ekotar kantho

টাঙ্গাইলে মানববন্ধনে গিয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের মানববন্ধনে গিয়ে আইয়ুব আলী খান (৫৫) নামের এক কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের আদালত চত্বরের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া আইয়ুব আলী জেলার কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের কৃষি শিক্ষা বিভাগের প্রদর্শক (প্যাকটিক্যাল ক্লাস করান) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের টাঙ্গাইল জেলার সভাপতি একেএম আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে মঙ্গলবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। আইয়ুব আলী ওই মানববন্ধনে অংশ নেন। এসময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আইয়ুব আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি- তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।’

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খালিদ হক তমাল জানান, ‘আইয়ুব আলীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, এটা ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব না।’

২ সপ্তাহ আগে
ekotar kantho

শেষ মুহূর্তে টাঙ্গাইলের আরও দুই ইউপির নির্বাচন স্থগিত

একতার কণ্ঠঃ শেষ মুহূর্তে এসে টাঙ্গাইলের আরও দুটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এ ইউনিয়ন দুটি হচ্ছে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর এবং মধুপুর উপজেলার ফুলবাগচালা।

নবম ধাপে এই দুটি ইউনিয়নসহ বুধবার(১৫ জুন) জেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। এর আগে রোববার(১২ জুন) মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল হাসান জানান, গোপালপুরের হেমনগর ইউনিয়নের সীমানাসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এক ব্যক্তি উচ্চ আদালতে রিট করেন। ওই রিটের শুনানিতে ইউনিয়ন দুটির নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন আদালত। আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করে। সেই সঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে কিছু জটিলতা থাকায় স্থগিত করা হয়েছে ফুলবাগচালা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন।

বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা নির্বাচন অফিস।

এর আগে আওয়ামী লীগের এক নেতা নৌকায় যাঁরা ভোট দেবেন না, তাঁদের ভোটকেন্দ্রে আসতে নিষেধ করে বক্তৃতা দেওয়ায় এবং নানা হুমকি দেওয়ায় মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

২ সপ্তাহ আগে

টাঙ্গাইলে শ্যুটিং করতে এসে বখাটেদের হামলার শিকার প্রযোজক

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) নাটকের শ্যুটিং করতে এসে বখাটেদের হামলার শিকার হয়েছেন এক্সিকিউটিভ প্রযোজক সৌরভ ইশতিয়াক।

অভিনেতা মুশফিক ফারহান ও অভিনেত্রী তানজিন তিশা অভিনীত নাটকের শ্যুটিং ১১ জুন থেকে ১৩ জুন মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, একাডেমিক ভবন, ক্যাফেটেরিয়া, মুক্তমঞ্চসহ বিভিন্ন পয়েন্টে শ্যুটিং হয়। তবে শ্যুটিংয়ের শেষ মুহূর্তে বহিরাগত কিছু বখাটেদের সাথে বাগবিতণ্ডার জেরে আক্রমণ ও মারধরের শিকার হন সৌরভ।

এ বিষয়ে প্রডিউসার সৌরভ মুঠোফোনে জানান, ১০/১২ জন যুবককে শ্যুটিং স্থান থেকে সরে যেতে বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে খারাপ ব্যবহার করে।

২ সপ্তাহ আগে

টাঙ্গাইলে প্রকাশ্যেই গলানো হচ্ছে ব্যাটারি, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বিশাল জনগোষ্ঠী

‌একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ঘোষপাড়া এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে স্থাপন করা হয়েছে ব্যাটারি পুড়িয়ে একটি অবৈধ সীসা তৈরির কারখানা। এখানে কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই প্রকাশ্যেই পুরাতন ব্যাটারি ভেঙে পুড়িয়ে সীসা তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া এই কারখানার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে পাশের ধলেশ্বরী নদীতে। পরিবেশ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মো: মাহবুবুল হক এর মতে, এ ধরনের উন্মুক্ত স্থানে সীসা পোড়ানোর ফলে জীব-বৈচিত্র্য ও মানুষের খাদ্য চক্রে ঢুকে পড়ছে ভারী ও অত্যন্ত বিষাক্ত পদার্থ সীসা। এভাবে ব্যাটারি ভাঙ্গা এবং সীসা গলানোর সময় ক্ষুদ্রকণা বাতাসে ও মাটিতে ছড়িয়ে পড়ছে। যার নেতি বাচক প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের ঘোষপাড়া (এসডিএস ব্রিজ সংলগ্ন) এলাকায় পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। দশ জন শ্রমিক ও কর্মচারী পুরাতন ব্যাটারি ভেঙে প্লেট আলাদা করছে। ব্যাটারির পরিত্যক্ত অংশ আলাদা করে রাখা হয়েছে যত্রতত্র। এই দশজন শ্রমিক খালি গায়ে ও খালি হাতে কোন ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করেই তারা দিনরাত এই কাজ করে যাচ্ছে এই কারখানায়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে কোন সাইনবোর্ড, ট্রেড লাইসেন্স, কলকারখানা অধিদপ্তর এর সার্টিফিকেট, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরির নিরাপদ চুল্লি নেই। ফ্যাক্টরির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পরিত্যক্ত ব্যাটারির বর্জ্য প্লাস্টিক, কার্বন ও ক্ষতিকারক বিভিন্ন ধরনের পদার্থ। টাঙ্গাইলে একটি বেসরকারী পলিটেকনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রাম লাগানো একটি হাফ টনী পিক-আপে কারখানায় উৎপাদিত প্রায় ১২০ কেজি সীসা তোলা হচ্ছে ঢাকায় চায়না ফ্যাক্টরিতে পাঠানোর জন্য।

কারখানার কর্মচারী শাহাদাৎ জানান, তিনি সহ মোট দশজন কর্মচারী উত্তরবঙ্গ থেকে এখানে এসেছেন কাজ করতে। মালিকের নির্দেশেই তারা এভাবে ব্যাটারি ভেঙ্গে তা পুড়িয়ে সীসা তৈরি করছেন। মানুষ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক জেনেও পেটের দায়ে এই কাজ করছেন তারা।

তিনি আরও জানান, দিনের বেলায় ব্যাটারি ভাঙ্গা হয় আর রাত দশটার পর থেকে তা পুড়িয়ে সীসা তৈরি করা হয়। তাদের ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি করার কোন চুল্লি নেই। তাই বাধ্য হয়েই উন্মুক্ত স্থানে ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানান, ব্যাটারি কারখানার মালিক দু’জন টাঙ্গাইলের ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী নেতার নিকট আত্মীয়। ফলে এলাকাবাসীর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধ উপেক্ষা করেই দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানাটির চালাচ্ছে। বিশেষ করে রাতে যখন ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি করা হয় তখন এলাকাবাসীর শ্বাস-প্রশ্বাসে ভীষণ কষ্ট হয়।

তারা আরো জানান, ব্যাটারি পোড়ানোর স্থানে কোন ছাউনি না থাকায় বৃষ্টি হলেই, বৃষ্টির পানির সাথে বিষাক্ত বর্জ্য পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পরে ও পাশ্বের ধলেশ্বরী নদীতে গিয়ে পরে। একসময় ধলেশ্বরী নদীর এই অংশে প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও, কারখানা চালুর পর থেকেই এখানে কোন ধরনের মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন মিয়া প্রথমে কথা বলতে না চাইলেও পরে জানান, আপনারা খুব ভালো করেই জানেন এই কারখানাটির মালিক কারা। স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের চাপ থাকা স্বত্তেও কারখানাটির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না। এমনকি ব্যবসা পরিচালনার জন্য এই কারখানায় মালিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোন ট্রেড লাইসেন্সও গ্রহণ করেনি। তিনি ফ্যাক্টরি বন্ধে নিজের অসহায়েত্বের কথা স্বীকার করেন।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জমির উদ্দীন জানান, এই অবৈধ ফ্যাক্টরির বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে এভাবে প্রকাশ্যে জায়গায় ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি করলে বায়ু দূষণ ও আশে পাশে বসবাসরত প্রাণীর মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর ইতিমধ্যে দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নে একটি অবৈধ ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরির কারখানা উচ্ছেদ করেছেন।

তিনি আরও জানান, যত দ্রুত সম্ভব এই অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রানুয়ারা খাতুন জানান, তিনি বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের ফেসবুক লাইভে এই অবৈধ কারখানার বিষয়ে জেনেছেন। যত দ্রুত সম্ভব এই অবৈধ কারখানা উচ্ছেদে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

উন্মুক্ত স্থানে ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি করা প্রসঙ্গে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনভারমেন্টাল সায়েন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ও পরিবেশ বিজ্ঞানী ড মো: মাহবুবুল হক বলেন, সীসা একটি ভারী ও নিউরো টক্সিক পদার্থ যা মানুষের সরাসরি সংস্পর্শে এলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও লিভারে বিশেষ ক্ষতি সাধন করে। উন্মুক্ত স্থানে সীসা পোড়ানোর ব্যাপারে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত। এই নীতিমালার অধীনে সীসা উৎপাদন ও বিপননে কঠোর তদারকি দরকার। উন্মুক্ত স্থানে ব্যাটারি পোড়ানোর ফলে এই ভারী ও বিষাক্ত পদার্থ সীসা আমাদের খাদ্য চক্র ও জীবন চক্রে ঢুকে পড়ছে। যার নেতিবাচক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

উল্লেখ্য,দীর্ঘ সময় ধরে পুরনো ও পরিত্যক্ত ব্যাটারি থেকে সীসা আহরণ কারখানাগুলো দেশে নিদারুণ দূষণ ও প্রাণহানি ঘটিয়ে চলেছে। এসব কারখানা গড়ে উঠছে দেশের সর্বত্র, কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই। মানছে না বিদ্যমান পরিবেশ আইন। জনস্বাস্থ্য, প্রাণবৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র তছনছ করে দিচ্ছে। শালবন থেকে হাওর, পাহাড় থেকে নদী অববাহিকা, কৃষিজমি থেকে বন্দর নানা স্থানে গড়ে ওঠা এসব ব্যাটারি কারখানার মাধ্যমে মানুষসহ প্রাণীর শরীরে ঢুকছে সীসার বিষ, প্রতিবেশ ব্যবস্থায় ঘটছে গোলমাল। সব ব্যাটারি কারখানাই গড়ে উঠেছে বসতি এলাকায়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব ব্যাটারি কারখানার অধিকাংশেরই কোনো পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, কারখানায় পরিবেশ আইন অনুযায়ী কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি নেই। মাঝেমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব কারখানাকে জরিমানা করছে কিংবা সিলগালা করে বন্ধ করে দিচ্ছে। এভাবে দেশের নানা প্রান্তে গড়ে ওঠা পুরনো ব্যাটারি কারখানার মাধ্যমে যদি দেশের সর্বত্র সীসার বিষ ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা গবাদি প্রাণিসম্পদ, মানুষ থেকে শুরু করে প্রকৃতিতে তৈরি করবে এক নিদারুণ বিশৃঙ্খলা।

২ সপ্তাহ আগে

৫৬ টাকায় চাকরি পেলেন ৪৪ তরুণ-তরুণী

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মমরেজ গলগন্ডা গ্রামের কৃষক এস এম আব্দুল কদ্দুছের ছেলে এস এম মার্জুল হক মুন্না। দুই বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি চতুর্থ।

পরিবারের অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে কষ্টে ইংরেজিতে ২০১৭ সালে অনার্স ও ২০১৮ সালে মাস্টার্স শেষ করেন তিনি। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরির আবেদন ও পরীক্ষাও দিয়েছেন। এছাড়া গত ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছেন। কোথাও কোন চাকরি না হওয়ায় টিউশনি করে নিজের খরচ ও পরিবারকে সহযোগিতা করেন। সেই মুন্না মাত্র ৫৬ টাকার বিনিময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

মার্জুল হক মুন্না বলেন, খুব কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। বিনামূল্যে সরকারি চাকরি পাবো তা কখনও কল্পনাও করিনি। তবে ইচ্ছে শক্তি ছিলো সরকারি চাকরি পাবো। সেই ইচ্ছে শক্তি থেকেই সরকারি চাকরি পাওয়ায় আমি খুব আনন্দিত। মাত্র ৫৬ টাকায় চাকরি হবে এটা ধারণার বাইরে।

শুধু মুন্না নয়, মাত্র ৫৬ টাকায় (৫০ টাকা ড্রাফট ও ৬ টাকা টেলিটক সিমের) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন ৪৪ জন। শতভাগ স্বচ্ছতার মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৯টি পদে ৪৫ জন নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার জন্য আবেদন করেন ৬ হাজার ৭০১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে অফিস সহায়ক পদে (ডিসি ও ইউএনও অফিস) পাঁচ জনের বিপরীতে চার হাজার ৫১৭ প্রার্থী, নিরাপত্তাকর্মী (ডিসি অফিস ও ইউএনও অফিস) ২০ জনের বিপরীতে এক হাজার ৫৮১ প্রার্থী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী (ডিসি ও ইউএনও অফিস) ৯ জনের বিপরীতে ২৫২ প্রার্থী, বেয়ারার ৪ জনের বিপরীতে ১৭৯ প্রার্থী, নিরাপত্তাকর্মী (সার্কিট হাউজ) ৩ জনের বিপরীতে ১১৫ প্রার্থী, ভাবুর্চি পদে এক জনের বিপরীতে ৬ জন প্রার্থী, সহকারী ভাবুর্চি পদে এক জনের ৯ জন প্রার্থী, মালি পদে এক জনের বিপরীতে ২০ জন প্রার্থী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সার্কিট হাউজ) পদে এক জনের বিপরীতে ২৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন।

গত ৩ জুন ৮টি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৪ জুন মৌখিক পরীক্ষা শেষে রাতেই ফল ঘোষণা করা হয়। ১২ জুন তারা সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যোগদান করেন। নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৪ জনের ৪০ জনই অনার্স/মাস্টার্স পাস। এছাড়াও বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নকর্মী এইচএসসি পাস।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে চাকরি পাওয়া মির্জাপুরের পাহাড়পুর গ্রামের কৃষক ঠান্ডু মিয়ার ছেলে অনার্স ফাইনাল বর্ষের ছাত্র মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে শুনেছি ডিসি অফিসে চাকরি পেতে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা লাগে। এই ভয়ে প্রথমে আবেদন করতে চাইনি। পরে পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে আবেদন করেছি। চাকরি পেতে মাত্র ৫৬ টাকা লেগেছে। বিনামূল্যে চাকরি হওয়ায় আমি খুব খুশি।

নিরাপত্তাকর্মী পদে চাকরি পাওয়া সদর উপজেলার কুইজবাড়ী গ্রামের আ. রহিম মিয়া বলেন, এতদিন জানতাম ঘুষ ছাড়া চাকরি হয় না। আজ প্রমাণ হলো ঘুষ ছাড়া নিজের মেধা ও যোগ্যতায় সরকারি চাকরি পাওয়া যায়। বিনামূল্যে চাকরি পাওয়ায় জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি জানান, সরকারি বিধি অনুসরণ করে সততার সাথে তিনি ও তার সহকর্মীরা নিয়োগ দিতে পেরে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছেন।

২ সপ্তাহ আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।