টাঙ্গাইলে ২০ লাখ টাকার ব্রিজটি কোন কাজেই আসছে না গ্রামবাসীর


০৮:৩৯ পিএম, ১৮ মে ২০২৪
টাঙ্গাইলে ২০ লাখ টাকার ব্রিজটি কোন কাজেই আসছে না গ্রামবাসীর - Ekotar Kantho
খরশিলা-রোয়াইয়াল গ্রামীণ রাস্তাটির উপর ২০ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত ব্রিজটি গ্রামবাসীর কোন কাজেই আসছে না

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের খরশিলা-রোয়াইয়াল গ্রামীণ রাস্তাটি ৩৫ বছরেও সংস্কার হয়নি। ফলে পাইকড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আজাদ হোসেনের বাড়ি সংলগ্ন ২০ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রিজ গ্রামবাসীর কোন কাজেই আসছে না।

এর ফলে কৃষি জমির ফসল ঘরে তোলাসহ যাতায়তে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালে এই ব্রিজটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেছিল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় (পিআইও)। ২০১৯ সালে এই ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও ব্রিজটির দুই পাশের এপ্রোচের মাটি না ফেলায় স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসছে না। গত পাঁচ বছর ব্যবহারের অনুপযোগী থাকায় স্থানীয় হাজারো মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। এছাড়া এই ব্রিজ নির্মাণে সরকারের ব্যয় করা ২০ লাখ ১২ হাজার টাকা এক প্রকার অপচয়ে পরিণত হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবেই ব্রিজটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় খরশিলা গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ মিয়া জানান, দুটি গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও উৎপাদিত ফসল নিয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছে। ব্রিজটি কোনো কাজেই আসছে না আমাদের। এছাড়া গত ৩৫ বছরে খরশিলা-রোয়াইয়াল সড়কটির কোন ধরণের উন্নয়ন না হওয়ায় দুটি গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় রোয়াইয়াল গ্রামের বাসিন্দা আজাহার আলী বলেন, দুই গ্রামে দুটি স্কুল এবং দুই গ্রামের পাশে দুটি হাট-বাজার রয়েছে। জেলা সদর এবং উপজেলায় যাতায়াতের সহজ রাস্তা দুই কিলোমিটারের রোয়াইল-খরশিলা কাঁচা রাস্তাটি। দুই কিলোমিটার রাস্তার জন্য ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যেতে হয়। এই রাস্তার ওপর পাকা ব্রিজটি নির্মাণে এলাকাবাসী খুব খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকাদার কোনো রকমে ব্রিজটি নির্মাণ কাজ শেষ করলেও ব্রিজের দুই প্রান্তে মাটি না ফেলায় এই ব্রিজের ওপর দিয়ে এলাকার জনসাধারণ যাতায়াত করতে পারছে না। আমরা দ্রুত ব্রিজের দুই পাশের এপ্রোচে মাটি ফালানোর দাবি করছি।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা হাসান মিয়া বলেন, ফসলের মাঠ অনেক দূরে হওয়াতে ফসল বাড়িতে নেওয়া অনেক কষ্ট হচ্ছে। রাস্তাটা ভালো হলে আমাদের জমির ফসল ভ্যান বা যানবাহনের মাধ্যমে অতি সহজে বাড়ি নেওয়া যাবে, কষ্ট কমে যাবে।

কালিহাতি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সেহাব উদ্দিন জানান, আমি কালিহাতীতে যোগদান করার আগেই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হয়েছিল। ব্রিজের এপ্রোচের মাটি সরে গেছে, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না।

তিনি আরও বলেন, এখন‌ ধান কাটার মৌসুম চলছে। ধান কাটা শেষ হলেই ব্রিজের দুই পাশের এপ্রোচে মাটি ফেলে রাস্তাটি চলাচলের জন্য উপযোগী করে তোলা হবে।


নিউজটি শেয়ার করুন

কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।