আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে অতি দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শুক্রবার (২২ মে) বেলা ১২টার দিকে সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলি এলাকার নদীভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন করেন মন্ত্রীদ্বয়। পরে নদীর তীরবর্তী মিন্টু মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভাঙনকবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ এবং জনগণের স্বার্থে আগামী অর্থবছর থেকেই যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনে প্রতি বছর নদীপাড়ের অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। টাঙ্গাইলের যমুনা নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলো সুরক্ষায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরেই এর কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। যমুনার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যেই নিজে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমরা যা বলি, তাই করি।নির্বাচনের আগে যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এ অঞ্চলের উন্নয়নে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সিরাজসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী এবং ভাঙনকবলিত এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সবুজ পৃথিবী’র উদ্যোগে টাঙ্গাইলে সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ)সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের শহরের নগরজলফৈ বাইপাস এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডঃ আজিজুল হক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইব্রাহিম খাঁ সরকারী কলেজের অধ্যাপক অনিক রহমান বুলবুল, শাপলা ইউনিভার্সাল সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক আমির হোসেন বাবু, সবুজ পৃথিবীর উপদেষ্টা দিলআরা বেগম মিনা, সেবক সংস্থার নির্বাহী পরিচালক নাজমুজ সালেহীন, সবুজ পৃথিবীর পরিচালক শারমিন আলম, সংগঠক নাদিয়া ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌস জলি প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সবুজ পৃথিবীর সাধারণ সম্পাদক সহিদ মাহমুদ।
বৃক্ষরোপণকালে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। স্বাধীনতা দিবসের এই ঐতিহাসিক ক্ষণে দেশকে সবুজে শ্যামলে ভরিয়ে তোলার শপথ নিয়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তারা কেবল গাছ রোপণই নয়, বরং রোপিত গাছের সঠিক পরিচর্যার ওপরও বিশেষ জোর দেন।
দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে মহাসড়কের নগরজলফৈ বাইপাস সংলগ্ন খালি জায়গায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
এ সময় সংগঠনের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং পরিবেশকর্মী ও তরুণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।
আরমান কবীরঃ পৌষের মাঝামাঝি সময়ে কনকনে হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে টাঙ্গাইলের দিগন্ত।
বুধবার(২৪ ডিসেম্বর) ভোররাত থেকেই জেলা শহরসহ ১২টি উপজেলার পথ-ঘাট ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
এদিন, বুধবার সকাল থেকে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। কুয়াশার তীব্রতায় দৃষ্টিসীমা কমে আসায় চালকরা হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকগুলো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা দেরি করছে। মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
মহাসড়কে চলাচলকারী নাদের পরিবহনের চালক সুমন মিয়া জানান, ঢাকা থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন। মহাসড়কে ভোর থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কুয়াশা পড়েছে। ফলে গাড়ি চালাতে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। অতিরিক্ত ঘনকুয়াশার কারণে সামনে কি আছে তা সহজে বোঝাও যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
সিলেট থাকা আসা পাবনাগামী ট্রাক চালক আব্দুল মোমেন জানান, ঘন কুয়াশার কারণে সামনে কী আছে তা বোঝা মুশকিল হয়ে পড়েছে। ধীর গতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পূর্ব পর্যন্ত মহাসড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি। এ কারণে হেডলাইন জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
যমুনা নদীবেষ্টিত ভূঞাপুর ও কালিহাতী উপজেলার অংশে ঘন কুয়াশার কারণে নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যমুনা বহমুখী সেতু এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোও ধীরগতিতে যাতায়াত করতে দেখাগেছে।
কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও কৃষকরা। প্রচন্ড ঠান্ডায় বোরো ধানের চারা রোপণ ও সবজি ক্ষেতের পরিচর্যা করতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষি শ্রমিকরা। কৃষি বিভাগ থেকে কুয়াশাজনিত রোগবালাই থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের দেখা মিললেও কুয়াশার দাপট পুরোপুরি কমেনি।
যমুনা সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি জানান, অতিরিক্ত কুয়াশা থাকলেও স্বাভাবিক মতোই যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়া মহাসড়কে দুর্ঘটনারোধে সার্বক্ষণিক পুলিশ কাজ করছে।
টাঙ্গাইল আবহাওয়া অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যবেক্ষক জামাল উদ্দিন জানান, সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও গত কয়েকদিন ধরে অতিরিক্ত কুয়াশা পড়ছে। বুধবার টাঙ্গাইলে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি জানান, আগামি কয়েকদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এবং কুয়াশায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৯টার দিকে দেলদুয়ার-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক সড়কের পাথরাইল বটতলা এলাকায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় বেল্লাল হোসেন (৫৫) নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত বেল্লাল হোসেন উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের পাথরাইল গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, বেল্লাল হোসেন বটতলায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি ট্রাক পিছন দিক থেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাটিয়াপাড়া এলাকায় ভোর সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি পিকআপ অপর একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে পিকআপ চালক রাশেদ (৩৪) ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত রাশেদ বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার বৃকুষ্টিয়া গ্রামের মৃত নায়েব আলীর ছেলে।
উভয় ঘটনায় নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেলদুয়ার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেব খান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বেড়েছে শীতের তীব্রতা, সেই সাথে উত্তরের কনকনে হিমেল হাওয়ায় জবুথবু হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। বিশেষ করে জেলার পশ্চিমের চরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি এলাকায় সবচেয়ে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। ফলে নিম্ন-আয়ের মানুষ, গৃহহীন ভাসমান মানুষ ও কৃষকরা সমস্যায় পড়ছে সবচেয়ে বেশি।
টাঙ্গাইল আবহাওয়া অফিসের সূত্রে জানা যায়, জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় তাপমাত্রা কমেছে ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সকল ৯টা জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রার পতন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা আবহাওয়া অফিস।

জানা গেছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার জেলায় সূর্যের দেখা মেলেনি। সেই সাথে উত্তরের কনকনে হিমেল হাওয়ার কারনে জেলায় প্রচন্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। এর ফলে জেলার পশ্চিমের চরাঞ্চলে খুব সকালে কৃষকদের সবজির খেতে গিয়ে সবজি তুলে শহরের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে আনতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়াও জেলার পাহাড়ি এলাকায় ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় কারনে সন্ধ্যার পরে স্থানীয় মানুষ জন প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না
স্থানীয়রা জানায়,শীতের দাপটে গ্রামাঞ্চলের অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টাও করছেন। তীব্র শীত উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে বের হয়েছেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো। তাপমাত্রা কমার চেয়েও বেশি অসুবিধা হচ্ছে হিমশীতল বাতাসে। এর পাশাপাশি ঘন কুয়াশা থাকায় বাতাসে তা গায়ে কাঁটার মতো বিঁধতে থাকে। ঘরে ঘরে লেপ-কাঁথা নামানো হয়েছে। তবে গত কয়েকদিন থেকেই শীতের তীব্রতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন জেলার নিম্নআয়ের মানুষজন। খড়-কুঠো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে নিম্নে আয়ের মানুষ। সন্ধ্যার পর শহর খালি হয়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড শীত থেকে বাঁচতে সন্ধ্যার পর ঘরে থাকছে শহরের মানুষ। যার প্রভাব পড়েছে শহরের ব্যবসা-বাণিজেও।
টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে পান-সিগারেট বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন লাইলি বেগম (৭০)। পরিবার-পরিজন বিহীন ভাসমান লাইলি বেগম থাকেন শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে। তিনি জানান, এই শীতে কাঁপছেন তিনি। গায়ের পাতলা চাদরটা তার শীত নিবারণ করতে পারছে না। তার পরও বাধ্য হয়ে এই প্রচন্ড শীতে সকাল থেকে রাত অব্দি পান-সিগারেট বিক্রি করতে হচ্ছে জীবনধারণের প্রয়োজনে। তার আফশোস এই প্রচন্ড শীতে কেউ তাঁকে একটি শীত বস্ত্র দিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের বাগুনটাল গ্রামের কৃষক শাহাদাত হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার খুব ভোরে তার কপি খেতে গিয়েছিলেন কপি কেটে টাঙ্গাইল পার্ক বাজারে নিয়ে যাওয়া জন্য। প্রচন্ড শীতে কাঁপছে কাঁপতে তার পক্ষে আর সম্ভব হয়নি নদীর পাড়ের তার এই কপি খেতে থাকার। ফলে কপি না কেটেই বাসায় চলে এসেছেন তিনি। এ দিকে নির্দিষ্ট সময়ে কপি না তুললে বাজারে সঠিক দাম পাওয়া যাবে না বলে জানান তিনি। প্রচন্ড শীত তাঁদের জীবন যাপনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
শুকুর আলী টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় ব্যাটারি চালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার গ্রামের বাড়ি জেলার মধুপুর উপজেলায় হলেও টাঙ্গাইল শহরের পশ্চিম আকুর-টাকুর পাড়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি জানান, এই প্রচন্ড শীতে শহরে মানুষ-জন বের হয় না। বিশেষ প্রয়োজনে যারা বের হচ্ছেন তারাও শহরে বেশী সময় থাকছে না। ফলে গত ৩ দিনে তার আয়-রোজগার প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে, এ ভাবে চলতে থাকলে আগামী মাসে তার বাড়ি ভাড়া দিতে সমস্যায় পড়তে হবে। এ ছাড়াও এই প্রচন্ড শীতে তার রিক্সা চালাতে সমস্যা হচ্ছে, ফলে সন্ধ্যার পর রিক্সা না চালিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
তিনি আরো জানান, কোন সংগঠনের পক্ষ থেকে কোন ধরনের শীতের কাপড় কিম্বা আর্থিক সহযোগিতা পাননি তিনি।
জেলায় অসহায়, দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের তথ্য জানতে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হকের মুঠো ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
একতার কণ্ঠঃ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, প্রাকৃতিক বনে কিসের সামাজিক বনায়ন, প্রাকৃতিক বনে বন থাকবে। আপনি যদি সামাজিক বনায়ন করেন, তাহলে চুক্তি স্বাক্ষর করেন উপকারভোগীদের সঙ্গে। এরপর সামাজিক বনায়নের গাছগুলো কেটে উপকারভোগীদের মধ্যে টাকা পয়সা বিতরণ করে দেন। বনবিভাগের প্রাথমিক দায়িত্ব টাকা পয়সা বিতরণ করা না। তাদের দায়িত্ব হচ্ছে প্রাকৃতিক বনকে রক্ষা করা। প্রাকৃতিক বনে আর কোনও সামাজিক বনায়ন হবে না।
বুধবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর শহরে ব্যুরো বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক পরিবেশ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎ অপচয় রোধে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন দিনের বেলায় সব লাইট বন্ধ করে দিয়েছি। এই বিদ্যুৎ কোথা থেকে উৎপাদন হয়, কীভাবে হয় তা জানতে হবে। আমরা কেন দিনের বেলায় বিদ্যুৎ অপচয় করব। প্রাকৃতিক আলো থাকার পরেও কেন দিনের বেলায় লাইট জ্বালিয়ে প্রোগ্রাম করব।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরো বলেন, ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদী উদ্ধার করা যাচ্ছে না। নদীর নিচে তিন থেকে চার স্তরের পলিথিন পড়ে আছে। এ কারণে সেখানে ড্রেজিং করা সম্ভব না। তাই আমাদের সবার উচিত পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করা।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা করা সবাই দায়িত্ব, কারো একার নয়। ক্ষতিকর প্লাষ্টিক বর্জনের পাশাপাশি প্লাস্ট্রিকের উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। নতুন করে কেউ যেন প্লাস্টিক তৈরি ব্যবস্থাপনায় না যায় সে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্লাস্ট্রিকের জীবাশ্ম পুড়িয়ে রোধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইটভাটার মাটি কোথা থেকে আসে তার সঠিক তথ্য জানানো এবং পোড়ানো ইট নতুন করে পোড়ানো যাবে না। এক্ষেত্রে অনিয়মকারীদের নিবন্ধন বাতিল করা হবে।
ব্যুরো বাংলাদেশের এইচআরডি অ্যান্ড আইসিটি ডিরেক্টর অপারেশনস ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ফারমিনা হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদুল হক, আসপাড়া পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক লায়ন এম এ রশীদ, রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন, সবুজ পৃথিবীর নির্বাহী পরিচালক সহিদ মাহমুদ প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ: আমাদের দেশের মাটি ও আবহাওয়া পান চাষ করার উপযোগী। অন্যদিকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এখন বাণিজ্যিকভাবে পানের চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে এই প্রথম পান চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মো.জহিরুল ইসলাম (৩৫)। সে নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামের মৃত সরব আলীর ছেলে।
জহিরুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায় , প্রায় সাত বছর পূর্বে রাজশাহীতে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সেখানে পান চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি। পরে আত্মীয়র সহযোগিতায় রাজশাহী থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকায় চার হাজার পানের চারা কিনে এনে ২৫ শতাংশ জমিতে পানের বরজ তৈরি করেন। পর পর দুবার বেশির ভাগ চারা নষ্ট হয়ে যায় এবং ফলন ভালো না হওয়ায় বেশ আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়েন। যার কারণে কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েন। তবে হাল ছাড়েননি। রাজশাহীতে কয়েকবার গিয়ে নিজে মাঠে থেকে পান চাষ, যত্ন ও পানগাছ রক্ষার বিষয়ে পানের চাষ করেন এমন কৃষকদের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেন তিনি। পরে বন্ধুদের সহযোগিতায় আবারো শুরু করেন পান চাষ। অবশেষে সফলতা পান তিনি। খরচ দ্বিগুণ হলেও বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় লাভের আশা করছেন তিনি। এরই মধ্যে তার বরজের পান পাতা বড় হয়েছে। বিক্রিও শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, ২৫ শতাংশ জমিতে পান চাষে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। প্রতিসপ্তাহে প্রায় ৩ হাজার টাকার পান বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৭ হাজার টাকার পান বিক্রি করেছেন। পান চাষের নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানে পানগাছের লতা বাড়তি হলে আবার সে লতাগুলো মাটিতে ঢেকে দিতে হয় এখন সেই প্রস্ততি চলছে। সব ঠিকঠাক থাকলে এ বাগান থেকে প্রতিবছর দেড় লাখ টাকার পান বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন। জহিরুল ইসলামের অভিযোগ উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সে কোন প্রকার পরামর্শ বা সহযোগিতা পায়না।
যদি সরকারের পক্ষ থেকে এই পান চাষের জন্য কৃষি উপকরণ, কৃষি সহায়তা ঔষধ, সার, কীটনাশক পায় তবে পানের উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী।
চাষ পদ্ধতি নিয়ে জহিরুল ইসলাম জানান, পান চাষের উপযুক্ত সময় বাংলা বৈশাখ মাস। তাই বৈশাখের শুরুতেই উঁচু জমিতে সারিবদ্ধ ভাবে পানের চারা রোপন করা হয়। জমি থেকে পানি সহজেই বের হওয়ার জন্য করা হয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা। প্রখর রোদের তাপ থেকে চারা বাঁচাতে বাঁশ ও খড়ের সাহায্যে মাচা দেওয়া হয়। ৬ থেকে ৭ ফুট ওপরে ছাউনি দেওয়া হয়। সপ্তাহে অন্তঃত দু’বার কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। পান গাছের প্রধান খাবার খৈল। যা বর্ষাকালে প্রয়োগ করা হয়। ফাল্গুন চৈত্রে খৈল প্রয়োগ করতে হয় না।
নাগরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসাইন শাকিল জানান, নাগরপুর উপজেলায় পান চাষে জহিরুল ইসলাম একজন সফল উদ্যোক্তা। পান চাষে জহিরুল ইসলামকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সকল ধরনের কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। পান যেহেতু অর্থকরী ফসল তাই কৃষি অফিস থেকে জহিরুল ইসলামসহ যারা পান চাষে এগিয়ে আসবে তাদের সার্বিক সহযোগীতা প্রদানে সচেষ্ট থাকবো।
একতার কন্ঠঃ কয়েক দিন ধরে চলা টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত টাঙ্গাইলের জনজীবন। তবে রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বৃষ্টি গত কয়েক দিনকে ছাড়িয়ে গেছে। এদিন সকাল থেকে চলা অবিরাম বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পরেছে জেলার শ্রমজীবী মানুষেরা। অফিসগামী সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃষ্টির এই ভোগান্তি কবে শেষ হবে, তার দিন গুণছে মানুষ।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি স্থল গভীর নিম্নচাপ হয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশজুড়ে চলমান বৃষ্টি আগামী তিন দিনও অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, স্থল গভীর নিম্নচাপটি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গভীর স্থল নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। সেই সঙ্গে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে এই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে এই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেতে পারে।
বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এই সময়েও দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেতে পারে।
বর্ধিত ৫ দিনে আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা লৌহজং নদী দখল ও দূষণরোধে করণীয় শীর্ষক দলীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার(২১ আগষ্ট )দুপুরে শহরের একটি রেস্তোরায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি’ (বেলা) উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বিশিষ্ট সমাজকর্মী খন্দকার নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, সমাজকর্মী জালাল আহমেদ উজ্জল, আরপিডিও’র নির্বাহী পরিচালক রওশনারা লিলি।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ। আলোচনা সভায় বক্তারা লৌহজং নদী দখল ও দূষণরোধে করনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এসময় বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্য ও সমাজ কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে একদিনে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৩ সেন্টিমিটার। এছাড়াও জেলার ছোট-বড় সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মঙ্গলবার (০২ জুলাই) সকালে টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নূরুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সকাল ৬ টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত যমুনা নদীর পোড়াবাড়ী পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরআগে বিপদসীমার ১০ দশমিক ৩৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।
টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নূরুল আমিন জানান, দু’দিন আগেও টাঙ্গাইলের যমুনা নদীসহ জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করে। কিন্তু ফের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনাসহ জেলার সব নদীতে পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করছে। তবে, বড় ধরণা বড় ধরণের বন্যার সম্ভাবনা নেই।
এদিকে, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির শুরু থেকে ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা, অর্জুনা, গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে চিতুলিয়াপাড়া, মাটিকাটা ও কোনাবাড়ী এলাকার বেশ কয়েকটি ঘর-বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া চরাঞ্চলের অপরিপক্ক তিল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে টাঙ্গাইলে বিতরণ করা হয়েছে ছাতা। সেই সঙ্গে দেওয়া হয়েছে সুপেয় পানি ও বিস্কুট। কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্দেশে বুধবার (১ মে) দুপুরে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড মোড়ে জেলা যুবলীগের উদ্যোগে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
রোদে সুরক্ষার জন্য ছাতার পাশাপাশি সুপেয় পানি ও বিস্কুট পেয়ে খুশি পথচারীসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। এ সময় ভ্যান চালকদের মাঝেও বিতরণ করা হয় ছাতা।
পথচারী বারেক মিয়া বলেন, মে দিবসের জন্য দোকানপাট বন্ধ। বিস্কুট ও পানি পেয়ে খুব উপকার হলো। এরকম কার্যক্রম চলমান থাকলে পথচারী ও ভ্যান চালকরা স্বস্তি পাবে।
জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাইম তালুকদার বিপ্লব বলেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্দেশে আমরা প্রথমদিনে ৫০ জনের মাঝে ছাতা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া পথচারী ও নিম্ন আয়ের এক হাজার মানুষকে সুপেয় পানি ও বিস্কুট দেওয়া হয়েছে। যতদিন অসহ্য তাপদাহ থাকবে, এ কার্যক্রম ততদিন চলবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবলীগের সভাপতি মাসুদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইম তালুকদার বিপ্লব, নুর মোহাম্মদ সিকদার মানিকসহ জেলা ও উপজেলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে তীব্র তাপপ্রবাহে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) রাতে হিট স্ট্রোক করে সালমা বেগম (৫০) নামের ওই নারীর মৃত্যু হয়।
তিনি ভূঞাপুর পৌর শহরের ফকিরপাড়ার চরপাড়া এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট সানাউল্লাহর স্ত্রী।
শনিবার (২৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাতে প্রচণ্ড গরমের কারণে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান সালমা।পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে ভুঞাপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান জানান, শুক্রবার রাতে সালমা নামে এক বয়স্ক নারীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছিল। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়। প্রচন্ড গরমে স্টোক জনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।