্য। ঠিকাদার কাজটি না করলে পুনরায় টেন্ডার করে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কাজটি দ্রুত শেষ করবেন।
আরমান কবীরঃ রোহিঙ্গা ইস্যুতে করিডোর নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূমির মালিক এই দেশের জনগণ। সেটি আপনি যদি কাউকে ব্যবহার করতে দেন তাহলে জনগণের অনুমতি লাগবে। এই জমিটি আপনি অন্যকে ব্যবহার করতে দিবেন কিনা যারা মালিক অবশ্যই তাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত। কাজটি দ্রুত এই দেশের জনগণের যে প্রতিনিধিত্বকারী সকল দলের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।
শনিবার (৩ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্স ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের করিডোর কেউ ব্যবহার করবে সেটি জনগণ জানবে না সেটি হতে পারে না। দেশটি সকলের। সকলের আগে বাংলাদেশ। আমাদের দেশের স্বার্থ আমরা সকলে মিলে রক্ষা করবো।
তিনি বলেন, এই দেশের মালিক এই দেশের জনগণ। দেশের মালিকানা, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার মানুষ ফেরত চায়। বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তিন কোটি ৬০ লাখ নতুন ভোটার তারা ভোট দিতে পারেনি। এই দেশের মালিক কেউ এককভাবে নয়। ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, বিদায় হওয়ার পর একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হবে এটাই মানুষের প্রত্যাশা। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন সেটিই বিএনপি চাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। তাকে বরণ করার জন্য আনন্দিত সকলেই।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ লাইন্স আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান প্রমুখ।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় মিজানুর রহমান (৪৫) নামে এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকে দুর্বৃত্তরা ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২ মে) রাতে উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ভাইঘাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম শহীদুল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মিজানুর রহমান উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের সান্ডালপুর গ্রামের মরহুম আব্দুল মান্নানের ছেলে।
সে ধোপাখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পেশায় একজন পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী ছিলেন।
মিজানুরের চাচা মহির উদ্দিন ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার ভাইঘাট বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করে মিজানুর একটি দোকানের সামনে বসে ছিলেন। সেখান থেকে তাকে ডেকে মসজিদের কাছের একটি গলিতে নিয়ে যায় অপরিচিত কয়েকজন দুর্বৃত্ত। ওই গলিতে তাকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে দুর্বৃত্তরা সেখান থেকে সটকে পরলে স্থানীয়রা মিজানুরকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। টাঙ্গাইল নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এ প্রসঙ্গে ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম শহীদুল্লাহ জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তসহ আইনি প্রক্রিয়া চলমান। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেয়া হবে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩ মে ) সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ফুটবলার শামীম আল মামুন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৪ এপ্রিল খোকন আহমেদ নামের এক ব্যক্তি বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় আমাকে ২০নং আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠক মো: উজ্জল মিয়া, ইসলাম খান ও এনামুল হক রৌফকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখিত আমরা ৪ জন টাঙ্গাইল জেলা দলের হয়ে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলেছি। আমরা কেউ রাজনীতির সাথে জড়িত নই। আমি ও আমার স্ত্রীসহ গত বছরের জুলাই মাসের ২০ তারিখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বহির্গমন করি এবং একই মাসের ২৭ তারিখে চিকিৎসা শেষে পুনরায় দেশে ফিরে আছি। যার প্রমাণ আমার পাসপোর্টের ভিসা, ইমিগ্রেশনে বহির্গমন, অন্তগমন সিল।
আর মামলার নথিতে ঘটনার বিবরণীতে বলা হয়েছে, অপরাধ সংগঠিত হয়েছে গত বছরের জুলাই মাসের ২০ তারিখ সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে। যেখানে আমি দেশেই উপস্থিত ছিলাম না, আমি কিভাবে এই অপরাধ সংগঠিত করি। একই অবস্থা মামলার ১১০নং আসমি মো: উজ্জল মিয়ার। তিনিও উন্নত চিকিৎসার জন্য উল্লেখিত সময় চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। যার প্রমাণ আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মামলার ১৮নং আসামি সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিক্রেট কোচ ইসলাম খান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ও তার ক্রিকেট একাডেমির ছাত্ররা আন্দোলনের প্রতিটি মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছে। যার প্রমাণ স্বরূপ আন্দোলনে অংশগ্রহণের ছবি আপনাদেরকে দেখানো হয়েছে। মামলার ৮৮নং আসামি টাঙ্গাইলের সাবেক কৃতি ফুটবলার এনামুল হক রৌফ তার দু’বছর আগে ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে। তিনি ঘটনার দিন অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ছিলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামীম আল মামুন জানান, টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলী ইমাম তপন ও বিসিবি নিয়োজিত টাঙ্গাইল জেলা ক্রিকেট কোচ মো. আরাফাত রহমান এই মিথ্যা মামলার মূল কারিগর। তারা জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে বর্তমানে কুক্ষিগত করে রেখেছে। তাদের হাত থেকে জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে সকলের জন্য উন্মুক্ত করার চেষ্টা করায় আমাদের এই ৪ জন সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠককে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা এই মিথ্যা, হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয়। অন্যথায় এর বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জেলার বর্তমান ও সাবেক খেলোয়ারদের নিয়ে একটি দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ইসলাম খান, মো. হামিদুর রহমান, মেহেদী ভূঁইয়া, নজরুল ইসলাম, এনামুল হক, রাশেদুল আলম মনি, মো. উজ্জ্বল মিয়া প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলাম।
এর পূর্বে সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে একই দাবিতে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রায় ২ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে।